Browse: Home / ১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর: মুজিব হত্যা থেকে খালেদ মোশারফ হত্যা

Menu

Skip to content
  • পরিচিতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
  • ব্লগে লেখার পদ্ধতি
  • ব্লগ ব্যবহারের নিয়মাবলী
  • আমাদের লিখুন
  • পোস্ট লেখার টিউটরিয়াল
  • সাইট ম্যাপ
Header image

Political Islam in BangladeshLogo

Political Islam in Bangladesh

Menu

Skip to content
  • সমসাময়িক চিন্তা
  • আদর্শ-মতবাদ
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র
    • খিলাফাহ
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
    • সমাজতন্ত্র
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম
  • মুসলিম বিশ্ব
    • আরব জাগরন
    • তিউনিশিয়া
    • তুরুস্ক
    • মিশর
  • আলোচিত-সমালোচিত
  • জাতীয় রাজনীতি
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।
  • বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ
  • কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)

১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর: মুজিব হত্যা থেকে খালেদ মোশারফ হত্যা

Written by IMBD Blog on 07/11/2015 in বাংলাদেশঃ৭২-৭৫ | Views

লিখেছেনঃ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় অফিসার কর্তৃক এক অভ্যুত্থানে নিহত হন। অভ্যুত্থানকারী অফিসারদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শেখ মুজিবেরই ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহযোগী ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ। খন্দকার মোশতাক এবং অভ্যুত্থান সংঘটনকারী ঐ সামরিক কর্মকর্তারা বঙ্গভবন অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অধ্যাদেশ, আদেশ-নির্দেশ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন।[১]

১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েই গঠিত হয় খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রীসভা। অভ্যুত্থানের দিন নীরব সমর্থন দেয়া, “ফ্রিডম ফাইটার্স হ্যাভ ডান ইট বিফোর,এন্ড দে হ্যাভ ডান ইট এগেইন” বলে গর্ব করা এবং তৎকালীন সেনা প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাকে এড়িয়ে চলার পুরষ্কার হিসেবে সৈন্য পরিচালনায় সক্ষম চীফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ এবং ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিল যথাক্রমে সেনা প্রধান এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফ হবার জন্য অভ্যুত্থানকারীদের আনুকুল্য প্রত্যাশা করলেও খন্দকার মোশতাক সিনিয়রিটি বিবেচনায় নিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেন। শুধু তাই নয়, সেনা প্রধানের ওপরে তিনি ‘চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ এবং ‘ডিফেন্স এডভাইজার অব প্রেসিডেন্ট’ নামে দু্টি পদ তৈরী করে সেনাপ্রধান এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফের গুরুত্ব আরো কমিয়ে দেন। যে কারণে খালেদ মোশারফ এবং শাফায়াত জামিলের সাথে বঙ্গভবনে অবস্থানকারী অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া অফিসারদের সাথে মানসিক দূরত্ব ক্রমশ: বৃদ্ধি পেতে থাকে।

১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর রাতে খালেদ মোশারফ এবং শাফায়াত জামিল ৪৬ ব্রিগেডের সৈন্যদের নিয়ে সেনা অভুত্থান ঘটান, তিনি নিজেকে সেনা প্রধাণ ঘোষনা করেন এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকারী অফিসারবৃন্দ এবং খন্দকার মোশতাকের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি ঐ অফিসারদের নিরাপদে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ করে দেন। কিন্তু তারা দেশ ত্যাগের পর জানা যায় ৩ নভেম্বর রাতেই দেশত্যাগী অফিসারদের আদেশে এবং খন্দকার মোশতাকের সম্মতিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি চার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর খালেদ মোশারফ এবং শাফায়াত জামিল আর খন্দকার মোশতাককে রাষ্ট্রপতি পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং ৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করে খালেদ মোশারফ উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।[১]

