“১৯৮২ সালের কথকতা” নিয়ে আমার সাম্প্রতিক লেখা নিয়ে অনেকে মন্তব্য করছেন। আমার লেখা সবার পছন্দ হবে না এটা আমার জানা। ফেইসবুকে অনেকে মন্তব্য লেখে আমাকে ট্যাগ করছেন। কেউ কেউ সমালোচনা করে ইন-বক্সে মেসেজ দিচ্ছেন। আপনাদের সকলের অবগতির জন্যে জানাচ্ছি, এই লেখা কারো সমালোচনা নয় বরং এটা আমার আত্মকথার অংশ। আমার আত্মকথা কখন প্রকাশ করবো, সেখানে কী থাকবে বা থাকবেনা তা আমার নিজস্ব ব্যাপার। আপনারা যার যে ভাবে ইচ্ছে সমালোচনা করুন বা ব্যাখ্যা করুন, সে অধিকার আপনাদের আছে। আমি এ ব্যাপারে এখানে কোন মন্তব্য করবো না। এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে প্রশ্ন করার দরকার নেই, ট্যাগ করারও দরকার নেই। অনেকে মন্তব্য করছেন তারা সীমানা মেনে চলছেন না, অনেকে বাড়াবাড়ি করছেন। এতে আমার কোন ক্ষতি হবে না। আপনাদের পরিচয় উন্মোচিত হবে। মনে রাখবেন, আমাদের ভাষা আমাদের পরিচয় বহন করে।
————————————————————————————–
আগের পর্ব: ১৯৮২ সালের কথকতা-৫
শেষ পর্যন্ত আমি সিলেট প্রত্যাবর্তন করলাম।
আমার বিয়ের আসল কাজ, মানে আকদ, আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। সিলেট এসে প্রথমে বউ ঘরে এনে তুললাম। আমার রুজি-রোজগার প্রসঙ্গে দুলা ভাই বললেন, ‘তোমার বউ শুধু খাওয়ার মুখ নিয়ে আসবে না, তার ভাগ্যও সাথে নিয়ে আসবে। সুতরাং চিন্তা করো না। মানুষের রিজিক আল্লাহর হাতে।’
একদিন গেলাম অধ্যাপক ফজলুর রহমানের বাসায়। জিজ্ঞেস করলাম, শাহ জালাল জামেয়ায় চাকরি করতে হলে কি করতে হবে? তিনি বললেন, একখানা সাদা কাগজে দরখাস্ত লেখে প্রিন্সিপালের কাছে পাঠিয়ে দিন, নতুবা আমার কাছে দিয়ে দিবেন। ঠিক আছে বলে চলে এলাম। সে সময় আমার একটা চাকরির খুব দরকার ছিল। তাই দেরি না করে সে দিনই দরখাস্ত লেখে প্রিন্সিপালের কাছে পাঠিয়ে দিলাম। তখন জামেয়ার প্রিন্সিপাল ছিলেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী। এরপর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। দরখাস্তের কোন জবাব আসে না। প্রায় এক মাস অপেক্ষার পর দেখা করলাম প্রিন্সিপালের সাথে। আমার জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বললেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সভা হয়নি। ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। সিদ্ধান্ত হলে তোমাকে জানানো হবে।’ তিনি বয়সে আমার অনেক বড় এবং আদর করে আমাকে তুমি বলতেন। তার জবাব শুনে সন্তুষ্ট চিত্তে এবং অনেক আশা নিয়ে বাসায় চলে এলাম।

কয়েকদিন পর অধ্যাপক ফজলুর রহমান ফোন করে বললেন, ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আবু তাহের সিলেট আসছেন। শাহ জালাল জামেয়ার হলরুমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিবেন। সেখানে যেন আমি অবশ্যই যাই। বললাম, ‘ঠিক আছে, আমি আসবো।’
অনুষ্ঠানের দিন যথাসময়ে জামেয়ার হলরুমে হাজির হলাম। অনেক দিন পর পুরাতন বহুসাথীর দেখা হলো। আমাকে পেয়ে সবাই খুব খুশি। মাওলানা আবু তাহেরের সাথেও দেখা হলো, কোলাকুলি হলো। কি এক অজানা কারণে প্রোগ্রাম শুরু হতে দেরি হচ্ছে। তাই আমরা বসে বসে খোশগল্প করছি। হঠাৎ দেখলাম অধ্যাপক ফজলুর রহমান মুখ কালো করে আমার কাছে এলেন। বললেন, ‘আপনার সাথে একা একা কথা বলবো, একটু বাইরে আসুন।’ কথামত তার অনুসরন করলাম। বাইরে গিয়ে বললেন, ‘আপনাকে দাওয়াত দিয়েছি, আপনি এসেছেন, এ জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি খুবই দুঃখিত, আপনি প্রোগ্রামে থাকুন তা মাওলানা আবু তাহের সাহেব চান না। তাই আপনাকে চলে যেতে হবে।’ তার কথার জবাবে বললাম, ‘ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি। আপনি দাওয়াত দিয়েছিলেন বলেই আমি এসেছি।’
