ইসলামী সংগঠনের কঠিন শৃংখলে অনেক মেধাবীই হাসফাশ করে, বের হয়ে যায়। অনেক কারন দেখিয়েই বের হয়ে যায়। কেউ শরয়ী কারন দেখায়, কেউ নিজের নিষ্ক্রিয়তায় নিজে বহিস্কৃত হয়। আমাদের অনেকেই হতাশায় ভোগে যে কেন মেধাবীরা এখানে টিকতে পারে না। আমার মতামত হলো মেধাবীদের টিকিয়ে রাখার জন্যে ভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম দরকার হয়। কি ধরনের প্ল্যাটফর্ম দরকার? উত্তর খুজছি এখানেঃ
সংগঠনে মেধাবী ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা আছে। মেধাবীদের একটা মেন্টাল সাইকোলজি থাকে, সিমিলার প্রকৃতির। এরা মুল্যায়ন পেতে চায়, মুল্যায়ন না পেলে যত ভাল কাজই হোক খুব কম মেধাবীই সেটি করতে চায়। এরা দায়িত্বশীল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে নয়, বরং নিজে নিয়ন্ত্রন করতে বা অন্তত উপদেষ্টার সম্মান চায়। নিয়ন্ত্রিত হতে গেলেই নিয়ন্ত্রনের যে পলিটিক্যাল ক্যামিষ্ট্রি তা তারা বুঝতে চায় না, অথবা মানতে চায় না। যার কারনে পদে পদে তাদের প্রশ্ন তৈরি হয়, যেমনটা বনী ইসরাঈলের মেধাবীদের (!) তৈরি হত। যদি তারা মেনে নিতে চাইতো তাহলে অনেক ক্ষেত্রে শুনলাম এবং মান্য করলাম প্রক্রিয়াতে প্রবেশ করলে তবেই সংগঠনে থাকতে পারে, অন্যথায় আর কোন প্রক্রিয়া নেই এদেরকে ধরে রাখার। একটা প্রক্রিয়া আছে, তা হল এদেরকে বুদ্ধিজীবী ডিক্লেয়ার করে তেমন একটা প্লাটফর্ম করে তাদেরকে তেল মারা, উন্নত জীবন দেয়া, মুল্যায়ন করা। বিনিময়ে তারা আপনাকে বুদ্ধি দেবে, গবেষনা করবে ইত্যাদি। খুব কম মানূষই তাঁর মেধাকে সংগঠনে বিলীন করে কর্মী হিসেবে জীবন যাপন করতে চায়। অন্তত দেশ বিদেশে যত মেধাবীকে দেখার সুযোগ পেয়েছি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তারা উপদেষ্টা হতে চান, কর্মী নন। তারা আনুগত্য করতে নয় বরং উপদেশ দিতে চান। তাদেরকে ধরে যদি রাখতেই হয় তাহলে কর্মি বানানো বা আনুগত্যের আশা করে সংগঠনের ফরম্যাট তৈরি করলে হবে না। মেধাবীদের দুনিয়ার আকর্ষনের হাতছানিও তাকে নৈতিকভাবে দুর্বল রাখে অনেক ক্ষেত্রে, যা একটি ইসলামী সংগঠন তাঁর কর্মীদের জন্যে অনুমোদন করে না। মেধাবী যতই মেধাবী হোক ইসলামী সংগঠন মেধার কারনে নৈতিকতায় কোন ছাড় দেয় না, কোন কর্মীকে। আমি অনেক উদাহরন দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করতে পারি, সেই চবির কম্পিউটার বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্র থেকে শুরু করে কোরিয়ার স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষায় যাওয়া মেধাবী এবং ডেনমার্কের উচ্চমাত্রার ফিলসফিক্যাল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের দেশের মেধাবীদের দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