উচ্চাভিলাষী খালেদ মোশারফ এবং শাফায়াত জামিল যখন তিনদিন ধরে রেডিও-টিভি বন্ধ ও পুরো জাতিকে অন্ধকারে রেখে ক্ষমতার ভাগ-বন্টন নিয়ে ব্যস্ত তখন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি সহানুভূতি থেকে দেশের সাধারণ জনগণ এবং সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ। স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জেনারেল জিয়া এমনিতেই জনপ্রিয় ছিলেন। তার ওপর উনার সিনিয়রিটিকে উপেক্ষা করে জুনিয়র শফিউল্লাকে সেনাপ্রধান করার কারণে সাধারণ সেনাদের মধ্যে তাঁর সহানুভূতি আরো বৃদ্ধি পায়। ৩ নভেম্বর তাঁকে পদচ্যুত করে গৃহবন্দি করা হলে এই সহানুভূতি তীব্র ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়।[১,৭]

জেনারেল জিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকে সেনা সদস্যদের মধ্যে রিরাজমান এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এবং জিয়ার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তৎকালিন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা কর্নেল (অব:) তাহের একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেন। জাসদের গণবাহিনীর সদস্যরা সামরিক বাহিনীর মধ্যে লিফলেট ছড়িয়ে তাদের উত্তেজিত করে তুলে, যার মধ্যে ক্ষতিকর দিকটি ছিলো সামরিক বাহিনীকে অফিসারশূন্য করার মত দিকভ্রষ্ট্র পোপাগান্ডা যেমন, ‘সিপাই সিপাই ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’, ‘সিপাই সিপাই ভাই ভাই, সুবেদারের ওপরে অফিসার নাই’।[১,৩,৫,৭]

কর্নেল তাহেরের এই ঝোপ বুঝে কোপ মারার বিষয়টি সেনানিবাসের ২য় ফিল্ড আর্টিলারীর সেনা-কর্মকর্তা ও জওয়ানরা ঠিকই বুঝতে সমর্থ হয়েছিলো তাই ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত অর্থাৎ ৭ নভেম্বর রাত ১২টা ১মিনিটে অভ্যুত্থান শুরুর মূহূর্তেই ২য় ফিল্ড আর্টিলারীর জওয়ানরা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা খালেদ মোশারফের অনুগত সৈন্যদের হটিয়ে দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে ২য় ফিল্ড আর্টিলারীর হেড কোয়ার্টারে নিয়ে আসেন। তিনি সেখানে পৌছেই তাঁকে মুক্তকারী সৈনিকদের বলেন সিনিয়র অফিসারদের ডেকে আনতে।[২] সবাইকে জমায়েত করে জেনারেল জিয়া আর কোন রক্তপাত না ঘটানোর নির্দেশ দেন এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।[৪]

জাসদের গণবাহিনীর নেতারা যখন জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করে তাদের কব্জায় নিয়ে কর্নেল তাহেরের কাছে নেবার জন্য আসে তখন তারা হতাশ হয়। তাদের এই ব্যর্থতায় কর্নেল তাহের নিজেও হতাশ হয়ে পরেন এবং পাশা পাল্টে গেলো বলে মন্তব্য করেন। তারপরও শেষ কৌশল হিসেবে তিনি জেনারেল জিয়াকে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির হেড কোয়ার্টার থেকে বেড় করে আনার জন্য নিজে সেখানে যান।[৬]

এদিকে সিপাহি-জনতার এই অভ্যুত্থানের প্রতি সর্বসাধারণের বিপুল সমর্থন থাকার এবং বিনা রক্তপাতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হাত বদলের পরও এমন কী, বঙ্গভবন থেকে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ ও শাফায়াত জামিল পালিয়ে গেছে এটা জানার পরও কর্নেল তাহেরের নির্দেশে জাসদের গণবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে একের পর এক সামরিক অফিসারদের হত্যা নির্মমভাবে হত্যা করতে থাকে। তাদের এই নির্মমতার হাত থেকে রেহাই পায়নি মহিলা ডাক্তাররাও।[১,৬]

