জামায়াতের গণভিত্তি তৈরীর প্রধান অন্তরায়গুলো শিরোনামের পোষ্টে গণভিত্তির অন্তরায় বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, প্রাসঙ্গিকভাবে বলা হয়েছে;
@ ছাত্র শিবির জামাতের ব্রেইন চাইল্ড
@ শিবিরের এমন কোন সাথী সদস্য নাই যে তারা জামাতের ৭১ এর ভূমিকা না জেনে শপথ নিয়েছেন
@১৯৮২ এর প্রসঙ্গ হালকা ইঙ্গিত করা হয়েছে
জামায়াত শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচী সম্পর্কে (উপরে বর্নিত বিষয় কেন্দ্রীক) আমার ব্যাক্তিগত বিশ্লেষন ও মতামত।
১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেধাবী ১৮ জন (সংখ্যাটা আমি নট শিওর), ছাত্রের সমন্বয়ে তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে পদযাত্রা শুরু করে।তখন তারা যে স্যুভেনির প্রকাশ করেছিল সেখানে তখনকার সকল দলের প্রধান বা বড় নামীদামী নেতারা শিবিরকে স্বাগত জানিয়ে বানী দিয়েছিলেন, শিবিরের প্রতি তারা শুভ কামনা জানিয়েছিলেন।তখন ঐ বক্তব্য গুলোতে এমন একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে সকল নেতারা পজেটিভ বক্তব্য রেখেছিলেন। আওয়ামীলীগ এর নেতারা অনেকেই তখন শুভেচ্ছা বানী দিয়েছিলেন।
এরপর শিবিরের ঐ ১৮ জন বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সভা সমাবেশ করে তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাতে থাকে, এভাবে প্রসারিত হয়ে মাত্র চার / পাঁচ বছরের ব্যবধানে সারা বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এমনকি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৯৮৮ সালের মধ্যে প্রায় ১৪৯ টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তাদের কর্মসূচী ছিল পাঁচ দফা, আর চিকন ৫০ টি ধারার সংবিধান রচিত হয়। সফলতার পিছনে তাদের চৌকষতা এবং ভালো জিনিয়াস ছাত্রদেরকে আকৃষ্ট করতে পারায় সমর্থন বেড়ে যায়।
১৯৮৯ সালে শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদল ছাত্রলীগ সহ সকল বাম ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২২ দলীয় ঐক্যজোট বা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এরপরই এরশাদের মদদে সন্ত্রাস শুরু হয়, শিবির তখন আর বিনা বাধায় তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে নাই। সহিংসতায় শিবিরের অনেক নেতা কর্মী মারা যায় এবং অনেকে পংগু হয়ে যায়, পাশাপাশি শিবির তাদের টিকিয়ে রাখতে সহিংসতায় জড়িত হয়ে পরে তাদের হাতেও অনেক ছাত্র মারা যায়, যাক এটা আলোচনার মূল বিষয় নয়।
গণভিত্তি
জামাতের সাথে শিবির তাদের আদর্শিক মিল আছে বলতো কিন্তু জামাতের কর্মসূচীতে শিবিরের অংশ গ্রহন ছিল নিয়ন্ত্রিত। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় জামাত শিবির একাকার হয়ে যায়, এটা একটি সুন্দর ছাত্র সংগঠনের জন্য ছিল আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
যেসব এলাকাতে শিবিরের মাধ্যমে জামাত এসেছে যেমন চট্রগ্রাম বিভাগ এবং সিলেট আর খুলনা ও রাজশাহী সহ আরো কিছু জেলাতে জামাত আগে এসেছে পরে শিবির এসেছে। যা হউক গনভিত্তির প্রয়োজন এসেছে যখন জামাত নির্বাচনে অংশ নিতে গেছে তখন, দেখা গেল কোন সময় জামাতের নিয়ন্ত্রনাধীন আসন গুলোতে ভালো করেছে। কিন্তু গত নির্বাচন বলতে ৫ জানুয়ারীর আগের নির্বাচনে (যদিও ঐ নির্বাচন নিয়াও বিতর্ক আছে) ২ টি সীট পেয়েছিলেন তাহা চট্রগ্রাম বিভাগেই পেয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনেও জামাতের ফলাফল অনেক ভালো হইছে, যাহা গনভিত্তির কথাই ইঙ্গিত করে।
এরপরও গনভিত্তির ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হলো জামাতের ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা। এ ব্যাপারে জামাত কে প্রশ্ন করা হলে তারা এড়িয়ে যেত, দলীয় ফোরামেও। সাধারণ কর্মী সভা, বা সাথী বা রোকন সভাতে প্রশ্ন উত্তর পর্ব থাকে সেখানেও উত্তরটা ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে দিত।
যেহেতু ভোটের রাজনীতিতে জামাত আছে এবং গণতান্ত্রীক পন্থায় ইসলামী বিপ্লবের কথা বলছেন, তাহলে জনগণের নিকট তাদের যেতেই হবে বা হয় তাই আমার মতে তারা যে কারণে বিরোধীতা করেছিল তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলতো যে আমরা যদি কোন ফৌজদারী অপরাধ করে থাকি তাহলে যারা করেছে তাদের বিচার হউক। আর আমরা আদর্শিক কারনে বিরোধীতা করেছি, তখনকার জন্য আমাদের নিকট এটাই যৌক্তিক মনে হয়েছিল। শুধু আমরা কেন কোন ইসলামিক দলই তো সমর্থন করে নাই, তাই আমরা বর্তমানে বাংলাদেশকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। অতীত ভূমিকার কারনে জনগনের নিকট আমরা ক্ষমা প্রার্থী, আমরা আপনাদেরকে নিয়েই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবো। যদি নির্বাচনের সময়ও এ কথা বলতে পারতো তাহলে জনগণ বিষয়টা নিয়ে আর প্রশ্ন করতে পারতোনা।
যেহেতু জনগনের ভোট ছাড়া তাদের কোন কিছুই করার ক্ষমতা নাই, তাই গনমূখী কর্মসূচী নিলেই শুধু হবেনা তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য জনগনের নিকট জবাবদিহী প্রয়োজন রয়েছে এটা তাদেরকেই আগে বুঝতে হবে, আর এই বিষয়টা নিয়ে এক গুয়েমি গোরামী তাদের কর্মের ফসল ঘরে তুলতে পারেনা। তাদের ভাবনাটা এ ব্যাপারে সাংঘাতিক দ্বিমূখী, তারা মনে করে আল্লাহর কাজ করছি মাপ চাইলে আল্লাহর নিকট চাইবো, এটা আবেগের কথা অন্য সকল ব্যাপারে চৌকষতা দেখালেও এ ব্যাপারে তাদের মনোভাব হাস্যকর।
জনগনের জন্য রাজনীতি, রাজনীতির জন্য জনগন নয়, তাই রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা মাথায় হিজাব পড়ে জনগনের নিকট অতীতে যে কোন ভুলের জন্য জাতীর নিকট ক্ষমা চাওয়াতে তখন জনগণ তাদেরকে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। তাই গনভিত্তি জামাতের রয়েছে শুধু এই বিষয়টা সুন্দর করে মোকাবেলা করলে জামাতের পক্ষে গনভিত্তির সাথে সাথে গনজোয়ার সৃষ্টি হওয়াও বিচিত্র কিছুনা, নেতারাও মানুষ ভুলের উর্ধ্বে কেউনা, তাই এই বিষয়টা জামাতের চিন্তা করা উচিত।





