আজকে উমানের এক ভায়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। অনেক আলাপের পর ধর্মীয় রাস্ট্র তথা ইসলামিক স্টেট বা খিলাফাত প্রতিষ্ঠার জরুরাত নিয়ে কথা হচ্ছিলো। তিনি ডক্টরেট করেছেন, তার স্ত্রীও পি এইচ ডি করতে সোয়ানসি এসেছেন। তিনি বললেন। ইসলামি রাস্ট্র হওয়া উচিৎ, এটা একটা ফরদ্ব কাজ। কিন্তু তথাকথিত ইসলামি দল গুলো দিয়ে তা সম্ভব না।
যেহেতু ইসলামি আন্দোলন গুলোর দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির উপর আমার পি এইচ ডি, কাজেই আলোচনা তার সাথে লম্বাই হলো। তিনিও উমানের খুব গুরুত্বপূর্ণ যায়গাতেই আছেন, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও পররাস্ট্র বিষয়ক নির্দেশনাগুলো নিয়ে তাকে দেখতে হয়, কাজেই বেশ কিছু বিষয় আমাকে শেয়ার করলেন। আমিও আমার থিসিসে এইগুলোর বর্ণনা নিয়ে এসেছি, কিন্তু তার মত দ্বায়িত্বশীলতার সাথে কথা বলার মত শক্তি আমার কমছিলো।
তিনি বললেনঃ যারা ইসলামি আন্দোলন করছে এরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে;
একদল ভেবেছে ইসলামি রাস্ট্র প্রতিষ্ঠায় শুধু নবী মুহাম্মাদের (সা) পথ ধরে চলতে হবে। হিযবুত তাহরির, ইখওয়ান এবং তোমাদের পাক ভারতের জামায়াতে ইসলামির ধারণা এটাই। তারা বলেঃ “দাওয়াত দাও, লোক একত্রিত কর, তাদের প্রশিক্ষন দাও, তারবিয়ার আওতায় আনো, সমাজ কে ইসলামি বানাও পরে রাস্ট্র দখল কর। যেভাবে আমাদের নবী মদীনায় যেয়ে করেছিলেন।
আরেকদল ভেবেছে সেক্যুলার সমাজে সেক্যুলার হয়ে ইসলামের দিকে এগিয়ে যাও, মানুষ যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক, রাস্ট্রটা মুসলিমদের আয়ত্বে আনলেই হয়ে গেল ইসলামি রাস্ট্র। আজকের যামানার মুসলিম রাস্ট্র গুলো এই ধারণায় সৃষ্টি। পাকিস্তান সৃষ্টি, সৌদি আরব, মিসর ইরাক উমান যাই বলো এই ভাবে হয়েছে।
আরেকদল ভেবেছে আমি ইসলামের উপর অটুট থেকে বাতিলের সাথে হাত মিলিয়ে একটা রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করবো। এতে শয়তানের বাহিনী যেমন শক্তিতে থাকবে, রাহমানের বাহিনীও থাকবে সমান পাওয়ার নিয়ে একে বলে পাওয়ার শেয়ারিং। হাসান তুরাবি বলো আর গানুশি বলো, একই কথা তারা বলেছেন, একই কাজ তারা করেছেন।
আমি বললামঃ এই তিনটির কোনটা আপনার পছন্দ?
তিনি আমাকে ও জিজ্ঞেস করলেন একই প্রশ্ন।
আমি বললামঃ কোনটাই নয়। তিনিও বললেনঃ এক্সাক্টলি, হাযা হুওয়া- এইটাই।
তিনি এবার বক্তৃতা দিলেনঃ
কুরআনে বা হাদীসে রাস্ট্রের যে কাজ করতে বলা হয়েছে তা সবই জনকল্যানের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষকে ঘিরেই এই রাস্ট্র হতে হয়। কিন্তু কিভাবে এই রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে? ইসলাম তার কোন নির্দিষ্ট পথ বলে দেয়না। ইসলাম বলেঃ
১। মানুষের কল্যানে নিজকে নিয়োজিত করো, অমুসলিম শাসক হলেও তুমি তাদের কে সাহায্য করে মানুষের কাছে পৌঁছে যাও। দাঊদ (আ) তালুতের সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়ে জালুত কে হত্যা করে মানুষের কাছে এমন ভাবে নিজকে স্থাপন করেন যে, তালুতের ইন্তেকালের পর তার সন্তান কে মানুষ রাজা না বানিয়ে দাঊদ (আ) কেই রাস্ট্রপ্রধান হিসেবে কবুল করেন। কুরআন এই পদ্ধতিকে প্রশংসা করেছে।
২। রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ও ইসলামি রাস্ট্র আসতে পারে। আদম (আ) এর ছেলে শীস (আ), ইবরাহীমের (আ) ছেলে ইসহাক (আ), ইসমাঈল(আ), ইসহাকের(আ) ছেলে ইয়া’কূব (আ),দাঊদের(আ) ছেলে সুলায়মান (আ) রাজতান্ত্রিক ধারায় ইসলামি রাস্ট্রের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। নবী (সা) এর পরেও রাজতন্ত্র এসেছে, সেখানেও খিলাফাত হয়েছে, কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব গুলোই কিন্তু পূর্ণাংগ ইসলামী রাস্ট্র ছিলো।
৩। কোন অমুসলিম দেশে পাওয়ার শেয়ার করেও ইউসুফ (আ) ইসলামি রাস্ট্র কায়েম করেছিলেন। সেটাও একটা তরীক্বাহ।
৪। কোন জুলুমের কবলে পড়ে গেলে ইসলাম পন্থীদের গোপনে গোপনে কাজ করতে হয়, সেটাও কিন্তু কুরআন আমাদের বলে দেয়। আসহাবে কাহাফের লোকেরা পালিয়েই থাকলো, আল্লাহ তাদের হিফাযাত করে রাখলেন ৩০০ বছর। কেও কেও শিক্ষা ব্যবস্থাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে ইসলামি রাস্ট্র বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৪ ইমাম, ইমাম গাযযালি দের সেটাই ছিলো পথ। কেও কেও মানুষের কল্যান সাধনে ব্যপৃত থেকে ইসলামী রাস্ট্র ব্যবস্থাকে উড্ডীন করেছেন। মাহদী বিন তাওমার্তের জীবনটাতে আমরা সেটাই দেখি। মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াতে বড় বড় শায়খরা কিন্তু এইভাবেই ইসলামি রাস্ট্রব্যবস্থা কায়িম করে গেছেন।
