ড. তারিক রমাদানের সমালোচনার দুঃসাহস কেন? কৈফিয়ত: বর্তমান দুনিয়ায় ‘স্মার্ট ইসলামিস্ট’দের প্রায় সবার কাছে ড. তারিক রমাদান রীতিমতো একটা ক্রেজ, স্বপ্নের মতো একটা কিছু, বলা যায় দ্যা টপ-মোস্ট আইকন। আমার কাছেও তিনি অতি বড় চিন্তাশীল জ্ঞানী। টপ চার্টের এক নম্বরের মতো। এ মাসের শুরুর দিকে উনার ব্যক্তিগত সাইটে ‘বিঅন্ড ইসলামিজম’ [ইসলামবাদ অতিক্রম করিয়া] শিরোনামের প্রবন্ধটি আপলোড করার পর হতে সারা বিশ্বব্যাপী এটি ব্যাপকভাবে পঠিত ও প্রসংশিত হয়েছে। সংস্কারবাদী তরুণ ও মেধাবী দায়িত্বশীলদের একটা ফোরামে এটি শেয়ার হওয়ার পর পরই আমি এটি প্রিন্ট করে ভালভাবে পড়েছি।
আদর্শ ও তত্ত্বগত ব্যাপারে দুনিয়াতে এটি একটি বড় ট্রাজেডি যে, তৎকালীন প্রচলিত ধ্যান-ধারনার সাথে একমত হতে না পেরে মুক্ত-চিন্তার দোহাই দিয়ে স্বীয় দ্বিমত ও বিকল্পকে যারা প্রবল বাধা ও কষ্টের মধ্যেও প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীরা স্বীয় ‘আইকন’এর চিন্তার মধ্যে নিজেদের চিন্তাশীলতাকে গন্ডীবদ্ধ করে বন্ধ-চোখে রংগিন ছবি এঁকেছেন! এটি মার্কস বলুন আর মওদূদী বলুন, সবার ক্ষেত্রেই ঘটেছে। একজন বুঝ-জ্ঞানের মুসলিম হিসাবে তাই নবী-রাসূল ছাড়া কাউকেই সমালোচনার উর্দ্ধে মনে করিনা।
নবী-রাসূল ছাড়া কারো কথাকে সমালোচনা ও যাচাইয়ের উর্দ্ধে মনে না করার ব্যাপারে তাত্ত্বিকভাবে সব মুসলমানেরা একমত হলেও বাস্তবে নিজ নিজ ‘মাজহাবে’র ইমামদের ব্যাপারে তাঁরা সর্বান্তকরণে ও সওয়াবের নিয়তে (?) তাকলীদপন্থী হিসাবেই তুষ্ট থাকেন! সময় সুযোগ মোতাবেক ‘জেহাদে’ও লিপ্ত হন! প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের সংস্কারের ব্যাপারে সিরিয়াস স্কলারদের নিম্নরূপ একটা সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করছি – রিনাউন্ড ইসলামিস্ট এর তকমা নিয়ে কেউ যখন প্রচলিত ধারার ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে নেতিবাচকভাবে কিছু বলেন তখন এসব মেধাবী আগ্রহীদের কাছে সেটি খুব ভাল লাগে। কারন, সংশ্লিষ্ট লেখক বা বক্তা যত কথাই বলুন না কেন তাঁর সব কথার [প্রায়শঃই] মূল কথা হলো ‘যা চলছে তা দিয়ে হবে না, বিকল্প লাগবে …’।
আমার দৃষ্টিতে পুরো বিষয়টি একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
ভূমিকার সর্বশেষ কথা হলো কারো দশটি কথার মধ্যে নয়টির সাথেই প্রবলভাবে ঐক্যমত পোষণ করা সত্বেও যে কারো এ অধিকার আছে বা থাকা উচিত যে, যে পয়েন্টের সাথে আপনি একমত নন তা নির্দ্বিধায় তুলে ধরা। এছাড়া কোন কথা বা পয়েন্ট স্পষ্ট না হলে লেখকের কাছে অকপটে জানতে চাওয়া। লেখক পর্যন্ত পৌঁছতে না পারলে যারা সংশ্লিষ্ট পয়েন্টে একমত বা দ্বিমত প্রকাশ করছেন, তাঁদের কাছ হতে সেটির ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য জানতে চাওয়া। তারেক রমাদানের ‘বিঅন্ড ইসলামিজম’ নিয়ে আমার এই অযাচিত ক্রিটিক এই ধাঁচের মানসিকতায় লেখা।
প্রবন্ধের শুরুতে তিনি রাজনৈতিক ইসলামবাদের যৌক্তিকতা সত্বেও আপাতত এটিকে পাশে রেখে নতুন করে সামগ্রিক তথা সামাজিক অর্থে ইসলাম চর্চাতে উত্তরণ ঘটানোর কথা বলেছেন, আমার ধারনা। এতদসত্বেও উনার ‘Islamism—or “political Islam”—is not dead. Those who have proclaimed its demise, or trumpeted the advent of a “post-Islamist” era, are wrong … we must go beyond political Islam, and develop a critique of Islamism in all its forms.’ – এই কথাগুলোকে আমি ভুল না বললেও অনেকেই একে মিস-লিডিং অর্থে বিভ্রান্তিকর মনে করতে পারেন। এখানে তিনি প্যারার শুরুর বাক্যে ইসলামিজম এবং পলিটিক্যাল ইসলামকে সমার্থক বা আইডেন্টিক্যাল হিসাবে উল্লেখ করেছেন আবার প্যারার শেষের দিকে এসে পলিটিক্যাল ইসলামকে পেরিয়ে গিয়ে ইসলামিজমের কথা বলেছেন।
