গনতন্ত্র ব্যাসিক বা মৌলিক কোন মতবাদের নাম নয়। এটা শুধু নির্বাচন কেন্দ্রীক কলা কৌশল নির্ধারন করে, সাধারন মানুষদের পছন্দ অপছন্দকে প্রয়োগের সুযোগ তৈরী করে। জনগনের নেতা যিনি হবেন তাকে জনগনই ঠিক করার ক্ষমতা প্রদান করে। এবার রাষ্ট্র কিসের উপর ভিত্তি করে চলবে তাহা আলাদা বিষয়, গনতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের রকমফের এর কোন বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই।
আব্রাহাম লিংকনের সেই সংজ্ঞাতেই গনতন্ত্রকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এটার পর আর কোন বিশ্লেষন প্রয়োজন পড়েনা ”জনগন দ্বারা, জনগনের জন্য, জনগনের সরকার” ইহাই গনতন্ত্র। সমস্যা হয়ে যায় এটা প্রয়োগের ক্ষেত্রে। যেমন আমরা বৃটিশ বা আমেরিকার গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফলো করি কিন্তু তাদের দেশে চলে দ্বি-দলীয় ও দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি । তারা উন্নত বিশ্বের লিডারশিপের মালিক, স্বয়ংসম্পন্ন দেশ। কিন্তু আমাদের দেশে চলছে বহুদলীয় ও এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা। আমাদের এখানে চলছে জগাখিচুড়ী গনতন্ত্র, দলীয় নমিনেশনে আবার ব্যাক্তি নির্ভর প্রার্থীতা, মার্কা আলাদা আলাদা। এই পদ্ধতিতে সব সময়ই সংখ্যা লগু সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, তাই এই সমাজে গনতন্ত্র টেকসই হয়না।
যেমন আমি কুমিল্লার লোক, কুমিল্লার আসন নিয়ে উদাহরণ দেই। ধরে নিন ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষ, ভোট কাষ্টিং দুই লক্ষ আশি হাজার, ধরুন আওয়ামী লীগ পাস করেছে এক লক্ষ সাত হাজার ভোটে, বিএনপি নিকটতম পাইছে এক লক্ষ তিন হাজার, আর জামাত চল্লিশ হাজার, জাতীয় পার্টি, ন্যাপ, জাসদ, জাকের পার্টি, বাসদ, কমিউনিষ্ট, ইসলামী ঐক্যজোট সবাই মিলে ত্রিশ হাজার।
তাহলে ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায় লীগ এক লক্ষ সাত হাজার পেয়ে ক্ষমতার অংশিদার হয়ে গেল। কিন্তু বাকি এক লক্ষ তিয়াত্তর হাজার লোক যে ভোট প্রদান করলেন তাহা সরকার বিরোধী রয়ে গেল। তাই অশান্তি থেকেই যায়, কেননা সংখ্যার দিকে বিবেচনা করলে কম ভোট পাওয়া দলই ক্ষমতা গ্রহন করে, বিরাট অংশ যদিও বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে থাকে কিন্তু প্রেজেন্ট সরকারের পক্ষে তো তারা নাই এই সত্যটুকু কিন্তু আমরা কেউই অনুধাবন করতে পারিনা। তাই সরকার বিরোধীদের সংখ্যা সব সময় বেশী থাকে বা থাকবেই, এ জন্য এই দেশে কখনো পুরোপুরি শান্তি কোন সরকারই পায়না।
আরো একটা মৌলিক গলদ তৈরী করা হয়েছে ভোটের আগেই জোট বেধে নির্বাচন করা। এমনকি নিজেদের মার্কা বাদ দিয়ে অন্য দলের মার্কা নিয়া নির্বাচন করা। তাই বলা যায় এই পদ্ধতিতে জনগনের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়না তাই এই গনতন্ত্র টেকসইও হয়না, উন্নয়ণও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
সমাধান কল্পে পরামর্শ
