হঠাৎ করে আজ উপরোক্ত ভিডিওটা দেখলাম।বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী ভার্সনের ইতিহাস তরুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে খ্যাতি লাভ কারী অমি পিয়ালের ফেইসবুক পেইজ থেকে।আওয়ামীলিগারদের কাছে যেহেতু শেখ মুজিব দেবতাতুল্য সেজন্য তারা তার কোন ভুল ত্রুটি হতে পারে সেটা যেমন বিশ্বাস করেনা তেমনি ইতিহাসের বস্তুনিষ্ট পর্যালোচনা করে শেখ মুজিবের কোন কাজের সমালোচনা হয় এমন কাজকেও তারা তাদের মত একটা ব্যখ্যা দিয়ে দেবতার স্থানকে পবিত্র রেখে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। উপরোক্ত ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে ২০১০ সালের অগাষ্টে।যেখানে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের সীমাহীন দুর্নিতী,চোরাচালানী,কালোবাজারি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে যে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল তার একটা জাষ্টিফিকেশন দেয়ার চেষ্টা চলেছে।মোদ্দাকথা, সব দোষ নন্দ ঘোষের, দেবতা মুজিবের কোন দোষও ছিলনা,কোন ব্যর্থতাও নাই। লক্ষ লক্ষ মানুষ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছে।ধারনা করা হয় ৭১ এর যুদ্ধে প্রকৃত মৃতের সংখ্যার চেয়েও তখন বেশি মানুষ মারা যায়। তা সত্ত্বেও চেতনাধারী ইতিহাসবাদীরা কিভাবে নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসকে বিকৃত করে তার নমুনা দেখুন ভিডিও টির বর্ণনার ক্যাপশনে,এখানেও উল্লেখ করা হল;
১৯৭৪ সাল, দেশ জুড়ে হাহাকার, ভাত নেই, কবিতায় লেখা হচ্ছে: ভাত দে হারামজাদা, নয়তো মানচিত্র খাবো। দূর্ভিক্ষে মরছে মানুষ। না সেটা মনন্তরে রূপ নিতে পারেনি। সময়োচিত হস্তক্ষেপে। প্রেক্ষাপটটা জানা থাকলে বুঝতে সুবিধা হবে কিভাবে এই দূর্ভিক্ষ জন্ম দেওয়া হয়েছিলো।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সদ্যস্বাধীন একটা দেশের একমাত্র উপার্জনক্ষম পণ্য ছিলো পাট। গুদামের পর গুদামে আগুন দিচ্ছিলো জাসদ এবং সর্বহারারা। এদিকে থেমে নেই বন্যা ও খরা। তাই হাত পাততে বাধ্য হয়েছিলো বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিরোধীতা করা পরাশক্তির কাছেই। আমেরিকার খয়রাতি পিএল-৪৮০ কার্যক্রমের আওতায় দুই জাহাজ খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ রওনা দিলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। তৈরি আরো দুটি। এর মাঝেই ঢাকার মার্কিন দুতাবাস থেকে তার গেলো তাদের হোম অফিসে, বাংলাদেশ কিউবার সঙ্গে চুক্তি করেছে পাটবিক্রির, দুটো জাহাজে পাট বোঝাই হচ্ছে, তথ্যটা নিশ্চিত করেছেন একজন সচিব, তিনি স্বশরীরে গিয়ে জাহাজের নামসহ পাঠিয়েছেন, পাটের পরিমান সহ।
মাঝসাগরে ফেলে দেওয়া হলো বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য, বাকি দুটো রওনা দিলো করাচি। কম্যুনিস্টদের সঙ্গে করা মুজিবকে কিছু দেওয়া যাবে না। সেই যাত্রা বাংলাদেশ রক্ষা পেয়েছিলো রাশিয়া আর ভারতের তড়িৎ সাহায্যে। কিন্তু ততদিনে প্রচুর মানুষ মরে গেছে, তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনীতি। ১৯৭১ সালে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পোস্টার থেকে ছবি নিয়ে সেটা চালানো হলো দূর্ভিক্ষের ছবি বলে। ধরিয়ে দেওয়ার পর এলো জাল পড়া বাসন্তী! সেসময় জন পিলগার একটি তথ্যচিত্র বানিয়ে ছিলেন তাদের পররাষ্ট্র অধিদপ্তরের সুপারিশে। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিফেন্ড করেছেন নিজেকে:
in an interview with john pilger, Bangladesh PM tells about the great famine that took 27 thousand lives. the casualty was less though when the donors were not that much open hand with relief
এবার ঐসময়ের আসল চিত্র জানতে হলে আমাদেরকে দেখতে হবে ঐসময়ে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকাগুলোর ভাষ্য,প্রামান্যচিত্র,সম্পাদকীয়, বই ইত্যাদিতে। সময়ের স্বল্পতার কারনে এখানে বিস্তারিত লেখার সুযোগ নেই।সেজন্য ঐ সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার ভাষ্যগুলো এখানে ফিডিএফ ফাইলে তুলে ধরা হয়েছে যা কিনা একটি বইতে সংকলিত হয়েছিল স্বাধীনতার পর পরই।বইটি’র নাম “বাংলাদেশ বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর” এখানে আলোচ্য বইয়ের দুর্ভিক্ষ অধ্যায়টি তুলে ধরা হল।
বাংলাদেশ:বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর-পত্রপত্রিকায় দুর্ভিক্ষের প্রকৃত রুপ




