সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের রিট খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এর ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামই বহাল রইল। সোমবার দুপুর ২টায় ১৫ নাগরিকের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংক্রান্ত রিট আবেদন করার ‘অধিকার’ (লোকাস স্টান্ডি) নেই মর্মে বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন।
দুপুর ২টায় রিটের চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত শুনানি গ্রহণ না করেই রিটটি খারিজ করে দেন। এ সময় আদালত বলেন, ‘এ বিষয়ে আর শুনানির প্রয়োজন নেই। আমরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত পড়ে এসেছি। যারা শুনানির আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সুব্রত চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা উপস্থি ছিলেন।
রিট খারিজের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক সাংবাদিকদের জানান, আদালত রিটের বিষয়ে আমাদের কোনো জবাব গ্রহণ করেননি। আমরা আদালতকে বলেছি রিটের স্বপক্ষে আমাদের জোরালো যুক্তি রয়েছে। কিন্তু আদালত আমাদের কোনো জবাব গ্রহণ না করেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। যা দুর্ভাগ্যজনক। ১৯৮৮ সালে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) এ ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’ যুক্ত করা হয়।
এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই সালে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’র পক্ষে রিট (নম্বর ১৪৩৪/১৯৮৮) দায়ের করেন ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সাবেক বিচারপতি কে এম সোবহান, অধ্যাপক খান সরওয়ার মুর্শিদ, আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত, বদরুদ্দীন উমর, সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রথম ১০ জনই মারা গেছেন।বেঁচে থাকা শেষ পাঁচজনের অন্যতম বদরুদ্দীন উমর। আজ সোমবার হাইকোর্টে রিটের বিষয়ে আগে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে রিট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
রিটটি দায়েরের দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। ওইদিনই বিচারপতি এ এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। পাশাপাশি শুনানির জন্য অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ১৪ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়। তারা হলেন- টিএইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ড. এম জহির, মাহমুদুল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, আবদুল মতিন খসরু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এএফএম মেসবাহ উদ্দিন। তাদের মধ্যে ড. এম জহির ও মাহমুদুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।
এ রুল জারির কিছুদিন পর একই বছরের ২৫ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয়। এতে ২ অনুচ্ছেদ আবারও সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে’। এ সংশোধনীর পর আবারো সম্পূরক আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পর ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ সম্পূরক রুল জারি করেন। এরপর এ রুলের ওপর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করেন রিট আবেদনকারীপক্ষ।
এ আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। এদিকে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী হরতাল পালন করে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া হেফাজতে ইসলাম সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ না দেয়ার জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আজ সকালে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেয়।
উৎসঃ যুগান্তর ২৮ মার্চ, ২০১৬
রিলেটেড নিউজঃ
- রাষ্ট্রধর্ম মামলার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই: বদরুদ্দীন উমর, বাংলা ট্রিবিউন, ২৭ মার্চ
রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে করা রিটের সঙ্গে নিজের কোনও সম্পর্ক নেই বলে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ও কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমর। রবিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ বিবৃত পাঠানো হয়। টেলিফোনেও বদরুদ্দীন উমর বাংলা ট্রিবিউনকে বিবৃতির দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার রাষ্ট্রধর্ম আইন করার সময় যে প্রতিরোধ কমিটি হয়েছিল, আমি তার প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছিলাম। কমিটির পক্ষ থেকে একটি মামলা তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল, কিন্তু কিছুই হয়নি। এখন সেই মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। আমার নামও তার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। আমি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাজনৈতিকভাবেই আমরা সে সময় আন্দোলন করেছিলাম এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবেই মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু তখন যে পরিস্থতিতে মামলা করা হয়েছিল সে পরিস্থিতি এখন আর নেই।
বিবৃতিতে বদরুদ্দীন উমর আরও বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, সে সময় এরশাদের প্রস্তাবিত আইনটির বিরোধিতা তারাও করেছিলেন। ইচ্ছা থাকলে তারা ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর এই আইন বাতিল করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেনি। উপরন্তু তারা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম আইন বহাল রেখেছেন। তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে এটা স্পষ্ট যে, তারা এই আইনের পক্ষপাতী। এই পরিপ্রেক্ষিতে সেই পুরনো মামলা পুনরুজ্জীবিত করা অর্থহীন। এই মামলা পুনরুজ্জীবিত করার আগে আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি। এই মামলার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংক্রান্ত রিট খারিজ-জামায়াতের হরতাল প্রত্যাহার, যুগান্তর ২৮ মার্চ, ২০১৬
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলেই সংখ্যালঘুরা নিরাপদে- ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ, বাংলা মেইল, ২৭ মার্চ, ২০১৬
মুফতী ফয়জুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের প্রিয় স্বদেশ সারা দুনিয়ার সামনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারপরও কিছু স্বার্থান্ধ জালিম নানা আজুহাতে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সংখ্যালঘুদের সম্পদ আত্মসাতের বিচ্ছিন্ন চেষ্টা চালায়। আমাদের দেশের আইন এ ব্যাপারে যথেষ্ট শক্তিশালী। আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, একশ্রেণির মানুষের হীনমন্যতা ও হীন স্বার্থপরতার কারণেই বিচ্ছিন্নভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিপীড়িত হয়। যেমন ভাবে স্বার্থান্ধ জালিমের কাছে নির্যাতিত হয় দেশের অসংখ্য মুসলমানও।’
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা ধর্মপ্রাণ তারা কখনো কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল বা আছে এমন কোনো রেকর্ড কেও দেখাতে পারবে না। প্রশ্ন করতে চাই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কারণে হয়েছে? ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম? দেশ যে বর্বরতা আর জাহেলিয়াতের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এর কারণ কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম? কেও তা বলে না, বলতেও পারবে না।’





আলহামদুলিল্লাহ……., আল্লাহু আকবার!
আল্লাহু আকবার!! আল্লাহু আকবার!!!
এখন প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামবিরোধী সকল উপাদান দুর করার আন্দোলন!