# প্রত্যেক দলের এলাকা ভিত্তিক কাউন্সীলের মতো তাদের দলীয় অভ্যন্তরে আগে একটি নেতা নির্বাচন হবে, এই সব নির্বাচনও ইচ্ছা করলে নিরপেক্ষ ইসি পরিচালনা করতে পারে, এরপর ইসির নিকট সব দলের নির্বাচিত একটি একটি লিষ্ট থাকবে যে ব্যাক্তি বেশী পাইছে তিনি এক নম্বর সিরিয়ালে থাকবেন।
# এরপর মূল নির্বাচনে প্রত্যেক দল মার্কা নিয়া অংশ গ্রহন করবে, ফলাফল নির্ধারিত হবে মূল প্রদত্ত ভোটের অর্থাৎ কাষ্টিং ভোটের পারসেন্টিস % অনুযায়ী সীট বন্টন সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। তখন কারো ভোট কাজে লাগে নাই বা সংখ্যালগু সরকারের জায়গায় সংখ্যা গরিষ্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
# জোটবদ্ধ হওয়া যাবে তবে নির্বাচনের আগে কোন জোট করা যাবেনা, জোট হবে নির্বাচনের ফলাফলের পর। তাহলে যারা হয়তো একটিও সীট এখন পায়না তারা ২/৩ টা আসন হইলেও পাবেন নিজেদের মার্কা নিয়ে। তখন তারা যে কোন জোটে যেতে চাইলে তাদের মূল্যায়ন সঠিক হবে। তখন জাসদের মতো দলের অথর্ব মন্ত্রী হইতে পারবেনা, দলের ত্যাগী ও যোগ্য লোকেরা সংসদে থাকতে পারবেন। এখন দেখা যায় অনেক দলেরই মূল নেতা ফেইল নতুন একজন টাকার বিনিময়ে পাস! তাকে দিয়ে দল বা দেশের কোন উন্নতি আশা করা যায়না। যেমন ভারতে সাইকেল চালিয়ে নেতা সংসদে আসেন সেরকম নেতারা এই দেশেও ভূমিকা রাখতে পারবেন, দলের পারফর্মেন্সও বাড়বে, দলের নেতাদের গুরুত্বও বাড়বে।
# কোন দলের নেতা দলীয় ফোরামে কমপক্ষে পাঁচ বছর কাজ করার পর প্রার্থী তালিকায় নাম আসবে। কেউ ব্যাক্তিগত টাকা খরচ না করে দলের ফান্ডে টাকা জমা দিবে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খরচ করা হবে।
# কারোর ভোটই পঁচা গেলনা, সকল দলেরই কমবেশী প্রতিনিধি সংসদে থাকবে।
# কোন সংসদ সদস্যই ডিগ্রী পাসের নীচে হতে পারবেননা । মন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে যোগ্যতা আর সততা যাচাই করে করতে হবে। সে ক্ষেত্রে লেখা পড়া বলতে সার্টিফিকেট না থাকলেও চলবে, যদি তিনি সে বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতার সুনাম অর্জন করে থাকেন। মন্ত্রী টেকনোক্রেট হতে পারেন, তার জন্য যদি তিনি ঐ দলের লোক নাও হন কিন্তু দল চাইলে তার জ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর জন্যে এইসব বিশেষজ্ঞদেরকে উপদেষ্টা বানাতে পারেন।
# কেউ দুইবার প্রধানমন্ত্রী থাকলে তিনি আর দাড়াতে পারবেননা। দলীয় নেতাদের ক্ষেত্রেও বয়স বাইন্ডিং করতে হবে, এরপর তারা উপদেষ্টা হিসাবে মৃর্ত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবেন। চাকরী ক্ষেত্রে বয়স বাইন্ডিং থাকবে আর নেতা মন্ত্রীদের ব্যাপারে থাকবেনা এটা দ্বিমূখী নীতি, তাহা বাদ দিতে হবে।
# প্রত্যেক দলের নিজস্ব যেমন মতবাদ আছে তেমনি সেই ধরনের মতবাদের ভিত্তিতে প্রত্যেক দলের কিছু প্রজেক্ট থাকতে হবে। যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এইসব বিষয়ে তাদের মতবাদ ভিত্তিক প্রজেক্ট করার অনুমোদন থাকবে। দলের কর্মসূচীতে কমন কিছু বিষয় থাকবে একই রকম যেমন নিরক্ষরতা দূরীকরন, পোলিও প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
আমি সংক্ষেপে একটা ডায়াগ্রাম বর্ননা করলাম মাত্র। এই পদ্ধতিতে কোন দল একেবারে গো হারা হারবেনা, জবাবদিহীতা বাড়বে। তখন বলা যাবে বা দেখা যাবে টেকসই একটা গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে। তখন দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, যা উন্নয়নের পূর্ব শর্ত তা পেলে জীবন মান সব কিছু বদলে যাবে। চোরদের দালাল বিদেশী এজেন্ট সবই ধরা পরে যাবে।