মনে রাখা দরকার, ধর্মের মুল ভিত্তি তর্ক নয়, বিশ্বাস। খুচাখুচি আর ফিলসফিক্যাল বিতর্ক নয়, বরং শুনলাম ও মান্য করলাম এর সাথে সম্পর্কিত। গনতন্ত্র নাকি অস্ত্র নাকি নুসরাহ কোন পথে ইসলাম আসবে এই বিতর্কের কোণ শেষ হবে না। যেই কথা বলুন তাঁর বিপরীত মত থাকবেই। এটি হলো অনেকটা আমার সাদা রংয়ের জামা পছন্দ আমি সাদা রংয়ের পরবো, তোমার অন্য রং পছন্দ তুমি অন্য রংয়ের পরো। কেউ যদি বলে সাদাই সুন্দর কালো নয়, কেউ তাকে বুঝাতে পারবে না যে এটা একান্তই তাঁর নিজের পছন্দ। অন্যকারো কাছে কালোও সুন্দর লাগতে পারে। কেউ যদি এজাতীয় বিষয় নিয়ে পেছিয়ে জামায়াত বা শিবির থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাকে আটকানোর কোন যুক্তি নেই, কোন শক্তি নেই তাকে আটকে রাখার, যতদিন না সে তাঁর পছন্দ পরিবর্তন করবে। আর যদি তাঁর মাথায়ই এটা থাকে যে আমি উপদেষ্টা হতে চাই, কর্মী নই, তাহলে তাকে ধরে রাখতে চাওয়া বৃথা। যে কাজ করতে চায়, তাঁর কেবল সুন্দর ইচ্ছার দরকার হয়। যে করতে চাইবে না, বা ভিন্ন পথ খোজে সে কাজে একটিভতো হবেই না, তাঁর অযুহাতেরও অভাব হবে না। তাকে ধরে রাখার চেষ্টা বৃথা।
ইসলামী বিপ্লবের কোন বাধাধরা পথ নেই। আমি জোর দিয়েই বলছি এর কোন বাধাধরা পথ নেই। যারা বাধাধরা পথ দেখাতে চায়, তারা আরেকবার রাসুল (স) এর পুর্ণ জীবনে পড়ে আসুন। ইসলামী বিপ্লবের জন্যে হিকমাহর সাথে পথ খুজতে হয়। যেকোন হালাল কাজের মাধ্যমেই আগানো যায়। এমনকি জরুরতের প্রেক্ষিতে সাধারনের জণ্যে হারাম কাজ বিপ্লবীর জন্যে হালাল হতে পারে, কিন্তু তাও মুসলিমদের ইজমার প্রেক্ষিতে জরুরতের কারনেই হতে হয়। কারো যদি মনে হয় দাওয়াতী কাজ করে ভোট চেয়ে ধীরে ধীরে জনসমর্থন তৈরি করে জনগনের উপরে ইসলাম কায়েম করবো সে গনতন্ত্র কুফরী, অমুক কুফরী, তমুক কুফরী না বলে নিজেই নিজের পথ খুজে নেবে। আর যে অস্ত্র হাতে নেই জনগনের উপরে ইসলাম চাপিয়ে দিতে চাইবে অথবা সেনাবাহিনীর নুসরাহ (ভিন্ন আঙ্গিকে অস্ত্রের জোরে) এর মাধ্যমে জনগনের উপর ইসলাম চাপিয়ে দিতে চাইবে সে তাঁর পথ নিজে পছন্দ করে নিয়েছে। আমি জনগনের সাথে মিশে তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে তাদের ভোটে তাদের উপর ইসলামী আইন দেয়ার পক্ষপাতী বাংলাদেশে। তাই আমি জামায়াত-শিবির করি। আমার ঘাড় ত্যাড়ামী থাকলেও সাংগঠনিক আনুগত্যে আলহামদুলিল্লাহ আপত্তি নেই। আমি কর্মীই থাকতে চাই।
————
পুরো নোটে কয়েকটা পয়েন্টে আলোচনায় গেপ রেখেছি (রেখেছি বললাম আমার গাফলতি প্রকাশের জন্যে, কারন আমি একটু সময় দিলেই সেটা হয়তো পুরন করতে পারতাম আল্লাহর ইচ্ছায়)। এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের প্রশ্ন তৈরি হতে পারেঃ
১/ এটা পরিস্কার বলা যে, আমাদের সংগঠনে কিছু মেধাবী আসতে না পারা মানে এই নয় যে মেধাবীর বিরাট শুন্যতায় আমরা ভুগছি। কোন মেডিক্যালের বা বুয়েটের বা ভার্সিটির একজন মেধাবী এখানে থাকতে না পারলেও সবার মনে রাখা উচিত একই মেডিক্যালের বা বুয়েটের বা ভার্সিটির শত শত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ডক্টরেট এই সংগঠনে ছিল, আছে এবং ইনশা আল্লাহ থাকবে। একজন চলে গেলেই সে এক্সট্রা মেধাবী হয়ে গেল, আর যে আছে তাঁর মেধা কমে গেল চিন্তা করা ঠিক হবে না। এইক্ষেত্রে আমার লেখায় আমি মুলত মেধাবীর সংজ্ঞাও প্রথমে দেয়া হয়তো দরকার ছিল। তবে মনে রাখা দরকার শত শত মেধাবী নিজেদের মেধার ইগোকে নয়, বরং ইসলামের অনুসৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে এই সংগঠনে কাজ করছে।
