[নোটঃ ১৯৮২ সালের কথকতা’র প্রেক্ষিতে এটি একটি পর্যালোচনামুলক ধারাবাহিক লেখা, বোঝার সুবিধার্থে আগের পর্বগুলো পড়ে নেয়া জরুরী]
আগের লেখাঃ ৪র্থ পর্ব
প্রিয় পাঠক, আমি প্রথম পর্বেও বলেছি, এখনো বলছি ৮২’র সমগ্র ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করার নৈতিক অধিকার আমার নেই। শুধুমাত্র বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে অনেকটা সংসদীয় বিতর্কের মতো করে আমার ধারাবাহিক আলোচনার অবতারণা করেছি। লেখক রেজা ভাই নিজের মতো করে যতটুকু জানিয়েছেন, ততটুকুতেই আমার বাস্তবিক অভিজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে একটু পর্যালোচনা করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, লেখক অনেক ঘটনা শুরু করে শেষ করেননি, অনেকের পুর্নাঙ্গ পরিচয় দেননি, অনেকগুলো বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ঠ তথ্য-উদাহরণ দেননি। যার সূত্র ধরেই আমি অনেকগুলো প্রশ্ন রেখেছি। এমনকি সেই অদৃশ্য বিষয়গুলো জানার স্পৃহা থেকেই শহীদি কাফেলার একজন হিসাবে দৃশ্যমান অসঙ্গতিগুলোর যুক্তিভিত্তিক উদাহরণসহ প্রতিবাদ করছি। বিশ্লেষণ বলা সমীচীন হবে না।
অনেকে সত্য-মিথ্যার প্রশ্ন তুলছেন। বিনয়ের সাথে বলব, পৃথিবীর ইতিহাসে একপক্ষ বা একতরফা কিংবা পরিষদের মাত্র ১ জন সদস্যের বক্তব্যকে সত্যের মাপকাঠি ধরে সত্য কাহিনী রচিত হয়েছে এরকম শুধুমাত্র একটি উদাহরণ প্লিজ কমেন্টে দিয়ে যাবেন।
শ্রদ্ধাভাজন আবু যাহরা ভাই, আমি সত্যকে আবেগ দ্বারা ঢাকছি না। বরং লেখকের আবেগী অবস্থানের বিপক্ষে সত্য উদাহরণ এবং ধারনাপ্রসূত বক্তব্যের বিপরীতে আমার মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা মিলাচ্ছি। কুযুক্তি ও আবর্জনার কথা বলে আমার রুট-লেভেলের সত্য অবস্থানকে আপনি উড়িয়ে দিতে পারেন না! বরং চ্যালেঞ্জগুলোর গ্রহনযোগ্য জবাবদিন। আর আপনি যদি ৮২’র একজন প্রত্যক্ষ দর্শী হয়ে থাকেন। তাহলে আপনার বক্তব্য শুনার অপেক্ষায় থাকলাম।
এবার মূল আলোচনায় আসি। লেখকের ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্বের ধারাবাহিক লেখাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে বার বার পড়লাম। যতই পড়েছি ততই লেখকের জন্য অন্তর থেকে পরম সহানুভূতি এসেছে। আমার ইন্টারমিডিয়েটের দুই বছর ছিল সেটার বাস্তব প্রতিবিম্ব। কিন্তু লেখকের ২/৩টি কমেন্টে আমি আদর্শিক হিসাব-নিকাশ খুজে পাচ্ছিনা। যেমন ৭ম পর্বে ‘আগে আমাদের শুরু ছিল রাসুলে করীম (স) থেকে, মধ্যখানে লম্ফ দিয়ে সোজা মওলানা মওদুদী।