প্রাসঙ্গিক লেখাঃ টেকসই গণতন্ত্রঃ উন্নয়নের পূর্বশর্ত





রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাপ্রণালির নব-অভিষিক্ত রাজধর্মের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’। বর্তমান সরকারের ও সরকারি পার্টিজানদের এই ‘চেতনাবাদী’ রাজনীতিকে গালাগালি করতে দেখি অনেককেই। কিন্তু সত্যিকারের চেতনাবিরোধী তো আমি দেখি না, কই? কেউ ‘মুুক্তিযুদ্ধের চেতনা’, কেউ ‘ইসলামি চেতনা’, কেউ ‘সমাজতান্ত্রিক শ্রেণীচেতনা’। ড্যাশ। ড্যাশ। ড্যাশ।
‘চেতনা’র মাজেজা প্রাচীন, তবু তা বুঝতে যদি কারও বর্তমান স্বৈরতন্ত্রী সরকারকে দেখা পর্যন্ত সময় লেগে গিয়ে থাকে, তো এই সুযোগে গোড়ায় মন দিন। সমস্যা খোদ ‘চেতনা’ বা ‘মতাদর্শ’ নামের জিনিসটা নিয়ে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বা বিশেষ কোনো চেতনা নিয়ে নয়। এইপ ‘চেতনা’ আসলে আপনার-আমার মস্তিষ্কের নিজস্ব চেতনাপ্রণালিগত কিছু নয়। এটা হচ্ছে রাজ-চেতনা (ইংরেজিতে বললে রফবড়ষড়মু)। এই চেতনাই সব অচেতনার গোড়া। গোড়ার এই কথাটুকু বুঝে না থাকলে লাভ কী হবে? কালকে অন্য চেতনাধারীরা আসবেন। তারা আপনার পছন্দের চেতনারও লোক হতে পারেন। তাদের কারণে আপনি বৈষয়িকভাবে লাভবানও হতে পারেন। কিন্তু তারাও আপনাকে পার্টির বা অন্য নামের অন্য কোনো দেবতার পা চাটতে বলবেন। আপনার নিজের কথা আপনাকে বলতে দেবেন না। আপনার আত্মসম্মান বলতে কিছু থাকবে না। আপনাকে বাঁধা-বুলির বুলবুলি হতে হবে। ‘বলবে সবাই সেলাম করে, বুলবুলিটা রাজার লোক’। অন্যের চেতনানাশ করাই রাজচেতনার কাজ।
তিন.
মুক্তিযুদ্ধের কপিরাইট কোনো রাজকীয় পার্টির নামে দেওয়া নয়। একাত্তরের আওয়ামী লীগ ‘আওয়ামী’ই ছিলÑজনসাধারণের সংগঠন ছিলÑরাজকীয় কোনো পার্টি নয়। আর, কোনো পার্টির কোনো প্রকার অভিভাবকত্বহীনতায় সমুদ্র শুকায় না। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গোপসাগরের চেয়ে বড়।
চার.
‘স্বৈরতন্ত্র খারাপ’ ‘স্বৈরতন্ত্র খারাপ’ বলে চিল্লালেই সর্বোৎকৃষ্ট কাজ করা হয় না। প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। প্রতিবাদের সর্বোচ্চ সফলতা কী হতে পারে? প্রতি-‘চেতনা’র প্রতিস্থাপন। নতুন পদ্ধতির স্বৈরাচার। হয়তো আরও বড় দুরাচার। দরকার ‘বাদ’Ñপ্রতিবাদ শুধু নয়। ‘বাদ’ বলতে নতুন-পুরাতন কোনো ‘ইজম’ নয়। বাদ মানে বাদীর অবস্থান থেকে কথা বলা। বিবাদী বা প্রতিবাদীর অবস্থান থেকে নয়। এর মানে নিজেরাই রাষ্ট্র হয়ে ওঠা।
আমরাই রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে যতদূর পর্যন্ত আমরা করতে দেব, ততদূর পর্যন্তই তা রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চলে সম্মতির ভিত্তিতে। বলপ্রয়োগের জন্যও সম্মতি লাগে। মহাবল প্রয়োগের জন্য মহা-সম্মতি। আমাদের সম্মতিতেই চলছে এই রাষ্ট্র। আমাদের সম্মতিতেই বন্ধ হয় ফেসবুক। শুধু সরকারবিরোধীদের জন্য নয়। সরকারপন্থীদের জন্যও বটে। এর নাম সর্বাত্মক রাষ্ট্রপন্থা।
পাঁচ.