২য় ফিল্ড আর্টিলারিতে কর্নেল তাহের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে জেনারেল জিয়াকে বেড় করে আনার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার জন্য রেডিও স্টেশনে নেয়ার প্রস্তাব করেন। সেখানে উপস্থিত অন্যান্যরা ২য় ফিল্ড আর্টিলারীতেই রেডিও স্টাফদের এনে ভাষণ রেকর্ডিং করানোর পাল্টা প্রস্তাব দেন। এতে কর্নেল তাহের আরো ক্ষিপ্ত হন।

জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যদের যে কোন মূল্যে খালেদ মোশারফ এবং শাফায়াত জামিলকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। শাফায়াত জামিল এই নির্দেশের কথা তার ব্রিগেড মেজর হাফিজের কাছ থেকে জেনে তা বঙ্গভবনে অবস্থানরত খালেদ মোশারফকে অবহিত করেন। ক্যান্টনমেন্টে ফোন করে খালেদ মোশারফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন এবং কর্নেল শাফায়াত জামিলকে বঙ্গভবনে অবস্থান করতে বলে কর্নেল হায়দার ও কর্নেল হুদাকে নিয়ে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। ভোর রাতে জেনারেল জিয়া বঙ্গভবনে অবস্থানরত কর্নেল শাফায়ত জামিলকেও আর কোন রক্তপাত না ঘটানোর এবং শান্তিপূর্ন সমাধানের জন্য মিমাংসার অনুরোধ করেন।[৪,৫]

অন্যদিকে খালেদ মোশারফ এবং তার দুই সঙ্গী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেড় হন। তারা প্রথমে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর প্রধান কর্নেল নুরুজ্জামানের বাসায় গিয়ে পোষাক পরিবর্তন করেন। সেখানে তারা গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। [৫] এই শব্দে খালেদ মোশারফের ড্রাইভার আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করায় তিনি ড্রাইভারকে অব্যাহতি দিয়ে কর্নেল হুদাকে গাড়ি চালাতে বলেন। সেখান থেকে তারা খালেদ মোশারফের এক আত্মীয়ের বাসায় যান এবং কয়েক জায়গায় ফোন করার পর শেরেবাংলানগরে অবস্থানরত ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্নেল নওয়াজেশ এর সাথে কথা বলে নিরাপত্তার আশ্বাস পান এবং সেখানে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।[৭] পথিমধ্যে একটি দুর্ঘটনায় তাদের গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেলে প্রথমে তারা মোহাম্মদপুরের ফাতেমা নার্সিং হোমে যান সেখান থেকে পায়ে হেটে ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাম্পে পৌছান। সেখানে পৌছানোর পর কিছু সৈন্য তাদের তল্লাসী করে সাথে থাকা অস্ত্র নিয়ে নেয়।[৫]

কর্নেল নওয়াজেশ আহমেদ টেলিফোনে জেনারেল জিয়াকে তার ক্যাম্পে খালেদ মোশারফের উপস্থিতির বিষয়টি জানান। এটা জানার পর জেনারেল জিয়া খালেদ মোশারফ এর নিরাপত্তার সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্নেল নওয়াজেশকে নির্দেশ প্রদান করেন, এবং তাদের সাথে যেন কোনরূপ দুর্ব্যবহার না করা হয় সেই বিষয়েও নির্দেশনা দেন।[৪,৫,৬,৭,৮] তিনি তাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত হতে নিষেধ করেন এবং নওয়াজেশের ক্যাম্পে অবস্থানরত রেজিমেন্টের অন্য অফিসার মেজর জলিলের সাথে কথা বলে তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি এই অফিসারকে রক্ষার কাজে কর্নেল নওয়াজেশকে সাহায্য করেন।[৭]

এই সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ২য় ফিল্ড আর্টিলারিতে অবস্থানরতদের কাছ থেকে জানা যায়, যখন জেনারেল জিয়া কর্নেল নওয়াজেশ এবং মেজর জলিলের সাথে কথা বলছিলেন তখন কর্নেল তাহের মিনিট ১৫ এর জন্য বাইরে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি জেনারেল জিয়ার কাছে খালেদ মোশারফের সঠিক অবস্থান জানতে চান এবং আবার কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে যান।[৫,৯]