২/ বনী ঈসরাইলের মেধাবীদের সাথে কেন তাদের তুলনা করলাম, এটির বিষদ ব্যাখ্যার দরকার ছিল। হিন্স হচ্ছে- বনী ঈসরাইলের মেধাবীরা প্রশ্ন করতো নিজেদের ইগো ঠিক রেখেই আল্লাহর নবীকে ঘুরিয়ে পেছিয়ে নাজেহাল করে কিভাবে ইসলামের বিধানগুলো না মেনে থাকা যায়, বা আরাম করা যায় তাঁর সুযোগ খুজতে। যারা মেধাবী তারা আশাকরি কুরআনের প্রথম দিকের সুরাগুলো বিস্তারিত পড়ে নিজেরা তা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতে পারবেন, ইনশা আল্লাহ। আসলেই যদি আল্লাহ চান তাদেরকে বুঝ দিতে।
৩/ মেধাবীদের ইগো সমস্যাটাকি তাদের ঈমানের দুর্বলতা নাকি প্রাকৃতিকভাবেই আল্লাহর ইচ্ছা, এই পয়েন্টটা আমি আলোচনা করিনি। আমি আপাতত দুর্বলতা ধরে নিয়েই লিখেছি, তাই লেখাটা এমন হয়েছে। যদি প্রাকৃতিকভাবেই আল্লাহর চাওয়া এমন হয় যে মেধাবীরা মেধা বিক্রি করবে, তাদেরকে সুযোগ-সুবিধা দিলেই কেবল থাকবে তা না হলে ডিসেগ্রি করার নাম দিয়ে বের হয়ে যাবে, তাহলে বলব, সংগঠনের উচিত মেধাবীদের সুবিধা দেয়া, তাদেরকে ইন্টারেস্টেড ফিল্ডেই কাজের সুযোগ দেয়া এবং তাদেরকে কর্মী বানানোর চেষ্টা না করে, উপদেষ্টা হবার একটা ফরম্যাট দাড় করানো। তাইলে তারা ছুটে গিয়ে কেউ ওয়েস্ট্রার্ন সিভিলাইজেশনের দাস হবে না, কেউ অমুক ইসলামী ফেরকা, তমুক ইসলামী ফেরকা খুজবে না, বরং আমাদের সাথেই থাকবে, ইনশা আল্লাহ। এখনো পর্যন্ত এটাই আমার বুঝ।
৪/ মেধাবীরা অনেক সময়ই পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। কারন তারা তাদের মেধার কারনেই বুঝতে পারে যে পরিবর্তন দরকার। কিন্তু একজন মেধাবীর মেধা মুল সৌন্দর্যতো এখানেই যে, সে যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে তা উপযুক্তভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতাও তাঁর থাকে, নিজের আশেপাশের পরিবেশের অভিজ্ঞতা এবং সংস্কৃতি বোঝার যোগ্যতা তাঁর থাকে, পরিবর্তনের প্রস্তাব গ্রহনযোগ্য করে তোলার জন্যে এমনকি যদি ৫-১০ বছর সময় লাগে সেই ধৈর্য ধরার আগ্রহও তাঁর থাকে। অনেক মেধাবীর ইগো আর গোয়ারতুমির পর্যায় এমন যে, এরা দশজনের সামনে একটা প্রস্তাব করে, দশজনের মাঝে হয়তো ২-৩ তাঁর প্রস্তাবের গুরুত্ব বুঝে এটিকে সমর্থন দেয়, বাকী ৭-৮ জনের হয়তো প্রস্তাবটা প্রাগমেটিক মনে না হওয়ার অগ্রহনযোগ্য বিবেচিত হয়; এবং এ পর্যায়ে ঐ মেধাবীর দাবি থাকে যে তার প্রস্তাবটি শুরায় গৃহীত হোক। এটা কিভাবে সম্ভব!!! এমনকি রেডিক্যাল ইনোভেশন যেসব কর্পোরেট বিজনেস কোম্পানীগুলো টার্গেট করে, তারাওতো বিজনেসের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টায় এতো রেপিড সিদ্ধান্তও নেয় না, পরামর্শ পরিষদের মেম্বারদের কনভিন্স করতে পারে না এমন মতামতও নেয় না। তাহলে একটি সুন্দর এবং বিশাল ইসলামী সংগঠনে কিভাবে তারা রাতারাতি পরিবর্তন চায়, যদি না তাদের নিজেদের মাঝে ইগো বা গোয়ার্তুমির সমস্যা না থাকে। এটিও চিন্তার একটি দিক হতে পারে। চিন্তায় ভুলও হতে পারে।





খুব সুন্দর আলোচনা- জাযাকাল্লাহ..