‘চেতনাবাদ’ রাষ্ট্রীয় পদার্থ। কোনো বিশেষ পার্টির মামলা নয়। একমাত্র ‘ক্রিপ্টো-পার্টি’ ছাড়া সব পার্টিই রাষ্ট্রীয়, রাজনীতিবাদী, রাজতন্ত্রী। রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র কাচ বা পাথরের জিনিস নয়। এ জিনিস গুলতি বা ডিনামাইট মেরে ভাঙা যায় না। এ হচ্ছে ‘চেতনা’র তৈরি জিনিস। যেমন জেলখানা। এর দেয়াল পাথরের দেখতে হলেও আসলে কাগজের তৈরি। বিশেষ কতগুলো বিশ্বাস ধারণা মূল্যবোধ চেতনা এবং আলাপ-আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই জেলখানা রচিত এবং সুরক্ষিত। যতবার জেল-ব্রেইক ঘটে ততবার জেলের প্রাচীর আরও দৃঢ় হয়। উঁচু হয়। দুর্লঙ্ঘ হয়। জেল বিলোপ করতে গেলে নতুন ধারার আলাপ-আলোচনার বহু কালের অনুশীলন দরকার। অন্য উপায় নেই।
রাষ্ট্র আসলে সম্পর্ক। বিশেষ ধরনের সম্পর্কপ্রণালি। রাষ্ট্রকে/রাষ্ট্রপন্থাকে বদলাতে গেলে বর্তমান রাষ্ট্রীয় সম্পর্কপ্রণালিটাকে বদলাতে হবে। কাগুজে সম্পর্কপ্রণালির জায়গায় বানাতে হবে মানবীয় সম্পর্কপ্রণালি। রাষ্ট্রীয়-প্রাতিষ্ঠানিক-পারিবারিক একেকটি পদের সঙ্গে অন্য পদের পদ-পদবিগত সম্পর্কপ্রণালির জায়গায় লাগবে ব্যক্তিমানুষ ও যূথমানুষের সঙ্গে অন্য ব্যক্তিমানুষ ও যূথমানুষের সম্পর্কপ্রণালি।
বিদ্যমান রাষ্ট্রপন্থায় আমার পরিচয় ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ মাত্র। ভোটার মাত্র। ক্রেতা বা গ্রহীতা মাত্র। আমাদের এসব কাগজের পরিচয় থেকে মানুষের পরিচয় অর্জন করতে হবে। জেল বিলোপের মতো বিদ্যমান রাষ্ট্রতন্ত্রের বিলোপ নিয়ে আলাপ শুরু হোক। নতুন ধারার আলাপ।
ছয়.
‘একদিন সত্যের ভোর আসবেই’ কথাটা গুরুতর অসত্য ভাষণ। একদিন ঘুম থেকে উঠে এই রাষ্ট্র হুট করে উবে গিয়ে পরের দিন স্বর্গ প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে না। এই নরকে বসেই স্বর্গ রচনার কাজ শুরু করতে হবে।
রাষ্ট্র বা সমাজ ভাঙা যায় না। গড়া যায়। পুনর্গঠন করা যায়। এই সমাজেই নতুন সমাজের বীজ বপন করতে হবে। অঙ্কুরোদগমের অনুকূল পরিবেশ রচনা করতে হবে এই সমাজে বসেই। এই সমাজেই নতুন চারাগাছের যতœ নিতে হবে। অজস্র বীজ। অজস্র চারা। অজস্র গাছ। অরণ্য। সামাজিক অরণ্য। নতুন সমাজ। কী সেই বীজ? সমাজের বীজ হলো সামাজিক সংগঠন। সমাজ-সংগঠন। রাষ্ট্রীয়-রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদার কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর-নিচ বিন্যাসওয়ালা সংগঠন নয়। আমলাতান্ত্রিক সংগঠন নয়। হুজুরতান্ত্রিক সংগঠন নয়। হুকুমতান্ত্রিক সংগঠন নয়। সামাজিক সংগঠন। আনুভূমিক, আমলাতন্ত্রহীন, বিকেন্দ্রীয়ায়িত, অ-দীর্ঘস্থায়ী, কৃত্রিম ও স্থায়ী নেতৃত্বের বদলে স্বাভাবিক নেতৃত্বওয়ালা, স্বতঃস্ফূর্ত, স্বেচ্ছায় মানুষে মানুষে লেনদেনের সামাজিক সংগঠন। এসব নিয়েই আলাপ শুরু হোক। বাজে কথা অনেক হলো।
সাত.
