প্রথমে বলতে চাই “জনাব ফরিদ আহমেদ রেজা সাহেব”আমার খুব প্রিয় একজন লেখক যার বহু রকমের বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা ও সময় উপযুগী লেখা আমি খুব মন দিয়ে পড়ি এবং বেশির ভাগই লেখা আমার ভালো লাগে। তার মানে এই নয় যে জনাব রেজা সাহেব এর সব লেখা এবং সব কথা যে আমার ভালো লাগতেই হবে বা লাগে এটা ভাবা কিন্তু ঠিক নয়।
এবার আসি মূল কথায়,জনাব রেজা সাহেব একসময় ইসলামী আন্দোলন এর সাথে খুব গভীর ভাবে জড়িত ছিলেন এটা আমরা সবাই জানি,এবং এটাও জানি তখনকার সময়ের সব চেয়ে পপুলার ও সর্বদিক দিয়ে ভালো ও শক্তিশালী সর্ববৃহৎ ইসলামী ছাত্র সংগঠন (বর্তমানেও তাই) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির এর একজন বড় মাপের দায়িত্বশীল ছিলেন। তারপরের ঘটনা সবার জানা ১৯৮২ সালে উনি সহ উনারা আরো কয়েকজন সংগঠন থেকে দুরে চলে আসেন। উনারা কেন সংগঠন থেকে বের হয়ে গেলেন বা সংগঠন কেন উনাদেরকে বহিষ্কার করে দিল তার বিবরন দুই রকমের হবে এটাই স্বাভাবিক।কারন দুই পক্ষই নিজেকে বাচানোর চেষ্টা বা নিজেদের সিদ্ধান্তকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসাবে প্রমান করতে চাইবেন এটাও স্বাভাবিক।
জনাব ফরিদ রেজা সাহেব গত কিছুদিন থেকে উনার ফেইসবুকে ও ব্লগে ১৯৮২ সালের ঘটনা নিয়ে কিছু লেখালেখি করছেন এবং লেখাটা নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করছেন,মন্তব্যকারীদের মধ্যে দুই ধরনের মানুষকে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে;
১-জামায়াত শিবির.
২-এন্টি জামায়াত শিবির
যারা এন্টি জামায়াত শিবির তারা এই লেখা পড়ে খুব খুশি এবং লেখককে নিয়ে পুরাই গর্বে গর্বিত এবং উনারা মনে করছেন এটাই মোক্ষম সময় জামায়াত শিবির এর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করার এবং তাই করে নিচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াত শিবির এর ভাইরাও কেউ কেউ মন্তব্য করার সময় এমন ভাবে মন্তব্য করছেন যে মন্তব্য করতে গিয়ে নিজের আত্মপরিচয় পর্যন্ত ভুলে যাচ্ছেন যা একজন জামায়াত শিবির এর কর্মী ও সহযুগী এর কাছ থেকে মোটেই আশা করা যায়না। শিবির এর পক্ষে যারা মন্তব্য করছেন তারা বেশিরভাগই ১৯৮২ সাল এর পরের কর্মী এবং আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার দুইটা অনুরোধ;
১-শিবির এর কাছ থেকে ১৯৮২ সালের ঘটনার অফিসিয়াল তত্ত্বটুকু ভালো করে পড়ে ও জেনে নিন(সাথে দয়া করে একজন শিবির কর্মী এর কথাবার্তা, আচার ব্যবহার ,চালচলন ও শিবির কর্মী হিসাবে আদর্শ কি হওয়া উচিত সেটাও আবার একটু পড়ে নিন)
২-আপনার দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলুন এবং অনুমতি নিন আপনি আসলেই কি এ বিষয়ে কথা বলবেন কিনা বা আপনার এ বিষয়ে কথা বলার পর্যাপ্ত যোগ্যতা আছে কিনা?আপনি এই বিষয়ে কথা বললে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠন এর লাভ হবে না ক্ষতি হবে সেটাও বুঝে নিন। সর্বোপরি আপনি এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজে নিজেকে কতটুকু ঠিক রাখতে পারবেন নিজের ঈমানটুকু একটু যাচাই করে নিন, তাতে বৃহৎ লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না এটা নিশ্চিত।
সব চেয়ে বড় কথা জনাব ফরিদ আহমেদ রেজা সাহেব সংগঠন এর একজন বড় দায়িত্বশীল ছিলেন এবং উনি দায়িত্বশীল হয়েছিলেন উনার যোগ্যতা ছিল বলে,তাই আপনি সংগঠন এর একজন কর্মী হয়ে উনার সাথে তর্ক বিতর্ক করতে হলে আপনাকেও কিছু যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে।