সেনাপ্রধানের আদেশ ও নিশ্চয়তা পেয়ে কর্নেল নওয়াজেশ খালেদ মোশারফ এবং তার দুই সঙ্গীর জন্য নাস্তার আয়োজন করেন।[৭] তাদেরকে নাস্তা পরিবেশনের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামরিক বাহিনীর খাকি পোষাক পরিহিত কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থ্যার বেশ কিছু সদস্য গান পয়েন্টে সেই রুমে প্রবেশ করে এবং এই তিন অফিসারকে অস্ত্রের মুখে বাইরে এনে গুলি করে হত্যা করে। [৯]

সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বিপ্লবী সৈনিক সংস্থ্যার কিছু সদস্য কর্নেল আসাদুজ্জামানের নিকট খালেদ মোশারফ ও তার দুই সঙ্গীকে হত্যার জন্য কর্নেল তাহেরের নির্দেশ পৌছে দেয় এবং কর্নেল আসাদুজ্জামান নিজে এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন।[৬]

কর্নেল তাহের কি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন?

৭ নভেম্বর নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মিথ্যাটা হচ্ছে- লে. কর্নেল (অব:) আবু তাহের জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলেন। বাস্তব সত্যটা তাহেরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হাসানুল হক ইনু ২০১০ সালে প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন মিজানুর রহমান খানকে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “তাহের ও আমার মূল পরিকল্পনায় জিয়াকে গ্রেপ্তার করে আনার নির্দেশ ছিল। হাবিলদার আবদুল হাই মজুমদারের দায়িত্ব ছিল বন্দী জিয়াকে মুক্ত করা এবং তাঁকে ৩৩৬ নম্বর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় নিয়ে আসা। সেখানে তাহের ও আমি জিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু আমাদের এ পরিকল্পনা সফল হয়নি।”[১০]

তাহের-ইনু তাদের বিপ্লবের সূচনা করার সময় নির্ধারণ করেছিলেন রাত ১২টা ১ মিনিটে। ইনুর ভাষায়, “৬ নভেম্বর দিবাগত রাত একটায় প্রথম গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা ঘটে। আমরা রাত ১২টায় প্রথম গুলি করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমানকে। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হন।” এই বক্তব্যে সত্যের সাথে মিথ্যা মেশানো আছে। সুবেদার মাহাবুব গ্রেফতার হয়েছিলেন ১৩ নভেম্বর। তার নেতৃত্বেই জাসদের গণবাহিনীর খুনীরা ৭ নভেম্বর সকালে সেনাবাহিনীর দুইজন মহিলা ডাক্তারকে হত্যা করেছিল। ৬ নভেম্বর মাঝ রাতের আগে গ্রেফতার হলে তো ৭ নভেম্বর এই কাজ করতে পারার কথা নয়।

আসলে ৭ নভেম্বর রাত ১টায় যখন জাসদের গণবাহিনী জিয়াকে গ্রেফতার করে এলিফেন্ট রোডে নিয়ে যেতে এসেছিল, তার আরো এক ঘণ্টা আগেই জিয়াউর রহমানকে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সৈন্যরা মেজর মহিউদ্দিন এবং সুবেদার মেজর আনিসুল হকের নেতৃত্বে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সদর দফতরে নিয়ে এসেছিল।

রেফারেন্স:

১/ Anthony Mascarenhas (1986). Bangladesh: A Legacy of Blood. Hodder and Stoughton.
২/ মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (২০০০)। এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য। মাওলা ব্রাদার্স
৩/ শাহাদুজ্জামান (২০১০)। ক্রাচের কর্নেল। মাওলা ব্রাদার্স
৪/ কর্নেল শাফায়াত জামিল (১৯৯৮)। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য আগষ্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর। সাহিত্য প্রকাশ
৫/ নীলুফার হুদা (২০১২)। কর্নেল হুদা ও আমার যুদ্ধ। প্রথমা
৬/ মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি (২০১১)। পঁচাত্তরের রক্তক্ষরণ। আফসার ব্রাদার্স
৭/ লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ হামিদ (২০১৩)। তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা। হাওলাদার
৮/ জহিরুল ইসলাম (২০১২)। মুক্তিযুদ্ধে মেজর হায়দার ও তাঁর বিয়োগান্তক বিদায়। প্রথমা
৯/ The war waged by a heroic woman, ‘‘The Daily Star’’, August 25, 2012