আমি নিশ্চিত যে, তিনি এখানে উপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে এর একটা ব্যাখ্যা, কানেক্টর বা কারেক্টর হাজির করতেন। এই বিরুদ্ধ-মতের পরে উনার পক্ষধারীরা হয়তোবা তা-ই করবেন। লক্ষ্য করেছি, প্রলিফিক রাইটাররা মাঝে মাঝে এমন ধরনের অস্পষ্ট কথা বলেন যাকে তিনি প্রয়োজন মোতাবেক যে কোন দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারবেন!? যাই হোক, একটা প্রবন্ধের key word গুলো অর্থবহতা ও বোধগম্যতার দিক হতে প্রেসাইজড হওয়া জরুরী নয় কি?
বক্তব্যের শুরুতে যে তিনটা পয়েন্ট তিনি ক্লারিফাই করার চেষ্টা করেছেন তার দু নম্বরটি হচ্ছে ইসলামিজম বলতে কি বুঝায় তা নির্ধারণে প্রচলিত স্ববিরোধ ও অস্পষ্টতা। মধ্যপ্রাচ্যের বাদশাহদেরকে কেন ইসলামিস্ট বলে চিহ্নিত করা, সোজা কথায় গালি দেয়া হয়না তা নিয়ে তিনি সংগত কারনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ পর্যায়ে তিনি ইসলামিস্ট হিসাবে পলিটিক্যাল ইসলামিজমের ধারক ও বাহকদেরকেই হাজির করেছেন – …no one knows exactly who or what “Islamism” means. … While the focus of this article is on the reformist and legalist movements…। উল্লেখ্য, প্যারার মাঝখানে তিনি মিশরের ব্রাদারহুড ও তিউনিশিয়ার য়্যাননাদাকে রিফরমিস্ট-লিগালিস্ট হিসাবে মন্তব্য করেছেন।
এর পরে, The time has come go beyond Islamism. বলে তিনি ইসলামিজমের যে পরিচিতি ও সূচনাপর্ব তুলে ধরেছেন তা একদেশদর্শী হিসাবে মনে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, When, in the early twentieth century, the first manifestations of Islamism took root and organized form in the Middle East, Africa and Asia, most of them shared a triple objective : (১) to free their societies from colonialism, (২) to return to Islam in order to resist cultural Westernization, and (৩) to expound theses and principles … of … social justice. They … believed … that the nation-state was the best vehicle …
পাশ্চাত্য রাজনৈতিক প্রপাগান্ডাবাদী স্কলারগণ তথাকথিত ইসলামিজম-কে বিংশ শতাব্দীর ব্যাপার হিসাবে বলতে পারেন অথবা বলে থাকেন যেটি আদৌ সত্য নয়। তারিক রমাদান এটি নিছক উদ্ধৃতি হিসাবে বলেছেন বলেও মনে হয়না। এখানে এসে তিনি কি বিংশ শতাব্দীর পূর্বকার সব উল্লেখযোগ্য ইসলামী পূণর্জাগরণ আন্দোলনকে এড্রেস বা একোমোডেট করতে ব্যর্থ হন নি? এখানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী, দৃশ্যতঃ পাশ্চাত্য ঘরনার ও একপেশে। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মতো একটা বড় সংগঠন ও আন্দোলন যে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রামে অংশ গ্রহন করা হতে বিরত ছিলো, তার উল্লেখ, ইশারা বা প্রেক্ষিত বর্ণনা না করে উল্টো তিনি কথার মারপ্যাঁচে লাতিন আমেরিকার ‘লিবারেশন থিওলজি’র পতাকা ইসলামিস্টদের শিবিরের উপর লাগিয়ে দিলেন!