আসুন, স্বাধীনতা ঘোষণা করি। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা নয়। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা হয়েছে। আছে। এবার নিজের স্বাধীনতা। ব্যক্তির স্বাধীনতা। সমাজের স্বাধীনতা। নিজেকে এবার রাষ্ট্রীয় মালিকানা থেকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন করি, চলুন। আসুন, নিজেকে নিজের মালিক ঘোষণা করি। কীভাবে কী করবেন, তা নিয়ে আগাম কোনো ‘চেতনা’ বা মতাদর্শ নেই। মুখস্থ সড়ক নেই। সঠিক রাস্তা বলে কিছু নেই। পথ আছে। খোলা। সব দিকে খোলা। চলেন, পথে নামি। নিজের নিজের পথ।
আমার নিজের পথের ঠিক নেই। আমি অচেতন। চেতনাহীন। সংজ্ঞাহীন। আত্মপ্রকাশের আনন্দ, আর আত্মপরিচয় নির্ধারণের স্বাধীনতা নিয়ে আমার অচেতন কাজ। ‘চেতনা’ আমার ভালো লাগে না। আপনার পথ আপনি বুঝবেন। আমার পথ আমি। আমরা আলাপ করব। মিল-অমিল নিয়ে একসঙ্গে থাকব। এবং আলাদা থাকব। পথ চলব। পথ খুঁজব। পথ বানাব। একত্রে এবং একা একা।
”’রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চেয়ারের নেগেটিভ বিকিরণ শক্তির নিকট আমরা সবাই কিভাবে পরাভূত ”’
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চেয়ারে একটি ”তেলাপোকা” বসলেও নিজেকে সিংহ ভাবতে শুরু করে-(বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থার একটি বিশ্লেষন)
এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান
rosegarden.khan@gmail.com
আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি,ব্যাক্তিগত জীবনে একজন লেখক, কলামিষ্ট ও টকশো তারকা জনাব, গোলাম মওলা রনি সাহেব গত ২ রা জানুয়ারী টকশোতে প্রসঙ্গিক ভাবে বলেছিলেন ” রাষ্ট্রশক্তির চেয়ারে একটা ইঁদুর বসলেও তাকে সিংহের মতো মনে হয় : গোলাম মাওলা রনি
জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় চ্যানেল আই ‘তৃতীয় মাত্রায়’ গত ২রা জানুয়ারি মধ্য রাতে আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, রাষ্ট্রশক্তির চেয়ার এতোই পাওয়ারফুল যে একটা ইঁদুর বসলেও তাকে সিংহের মতো মনে হয় তিনি বলেন, আপনাকে আগে বুঝতে হবে যে, রাষ্ট্রশক্তি এতো পাওয়ারফুল একটা বিষয়, রাষ্ট্রশক্তির চেয়ারে যখন একটা ইঁদুর বসে তখন তাকে সিংহের মতো মনে হয়। আবার ক্ষমতার পাদপীঠে যখন চলে যায় তখন একটা সিংহ কে ইঁদুর মনে হয়। আমরা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা বলতে পারি। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রশক্তির ক্ষমতা কিন্তু এভাবেই হয়। এই যে মানুষের ভিতরে অবদমিত ক্ষোভ, বিক্ষোভ, কষ্ট, নির্যাতন, কিন্তু এটা যখন পরিবর্তন আসে তখন বিশৃঙ্খলা অবস্থায় সিভিল ওয়ারের দিকে চলে যায়। আর যখন স্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তন হয় তখন এটা হয় না”
রনির বক্তব্যের রেশ ধরেই আমি এই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করার প্রয়াস চালাবো ||
ক্ষমতার চেয়ারটা একটা নির্জিব বস্তু হলেও এটার একটা প্রতিক্রিয়া বা বিকিরণ অনুভব করা যায়, তখন ঐ পার্সনের উপর নির্ভর করে,যেমন তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি চেয়ারকে নিজের বশে আনতে পারেন নাকি তিনি চেয়ারের বশে চলে যান, চেয়ারের বিকিরণে নিজের মনের কুঠুরী আলোকোজ্জল হয় নাকি তাহার নৈতিক আলোয় চেয়ার আলোকিত হয় ||