আরো কিছুদিন পরের কথা। একদিন রাস্তায় দেখা হলো সিলেট শহর জামাতের এক সদস্যের সাথে। তিনি খুব খোলামেলা লোক। আমাকে বললেন, ‘জামেয়ায় চাকরি হয়নি এ জন্যে মন খারাপ করবেন না। আল্লাহ রেজেকের মালিক।’ আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘জামেয়ায় আমার চাকরি হয়নি, এ কথা আপনি কি ভাবে জানলেন?’ বললেন, জানবো না কেন, আমি তো জামাতে ইসলামীর সদস্য। সদস্য বৈঠকে তা নিয়ে আলাপ হয়েছে।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি বলা হয়েছে সেখানে?’ বললেন, ‘বলা হয়েছে, ফরীদ আহমদ রেজা জামাতে ইসলামীর সদস্য নয়। তাই তাকে জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল করা যাবেনা।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন তারিখে সে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে কি ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী ছিলেন?’ জবাবে তিনি একটা তারিখ বললেন এবং এটাও বললেন যে সেখানে ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী শুধু ছিলেন না, তিনিই ঘোষণাটি দিয়েছেন। হিসেব করে দেখলাম, আমি যে তারিখে ফরীদ উদ্দীন চেীধুরীর সাথে দেখা করেছি এর বেশ আগে সে বৈঠক হয়েছে। জামেয়ার চাকরির ভবিষ্যত আমার কাছে পরিস্কার হয়ে গেল। খবরটা আমাকে দেয়ার জন্যে ওই সদস্যকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম।
জামেয়ায় চাকরির আশা পরিত্যাগ করে অন্যত্র চাকরি খোঁজার চিন্তা করছি। ইতোমধ্যে একদিন সন্ধ্যার পর অধ্যাপক ফজলুর রহমান আমার বাসায় এসে আমাকে জামেয়ায় নিতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করে যান। এর পর থেকে পত্রিকায় কর্মখালির বিজ্ঞাপন দেখা শুরু করলাম। একদিন দেখলাম, সিলেটের অদূরে অবস্থিত ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজে ইংরেজীর শিক্ষক প্রয়োজন। সাথে সাথে দরখাস্ত পাঠিয়ে দিলাম। অধ্যাপক ফজলুর রহমান এক সময় সে কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তার সাথে এ ব্যাপারে মতবিনিময় করলাম। তিনি বললেন, প্রিন্সিপাল জামাতের লোক। তিনি প্রিন্সিপালকে আমার কথা বলে দিবেন। কলেজ থেকে ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার জন্যে চিঠি পেলাম। আমার বন্ধু অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস আদিল বললেন, তিনি প্রিন্সিপালকে চেনেন। ইন্টারভিউয়ের আগে আমাকে তিনি তার কাছে নিয়ে যাবেন। তাঁর সাথে আলাপ করে তাঁকে নিয়ে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করার দিন-তারিখ ঠিক করলাম।
খুব ভোরে আমরা দু জন ট্রেন ধরার জন্যে স্টেশনের দিকে যাচ্ছি। হঠাৎ করে কদমতলীতে দেখা হয়ে গেলো ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর সাথে। তাঁকে পেয়ে একটা কথা জিজ্ঞেস করার লোভ সামলাতে পারলাম না। অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস আদিলকে কিছু না বলে দ্রুত ফরীদ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে চলে গেলাম। সালাম বিনিময় করে বললাম, ‘আপনাক একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই। আপনারা সদস্য বৈঠকে ঠিক করেছেন, যেহেতু আমি জামাতের সদস্য নই সেহেতু আমাকে জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল করা যাবে না। আপনি কথাটা সরাসরি আমাকে বলতে পারতেন। কিন্তু সত্য কথাটা না বলে আপনি কেন বললেন যে ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে এবং ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক এখনো হয়নি?’ আমার প্রশ্নে তিনি খুব বিব্রত হলেন। কি একটা জবাব দেয়ার চেষ্টা করলেন। আমি তাঁর জবাব শোনার অপেক্ষা না করে দ্রুত তাঁর নিকট থেকে সরে গেলাম।