, এটা খুবই হতাশাজনক যে, লেখক বাছ-বিচার না করেই বড় একটি রাজনৈতিক দলের গায়ে ব্যক্তির তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন! হ্যাঁ মাওলানা মওদুদীর প্রতিষ্ঠিত দল জামায়াতে ইসলামি, যা ইসলামি আন্দোলনের একটি প্ল্যাটফর্ম মাত্র। সেখানে মওদুদী সাহেব শুধু চালকের আসীনে ছিলেন। যেমন হাসানুল বান্না মিসরের ইখওয়ানের কান্ডারী তেমনি আন্না হাদা, একে পার্টিরও সামনে ছিলেন কয়েকজন বীর মুজাহিদ। যারা সেই সকল আন্দোলনের জনশক্তি তারা কুরআন-হাদীসকে আদর্শ ধরেন ব্যক্তিকে নয়। তাছাড়া আমার সাংগঠনিক লাইফে সেই কর্মী থেকে সাথী, সাথী থেকে সদস্য শপথের সময় আল্লাহ-রাসূলের নামেই শপথ গ্রহন করেছি নিশ্চয়ই ব্যক্তির নামে নয়। আজ পর্যন্ত ছাত্রশিবির-জামায়াতের কারো মুখে শুনিনি মওদুদী সাহেবকে বাস্তবতার চেয়ে বড় করে দেখতে! কাজেই প্র্যাকটিস ও অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি জামায়াত-ছাত্রশিবির কোনো ব্যক্তির পূজা করে না। অন্ধ আনুগত্য নয় বরং কুরআনের গোলামী করে, সহীহ হাদিসের গোলামী করে।
অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে সিনেমায় নারীর পর্দা নিয়ে লেখক স্কার্ফ বা হিজাবকে ফ্যাশন হিসাবে দেখতে চেয়েছেন!! যুক্তি না হয় বাদ-ই দিলাম। হিজাবকে ফ্যাশন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে বলা হয়েছে এরকম কোনো প্রকার কুরআন-হাদিস আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। কোনো অভিজ্ঞ ভাই জেনে থাকলে রেফারেন্সসহ কমেন্টে জানাবেন প্লিজ। সাধারণত মুসলিম বিশ্বে দুই ধরনের পর্দা দেখা যায় ১. পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত আবৃত যেমন সৌদি আরব, ফিলিস্তিনি, ইরাক, কাম্মীরের নারীরা পরিধান করে ২. আরেক পক্ষ যারা হাত-পা-মুখ খোলা রাখে যেমন মিসর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইউরোপ-আমেরিকার অনেক নারী। বাংলাদেশে দুটোই দেখা যায়। কাজেই আমি মনে করি যে যেটা ভালো মনে করে সেটাই উত্তম। এটা নিয়ে বিতর্কের তো কিছু নেই। আর হিজাব যে এখন নিরেট ফ্যাশন হয়ে গেছে তা ঢাকার বিভিন্ন পার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।
আমি সত্যিই উচ্ছ্বসিত ও প্রাণোদৃপ্ত। প্রিয় লেখক রেজা ভাইকে ইসলামি আন্দোলনে ফিরাতে আমীরে জামায়াত থেকে সিলেট জেলা জামায়াতের আমীরের আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম দেখে। অনেকে চা-পাতার দোকান পর্যন্ত গিয়েছেন। কাজেই আমি সংকল্পবদ্ধ কেউ যদি বলে জামায়াতের দাওয়াতী কর্মপন্থা কেমন? তাহলে ডানে-বামে না তাকিয়ে সরাসরি বলব ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেয়ার পর রেজা ভাইকে জামায়াত যেভাবে দাওয়াত দিয়েছে সেটাই জামায়াতের দাওয়াতের আসল নীতি। প্রাণ খুলে দোয়া করি আন্দোলনের মজলুম দা’য়ীদের জন্য মহান আল্লাহতা’লা যেন ফাঁসির কাষ্ঠকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিক।
বলে রাখা ভালো। আমি লেখকের সমগ্র বক্তব্যকে আমার ধারাবাহিক আলোচনায় নিয়ে আসিনি। উনার পারিবারিক প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতের মজলিশে শূরার সিদ্ধান্তগুলোকে আমার আলোচনায় নিষ্প্রয়োজন মনে করেছি। আমি মূলত সংগঠন সংশ্লিষ্ট কতগুলো বিষয় যা আমার চিন্তা-ধারার সাথে অঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছে। সে গুলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। এমনকি ২/১ টিতে লেখকের সাথে সহমতও প্রকাশ।
