লিখেছেনঃJihad Ibney Emdad
Farid A Reza সাহেবের পোস্টগুলোকে কেন্দ্র করে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হলো। তার যদি সদয় হয় তিনি উত্তর দিবেন বলে আশা প্রকাশ করি।
১. ছাত্রদের মাঝে ইসলামি আন্দোলনের কনসেপ্ট এই উপমহাদেশে মাওলানা মওদূদী তথা জামায়াতে ইসলামি এনেছিল। তারই প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হলো ইসলামি ছাত্রসংঘ পরবর্তীতে ইসলামি ছাত্রশিবির। বলা যায় জামায়াতের ব্রেইন চাইল্ড হলো ইসলামি ছাত্রশিবির। একদল সুশিক্ষিত জাতি বৃহ্ত্তর আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবে এর জন্যই জামায়াতের মাধ্যমেই ছাত্রসংঘ/ছাত্রশিবির তৈরি হলো। কাজেই একদল নিখাদ ছাত্র দ্বারা ছাত্রসংগঠন তৈরি হয়নি এটা হয়েছে মুরুব্বীদের চিন্তাক্রমে। তাহলে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত হয়ে ছাত্রশিবির চালানোর সিদ্ধান্তটা কি আত্নঘাতি ছিলনা? আফটার অল ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে জামায়াতের প্রচুর সহায়তা থাকে। সংবিধানে কি আছে না আছে সেটা না ধরে (কারন সংবিধান একটা জাস্ট নিয়ম। মাঝে মধ্যেই নিয়মকে বিভিন্ন সময়ে কার্ভ করেছে শিবির) আমরা যদি বৃহত্তর আন্দোলনের কথা চিন্তা করি তাহলে জামায়াতে ইসলাম যেই কনসেপ্টে একটা ছাত্রসংগঠন তৈরি করল সেটাকে কি করে তারা নিজেদের প্রভাবমুক্তকরন করার প্রতি সম্মত হবে?
২. আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম যুব শিবির গঠন প্রক্রিয়া চলছিল আপনারা সংগঠনের অধীনে দায়িত্বশীল থাকাকালে এবং সেটা অনেকটাই মুরুব্বীদেরকে ধোয়াঁশার মধ্যে রেখে। যুব শিবির গঠনের কাজতো শিবিরের করার কথা না। এটা করার কথা বৃহত্তর সংগঠনের। যেমন করে তারা ছাত্রদের মাঝে সংগঠনের কথা চিন্তা করেছিল এবং এটার ব্যাপারে সতর্কীকরন করার পরেও কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে যুব শিবির গঠন করার প্রক্রিয়া হচ্ছিল। এটা নেতৃত্বের আনুগত্যের বাহিরে যায় কিনা? খালিদ বিন ওয়ালিদ যেমন করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে সাধারন সৈনিকের কাতারে চলে গিয়েছিলেন যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতাগণ সেইরকম মত সেক্রিফাইস করার মনমানষিকতা লালন করতে পারেনি। এককথায় বলতে গেলে তারা নিজেদের মতকেই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাহলে বুঝা গেল যুব শিবির যদি সফল হত তাহলে যার যার মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগঠন ব্যবহৃত হতো। কোন চেইন অব কমান্ড বা আনুগত্যের বালাই থাকতনা।
৩. ‘৭১ এ আপনারা ছিলেননা কিন্তু ‘৭৭ এ যারা শিবির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা সবাই ‘৭১ এ ছিলেন এবং পুরো ঘটনা জানেন। তাদের কাছ থেকে কি ‘৭১ এর অপকর্মে (যেই ধর্ষন, খুনের অভিযোগে আজ নেতৃবৃন্দের ফাঁসি হচ্ছে) জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সেটা জানতে চাননি? জামায়াত কেন কনফেস করবে? কারন ‘৭১ হয়েছিল জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? আর ‘৭১ এ পাক সরকার যেই অপকর্ম করেছিল সেগুলোর জোড়াল প্রতিবাদ তারা তাদের তখনকার সময়ে যতটুকু শক্তি ছিল করেছে। তারপরেও কিভাবে দায়মুক্তির কথা আসে? তাহলে কি আপনারা জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শিবিরকে পরিচালনা করতে চাইছিলেন?
৪. জামায়াত নাম পরিবর্তন করেনাই কেন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে নাম পরিবর্তন করলে কি হত? নেতৃত্বে কারা থাকত সেটার বিষয়ে কি কোন দৃষ্টিভংগি ছিল? কারন জামায়াতের উৎপত্তিস্থল পশ্চিম পাকিস্তান। সংগঠনের ভিত সেখানে অনেক মজবুত ছিল। আর পূর্ব পাকিস্তানে যারা নেতা ছিলেন তারা কেন্দ্রের আনুগত্য করার কারনে ‘৭১ এর কাদা তাদের মধ্যে লেগেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে পরবর্তী বাংলাদেশে নুতন জামায়াতের হাল ধরতে পারে যার ‘৭১ এর কোন কাদা নাই সেইরকম নেতা কি ছিল জামায়াতে? ছাত্রসংঘে যারা ছিল তাদের বহু মানুষ আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। ছাত্রসংঘ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তাহলে ছাত্রসংঘ থেকে নেতা এনে জামায়াত চালালেও সেই একই ফল হতো। দেখা যেত নুতন জামায়াতের হাল পুরাতন নেতৃত্বকেই ধরতে হত। তাহলে নাম পরিবর্তন করে কি ফায়দা হতো?