এক সময় ট্রেন স্টেশনে পৌঁছলাম এবং অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস আদিলকে নিয়ে ট্রেনে চড়ে ফেঞ্চুগঞ্জ গেলাম। ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজের প্রিন্সিপাল খুব ভালো আপ্যায়ন করলেন। সুন্দর একটা আউটিং হলো। কলেজে ইন্টারভিউয়ের দিন একা একা ফেঞ্চুগঞ্জ গেলাম। আমি-ই একমাত্র চাকরিপ্রার্থী। ইন্টারভিউ প্যানেলে বাইর থেকে এসেছেন এমসি কলেজের এক শিক্ষক। ইন্টারভিউ হলো। আমাকে বলা হলো ফলাফল পরে জানানো হবে। ফেরার পথে ওই শিক্ষকের সাথে আবার দেখা। আমরা একই ট্রেনে সিলেট ফিরছি। তিনি কথায় কথায় বললেন, ‘আপনার চাকরি হবে না।’ কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘প্রিন্সিপাল আপনাকে নিতে চান না।’ আরেকটা নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করলাম।
কয়েক দিন পর দেখলাম চুনারুঘাট কলেজে ইংরেজির শিক্ষক প্রয়োজন। কাউকে কিছু না বলে দরখাস্ত পাঠিয়ে দিলাম। কয়েক দিন পর এক ভদ্রলোক এলেন আমার চা-পাতার দোকনে। বললেন, ‘তিনি ফরীদ আহমদ রেজার সাথে দেখা করতে চান। পরিচয় জানতে চাইলে বললেন, তিনি চুনারুঘাট কলেজের প্রিন্সিপাল। পরিচয়ের পর বললেন, আপনার দরখাস্ত আমরা পেয়েছি। আমি জানতে এসেছি আপনি কি সত্যি চাকরি করতে চান?’ বললাম, ‘হাঁ, আমি সত্যি চাকরিটি চাই।’ বললেন, ‘তা হলে আমরা আপনাকে ইন্টারভিউয়ের জন্যে ডাকবো।’ যথা সময়ে ইন্টারভিউয়ের চিঠি পেলাম। নির্ধারিত দিনে সেখানে গেলাম। ইন্টারভিউয়ের পর প্রিন্সিপাল বললেন, ‘আমরা আপনাকে চাই। নিয়োগপত্র টাইপ হচ্ছে, এখনই হাতে হাতে পেয়ে যাবেন।’
খুব খুশি লাগলো। জীবনের প্রথম চাকরি। কোন মামা-চাচা ছাড়াই পেয়ে গেলাম। চুনারুঘাট কলেজের তদানীন্তন প্রিন্সিপাল আব্দুল হাইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি শুধু আমাকে চাকরি দিয়েই খুশি করেননি। তিনি, তার স্ত্রী হেলেন ভাবী, চুনারুঘাট কলেজের অন্যান্য শিক্ষক সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যত দিন সেখানে ছিলাম তারা সবাই আমাকে অত্যন্ত আদর ও সম্মান করেছেন। সপ্তাহে আমার তিন দিন ক্লাস থাকতো। সোমবার সিলেট থেকে চুনারুঘাট গিয়ে কলেজে ক্লাস নিতাম। মংগলবার সেখানে থাকতাম। চুনারুঘাট কলেজের প্রাক্তন এক ছাত্র রাজু। কলেজের অধ্যক্ষ তাদের বাড়িতে আমার থাকার ব্যবস্থা করে দেন। রাজুর মা-বোনদের আদর-আপ্যায়ন এখনো আমার মনকে টানে। বুধবার ক্লাস শেষ করে সিলেট ফিরে আসতাম।
এ দিকে ঢাকায় যুবশিবির গঠনের ফলে সারা দেশে এর পক্ষে-বিপক্ষে কি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এর খবর সিলেটে বসে পাচ্ছিলাম। জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যুবশিবিরের প্রতি যে দুর্ব্যবহার করা হবে এটা জানা ছিল। কিন্তু তা যে এত নিম্নমানের হবে তা ভাবতে পারিনি। তালাবায়ে আরাবিয়া এবং মাওলানা আব্দুর রহীমের প্রতি জামাতের আচরণ ঠিক এ রকমই ছিল। বিরুদ্ধমত বা মতপার্থক্যকে জামাত মোটেই সহ্য করতে পারে না, ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। তারা বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের দমন করতে হেন কাজ নেই যা তারা করতে পারে না। যুবশিবিরের বিরুদ্ধে নানা অকথা-কুকথা ঢাকায় তৈরি হয়েছে এবং জামাত-শিবিরের খালেস-মোখলেস কর্মীরা তা সারা দেশে প্রচার করেছে।