যে বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আওতায় রেখেছি…
১. কথা প্রসঙ্গে অধ্যাপক গোলাম আযম বলেছেন, তিনি লেখককে নিয়ে প্রথমে সুনামগঞ্জ কেন্দ্রিক চিন্তা করেছেন এবং জি.এস হওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রিক চিন্তা করেছেন। যা সংগঠনকে এগিয়ে নিতে একটি রাজনৈতিক অবস্থান মাত্র।–৪র্থ পর্ব।
২. অধিকাংশ সদস্যদের অনাস্থার প্রেক্ষিতে কাদের-রেজা প্যানেলের বিদায় নিয়ে নতুন করে যাতে মতপার্থক্য তৈরি না হয়। সেজন্য আমীরে জামায়াত নিজে গ্রুপে গ্রুপে সকল সদস্যদের অবহিত করা এবং সংকট উত্তরণে নজরুল ইসলাম খাদেম ভাইকে মেম্বার সেক্রেটারী মনোনয়ন করা স্পষ্টতই চাহিদার আলোকে সিদ্ধান্ত।–৫ম পর্ব।
৩. অসময়ে যুবশিবির গঠনের পর দলের ভাঙ্গন ঠেকাতে জামায়াতের পদক্ষেপকে লেখক বিরূপ আচরণ হিসাবে দেখিয়েছেন। শুধুমাত্র জামায়াত-ছাত্রশিবিরকেই দায়ী করার চেষ্টা করেছেন! আবারও প্রশ্ন এসে যায়, তখন যুবশিবিরের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? সেটা নিয়ে লেখক কোনো প্রকার আলোচনা করেননি! তবে অধ্যাপক গোলাম আযমের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটের সোলায়মান হলে পোস্টারিং থেকে যুবশিবিরের ভূমিকা কিছুটা আঁচ করা যায়! এর প্রেক্ষিতে ছাত্রশিবিরকে যুবশিবিবের প্রভাবমুক্ত রাখতে, সারাদেশে জামায়াত-ছাত্রশিবির নেতাদের ব্যাপক জনসংযোগ ও সফর রাজনৈতিক তৎপরতা ছাড়া আর কিছু নয়।–৬ষ্ঠ পর্ব।
৪. প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কিছু আলাদা কৌশল, কর্মপদ্ধতি, নিয়মনীতি থাকে যা সময়, অবস্থান, পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োগ করে থাকে। অনেকে আপত্তি করেন, জামায়াত সামাজিক কাজকর্ম ও সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মী বাহিনী বৃদ্ধি করে থাকেন। যেমন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি, শীতকালীন বস্ত্র বিতরণ, বন্যা-দুর্যোগ কবলিত এলাকায় এাণ বিতরণ, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের সাহায্য, আন্তর্জাতিক দুর্ঘটনায় নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা। ইসলামী আন্দোলনের উদারতা তো এমনই হওয়া উচিত।
সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে আল্লাহ রাসূল(সা), খোলাফায়ে রাশেদ্বীনরা তো এরকম সামাজিক কাজই করেছেন। শত শত গোলামকে আজাদ করেছেন, মানুষের জন্য খাল খনন করেছেন, দুহাত ভরে সাহায্য করেছেন। সেজন্যই তো ইসলাম এ পর্যন্ত এসেছে। কাজেই আমি মনে করি, জামায়াত উত্তরোত্তর এই সকল সামাজিক কাজকর্ম বাড়াতে পারে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, শহর থেকে শহরান্তে ছড়িয়ে দিতে পারে। যা জামায়াতের আপডেট রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। (একজন ভাইয়ের কমেন্টের প্রেক্ষিতে)