১০/ মিজানুর রহমান খান (২০১০), ১৯৭৫ নভেম্বর মার্কিন দলিল-৫: খালেদ ভারতপন্থী ছিলেন না, প্রথম আলো, ০৭-১১-২০১০

প্রথম আলোতে প্রকাশিত মিজানুর রহমানের লেখার আর্কাইভ লিংক;

https://web.archive.org/web/20151107063512/http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2010-11-07/news/107295

https://web.archive.org/web/20151107063337/http://epaper.prothom-alo.com/contents/2010/2010_11_07/content_zoom/x2010_11_07_13_4_b.jpg.pagespeed.ic.CwY-HMCMce.jpg

লেখার উৎস: লেখকের ফেইসবুক 

Next
Next
Posted in বাংলাদেশঃ৭২-৭৫ | Tagged ১৫ আগস্ট, ৭ নভেম্বর

About the Author

IMBD Blog

Related Posts

এ কে খন্দকারের লেখা “১৯৭১: ভেতরে ও বাহিরে” [ডাউনলোড লিংক সহ]→

৭৪ এর দুর্ভিক্ষ ও চেতনাপন্থি ইতিহাস→

Search

রেজিষ্ট্রেশন

  • Register
  • Log in

নোটিশ বোর্ড

  • নোটিশ-১
    প্রিয় ব্লগার ! কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত লিখতে হলে পোস্ট করুন এবং নিক থাকলে নাম পরিবর্তন করে নিন কেননা IMBD ব্লগ 'নিক' নামে লেখা প্রকাশ করেনা।এতে কোন ধরনের ট্যাকনিকাল সাহায্য লাগলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • নোটিশ- ২
    ব্লগিং:
    ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের।IMBD ব্লগ যেকোন মতের লেখকের লেখা স্বাধীনভাবে প্রকাশের সুযোগ করে দিতে বদ্ধপরিকর।লেখকরের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়। মন্তব্যকারীর মন্তব্যও সংস্লিষ্ট ব্যক্তির, তবে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ন ও আক্রমনাত্বক মন্তব্য মুছে দেয়া হবে।

Featured

  • অপরাধ ও অর্থ পাচারে বিদেশীরা, অবৈধ বসবাসকারী ১২ লাখের বেশী

    28/03/2016 / IMBD Blog
  • শরিয়াহঃ ইবনে তাইমিয়া প্রসঙ্গে আলাপ

    01/10/2015 / KHANDAKER RAQUIB
  • কাওমি মাদ্রাসা: ব্যক্তির স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রের রাজনীতি

    07/01/2014 / Aziz Monir
  • হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশ:নেহেরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা

    02/01/2014 / IMBD Blog

সর্বশেষ মন্তব্য

  • দিয়া উদ্দিন রাকিব on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রইসলামী আন্দোলনের আত্মত্যাগ: বালাকোট থেকে…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রpakhie.com শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম নয়…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রমধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি
  • সময় মাহমুদ on ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’: আহমদ ছফা কী চান?সমাজতন্ত্র কে পুজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার…
  • cialis 20 mg daily on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] where to order e…
  • are tadalafil tablets 20mg from india safe on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] order tadalafil 20mg online…
  • viagra effects on male on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] how to use sildenafil…
  • men on viagra videos on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] 100mg sildenafil tablets […]
  • men viagra on Erbakan and Milli Görüş[…] do male pornstars use…
  • sildenafil citrate tablets 100mg canada on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] sildenafil citrate tablets 100mg…
  • indian viagra tablets on আগামীর দিন ইসলামের[…] sildenafil 25mg tablets […]
  • tablet viagra on Islamism: Contested Perspectives on Political Islam[…] does male viagra work…
  • sildenafil 25 mg tablet on আরাফাতের ময়দানে তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ…[…] 100 million viagra tablets…
  • viagra tablet image on বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ[…] sildenafil 50 mg tablet…
  • young men taking viagra on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] viagra 100mg tablet images…
  • men viagra pills on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] viagra tablet for womens…
  • cialis canada on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] non prescription cialis […]
  • cialis lilly on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] cialis 5mg daily […]
  • where to buy cialis on Erbakan and Milli Görüş[…] canadian generic cialis […]
  • buying generic cialis online safe on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] cialis online […]