আমি বললামঃ শায়খ মন্দ বলেন নি। আমাদের জেলার খান জাহান আলি, সিলেটের শাহ জালাল, উত্তর বংগের নূর কুতুবুল আলম রাহিমাহুমুল্লাহ এই ভাবেই ইসলামি রাস্ট্র বানায়ে ছিলেন।
তিনি মাথা কাত করলেন, বললেনঃ আসলে ইসলামি আন্দোলন নামে এই দলগুলো ভীষণ ভাবে জনগন থেকে দূরে। আমি ভারতীয় তরীকায় মাথা ঝাঁকালাম। তিনি একটু হেসে বললেনঃ জানিনা তুমি কোন দল কর কিনা, কিন্তু আমি বলবো এই ইসলামি দল গুলো মুসলমানদের সাথেও এক হতে পারেনা, এমন কি আজ পর্যন্ত এরা মুসলমানদের দেশেই শতকরা সামান্য কিছু লোক নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এদের দিয়ে আর কিছু হোক বা না হোক ইসলামি রাস্ট্র বা খিলাফাত প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবেনা।
আমি বললামঃ আখুইয়া, যদি ইখওয়ান ও জামাআত কে নির্বিঘ্নে ভোট পাওয়ার সুযোগ দেয়া হতো তা হলে তারা জনগণের ভোট অবশ্যই পেত। মিশর তার সাক্ষী।
এবার তিনি বেশ কিছু গোপন তথ্য আমাকে দিলেন। যা বলা নিষেধ করে দিলেন। তবে বললেনঃ যদি একক ভাবে ইখওয়ান নির্বাচনে যেত ভোট পেত কম। কিন্তু হিযবুল হুররিয়্যাহ করে ডানপন্থীদের সাথে না মিললে কখনোই তারা ভালো করতে পারতোনা। তিনি চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জিগালেনঃ পাকিস্তানে জামাআত একক ভাবে দাঁড়ায়ে কয়টা সীট পায়। আমি বল্লাম ৩টি। এটাও বল্লাম মাজলিসে মুত্তাহিদা আমেলা করে জামআত একটা প্রদেশের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলো।
তিনি বললেনঃ আসলে ইসলামি দলগুলোকে মানবকল্যানে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিদ্যানিকেতন এদেরই হাতে আসতে হবে। শ্রেষ্ঠ হাস্পাতাল এদেরই গড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডিয়া এদের বানাতে হবে। আর ইসলামের অর্থনৈতিক সিস্টেম কে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাতে হবে। আবারো বলিঃ এই সব তথাকথিত ইসলামি দল গুলো ইসলামি রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা।
পন্ডিত মনে হলো উনাকে, আমিও মাথা নাড়লাম ইতিবাচকভাবে।





আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ…..
“”তিনি বললেনঃ আসলে ইসলামি দলগুলোকে মানবকল্যানে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিদ্যানিকেতন এদেরই হাতে আসতে হবে। শ্রেষ্ঠ হাস্পাতাল এদেরই গড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডিয়া এদের বানাতে হবে। আর ইসলামের অর্থনৈতিক সিস্টেম কে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাতে হবে। আবারো বলিঃ এই সব তথাকথিত ইসলামি দল গুলো ইসলামি রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা।””
আমিও বাংলাদেশী কায়দায় মাথা ঝাঁকিয়ে বলি- অনেক কথাই ঠিক বলেছেন, তবে বর্তমান বিশ্বে কাজগুলো সরলরেখার মত এতো সহজ নয়!
বাতিল কখনোই এগুলোকে বিকশিত হতে দেবেনা! বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে দেখুন! এখন তো ইসলামী ব্যাংকটাও দখলে নেবার ছক চূড়ান্ত! ক্লিনিক হাসপাতাল ইয়াতীমখানা মাদ্রাসা কোনটাই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই!
তবে জনসেবার ব্যাপারটা সর্বাবস্থায় অগ্রাধিকারযোগ্য এবং বাস্তবায়নও তূলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ!
জাযাকুমুল্লাহ….
তিনি বললেনঃ আসলে ইসলামি দলগুলোকে মানবকল্যানে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিদ্যানিকেতন এদেরই হাতে আসতে হবে। শ্রেষ্ঠ হাস্পাতাল এদেরই গড়তে হবে। শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডিয়া এদের বানাতে হবে। আর ইসলামের অর্থনৈতিক সিস্টেম কে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাতে হবে।
.
কথাটা বলা যত সহজ,, বাস্তবায়ন করা এত সহজ না।
.
আর সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হলে কি হবে,,,, কাছে গিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করলে বোঝা যায় কি ভয়াবহ অবস্থা।