এবার সামগ্রিক মূল্যায়নের দিকে আসি। লেখক ফরীদ আহমেদ রেজা উনার আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় জি.এস মনোনয়ন নিয়ে করেছেন। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি স্পেসিফিক কয়েকটি অভিযোগ এবং কয়েকটি ধারনাপ্রসূত বাণী দিয়েছেন। পয়েন্ট বাই পয়েন্ট সেগুলোকে বিশ্লেষণের পাটাতনে দাঁড় করালে দেখা যায়,
ক) সরাসরি অভিযোগ
চিত্র-১: লেখক তার অভিজ্ঞতার আলোকে সংশোধনীয় প্রস্তাবনায় জি.এস মনোনয়নে পরিষদের অধিকাংশের মতামতকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রশ্নে, ‘তিনি এও বলেছেন, প্র্যাকটিস এবং ব্যাখ্যার মধ্যে পরিবর্তন হলে যে ভাষায় তা লেখা আছে তাতেই চলবে,। —৪র্থ পর্ব।
মন্তব্য: আমার প্রশ্নটাও ঠিক এই জায়গায়। প্র্যাকটিস ও ব্যাখ্যা নিয়ে জেনারেল স্টেইটমেন্ট থাকলেও কিভাবে প্র্যাকটিস হতে পারে? কোন কোন পদ্ধতি ফলো করা যেতে পারে? ‘ব্যাখ্যা, শব্দ দ্বারা লেখক কি বুঝিয়েছেন তা আমার কাছে অস্পষ্ট। যাই হোক নির্বাচন তো আর ছাত্রশিবিরের কেউ করতে পারে না। সাবেকদের সহায়তা নিতেই হবে। সাধারণত কেন্দ্রে আমরা দেখি ছাত্রশিবিরের সম্মেলনকে সামনে রেখে সাবেকদের মধ্য থেকে একটি নির্বাচক প্যানেল গঠন করা হয়। তারাই বয়স, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেককে বিদায় জানান। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় বিদায় নেন। তাহলে কি লেখক নির্বাচন প্যানেলে সাবেকদের মধ্য থেকে যারা সেশন বাই সেশন থাকেন সেখানে পরিবর্তনের কথা বলছেন? নাকি সাবেকদের ছাড়া অসংগঠনিক কোনো প্যানেল দ্বারা ছাত্রশিবিরের নির্বাচনের পক্ষে? আমি মনে করি, সংশোধনী প্রস্তাবের কোনো সুস্পষ্ট সমাধান লেখক না দিয়ে গেলেও আশা করি প্রস্তাবটি নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল মহোদয়গণ ভেবে দেখবেন।
চিত্র-২: লেখক দাবি করেছেন, ‘বিরুদ্ধমত বা মতপার্থক্যকে জামায়াত মোটেই সহ্য করতে পারে না,—৬ষ্ট পর্ব।
মন্তব্য: ভিন্নমত যদি কোনো দলকে ভাঙ্গার হয় কিংবা বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বলব জামায়াত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যদি ভিন্নমত বিপরীত মেরুর কোনো আদর্শিক দল হয় তাহলে বলব জামায়াত সহ্যের দৃষ্টান্ত হতে পারে। জামায়াত ভিন্নমত সহ্য করে বলেই ২৮’শে অক্টোবরে লগি-বৈঠার নৃশংসতার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, জামায়াত ভিন্নমত পছন্দ করে বলেই আহমেদ আব্দুল কাদের ভাইয়ের খেলাফত মজলিশ এখনও ২০ দলে, জামায়াত ভিন্নমত সহ্য করে বলেই মজলুম নেতাদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে তারপরও ধৈর্য্য ধরেছে, জামায়াত ভিন্নমত সহ্য করে বলেই কাফেলায় শহীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মনে পড়ছে জালিমের কারাগারে বন্দি হওয়ার আগে আমার গ্রামের প্রিয় ভাই শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানীর মাগফিরাতে বর্তমান আমীরে জামায়াত বলেছিলেন, ‘ আমরা ধৈর্য্য দ্বারাই আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে চাই।, বরং আমি বলব জামায়াতকেই কেউ কেউ সহ্য করতে পারছে না।