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায় যে ক্ষমতার চেয়ারের নিকট আদর্শবান দীর্ঘ ত্যাগী নেতারাও কিভাবে নিজেদের মনের কুঠুরীর আলো নিভিয়ে অন্ধকার পথের যাত্রী হয়েছেন, অনেকে বিড়াল, ইদুঁর বা তেলাপোকার মতোই নিজের জীবন পর্যন্ত হারিয়েছেন, কিন্তু এই ইদুঁর বা তেলাপোকারাই যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তাদের মনোভাব সিংহের মতোই ছিলো ||
এ ব্যাপারে একটি লৌকিক গল্প উল্লেখ করলে বিষয়টা আরো পরিস্কার হবে, পুরানের একটি প্রসিদ্ধ গল্প
”এক মুনিঋৃষি হিমালয় পর্বতের গোপন গুহাতে একযুগ ধরে ঈশ্বরের আরাধনায় লিপ্ত ছিলেন একদিন গায়েবী আওয়াজে ধ্যান ভঙ্গ হয়, মুনিবর তোমাকে ঈশ্বর কবুল করেছেন, এবার তুমি মানব কল্যাণে এগিয়ে যাও, হঠাৎ মুনিবর দেখলেন এই বন্ধ গুহাতে একযুগ আগে একটি ইদুঁর ছিল তা আজো আছে, তখন মুনিবর তার ক্ষমতার প্রয়োগ টেষ্ট করতে গিয়ে ইদুঁরটিকে একটি সুন্দরী মহিলা বানিয়ে দিলেন, তারপর তিনি ঘোষণা দিলেন যে পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালীর নিকট বিবাহ দিবেন, তখন তিনি চিন্তা করলেন এখন রাত আকাশে পূর্ণ চন্দ্র, #চাঁদকে বললো
তুমিই শক্তিশালী তুমি এই মহিলাকে বিয়ে কর, চাঁদ বললো মুনিবর আমার কোন শক্তিই নেই, আমি সূর্যের আলোয় আলোকিত, দিনের বেলায় আমার অস্তিত্বই থাকেনা, সূর্যের শক্তি বেশী
#সূর্যকে বললো
তুমি শক্তিশালী তুমি বিয়ে কর, তখন সূর্য বললো মুনিবর আমার শক্তি বেশী ঠিক আছে তবে মেঘ এসে আমাকে ঢেকে দেয়, বৃষ্টির পানি ছড়িয়ে দেয় পরে এগুলো শুকোতে আমার সময় শক্তি খরচ হয়ে যায়, তাই মেঘমালা” ই শক্তি বেশী বলে মনে হয়
#মেঘমালাকে বললো
তুমি নাকি শক্তিশালী তুমি বিয়ে করো, তখন মেঘমালা বললো মুনিবর সূর্যের কথা সত্যিই তবে ঝরো বাতাসের জন্য আমার শক্তি ক্ষণস্থায়ী, বাতাস আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়, তাই বাতাসই শক্তিশালী মনে হয়
#বাতাসকে বললো
বাতাস বললো মুনিবর সবকথা ঠিকই আছে কিন্তু এই যে হিমালয় পাহাড় এর নিকট আসলে আমার শক্তি শেষ, এরপর আমি আর এগোতে পারিনা, হিমালয়ই শক্তিশালী
#হিমালয় কে বললো
উত্তরে হিমালয় বললো মুনিবর আপনি যা শুনছেন সব সত্য কিন্তু পুরো হিমালয়ের চাইতে শক্তি বেশী ছোট্ট একটি প্রাণী আছে যে আমার এক দিক থেকে ছিদ্র করে অন্য দিক দিয়ে বেড়িয়ে যাইতে পারে, আমি কিছুই করতে পারিনা, সেটা হলো ইদুঁর,
@#তখন মুনিবর ইদুঁরটিকে সুন্দরী মহিলার রূপ পরিবর্তন করে আবার সেই ইদুঁরই বানিয়ে বললেন ”যা তুই যে জাতের ছিলি সে জাতেই ফিরে যা ||
এই গল্পটা প্রসঙ্গিক তাই উল্লেখ করলাম, এই জাতের উর্ধ্বে উঠতে না পারাই আমাদের ব্যর্থতা, পৃথিবীর অন্যকোন প্রাণীকে আলাদা কিছু শিখতে হয়না, একমাত্র মানুষকে মনুষ্যত্ব শিখতে হয়, পশু, পাখী অন্যান্য জীবকে কিছু শিখতে হয়না, গরু এমনিতেই গরু, গাঁধা এমনিতেই গাঁধা, মানুষের রূপে জন্ম নিলেও তাকে মনুষ্যত্ব শিখতে হয়, তাই মানুষ সমাজ বদ্ধভাবে বসবাস করে, সবার দোষ গুন সব আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী, সবাই নেতা হবেনা, ইমাম একজনই থাকেন, সবাই সব কিছু অর্জন করতে পারবেনা এটাই স্বাভাবিক,
