১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সময়ে কথিত আছে ৩০/৪০ হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মি খুন হয় আওয়ামীলিগ নেতৃত্বের হাতে।খুন হওয়া নেতা কর্মিদের অন্যতম কয়েকটা বৈশিষ্ট হচ্ছে তাদের অধিকাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা,অধিকাংশই ছিল বামপন্থি রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)এর সদস্য।তাহলে সমীকরন যেটা দাড়ায় গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ৭১৫ (যদি সংখ্যাটা ৩০,০০০ হয়)জন এবং গড়ে প্রতিদিনে ২৩ জন নেতা-কর্মি খুন হয় ঐসময়।সম্ভবত সেই কারনেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে জাসদ আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি কোন দিনই। এটা কেন হল? আর ফলাফল ই বা কি হয়েছিল? একটু বুঝার চেষ্টা করা দরকার।
গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিরোধীদলের উপস্থিতি।বিরোধীদলের কাজই হচ্ছে সরকারের বিরোধীতা করা(?)! তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোতে পোষ্ট কলোনিয়াল সময়ে (গনতান্ত্রিক হবার চেষ্টায় রত)রাষ্ট্রগুলোতে এই বিরোধীদের উপস্থিতিকে এক ধরনের অপরাধ মনে করা হয়।যার ফলে দলের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র তার আদর্শিক শত্রুকে রাষ্ট্রের শত্রু বানিয়ে নেয় এবং আদর্শিকভাবে মোকাবেলার জায়গা থেকে সড়ে অত্যাচার নিষ্পেষন, নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধীপক্ষকে শায়েস্তা করে।৭২-৭৫ সময়ে নতুন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র একই চেতনাধারী (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা=যেটা এখন অনেকটা ঈমানী চেতনার অবস্থানে পৌঁছে গেছে)হওয়া সত্ত্বেও দৈনিক গড়ে ২৩ জন বিরোধী নেতা কর্মিকে খুন করেছিল। কিন্তু এই অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য রাষ্ট্রকে যেমন তার price (মাশুল)দিতে হয়েছে,হচ্ছে ঠিক তেমনি আওয়ামীলিগকেও করতে হয়েছে প্রায়শ্চিত্য।
বামদের একটা অংশ বাস্তবিকই সর্বস্ব হারিয়ে “সর্বহারা পার্টি”তৈরি করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতি করে তারা সরকারকে চ্যালেন্জ করতে থাকে।নিরীহ মানুষ হয়েছে তাদের টার্গেট।এখনো সর্বহারা রা মানুষকে হত্যা করে চলেছে,লুট করছে।আমরা হয়ত ভাবছি এতে রাষ্ট্রের কি ক্ষতি হচ্ছে,ক্ষতি হলে হচ্ছে সেটা সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির।আসলে এখানেই রয়েছে বুঝার ভুল।
রাষ্ট্র হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান।একের অধিক ব্যক্তি মিলে পরিবার,কয়েকটি পরিবার মিলে পারা,কয়েকটি পারা নিয়ে একটি গ্রাম,কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন(এখানে “সমাজ” শব্দটা ব্যবহার করা যায়,সমাজটা হচ্ছে একেকটি গ্রামের বাহ্যিক ও সংস্কৃতিক দিক)এভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে থানা>>জেলা>>রাষ্ট্র।রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের “সামাজিক চুক্তি” রয়েছে।সেটা অনেকটা এরকম তুমি আমার নিরাপত্তা দিবা আমি তোমাকে এর বিনিময়ে টাকা দেব (ট্যাক্স) নাগরিকদের এই টাকা ছাড়া রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানের আর কোন ইনকাম আছে? এখন রাষ্ট্র যখন “সামাজিক চুক্তি” অনুসারে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তখনি ঘটে প্রথম ক্ষতি। নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারায়।