চিত্র-৩: লেখক বলেছেন, ‘যাদের মুখের ভাষা এবং বুকের ভাষা এক নয় তাদের সাথে জীবন বাজি রেখে কাজ করা সম্ভব নয়।,–৫ম পর্ব এবং ‘জামেয়ায় গেলে গোলামী করতে হবে। আমি গোলামী করতে পারবো না।’—৭ম পর্ব।
মন্তব্য: লেখকের এহেন বক্তব্যে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। আমি মনে করি, লেখক কোনো প্রকার দলিল, প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই সত্য বর্হিভূত মন্তব্য করেছেন। আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধকে গোলামী বলে লেখক ইসলামি সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করেছেন। দায়িত্ব কোনো বিষয় নয়, আন্দোলনে থেকে জান্নাতের সার্টিফিকেটই মূখ্য বিষয়। সেই জন্যই হযরত উমর(রা:)এর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ সাধারণ সৈনিকের কাতারে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। যা যুগ যুগ ধরে ইসলামের নিদর্শন হয়ে আছে। আর শিশির মোহাম্মদ মনির ভাই সভাপতি না হওয়ায় অনেকে মায়াকান্না করে থাকেন! সেই শিশির ভাইও আন্দোলন থেকে সরে যাননি। যে ৭১ কে ঘিরে শিশির ভাইয়ের প্রতি অনেকে উষ্ণ সহানুভূতি দেখান। সেই শিশির ভাই-ই এখন ট্রাইবুনালে রাত-দিন পরিশ্রম করে খেটে মরছে আন্দোলনের মজলুম মুরুব্বিদের জন্য।
প্রিয় রেজা ভাই মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মী হিসাবে বলতে পারি, মুখের ভাষা ও বুকের ভাষা এক আছে বলেই নির্ঘাত মৃত্যুর কথা জেনেও জালিমের কামানের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করছি। আর মজলুম নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির রশিকে ফুলের মালা হিসাবে বরণ করে নিচ্ছে।
খ) লেখকের ধারনা নির্ভর বাণী
চিত্র-৪: লেখক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মসজিদ-মাদ্রাসায় যে সকল আলেম যুগ যুগ ধরে গণমানুষের ধর্মীয় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারা জামায়াতকে পছন্দ করেন না,—৫ম পর্ব।
মন্তব্য: আমার মনে হয়, লেখক এক্ষেত্রে ৮২’র অবস্থাকে মাথায় রেখে মন্তব্য করেছেন। একটি দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চয়ই ৩৩ বছর পর আগের মতো থাকবে না। সংগঠনের গোপনীয়তার স্বার্থে অনেক কিছুই পাবলিকলি আসে না। শুধু এতটুকু বলব হাজার হাজার কওমী আলেম ও শিক্ষার্থীরা এখন আন্দোলনের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। না জেনে শুনে মন্তব্য করলে যারা জানে তাদের খুব হাসি পায়! অচিরেই তার ফলাফল দেখতে পাবেন ইনশা-আল্লাহ। একটি মাত্র ঘটনা বলি, হেফাজতে ইসলামের ৬ এপ্রিল লং মার্চে এবং ৫ মে, ২০১৩’র শাপলা চত্বরে নৃশংসতায় নিজ চোখে দেখেছি কওমী আলেমদের আহাজারি। আবেগের বশবর্তী হয়ে যে ইসলামি আন্দোলন করা যায় না। মাঠে থেকে সেটা অক্ষরে অক্ষরে বুঝেছি ও খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাদের বিপদে পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার কর্মী বাহিনী। নিজ কানে শুনেছি, কওমী ভাইদের কাছে ছাত্রশিবির-জামায়াতের বন্দনা। এক্ষেত্রে মাওলানা সাঈদী সাহেবের ভূমিকার তারিফ করতে হয়। আর এতে ভীতু হয়ে ফ্যাসিবাদী সরকার কুরআনের পাখিটাকেও বন্দি করে রেখেছে।