#নিজের অনুভূতি শেয়ার করি
আমি নিজের টাকায় প্রথম একটি মোটর সাইকেল কিনলাম ”সুজুকি সামুরাই” একদিন এক বন্ধু তার ”এক্সেল হোন্ডা” নিয়ে আসলো, আমাকে চালাইতে দিল আমি এটাতে বসার পরই খেয়াল করলাম আমার মুখের এক্সপ্রেশণ কেমন চেঞ্জ হয়ে গেল, নিজেকে যেন নিজে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছিনা, চোয়াল শক্ত হয়ে কেমন আলাদা ভাবসাব এসে গেল, আমি যে স্পিডে চালাতাম তার থেকে স্পিড বেশী দিয়ে চালালাম, যখন রিক্সায় চড়ি তখন জ্যাম লাগলে প্রাইভেট কার গুলোর উপর বিরক্তি নিয়ে তাকাতাম, যখন নিজে প্রাইভেট কারে চলছি তখন রিক্সা সামনে পড়লে মনের ভাব তখন আবার আরেক রকম, ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারছিনা, পাঠকগন বুঝে নিবেন আমি কি বুঝাতে চাইছি,
@#মূল আলোচনা
সমাজের ক্ষমতার চেয়ার এর অভাব নাই, তবে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো দেশের শাসন ক্ষমতার চেয়ার, রনি সাহেবও এই কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতার চেয়ারের কথাই বলেছেন, পৃথিবীর কাছের অতীতের ইতিহাস সবই এই চেয়ারের লড়াইয়ের ইতিহাস ||
চেয়ারের গল্প নিয়ে হিন্দি একটি সিনেমা নাম ”সূত্রধর” নানা পাটেকারের মূখ্যাভিনয়ে দারুন শিক্ষনীয় ছিলো, সারসংক্ষেপ ”মেথর বা নিম্নজাত” কে সূত্রধর বলা হয়, দেখা গেছে এই নিম্নজাতের নেতা হয়ে নানাপাটেকার এক পর্যায়ে নির্বাচনে জিতে এমপি হয়ে যান, প্রথম প্রথম ঠিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই নিম্নজাতের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করেনা, চেয়ার টিকিয়ে রাখতে উচ্চ জাতের নেতারা যেসব অপকর্ম করতো সেও একই কর্ম করতে লাগলো, হত্যা, ধর্ষন, ভোট ডাকাতি, গরিবের নেতা হয়ে সুশাসনের বদলে একই কায়দায় শোষণ করতে লাগলো, এক পতিতার সর্দারনির বাড়িতে তার মৃর্ত্যু হয়,
@#বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থাও ঠিক তেমনই, এর আগেও একই ঘটনা চলে আসছে, আমার দেশের ভাষার স্বাধীনতার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু ইদানিং সিনেমা, নাটকে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম যে ভাষার ব্যবহার করছেন তাতে ভাষার মর্যাদা ফিকে হয়ে আসছে, স্বাধীনতার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু গনতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার জন্য সাতবার জেল খেটেছেন, কিন্তু ক্ষমতার চেয়ারে বসে সেই গনতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করলেন, পাকিরাও যা করেনি চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিলেন, জাসদ দমনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করতে পিছপা হননি, সবই ঐ চেয়ারের বিকিরণ,
#জিয়াউর রহমান এর আমলে কি হয়েছিল, জামায়াত,আওয়ামীলীগ এরপর ডান বাম সকলকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন চেয়ারের বিকিরণের কারনেই, # এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনও সেই চেয়ারের কারনেই তিনি হোন্ডা, গুন্ডা ও ডান্ডা ভোট কেন্দ্র ঠান্ডা” এই অনৈতিক শাসন চালিয়ে গেছেন তার নাম পরেছিল বিশ্ব বেহায়া”