আমি একটু যোগ করতে চাইঃ-
““মেধাবী যতই মেধাবী হোক, ইসলামী সংগঠন মেধার কারনে নৈতিকতায় কোন ছাড় দেয় না, কোন কর্মীকে””।
একথার ব্যতিক্রম সংগঠনে অনেক ছিল/আছে/(হয়তো থাকবেও)- যেসব কারণে এমন ব্যতিক্রম করা হয় সেসব কারণেই উদাহরণ দিলামনা!
“শুনলাম ও মান্য করলাম” এ নীতি তো কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন কেউ ওহী দ্বারা পরিচালিত অথবা ওহীর নির্দেশনা লংঘণের দুর্বলতা থেকে মুক্ত(এ-ও কি সম্ভব?)
এমন কথা সেই ব্যক্তি মানবে কেন- যার কাছে এর বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে! সেক্ষেত্রে মুল বিষয় চেপে রেখে মেধাবীর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়কে (আনুগত্যহীনতা, ইগো ইত্যাদি) হাইলাইট করা হয় এবং তাকে বিচ্ছিন্ন(ISOLATED) করে ফেলা হয়! (এর বেশী বলা ঠিক নয়!)
মেধাবী বা অতিমেধাবীরা মেধা বিক্রি করতে আকাঙ্খা করবে- এটা অস্বাভাবিক নয়! কিন্তু যদি সে মেধা বিনিয়োগ করার সুযোগ পায় তবে তা করবেনা- এমনটা মনে হয়না! সমস্যাটা হয় যখন মেধা বিক্রি বা বিনিয়োগ- কোনটারই সুযোগ মেলেনা!
সাধারণতঃ দেখা যায়- মেধাবীর কোন প্রস্তাব/পরামর্শ সংগঠন তাতক্ষণিকভাবে বা স্বল্পমেয়াদে গ্রহন করতে না পারায় মেধাবী মনঃক্ষুণ্ন হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন বা দূরে সরে গেছেন! এখানে সংগঠন/অন্যান্য মেধাবীদের কর্তব্য ছিল প্রস্তাবকারীর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং প্রস্তাব/পরামর্শটির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখা! এতে হয়তো একসময় সেটি সংগঠনেরও গ্রহনের সুযোগ এসে যেতো! কিন্তু দুঃখজনক সত্য যে প্রায়শঃই এমনটা করা হয়না!
ঢাকা মহানগরীর একটা অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে- গোঁয়ার্তুমির রোগটা আমার নিজেরও ছিল (এখনো আছে- মাঝে মাঝে জেগে উঠলে টের পাই)- তরুণ বয়সে সেটা খুব প্রবল ছিল, আবার সংগঠনেও কখনো ব্যাকবেঞ্চার ছিলামনা! একবার মুহতারাম আমীরে জামায়াতের বক্তব্যের একটা বিষয় মেনে নিতে পারছিলামনা, থানা নাযিমের সাথে আলোচনা করেও ফল হলোনা, একজন শূরাসদস্যের পরামর্শে সরাসরি আমীরে জামায়াতকে লিখলাম! তিনি দায়িত্ব দিলেন ঢাকা মহানগরীর ততকালীন আমীর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে! যতদূর মনে পড়ে- প্রায় দেড়-দুঘন্টা আলোচনা হয়েছিল! মোল্লাভাইয়ের সাথে সেই আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন, বিপ্লবের সাফল্য-ব্যর্থতার উপাদান এবং জনসাধারণ থেকে সংগঠনের শীর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা ও সীমারেখার ব্যাপারে আমি যেন কূয়োর ব্যাঙ পুকুরে নয়- সাগরে পড়েছিলাম! আমি তৃপ্ত ও অভিভূত হয়েছিলাম- নিজের এমন দায়িত্বশীলের জন্য গর্ব অনুভব করছিলাম!!
