আওয়ামীলিগের মধ্যে দুটি ধারা রয়েছে। ১৯৪৭ সালে বাঙলা ভাগ হল সংখ্যালঘু আর্য ব্রাম্মণদের দাবীর মুখে।সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমগন সেই দিন চেয়েছিল বাঙলা একত্রে থাক।তখন থেকেই বাঙলা চিত্রিত হয়; “হিন্দু বাংলা” এবং “মুসলিম বাঙলা” হিসেবে।মুসলিমলীগের নেতৃত্বে মুসলিম বাঙলার যাত্রা শুরু হলেও শুরু থেকেই কমিউনিষ্টরা প্রপাগান্ডা চালালো বাঙলা ভাগের জন্য মুসলিমলীগ তথা মুসলমানরা দায়ী।আপনাদের মনে করিয়ে দেই কমিউনিষ্টদের রাজনৈতিক কেবলা তখনো কলকাতা কেন্দ্রিক। মাওলানা ভাসানী, মাওলানা শামসুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ (জনগনের মুসলিম লীগ-মুল মুসলিমলীগকে তারা বলত খাজা গজার মুসলিম লীগ) শুরু হলেও তাদের স্পিরিটে ছিল “মুসলিম বাঙলা”। ততদিনে বামপন্থিদের নতুন রাজনৈতিক থিসিসে বলা হল গনসংগঠন হিসেবে তারা সরকার বিরোধের জন্য আওয়ামীলিগের ছায়ায় কাজ করবে আর তলে তলে মুল ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির নামে সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন চলবে।
কমিউনিষ্টদের ইনফিলট্রেশনে (অনুপ্রবেশ) আওয়ামী মুসলিমলীগে ঢুকল “হিন্দু বাঙলা”‘র ইলিমেন্টস এবং তাদের সফল কার্যক্রমে আওয়ামী লিগ থেকে “মুসলিম” বাদ দিয়ে আওয়ামীলিগ নতুন নাম ধারন করে। যাই হউক,সংক্ষেপে কথা হচ্ছে, আওয়ামীলিগের মধ্যে সেই থেকেই “মুসলিম বাঙলা” Vs “হিন্দু বাঙলা” দুটি ধারা চলছে। ৭১ সালের পটপরিবর্তন মৌলিকভাবে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক হলেও হিন্দু বাঙলা’র ক্রমাগত প্রপাগান্ডা সেটিকে একটি কৃষ্টি-কালচারাল পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে।সেখান থেকেই ৭২ সালের সংবিধানে তথাকথিত “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ” এর আমদানী ঘটে।
৭১ সালের পটপরিবর্তন দেশে শুধু ইসলামপন্থি ধারাকেই শত্রু বানায়নি, একই সাথে আওয়ামীলিগের অভ্যন্তরেও “মুসলিম বাঙলা” স্পিরিটের অধিকারীদেরও ক্লিন্জিং শুর করে।আজও সেটা চলছে আওয়ামিলীগে। যখনি দেখবেন আওয়ামীলিগ মুসলমানদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা অতিক্রম করছে তখন বুঝবেন ক্ষমতা হিন্দু বাঙলার স্পিরিট ধারীদের হাতে,দুই একজন ব্যতিক্রম সেখানে অসহায়। ব্রাম্মণ সুরন্জিত সেন গুপ্ত হচ্ছেন আওয়ামীলিগের মধ্যে হিন্দু বাঙলার ঈমাম।তিনি ইদানিং কোন ধরনের রাখঢাক না রেখেই মুসলিমদের উসকানী দেন।
আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার; আওয়ামীলিগকে অস্বীকার করে বাঙলাদেশ অস্তিত্বহীন।যতদিন বাঙলাদেশ থাকবে আওয়ামীলিগকে স্বীকার করতে হবে।সেজন্যই হয়ত আহমেদ ছফা বলেছিলেন; “আওয়ামীলিগ যখন জেতে তখন সে একাই জেতে,আর আওয়ামীলীগ যখন ডোবে তখন সারাদেশ ডোবে”।
সেজন্য আমাদের দাবী হচ্ছে আওয়ামীলিগারগন আপনারা “হিন্দু বাঙলা”র উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করুন এবং সামলান,অন্যথায় বাংলাদেশে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটা আশ্চার্য্যের কিছু না।