এর পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য জান কোরবান হওয়ার বাহিরে অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে ইসলামিস্টদের দৃশ্যমান তাচ্ছিল্যভাবের বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয় –
…Islamist organizations, such as the Muslim Brotherhood and other legalist and reformist groups, have not kept pace with world-historical developments, with shifts in international relations, and, most of all, with the new paradigm of globalization. In addition, state power, which in the beginning was understood as a means to social, political, economic and cultural reform, emerged as an end in itself … their obsession with the state eventually led to them neglecting fundamental economic issues, major cultural concerns, and even failing to address the basic questions of freedom, citizenship and individual autonomy. … the Islamists have become a reactionary force that, in the name of pragmatism, with one compromise after another, have preserved their religious references while voiding them of their potential for social, economic and cultural liberation.
তবে এই কথাগুলো ভারতীয় উপমহাদেশ কেন্দ্রিক জামায়াতে ইসলামীর জন্য যতটা প্রযোজ্য, আরব বিশ্বের ইখওয়ান ও তদনুরূপ সংগঠন ও দলগুলোর জন্য ততটা প্রযোজ্য কিনা – তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
নেতৃস্থানীয় ইসলামিস্টদের জন্য কিছু পরিশীলিত গালি থাকায়, রাজনৈতিক ইসলামপন্থী নেতৃত্বের কিছু কিছু ক্ষেত্র ও ইস্যুতে ব্যর্থতায় বিরক্ত ও হতাশ আধুনিক ইসলামিস্টদের কাছে তারিক রমাদানের এই লেখা বেশ ভালো লাগাই স্বাভাবিক। কোন সাহিত্য কর্মের অংশবিশেষ বিশেষভাবে ভালো লাগার কারনে কোন গল্প বা উপন্যাস সামগ্রিকভাবে পাঠক-প্রিয় হতে পারলেও একটি প্রবন্ধের ক্ষেত্রে উপস্থাপিত বিষয়াদি আগাগোড়া সামঞ্জসপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। পলিটিক্যাল ইসলাম থেকে ইসলামিজম পেরিয়ে কোথায় যেতে হবে তা তিনি আদৌ বলেন নি। পূর্বেই বলেছি, আমার পর্যবেক্ষণে, এই প্রবন্ধে তিনি পলিটিক্যাল ইসলাম ও ইসলামিজম কে সাবস্টেনশিয়ালি ডিফারেন্ট হিসাবে আইডেন্টিফাই করে দেখাতে পারেন নি অথবা নি। পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদের কিছু প্রশ্ন-সাপেক্ষ ও কিছু সত্যিকারের ব্যর্থতাকে স্বয়ং পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামিজম –এর সামগ্রিক বা চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসাবে দাবী করা কি ঠিক?
তিনি বলছেন, The Islamists, today, have no credible or viable economic alternatives to offer. In the name of their obsession with international recognition, they have bowed down before the imperatives of the dominant capitalist economy.