চিত্র-৫: লেখক ধারনা করেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ৭১ সালের ভূমিকা জামায়াতকে সব সময় তাড়া করে বেড়াবে,।— ৫ম পর্ব।
মন্তব্য: একাত্তর জামায়াতের ইতিহাসে একটি বড় রাজনৈতিক অশনি সংকেত তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটাও মানতে হয় ৭১ জামায়াতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র। ৭১’রে যাদের বয়স ১৮/১৯ তাদেরকে কসাই বানানো কিংবা যাদের জন্ম ৭১’র পরে তাদেরকে নব্য রাজাকার বলায় স্পষ্ট হয়ে যায় তাদের আসল উদ্দেশ্য কি! কাজেই আমি মনে করি ৭১ জামায়াতকে তাড়া করবে না বরং বিরোধীরা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে কৌশলে ৭১’কে জামায়াতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল, করছে এবং করবে।
সর্বোপরি আমি আমার অবস্থানটা ব্যাখ্যা করলাম। যেটার ভালো মন্দ পাঠক বিবেচনা করবে। শেষ বেলা একটি কথা না বলে পারছি না, কিছু ভাই এমনভাবে সংগঠনের সমালোচনা করেন যা দেখে হাসি থামানো কষ্ট হয়ে যায়। কারণ স্পষ্ট বোঝা যায় উনারা কোনো দিন ছাত্রশিবিরের সংবিধান, কর্মপদ্ধতি এমনকি কোনো একটি মৌলিক বইও পড়েননি। তাই অনুরোধ করব অন্তত গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য হলেও ছাত্রশিবিরের বইগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। যা সমালোচকদের প্লাস পয়েন্ট হতে পারে!!
সবশেষ আমি মনে করি, অর্ধেক বা অপূর্নাঙ্গ ঘটনার বিবরন দিয়ে ইতিহাসের দায়মুক্তি হয় না। উল্টো সেটা বিতর্ক ও বিবাদের সৃষ্টি করে। এমনকি উভয়পক্ষের ইমোশনাল সমর্থকদের অশোভন শব্দচয়ন পর্যায়েও নিয়ে যায়। তাই খুব মনে পড়ছে কবি আল মাহমুদের কবিতার সেই সুন্দর লাইনটি,
প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা।
সমাপ্ত





আসসালামু আলাইকুম…..
প্রকাশের সাথে তাল রেখে সবগুলো পর্বই পড়া হলো
প্রয়োজন ছিল- এটাও ইতিহাসের অংশ হয়ে রইলো
কোন বস্তু/বিষয়কে পরিপূর্ণভাবে দেখার সক্ষমতা কোন মানুষেরই নেই,থাকা সম্ভবও নয়!!
প্রত্যেকেই নিজ নিজ নিয়্যত ও কর্ম অনুসারে ফল পাবেন, চূড়ান্ত জ্ঞান ও ফায়সালা তো আল্লাহতায়ালার কাছে! আমরা তাঁর ক্ষমা ও দয়ার ভিখারী, তিনি যেন সকল মুমিনকে ক্ষমা করেন!!
আমিন ।
অাবু যাহরা ভাই কোথায়,কোন পরিবেশে,কোন দেশে ইসলামি অান্দোলন করেন জানি না তবে বলতে চাই বাংলাদেশের পরিস্থিতে ইসলামি অান্দোলন করলে বুঝতাম তার কথাগুলো সঠিক,সমালোচনাকারীরা শুধু সমালোচনাই করে গেল নতুন কোন পথ দিতে পারলো না তাদের কথা যারা বিপদগামি হচ্ছে এই দায় ভার তাদেরকেই নিতে হবে