সর্বহারাদের থেকে ঐসব অঞ্চলের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্রকে গুনতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।এভাবে স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র এমন একটি loss প্রজেক্ট শুরু করে শুধুমাত্র আদর্শিক কারনে।হাজার হাজার মানুষ যে সর্বহারাদের হাতে মারা গেছে তার মুল্য কি টাকায় হিসেব করা যায়? যারা নিহত হয়েছে তারা আবার অনেকেই প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে পাল্টা খুন করে, এই সার্কেল চলছেই।নিহতের পরিবার পরিজনের মানবেতর জীবনের অর্থনৈতিক মুল্য কত? সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হচ্ছে এই vicious circle of crime এর সুবিধাভুগি কারা?এর উত্তর যাই হউক,এটা নির্ধিদায় বলা যায় স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামীলিগ নেতৃত্বের অদূরদর্শী কার্যকলাপের ফল হচ্ছে এটা।এ থেকে জনতাও দায়মুক্ত নয়,কেননা জনতা সেই সমস্ত নেতাদেরকে ভোটে নির্বাচিত করেছিল!প্রত্যেকটি ক্রিয়ারই যে একটি প্রকৃতিগত প্রতিক্রিয়া আছে সেটা আমাদের দেশের জনগন যেমন বুঝে কম,আমাদের দেশের নেতৃত্বও বুঝে কম।
প্রশ্ন হচ্ছ এর থেকে কি কিছু শেখার আছে আমাদের?বর্তমান রাষ্ট্রের?
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই সেই একই আওয়ামীলিগ আদর্শিক বিরোধীপক্ষকে রাষ্ট্রের শত্রু বানিয়ে নিয়েছে।আওয়ামীলিগের ধর্মনিরপেক্ষতার একটি সংজ্ঞা হচ্ছে “ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র সবার”(?) যদি সংজ্ঞা তাই হয় তাহলে একটি দল কিভাবে রাষ্ট্রের শত্রু হয়?তাদের সংজ্ঞামতে ধর্ম-আদর্শ যার যেটাই হউক রাষ্ট্রতো সবারই,তাইনা? আওয়ামীলিগ আবারও পুরনো পথে হেটেছে, এবার জামায়াত হয়েছে তাদের আদর্শিক শত্রু এবং সেটাই রাষ্ট্র শত্রু হওয়ার অন্যতম কারনও জামায়াত এর জন্য!জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধী ছিল তাই রাষ্ট্রবিরোধী এমন সরলীকরন খুবই বিভ্রান্তিকর।আর আলোচনার খাতিরে সেটা মেনে নিলেও ৭২-৭৫ সালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হয়েও জাসদ কর্মিরা কেন তৎকালীন রাষ্ট্রের শত্রু হয়ে গিয়েছিল?!অর্থাৎ স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ এটা কোন যুক্তিই নয়।এমন যদি হত জামায়াত ও তার অনুসারীরা রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করেছে।রাষ্ট্র জামায়াতের লোকদের কাছ থেকে ট্যাক্সও নেবে আবার “সামাজিক চুক্তি” মেনে তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেবেনা এটা কেমন করে হয়?
আজকের দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদ হচ্ছে (সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের ২১ নেতাকর্মী নিহত) গত কয়েকদিনে রাষ্ট্রীয় যৌথ বাহিনীর অভিজানে শুধু সাতক্ষীরায় প্রায় ২১ জন নেতা কর্মি নিহত হয়েছে (http://www.dailyinqilab.com/2013/12/25/150668.php)।সাথে সাথে এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশ দেখল রাষ্ট্র কিভাবে তার নাগরিকের বাড়ি ঘর গুড়িয়ে দিচ্ছে।এ যেন নতুন এক সিরিয়ান হোমস শহর,যেখানে আসাদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী হাজার হাজার বাড়িঘড় গুড়িয়ে দিয়েছে,লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে।বাংলাদেশ কি পারবে সাতক্ষীরার ক্ষত শুকাতে?ওখান থেকে যদি আরেক সর্বহারা গ্রুপ তৈরি হয় তাহলে তার দায়ভার কার?