এখানে পূঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার যে কড়া সমালোচনা তিনি করেছেন তা তাঁর লেখা ও কথার একটা কমন টপিক। পূঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে উনি হালাল (?) ক্যাপিটালিজম নামে একটা টার্মও কয়েন করে থাকেন। উনার পূঁজিবাদ বিরোধী বক্তব্যের মূলসূত্র হলো এন্টি-এমেরিকা এন্টি-সাউদী এরাবিয়া। এই প্রবন্ধেরও পূর্ববর্তী একস্থানে তিনি পেট্রো মনার্কি বলে একটা নিজস্ব টার্ম ব্যবহার করেছেন। আমার দৃষ্টিভংগীগত অবস্থানের দিক থেকে এসব ঠিকই আছে। সমস্যা হলো ইসলামিস্টদের কিছু ব্যর্থতাকে যেমন তিনি ঢালাওভাবে তুলে ধরেছেন তেমনি পূঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থা ভিত্তিক দেশের সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকার কারনে তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে পূঁজিবাদেরও ‘অন্ধ বিরোধিতা’ করেছেন।
যে কোন মতাদর্শেরই কোন না কোন খারাপ প্রবণতা থাকে। সেজন্য স্বয়ং মতাদর্শটি বাতিল হতে পারে না। গণতন্ত্রের খারাপ প্রবণতা হলো ছদ্মবেশী স্বৈরতন্ত্র ও কোয়ান্টিটি-কোয়ালিটি দ্বন্দ্ব, সমাজতন্ত্র ও কম্যুনিজমের সমস্যা হলো একনায়কতন্ত্র ও বস্তুবাদ, জাতীয়তাবাদের সমস্যা হলো জাত্যাভিমান ও সাম্প্রদায়িকতা। এভাবে প্রতিটি মতবাদেরই কোন না কোন খারাপ প্রয়োগ আছে বা হতে পারে। ধর্মের অপব্যবহারের কথা না-ই বা বললাম। দুনিয়ার সবকিছুরই একটা না একটা খারাপ প্রবণতা (malafied implication) থাকার মানে এই নয় যে, সব কিছুকে বাদ দিয়ে, সব সময়ে সমালোচনা করে একধরনের seclusionist reactionism এ ভুগতে হবে! ধর্মনিরপেক্ষতা যতটা ইসলাম বিরোধী গণতন্ত্রও ততটা ইসলাম বিরোধী। দ্বিতীয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে, এই যা। তুরস্কের লোকদের প্রথমটিও গা সওয়া (adapted) হয়ে গেছে। দুনিয়ার সব (মানব রচিত) মতাদর্শের সাথে ইসলামের কোন না কোন বিরোধের পাশাপাশি মৌলিক সাযুজ্যতাও আছে। এখন গ্লাসের অর্ধেকটা খালি বলবো না অর্ধেকটা ভরা বলব – তা যার যার দৃষ্টিভংগীর উপর নির্ভর করে।
মজার ব্যাপার হলো, তারিক রমাদান adaptation, inclusion, own করা – এসবের পক্ষেই সাধারণত বলেন। তৎসত্বেও তিনি অর্থনীতির প্রসঙ্গ আসলে পূঁজিবাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ভদ্র গালিগুলো প্রয়োগ করতে থাকেন। এখানেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। উল্লেখ্য, সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি কখনো কিছু বলেছেন, শুনিনি। পূঁজিবাদ সমাজতন্ত্রকে মোকাবিলা করতে গিয়ে হাল নাগাদের বেইল আউটসহ সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রের যে সফল ও বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছে তা ইসলাম থেকে নিয়েছে – এমন দাবী করা হবে নাকি? ইসলাম একটা স্বয়ং ব্র্যান্ড – এ কথা যতখানি সত্য, ইসলাম সকল ব্যবস্থা সুষম সমন্বয় – এ কথাও ততখানি সত্য। দুটোকেই ভয়েস করতে হবে।
আলোচ্য প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে তিনি তুরস্কের ক্ষমতাসীন ‘ইসলামিস্ট’দের একহাত নিয়েছেন – It is all well and good to celebrate Turkey’s economic success, not to mention its leaders’ demonstrated competence and pragmatism (while not forgetting to criticize the absence of some basic freedoms, and the tendency to monopolize power)। তুরস্কে মৌলিক স্বাধীনতার মৌলিক ঘাটতি আছে আর পাওয়ার মনোপোলাইজ করা হচ্ছে – এমন অভিযোগ গেজি পার্কের লোকজনের বাহিরে কাউকে বলতে শুনি নাই।