✅ বিষয়টা কি এমন হতে পারেনা যে যিনি এই লেখা লিখছেন এটা তিনি হয়তো (যদিও বলছেন এটা উনার আত্মজীবনির এটা অংশ বিশেষ) কারো দ্বারা প্রবাবিত হয়ে লিখছেন?বা নিজের ভিতরের ক্ষোভ ,দুঃখ বা আত্ম অনুশোচনা থেকে মুক্তির জন্য উনি লিখতে পারেন।
✅ এমনও তো হতে পারে উনার মনে হয়েছে বর্তমান সময়ের দীর্ঘ বিশাল আন্দোলন সংগ্রামের ফলে জামায়াত শিবির এর কর্মীরা সাংগঠনিক চর্চা থেকে একটু দুরে আছে বা জামায়াত এর উর্ধতন নেতৃবৃন্দ এখন জেলের ভিতর বন্দী আছেন। হয়তো ভাবছেন বর্তমান পরিস্তিতিতে শিবির এর উপর জামায়াত কোন নিয়ন্ত্রণ নেই তাই এটাই সময় প্লান বাস্তবায়ন করা। তাই এই সুযোগে তাদের মধ্যে একটু দ্বীধা-দন্ধ সৃষ্টি করে তাদের ঐক্যকে একটু দুর্বল করে দেওয়া যেতে পারে।তাদের নিজেদের মধ্যে একটা বিদ্রোহ তৈরী করে দেওয়া যেতে পারে যা হয়ত ১৯৮২সালে চেষ্টা করে সফল হওয়া যায়নাই।
✅এমনও তো হতে পারে এটা হয়তো উনার কাছে বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট আর নাহয় ভদ্রলোক আত্নজীবনী হঠাৎ ১৯৮২ সাল থেকে লেখা শুরু করলেন কেন? আত্নজীবনী হলে তো আরো অনেক আগের সুখ দুঃখের সৃতি থেকে শুরু হওয়ার কথা,আর যদি আগে থেকে শুরু হয়েই থাকে তাহলে অনলাইনে ১৯৮২সাল থেকে কেন?
✅আমার কথা মত যদি এটা বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট হয় তাহলে আমার প্রশ্ন গুলিও ট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হবে নিশ্চয়?
বি:দ্র –আমার এই লেখা মোটেই কাউকে ব্যক্তিগত আঘাত দেওয়ার জন্য নয়।যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ থাকলো।যদি কারো কোন অভিযোগ বা মতামত থাকে তাহলে জানাতে পারেন উত্তর বা শুদ্রে নেওয়ার চেষ্টা করবো।আমার ব্যক্তিগত ধারনা বা মতামত এর সাথে যদি বাস্তবের মিল না থাকে তাহলে কেউ কষ্ট না পেয়ে এটাকে আমার নির্বুদ্ধিতা হিসাবে ধরে নিলে খুশি হবো।
বাংলা টাইপ জনিত কিছু দুর্বলতা থাকায় অনেক বানান ভুল আছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ থাকলো (যদি প্রয়জন হয় তাহলে পরবর্তিতে এই লেখার দ্বিতীয় পর্ব লেখার চেষ্টা করবো)
-হাসনাত চৌধুরী লন্ডন ১৯.০৯.১৫





আসসালামু আলাইকুম।
আপনার কথাগুলো সব ধারণা করে বলেছেন । আপনি হয়তো ভুলে গেছেন কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ধারণা/অনুমান করতে নিষেদ করেছেন। তাই ধারণা/অনুমান করা হারাম।
ওয়ালাইকুম সালাম. আমার মনে হচ্ছে আপনি পুরো বিষয়টা ভাল করে বুঝেন নাই.একটু ভাল করে এ বিষয়ে ব্লগে সবার লেখা গুলি পড়ে নেওয়ার অনুরুধ রইলো.হারাম এবং হালাল সম্পর্কে আপনার কথাটার সঠিক মূল্যায়ন আছে আমার কাছে,এবং আমাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ.
মনে রাখা দরকার প্রসঙ্গ,অবস্থা,ও সমসাময়িক কথার মধ্যে অন্য প্রসঙ্গ বা ইসলামের ভুল বিশ্লেষন টেনে আনা কে এক ধরনের ফিতনা বলে.আর কোরআন শরীফে এটাও বলা আছে “ফিতনা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও জগন্য অপরাধ.
//আপনার দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলুন এবং অনুমতি নিন আপনি আসলেই কি এ বিষয়ে কথা বলবেন কিনা বা আপনার এ বিষয়ে কথা বলার পর্যাপ্ত যোগ্যতা আছে কিনা?আপনি এই বিষয়ে কথা বললে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠন এর লাভ হবে না ক্ষতি হবে সেটাও বুঝে নিন।//
এই পোস্টটা লেখার পূর্বে কোন একজন দায়িত্বশীলের অনুমতি নিয়েছিলেন?
হয়তো অনুমতি নিয়েছি! আর যদি না নিয়েও থাকি তাহলে যাদের উদ্দেশ্শে উপদেশ বা অনুরুধ করেছি আশা করি তাদের একটু হলেও উপকার হয়েছে.ধন্যবাদ আপনাকে.