৫. ইসলামি আন্দোলনে কি রাজনীতি বেহুদা জিনিস? রাজনীতি না করলে ইসলামপন্থীরা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে? শুধু সামাজিক আন্দোলন করে একটা সংগঠন হয়ত জনপ্রিয়তা পাবে কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনীতি ছাড়া কিভাবে পূর্ণতা দেওয়া যায়?
৬. ছাত্রশিবিরকে জামায়াত প্রভাবমুক্ত করে একটা অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার একটা প্রচেষ্টা আপনাদের মধ্যে ছিল। তাহলে যারা ছাত্রত্ব শেষ করবে তারা পরে যুব শিবিরে যোগ দিবে। সেই যুবশিবির কি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে কাজ করবে? সারাজীবন অরাজনৈতিক কাজ করে হঠাৎ করে কিভাবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেয়া যায় যদি রাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে না থাকে। এটা কি টিকে থাকার মত সংগঠন হলো? আর এটাতো সরাসরি জামায়াতের বিকল্প প্লাটফরম হয়ে গেল। এতে কি ইসলামি শক্তি দুইভাগ হয়ে গেলনা? তাহলে জামায়াতের আশংকা কি অমূলক ছিল যার ভিত্তিতে তৎকালিন শিবির নেতৃবৃন্দকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল? বৃহত্তর আন্দোলনকে মজবুতিকরণের একটা স্টেপ ছাত্রশিবির সেটাকে জামায়াত ভাগ করতে দিতে চাইবে কেন?
৭. আপনারা চলে যাওয়ার পরেও জামায়াত আপনাদের সংগঠনে যোগ দেবার জন্য অনেক অনুরোধ করেছে। যদিও সেখানে যোগ দেয়া না দেয়া আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার এটা নিয়ে আপনাদের কাঠগড়ায় দাড় করানোর কোন এখতিয়ার কারও নেই। তারপরেও বলি আপনাদের সেইমসয়কার সময়ে অনেক মেধাবী ছাত্র ছিল। আপনি সহ যারা বের হয়ে গিয়েছিলেন তারা জামায়াতে যোগ দিলে জামায়াত আপনাদের মেধার কারনে আরও ডায়নামিক হতে পারত। আফটার অল বর্তমান জামায়াত কে টিকিয়ে রেখেছে সকল সাবেক শিবির। আপনারা থাকলে জামায়াত শক্তিশালি হত। যেহেতু নেতৃবৃন্দ বলেছিল আপনাদের ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু স্বাধীনচেতা গোলামী না করার অজুহাতে বৃহত্তর আন্দোলন থেকে দূরে থাকলেন। তাহলে এরকম স্বাধীনচেতা যেই চেতনা কোন সংগঠন আমাকে ডমিনেট করতে পারবেনা, আমাকে কন্ট্রোল করতে পারবেনা এগুলো করলে ইসলামি আন্দোলনের প্রকৃতপক্ষে কোন কল্যান আসবে কিনা।
এই ধরনের স্বাধীনচেতা যে সাফল্য বয়ে আনতে পারেনা সেটার প্রমানতো যুব শিবির। শিবিরের থেকে উল্লেখযোগ্য একটা অংশ বের হয়ে গিয়ে যুব শিবির গঠন করল কিন্তু সেই শিবিরের কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ছাত্রশিবির বহাল তবিয়তেই আছে।
(আপনার প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই। এই ইতিহাস জানার দরকার ছিল। যার কারনে আপনাকে প্রশ্ন করার এই উপাদান গুলো খুঁজে পেলাম। আপনি এসব না বললে হয়ত এগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারতাম না। আপনি একজন বড়মাপের মানুষ একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ। আপনি এখন মুসলিম উম্মাহর জন্য যেই কাজগুলো করছেন আল্লাহ আপনাকে সেগুলোর উত্তম জাজাহ দান করুন। আপনাকে সুস্থ্য হায়াত দান করুন)





The language some of us used to personally attack the writer and judge his hereafter shows why Islam is not safe in our hand. I find it distressing when I see brothers despite having background of IM going the down road they themselves loathe to see happening to others. I salute the brother who said comment on writing don’t comment on writer. The brothers, who doubted his hereafter know very little about him, his personal life, and his commitment to dawah work. Its funny that when we are not in control of our own destiny we contemplate other peoples destiny. Let all of us return to the principles of Islam before asking this writer to do so.