বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জামায়াত ইসলামী একটি বিতর্কিত নাম।গত ৬/৭ বছরে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।জামায়াত এখন আলোচিত বিষয়।এই আলোচনাই আমার মধ্যে এই দল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি করেছিল।প্রাথমিকভাবে নিজের জানার জন্য অধ্যয়ন শুরু করলেও পরবর্তিতে অন্যদেরও জানানোর প্রয়োজন মনে করলাম।
সোনার বাংলাদেশ ব্লগে(আওয়ামীলিগ সরকার ২০১৩ সালে বন্ধ করে দিয়েছে)এই নিয়ে লেখা শুরু করি ২০১০ সালের মাঝামাঝি বা তার কিছু দিন আগে “ইতিহাসের আলোকে জামায়াত ইসলামীকে অধ্যয়ন” শিরোনামে। ব্লগার হিসেবে আমি বরাবরই যেটা চেষ্টা করেছি, মুল লেখাকে একাডেমিক ধাঁচে Objective রাখতে কিন্তু মন্তব্যের ক্ষেত্রে আমি অনেক কথাই বলেছি যেগুলো আমার নিজস্ব উপলব্ধি।এই লেখা যখন সিরিজ আকারে প্রকাশ হয় তখন বেশ আলোড়ন উঠেছিল।এই সিরিজের পক্ষে ও বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন সিরিজটা বই আকারে প্রকাশ করতে। আশাকরি এই ই-বুকের মাধ্যমে তাদের অনুরোধ কিছুটা হলেও রক্ষিত হল।
এই লেখার মাধ্যমে ব্লগার হিসেবে আমার পরিচিতি ঘটলেও বেশ কিছু সমস্যাও অর্জিত হয়েছে।বাংলাদেশের প্রচলিত ন্যারেটিভ অনুয়াযী জামায়াত নিয়ে কেউ কিছু লিখলে লিখতে হবে সব নেতিবাচক।অন্যথায় লেখক জামায়াতী হিসেবে বা জামায়াত ঘরানার হিসেবে কুখ্যাতি পান।আবার জামায়াতের সমালোচনামুলক লেখা মানে হচ্ছে জামায়াতীদের কাছে জামায়াতের শত্রু এবং ইসলামের শত্রু পক্ষের (সরকারের পক্ষের) লোক। এই দুই ন্যারেটিভসের বাহিরে গিয়ে এই সিরিজ লেখার ফলে আমার অবস্থা হয়েছে বেগতিক।
অবস্থাদৃষ্টে, সরকার বা সেকুলারদের কাছে আমার পরচিয় জামায়াতী। আর জামায়াতী পরিচিতি পেলে বাংলাদেশে গুম, খুন, নির্যাতন ভোগ করতে আর কোন কিছুই তোয়াক্কা করতে হয়না। অন্যদিকে জামায়াতীদের কাছে আমার অবস্থান এন্টি-জামায়াতী।ফলে আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা, আমাকে ইসরায়েল, আমেরিকা, র’, সিআইএ ইত্যাদির দালাল বানিয়ে অপপ্রচার, মিথ্যাচার করাও জায়েজ হয়ে যায়, এবং সেটা তারা করছেও।’খ্যাতির’ এই বিড়ম্বনার কারনে কয়েকবছর আগে দেশে গিয়ে একধরনের ভয়ের মধ্যেই সময় কাটাতে হয়েছে। বলা যায়না, কে কখন, কোনদিক থেকে তাদের আক্রোশ প্রকাশ করেন।
যাই হোক, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।এই লেখা যখন লিখি তখন যেসব বিষয় নিয়ে আমরা ব্লগে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলাম সেগুলো অনেকটাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে বা হয়েছে।কিন্তু জামায়াতের মধ্যে মৌলিক কোন পরিবর্তন আসেনি।কেন আসেনি সেটা এই বইয়ের মধ্যে জানা যায়।এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার হচ্ছে-জামায়াতের পক্ষে কখনো মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।আর মৌলিক পরিবর্তন আনা ছাড়া তারা বাংলাদেশকে কিছু দিতেও পারবেনা।তথাপি, দেশের রাজনীতিতে, সমাজে তাদের একটা প্রভাব থাকবেই।তাদের নেতা-কর্মীদের অনেকে হতাশ হয়ে, বিতশ্রদ্ধ হয়ে অন্য কট্টরপন্থী ইসলামিক দলগুলোর দিকে ঝুঁকে পরতে পারে।ভয়টা এখানেই।
তারপরও এই লেখাটা হয়ত দেশের পলিসি মেকার এবং জামায়াতে সংস্কারের জন্য কাজ করতে আগ্রহীদের কাজে লাগতে পারে। পুরো লেখাটিকে দুটি অধ্যায়ে ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়েটি ১৬ টি পর্বে ধারাবাহিক জামায়াতের ইতিহাস।পরের অধ্যায়টি ব্লগে প্রকাশিত বিজ্ঞ পাঠকের মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য।দুটি অধ্যায়ের সম্মিলিত অধ্যয়ন পুরো বিষয়টিকে একটি পরিপূর্নতা দিয়েছে।প্রথম অধ্যায়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা ১৯৪১ সালে জামায়াত প্রতিষ্ঠার কিছু আগে থেকে শুরু হয়ে ১৯৭১ সালে এসে শেষ হলেও দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংগ্রহ করুনঃ ইতিহাসের আলোকে জামায়াত ইসলামী E Book