সাতক্ষীরায় জামায়াত নিজেদের পেশীশক্তির প্রদর্শনী করতে গিয়ে সাধারন জনতাকে(হতে পারে তাদের নিরীহ সাপোর্টার)যেভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের মুখে ছেড়ে দিয়েছে তার জন্য জামায়াতও জবাবদিহী এড়াতে পারেনা।অতীতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে পেশীর প্রদর্শনী দেখাতে গিয়ে সাড়া দেশের ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মিদেরকে এরকম বিপদে ফেলার ঘটনা থেকে তারা শিক্ষা নেয়নি। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটির গরমে ঢাকা’র বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে একরকম আন্ডারগ্রাউন্ডেই চলে যেতে হয়েছিল শিবিরকে।সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে সাতক্ষীরায়।লক্ষ্যহীন এই সংঘাতের কোন আদর্শিক মুল্যতো নেই ই, আছে কি কোন রাজনৈতিক মুল্য?
এই অবস্থা থেকে দুটো সম্ভাব্য ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার ধারনা।
এক,বামপন্থিরা যেমন শত নির্যাতন,নিপীড়ন সত্ত্বেও আওয়ামীলিগকেই তাদের লক্ষ্য অর্জনের বাহন মনে করে নিজেদেরকে আওয়ামীলিগর মাঝে একিভূতকরন করে নিয়েছে (যার ফলে আওয়ামীলীগ এখন আর শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামীলিগ নেই,একটা হাইব্রিড কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী বামঘেষা দলে রুপান্তরিত হয়েছে।), ঠিক তেমনি জামায়াতের রাজনৈতিকভাবে উচ্চবিলাসী একটা অংশ বিএনপিতে একিভূত হয়ে বিএনপিকে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে আরো ডানে নিয়ে যাবে।
দুই,হাজার হাজার নেতা কর্মি খুনের পর বামপন্থিরা রাজনীতির ময়দান ছেড়ে undue politics এর স্ট্রাটেজি নিয়ে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দান, মিডিয়া,সাংবাদিকতা, নাটক,সিনেমা,সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ময়দানে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে দেশের স্যাকুলার অংশকে নিয়ন্ত্রন করছে….ঠিক তেমনি জামায়াত ও তার ছাত্র সংগঠন একই কায়দায় নিজেদের কর্মকৌশল পর্যালোচনা করবে।
জামায়াতের লোকেরা এখন যেভাবে বিএনপি’র প্রক্সি খেলছে,এটা বেশি দিন চলবে বলে মনে হয়না।কেননা বিএনপি’র বামধারা নেতৃত্ব আর যাই হউক জামায়াতের প্রক্সি খেলার উপযুক্ত পুরষ্কার যে দেবেনা সেটা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি পরবর্তি নিরবতা থেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান।এমতবস্থায় জামায়াতের একটা অংশ জামায়াত কার্ডে না খেলে সরাসরি বিএনপি’র জার্সিতে খেলতে খুব বেশি একটা সমস্যায় পরবেনা। চট্রগ্রামের নদভী’র আওয়ামীলিগের কার্ড সংগ্রহের মাধ্যমে আমার এই কথা বিশ্বাস হচ্ছে যে,ছাত্রজীবনে শিবির করলেও পরিনত বয়সে এসে রাজনীতির প্রয়োজনে আ’লীগ বা বিএনপি করা মোটেও অসম্ভব নয়।বস্তুত,এখনকার জামায়াত একটি মুসলিম লীগের মত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলে রুপান্তরিত হওয়ার সাবেক নেতা কর্মিদের কাছে আদর্শিক বিষয়টা খুব বেশি বাধা হয়ে দাড়াবেনা।