যখন ইসলামী শরিয়াহর কাঠামোতে তৎকালীন জাহেল আরবের অনেকগুলো প্রচলিত বিষয়কে হুবহু গ্রহন করা (adaptation অর্থে) হয়েছে তখন তারিক রমাদানের মতো লোকেরা যখন a clear, original, truly imaginative political project এর মতো ধোঁয়াটে কথা বলেন তখন আর হতাশ না হয়ে পারা যায় না। লক্ষ্য করুন তিনি বলছেন, Islamism has become an ideology of means and of management. It has nothing to offer in terms of broader significance… ইসলামিজমের যদি আর দেয়ার কিছু না থাকে তাহলে পরবর্তী era’র জন্য তিনি যে original, truly imaginative political project এর কথা বলছেন, তা কি? এ ধরনের সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছু কাজের (practical) কথা বলেছেন যা তথাকথিত পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামিজমেরই অন্তর্গত তাত্ত্বিক প্রতিশ্রুতি যা বাস্তবায়নে অবহেলা করা হয়েছে। তাত্ত্বিক কাঠামোর ভেতরে থাকা কিন্তু অবহেলিত বিষয়(aspect) গুলোতে যথাযথভাবে গুরুত্বারোপ করাকে সেগুলিকে বাদ দেয়া বা অতিক্রম করে যাওয়া অর্থে নিতে হবে কেন?
প্রবন্ধের এ পর্যায়ের তিনি সাইয়েদ বদিউজ্জামান নূরসী র ছাত্র ফতেউল্লা গুলেনের মতাদর্শের অনুরূপ এক অ-রাজনৈতিক (apolitical) আধ্যাত্মিক ভাবধারা ও সামাজিক কর্মসূচীভিত্তিক বৌদ্ধিক আন্দোলনের প্রস্তাব করছেন। এটি ভালো। তবে তা ততক্ষণ বা ততটুকু ভালো যতক্ষণ এটি একটা রাজনৈতিক প্লাটফরম এর পাশাপাশি বা সামনে-পেছনে কাজ করে। তারিক রমাদান কর্তৃক এই প্রবন্ধ ও অন্যত্র ক্ষমতাসীনদের অর্থহীন সমালোচনা সত্বেও যেমনটি ঘটেছে তুরস্কের সামাজিক-রাজনৈতিক বর্তমান বাস্তবতায়। এটি ঠিক যে, মুসলিম সংগঠনগুলো অতিমাত্রায় রাজনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়েছে। এটি রাজনীতি বেশী করার জন্য হয় নাই। রাজনীতির পাশাপাশি অন্যান্য কাজগুলো যথাযথভাবে তথা সমানতালে না করার সুযোগ নিয়ে পাশ্চাত্যের প্রচার মাধ্যম কর্তৃক রাজনৈতিক ইসলাম নামের একটা সিল ইসলামী আন্দোলনগুলোর উপর চাপানো হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক ইসলামের অভ্যূদয় অনাকাংখিত হলেও এটিকে বাদ দেয়া (denounce)র পরিবর্তে একে ব্যালেন্স বা নিউট্রাল করতে হবে। যার পদ্ধতি হলো ইসলামী দল ও সংগঠনের প্লুরালিজম অর্থে সত্যিকারের স্বাতন্ত্র্যমুখীতা ও বহুমাত্রিকতার চর্চা।
Muslim majority societies are crying out for an intellectual revolution, a revolution that is as radical in its essence as it is courageous in its objectives. …actually a “philosophy of law -, must be thought for the notion of freedom : we need a “philosophy of liberty” that cannot be constricting, reactive or dogmatic but must be broad, holistic and liberating, valid for women and men alike. – এ কথাগুলো মূলত প্রায়োগিক ও সঠিক।
এর পরবর্তী প্যারায় তিনি তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে যা বলেছেন তা হেদায়াতমূলক কথা হিসাবে নির্দোষ ও আমলযোগ্য। প্রবন্ধের পরবর্তী অংশেও তিনি নীতিগত কিছু নির্দেশণামূলক কথা বলেছেন যার উল্লেখযোগ্য অংশ হলো – The challenges are huge, but in freeing itself from the obsession with “politics”, a thought-based movement must elucidate the terms of a counter-power that sees the liberation of peoples through education, social involvement, alternatives to the dominant economy, through cultural and artistic creativity. এখানে alternatives to the dominant economy’র মতো অস্পষ্ট অংশটুকু ছাড়া বাদবাকী কথাগুলো নির্দেশণামূলক হিসাবে গুরুত্ব সহকারে গ্রহন করার মতো।