এখন কি তেমন আমীর বা নেতা কেউ আছেন যিনি নিজে না পারলেও মোল্লাভাইএর মত যোগ্য খলিফা নিয়োগ করে প্রশ্নকারী কর্মী/শিক্ষার্থীর কৌতূহল নিবারণ করবেন!!
হয়তো বলা হবে- এখন সংগঠন অনেক বড় ও বিস্তৃত হয়েছে, বাস্তব কারণেই তেমনটা সম্ভব নয়!!
জবাব যদি তা-ই হয় তবে মেধাবীদের জন্য নেতিবাচক শব্দচয়নে হিসেবী এবং প্রয়োগে সংযমী হওয়া উত্তম মনে করি!
মেধাবিনিয়োগের কিছু বিষয় এমন যে তাতে নিরবচ্ছিন্ন একাগ্রতা ও বিশেষ ধরণের ততপরতার প্রয়োজন হয়! এমন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে যদি বিশেষ সুযোগ না তাকে তবে কাঙ্খিত ফললাভ হওয়া দূরূহ! কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়- সবাইকে সবখানে সবকাজে লাগানোর নীতির কারণে মেধাবীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আউটপুট পাওয়া যায়না! এক্ষেত্রে সুরা তাওবাহর ১২২নং আয়াতটি সামনে রেখে চিন্তা করা যেতে পারে!
“””অনেক মেধাবীর ইগো আর গোয়ারতুমির পর্যায় এমন যে, এরা দশজনের সামনে একটা প্রস্তাব করে, দশজনের মাঝে হয়তো ২-৩ তাঁর প্রস্তাবের গুরুত্ব বুঝে এটিকে সমর্থন দেয়, বাকী ৭-৮ জনের হয়তো প্রস্তাবটা প্রাগমেটিক মনে না হওয়ার অগ্রহনযোগ্য বিবেচিত হয়; এবং এ পর্যায়ে ঐ মেধাবীর দাবি থাকে যে তার প্রস্তাবটি শুরায় গৃহীত হোক। এটা কিভাবে সম্ভব!!! “””
রাতারাতি পরিবর্তনের দাবী হয়তো কেউ কেউ করতে পারেন, সবাই নয়! তবে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা এবং কমপক্ষে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার আলোচনার ধারাবাহিকতা না থাকা বা রুদ্ধ হওয়া সমীচিন নয়!
পরমানুঅস্ত্র নিয়ে ইরাণ-মার্কিন আলোচনা বোধ হয় একটা উদাহরণ হতে পারে! প্রস্তাবটি “অগ্রহনযোগ্য” হলো কেন? কেন সেটা “আরো আলোচনা-পর্যালোচনাযোগ্য” বিবেচিত হয়ে বিশেষ কারো দায়িত্বে দিয়ে অপেক্ষমান(pending) রাখা হলোনা? সমস্যার একটি পয়েণ্ট এখানে!