পরিশেষে, খুনের পরিসংখ্যান দিয়ে যে লেখা শুরু করেছিলাম,তার শেষে বলতে হয়, জাময়াতের উপর অত্যাচার নির্যাতন কোনভাবেই আওয়ামীলিগকে জয়ী করবেনা বরং জামায়াত ও তার মিত্রদেরকেই আরো শক্তিশালী করবে।






১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সময়ে কথিত আছে ৩০/৪০ হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মি খুন হয় আওয়ামীলিগ নেতৃত্বের হাতে।… বাক্যটির কথিত শব্দটি একটু পরিবর্তন করে তথ্যভিত্তিক করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সোর্স এর নাম তালিকা দরকার হবে। সেটা সহজেই আমাদের গ্রুপের কারো কাছ থেকে জানা যেতে পারে।
এ্যানিহাউ, বিশ্লেষণমূলক লিখার জন্য ধন্যবাদ।
পরিশেষে, খুনের পরিসংখ্যান দিয়ে যে লেখা শুরু করেছিলাম,তার শেষে বলতে হয়, জাময়াতের উপর অত্যাচার নির্যাতন কোনভাবেই আওয়ামীলিগকে জয়ী করবেনা বরং জামায়াত ও তার মিত্রদেরকেই আরো শক্তিশালী করবে…… যে খুন জাসদ কে ধ্বংস করল তা জামায়াত কে শক্তিশালী করবে কেন? এবং সে ক্ষেত্রে জামায়াত কে কী উপায় অবলম্বন করতে হবে তা বিশেষভাবে উল্লেখ করলে ভালো হতো। প্রয়োজনে এ বিষয় নিয়ে সিকুয়েল আকারে দ্বিতীয় পর্ব আসতে পারে…
সম্ভবত ২০১২ সালে কুলদীপ নায়ারের একটা প্রবন্ধ ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোতে। সেখানে তিনি অনেকটা এমন মন্তব্য করেছিলেন, কোন আদর্শিক আন্দোলন যখন রাজনৈতিক বিজয়ের জন্য সাময়িকভাবে আদর্শকে বিসর্জন দেয়, তখন তার আদর্শিক পরাজয় ঘটে। এক্ষেত্রে আদর্শিক আন্দোলনগুলো পরবর্তীতে কখনোই আর দাঁড়াতে পারে না। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। পশ্চিম বঙ্গ সরকারের উদাহরণও টেনেছিলেন।
জামায়াতও একটা আদর্শিক আন্দোলনেরই নাম। রাজনীতি করতে গিয়ে কোনভাবেও যদি আদর্শের সঙ্গে আপোস করে, তার পরিণাম ভোগ করতে হবে তাদেরকে। এক্ষেত্রে করণীয় কি হবে, তা বিশ্লেষকরা বলবেন। তবে আমি কেবল এতটুকু বলতে পারি, কর্মীদের অহেতুক মৃত্যূর মুখে ঠেলে দেয়া বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। কৌশলগতভাবে যেভাবেই হোক, জামায়াতের চেয়ে এখনো অনেকগুন শক্তিশালী অবস্থানে আছে আওয়ামী লীগ। যেভাবেই হোক, শেখ হাসিনা এখনো অন্তত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এই অবস্থায় নেতাদের আত্নঘাতি সিদ্ধান্ত বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে জামায়াতকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সংকটজনক অবস্থা এলেও শক্তিশালী কোন নেতার আগমণ চোখে পড়ছে না। নেতৃত্বশূন্য জামায়াত বিশাল পরীক্ষীত কর্মীর ভান্ডার নিয়ে কতদূর চলতে পারবে তা বলা সত্যিই কষ্টকর। আর রাজনৈতিক এই সংকটময় অবস্থায় কোনভাবে আদর্শের সঙ্গে আপোস করলে তা হবে সবচেয়ে বড় আত্নঘাতি সিদ্ধান্ত। এতে কেবল জামায়াতই নয়, বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যতটাই হুমকীর মুখে পড়বে।
পেশী শক্তির যে কথা বললেন, তা ঠিক আছে। মুশকীল হচ্ছে, একটা আদর্শিক আন্দোলন কিভাবে পরিচালনা করতে হয়, তার স্পষ্ট ধারণা এখনো জামায়াত তার কর্মীদের মধ্যে আনতে পারেনি। রাসুলুল্লাহর বিপ্লবী জীবন অধ্যয়ন করা হয় বটে, তবে তার বাস্তবায়ন সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কিংবা নেতাদের ব্যক্তিগত চরিত্রে খুব কমই ফুটিয়ে তোলা হয়।