ক্যাটাগরি

  • অর্থনীতি (7)
  • আইন-আদালত-বিচার (13)
    • মানবতাবিরোধী বিচার (9)
    • মানবাধিকার (2)
  • আদর্শ-মতবাদ (58)
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ (13)
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র (1)
    • ইসলামী রাষ্ট্র (29)
    • খিলাফাহ (2)
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (2)
  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ (2)
  • আন্তর্জাতিক ইস্যু (12)
  • আলোচিত-সমালোচিত (18)
  • ইসলাম ও শরীয়াহ (40)
    • ইসলামী আইন (1)
    • ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা (14)
    • ফতওয়া (1)
    • মুসলিম ইতিহাস (9)
    • মুসলিম দর্শন (4)
  • উপমহাদেশ (2)
  • ছাত্র রাজনীতি (22)
    • ছাত্র মজলিশ (2)
    • ছাত্র শিবির (18)
  • জাতীয় রাজনীতি (52)
    • আওয়ামীলিগ (4)
    • জামায়াত (36)
    • বিএনপি (3)
  • জামায়াতের ইতিহাস (11)
  • দুর্নীতি ও কর্পোরেট (1)
  • নারী অধিকার (18)
  • প্রতিবেশী ও সীমান্ত (14)
  • বই পরিচিতি (13)
  • বাংলা সাহিত্য (10)
    • কবিতা-কাব্য (3)
    • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (3)
    • ভাষা ও ভাষা আন্দোলন (1)
  • বাংলাদেশ (12)
    • রাষ্ট্রীয় নীতি পর্যালোচনা (3)
    • রাষ্ট্রীয়-প্রশাসনিক সন্ত্রাস (4)
    • সমাজ ও সামাজিক পরিবর্তন (3)
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম (60)
    • ইসলামী ঐক্যজোট ও কওমী ধারা (2)
    • কর্মপন্থা-কৌশল পর্যালোচনা (24)
    • খেলাফত মজলিশ (1)
    • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (1)
    • জামায়াত ইসলামী (16)
    • হিজবুত তাহরির (1)
  • বাংলার ইতিহাস (14)
    • বাংলাদেশঃ৭২-৭৫ (3)
    • স্বাধীনতাঃ১৯৭১ (10)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (3)
  • ব্যক্তি ও চিন্তা (41)
    • তারিক রামাদান ও তার চিন্তা (3)
    • ফাতেউল্লাহ গুলেন ও তার চিন্তা (4)
    • মাওলানা মওদুদী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ ইউসুফ কারাদাওয়ী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ রাশীদ ঘানুসি ও তার চিন্তা (4)
    • সাক্ষতকার (5)
  • ব্লগিং (39)
  • মুসলিম বিশ্ব (43)
    • আরব জাগরন (1)
    • তিউনিশিয়া (4)
    • তুরুস্ক (21)
    • পাকিস্তান (5)
    • মালয়শিয়া (2)
    • মিশর (2)
  • শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন (6)
    • ইসলামী গান (2)
  • সংগৃহীত লেখা (1)
  • সংস্কার আন্দোলন (5)
  • সমসাময়িক চিন্তা (24)
  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (10)
    • হেফাজতে ইসলাম (4)
July 2026
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

আর্কাইভ

টুইটারে follow করুন

Follow @imbdblog

copyright ©2026 আইএমবিডি ব্লগ | ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের। লেখকের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়।

Menu