এক সময় সিলেটেও যুবশিবির গঠিত হয়। তবে তুলনামুলক ভাবে সিলেটের জামাতে ইসলামী অনেক উদার ও সহনশীল ছিল। যুবশিবির গঠনের ফলে ছাত্রশিবিরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, আমার জানা মতে, তা ঢাকা শহর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময় সংগঠনে সংহতি ফিরিয়ে আনতে এবং শিবিরকে যুবশিবিরের প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যে শিবিরের তৎকালীন নেতৃত্ব বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি এই ছিল যে, শিবিরের সাথী যারা হবে তাদের জামাতে ইসলামীকে একমাত্র ইসলামী আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করে নিতে হবে। এর ফলে যারা যুবশিবিরকে পছন্দ করে তারা ছাটাই হয়ে যাবে এবং যারা তাদের প্রতি একটু নমনীয় তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে।
অপরদিকে জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ব্যাপক সফর এবং জনসংযোগ অব্যাহত ছিল। তাদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করা হয়। সেখানে ইসলামী দল পরিত্যাগ সংক্রান্ত হাদীসসমূহকে যুবশিবিরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আবেগময় ভাষায় ব্যবহার করা হয়। এ কথা বুঝিয়ে দেয়া হয় যে যারা যুবশিবির করছে তারা দলত্যাগী এবং জাহান্নামী। সাধারণ কর্মীদের সংগঠনে ধরে রাখা এবং তাদের যুবশিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করার জন্যে এ পুস্তিকা তাদের দৃষ্টিতে ছিল একটা মোক্ষম অস্ত্র। তারা এটা বুঝতে অক্ষম ছিলেন, হাদীসকে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সাধারণ কর্মীদের কাছে কতটা খেলো হয়েছেন।
(চলবে) পরের পর্বঃ ১৯৮২ সালের কথকতা-৭





Man has the right to do wrong, But duty is to be purified. You will be blamed now on the same way.
নিস্তরঙ্গ ঢেউ · ভাই আপনি যে লিংক দিয়েছেন তাতে জনকন্ঠ পত্রিকার রেফারেন্স টানা হয়েছে……।so এদের উদ্দেশ্য সহজেই বোধগম্য হবার কথা।
শাহ আহমাদ রেজা ভাই আপনি লিখছেন ভাল কথা,আমার মনে হচ্ছে আপনি নিরপেক্ষ ভাবে না লিখে জামায়াতের বিরুদ্ধে আপনার আক্ষেপ প্রকাশ করছেন।এটা শুধু আমি নই যে কোন পাঠকেই বুঝতে পারবে। আপনি আগে সিদ্ধান্ত নিন আপনি আপনার মনের রাগ,আক্ষেপ,আবেগ প্রকাশ করবেন ,নাকি প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করবেন। আপনার লেখার সাথে শিরোনামের কোন মিল পাওয়া যাচ্ছেনা।
আপনি শিরোনাম দিয়েছেন শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ ।
কিন্তু আপনার লেখাতে শিবিরের ইতিহাস না লিখে আপনি আপনার আত্নইতিহাস লিখছেন । আমরা নতুন প্রজন্মের শিবির এটা অন্তত বিশ্বাস করি কারো আত্নইতিহাস কখনোই শিবিরের ইতিহাস হতে পারেনা……।
রেজাউল করীম এর সাঙ্গঠনিক সন্ত্রাস প্রকাশ্যেই হয়েছিলো ২০০৯ এ। সবার চোখের সামনে। শিবির বিরোধীরা যেমন সেটা লুফে নিয়েছে, নরমাল দু চারটা মিডিয়া তারাও প্রকাশ করেছে। অতি ঠুনকো অজুহাত দাড় করানোর এই বদ অভ্যাসও কোথা থেকে শিখেছেন, তা মানুষ জানেনা এমন মনে করবেন না। সত্যকে চেপে রেখে কোন-কালে কোন দিন সত্যপন্থী আন্দোলন মানুষের কল্যান করতে পারবে না- বিজয়ী হবার পরেও। সত্যকে স্বীকার করার সাহস অর্জন করুন। এই লিঙ্কটাতে সেই সময়কার কাপ সদস্যদের সম্মিলিত বিবৃতি আছে, এমনকি রেজাউল করীমের অতি দুর্বল প্রতিবাদও আছে। ২৬ বনাম ০১। ৮২ সালের ঘটনা যেমন সংগ্রাম পাবলিশ করেনি, করবেনা, ০৯ এর বেলাতেও তাই। স্টুপিড অজুহাত দাড় করাবেন না। কার কি উদ্দেশ্য সেটা আপনার চেয়ে কেউ কম জানেনা, ঘটনা সত্য কিনা সেটাই আসল কথা। এই আপনারাই না বলেন, মুজাহিদ নিজামীর কোন দুর্নীতির খবর কোন সাংবাদিক খুজে পায়নি মন্ত্রী থাকা কালে, তাহলে ২০০৯ কিভাবে সকল সাংবাদিক খুজে পেয়েছে? মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢাকার বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন।
আপনি যা লিখছেন তা আপনার ক্ষোভ প্রকাশমাত্র,
এটা শিবিরের ইতিহ্স হতে পারে না।
তার কথার এবং কাজের মিল পাওয়া যায় নাই