তবে শেষ কথা সেটাই যা আপনি বলেছেন- …. সাংগঠনিক আনুগত্যে আলহামদুলিল্লাহ আপত্তি নেই। আমি কর্মীই থাকতে চাই।
@আবু সাইফঃ আপনার কথার সাথে একমত। 🙂
ভাই, আহসানুল হক আরিফ। সালাম। পূর্ব পরিচিতি না থাকায় অব্জেক্টিভ কমেন্ট করলাম।
০১. প্রথম অভিযোগ- লিখাটি ভদ্রতার মিনিমাম ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করেনি। যে কোন ব্যক্তি তা যে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রেরই হোক না কেন, তাকে হেয় করে অপমাঞ্জঙ্ক কথা বলা একেবারেই অনুচিত। ইসলামি সৌন্দর্যের নীতিমালার বাইরে। এখানে তা ডিঙ্গিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্লগ যেহেতু আপন বাড়ির কোন আঙ্গিনা নয়, নয় কোন এহতেসাবের ব্যক্তিক বৈঠক, তাই এখানে এভাবে অপমানজনক কথা বলা ইসলামি আন্দোলনের অনুগত্যের দড়ি গলায় পরনেওয়ালা কোন ভ্রাতার লিখায় শোভনীয় নয়। আশা করি সামনের লিখায় এমন সীমানা ডিঙ্গানো লিখা আরিফ ভায়ের প্যাডে উৎপন্ন হবেনা।
০২. পুরো লিখাটি এক ধরণের স্টেরিওটাইপট চিন্তা থেকে লিখা। এখানে এত বড় অভিযোগ উত্থাপঙ্কারি কনক্লুসিভ লিখায় কোন পরিভাষার (Terminology) কোন ক্লারিফিকেশন করা হয় নি। এখানে আনুগত্য, ইসলাম, মুসলিম, সংগঠন, রাজনীতি, ইসলামের মৌলিক কার্যক্রম, ইসলামের সাধারণ কার্যক্রম, যে সকল বিধিমালায় বিতর্ক অনুমোদিত, যেখানে অনুমোদিত নয় এমন সব বিষয় কে সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা করে আলোচনা না করে সবের ভেতর তাল্গোল পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। আলোচনাটি করা হয়েছে জ্ঞান-ভিত্তিক নয় বরং শিবিরের ভেতর প্রচলিত নেতাদের মুখে চর্বিত-চর্বনের মত উচ্চারিত কিছু শব্দমালাকে মানদন্ড বিবেচনা করে।
০৩. শিবির করার অনেক সুফল রয়েছে, রয়েছে অনেক কুফল। শিবির করার সময় ছাত্রদের মাঝে নেতাদের কথার প্রতি এক ধরনের মোহ কাজ করে যা অনুগত্য ও শৃংখলার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইস্লামের আলোচনায় এসব কথা কোন মানদন্ড হতে পারেনা। কারণ অনুগত্যের জন্য প্রয়োজন বিবেচিত হলে এসব কথার একটি ভাল অংশ চিন্তার দৃষ্টিকোণে সাবস্টান্ডার্ড এবং ইস্লামের চিন্তার সাথে কন্ট্রাডিকটরি। তাই অন্যদের (যারা সিনিয়র, যারা মুস্লিম, যারা ঘোষিতভাবে অমুস্লিম নয় তাদের ব্যাপারে) মন্তব্য করার পূর্বে কারো মুখের কথায় নয় বরং ইসলামের জ্ঞানের আলোকে করা উচিত।
০৪. মানুষ স্বভাবতই বৈচিত্র্যপ্রিয়। সীমারেখার ভেতর এ বিচিত্রতা ইস্লামে অনুমোদিত। সংগঠন ইসলামে অনুমোদিত হলে সংগঠন ও ইসলাম এক জিনিস নয়। যেমন রাজনীতি ইসলামে অনূমোদিত হলেও ইসলাম ও রাজনীতি এক নয়। কোন নামের আগে ইসলাম জুড়ে দিলেই তা ইস্লামের ন্যায় বাধ্যতামূলক হয়ে যায় না, যায় না কুরানের কোন আয়াত প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোন কাজের আগে জুড়ে দিলেই। তাই আরিফ ভায়ের নিকট এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বনের আশা করি।
ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখার আশা করি।
এ্যাট আবু সাইফ ভাই,
সালাম। আপনি কর্মী থাকতে চাইলে আমরা জোর করে নেতা বানাতে পারবনা হয়তো। তাই বলে আপনি কর্মী থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আমার নেতা হবার বসনাটিকে এভাবে মাটি চাপা দেবার চেষ্টা করলেন কেন? (সিরিয়াসলি নেয়া যাবেনা)
আপনার নিকট থেকে আরিফ ভায়ের লিখার বস্তুনিষ্ঠ ক্রিটিক আশা করেছিলাম, তা করে এক কথায় সহমত বলে শেষ করলে কেমনে হবে। আমাদের ভুল-ত্রুটি আমাদেরকেই ধরিয়ে দিতে হবে, যাতে বাইরে আলোচনায় আমরা আর ভুল না করি।