অভ্যন্তরীণ সেকটারিয়ান কনফ্লিক্টগুলো সম্পর্কে বলেছেন – The question of internal divisions, between Sunnis and Shi’a and between conflicting schools of thought (even between religious and secular), must take priority. The issues that fuel this division are often serious, but just as often patently ridiculous. It is the obligation of the scholars, of free intellectuals and activists to release themselves from the trap
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকের উপর আলোকপাত করেছেন – Not only is it urgent to establish relations between the North and the Global South, and leave behind the biased “Islam-West” nexus ; it is vital that we explore the potential of new educational, scientific and cultural partnerships with the peoples of Latin America, Africa and Asia.
যে কোন সুবিজ্ঞ নামকরা ইসলামিস্টের মতো তিনি পুরো প্রবন্ধে সাহিত্য-সমৃদ্ধ কথার যে ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছেন বিমুগ্ধ পাঠকের চোখে ছোট গল্পের মাদকতার মতো তা বিশেষভাবে ভালো লাগার কথা। কিন্তু ড. তারিক রমাদানের মতো টপ-মোস্ট ইসলামিস্ট বুদ্ধিজীবির কাছ হতে একটি অধিকতর সুসামঞ্জস্য প্রবন্ধ প্রত্যাশিত ছিলো। আবেগ ও প্রেরণা নিঃসরণের দিক হতে নিঃসন্দেহে এটি একটা মানোত্তীর্ণ লেখা।
শেষের প্যারায় তিনি বলছেন – The contemporary Muslim conscience must … renew its commitment to the reformative and near-revolutionary power of the human and spiritual content of its tradition, which calls equally for reconciliation with self and openness to others. এটি অর্জন করার জন্য যা তিনি বর্জন করার কথা তা কতটুকু যুক্তি-সংগত, বা যুক্তি-সংগত হলেও কথাটা আদৌ পরিষ্কার হয়েছে নাকি স্ববিরোধী হয়েছে তা দেখার ভার পাঠকের উপরই রইলো, The Islamists of today have developed a conservative message, one that seeks only to adapt. The contemporary Muslim conscience must free itself from this message …!?
সর্বশেষে বলেছেন, The paradox lies in the fact that today’s Muslims, lacking self-confidence, are the wardens who hold in their trembling hands the keys of their own prison. অতীব বিনয়ের সাথে বলেতে চাই, এটিকে paradox নয়, এক ধরনের fallacy বলা যায়। আমরা জানি, যাহা সত্যও নয় মিথ্যাও নয়, তা হলো paradox আর যা সত্য মনে করা হয় অথচ যা আসলে মিথ্যা তা হলো fallacy। যে বন্দীর হাতে গরাদের চাবি অথচ তালা খুলে বের হয়ে যাওয়ার মতো মনোবল যার নাই তার অবস্থাকে paradoxical মনে করাটা একটা fallacy বটে।
ধন্যবাদ।





Traffic is the key to my website business. I found a company that has been an awesome resource in building our traffic and the communication back and forth has been refreshing. I use most of the services offered by this company and I am now getting hundreds of targeted visitors to my website every day. Take a look here: http://2hams.com/2611h