@#গনতান্ত্রিক যুগের নতুন সূচনায় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হন কিন্তু পরে তত্বাবধায়ক ফর্মূলা বিএনপি ভুলে গেলেন ”পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন” এ মতামত পোষণ করলেন, আওয়ামীলীগ গোলাম আযমের ব্রেইন চাইল্ড কেয়ার ট্রেকার ফর্মূলা গ্রহন করেন এবং জামায়াত এবং লীগ ঐক্যমতের ভিত্তিতে আন্দোলন থেকে তীব্র আন্দোলন করে এটা আদায় করলেন 173 দিন হরতাল করলো লীগ এরপর বিএনপি এটা মেনে নির্বাচন করেন, লীগ দীর্ঘ 21 বছর পর ক্ষমতার চেয়ার পান কিন্তু ইসলাম ও ইসলামী ব্যাক্তিত্বদের সাথে খারাপ আচরন আর বিএনপি ও জামায়াতের মেল বন্ধনের কারনে বিএনপি আবার অনেক আসন নিয়ে ক্ষমতার চেয়ার লাভ করেন, চেয়ারের বিকিরণে বিএনপি ও এমনকি জামায়াতও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন, জামায়াত চেয়ারের বিকিরণে 1971 এর ব্যাপারটি ভুলে গেলেন, জামায়াতের দুইজন বড় নেতাকে ইতিমধ্যে ফাঁসী কার্যকর করা হয়েছে,
গতকাল বর্তমান আমীর মতিউর রহমান সাহেবেরও ফাঁসী বহাল রাখা হয়েছে, পাশাপাশি উনার আদালতে দেয়া একটি বক্তব্যও প্রকাশ পেয়েছে, এর কিছু অংশ পাঠকদের জন্য হুবহু দেয়া হলো,
#মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়েও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে।
তবে জামায়াতের এই আমিরের দাবি, মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার পরিস্থিতি তৈরির জন্য তৎকালীন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ও পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো দায়ী।
মাওলানা নিজামী নির্দিষ্ট করে গণহত্যার জন্য ভুট্টোকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে ভুট্টোকে পাকিস্তানের নেতৃত্বে টিকিয়ে রাখতে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন তিন।
জামায়াত আমির বলেন, ভুট্টোকে পাকিস্তানের নেতৃত্বে টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। ১৯৭৪ সালে ভূট্টো বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে এসেছিলেন। তখন তাকে নজিরবিহীন সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। এতো মানুষের ঢল নেমেছিল যে, তাকে হেলিকপ্টারে করে সাভার স্মৃতিসৌধে নিতে হয়েছিল।
জামায়াত ও ছাত্রসংঘের কেউ কোন ধরনের অনৈতিক, মানবতা বিরোধী কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল না বলেও তার দাবি ||
মাওলানা নিজামী বলেন, আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে আমাকে বলা হয়েছে। কিন্তু চার্জে যে সব পত্রপত্রিকা এভিডেন্স হিসেবে দেখানো হয়েছে, তার কোনটিতেই আমাকে আল বদর বাহিনীর কমান্ডার, রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার বা অধিনায়ক উল্লেখ নেই। চার্জ হিসেবে যে বই দেয়া হয়েছে, তার ৩৬ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগে যেটা আনসার বাহিনী ছিল, পরে তা রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর সব সম্পদ রাজাকার বাহিনীকে দেয়া হয়। আনসার বাহিনীর এডজুটেন্ট, রাজাকার বাহিনীর এডজুটেন্ট হয়েছে। সেখানে যারা অফিসার ছিল, তারাই রাজাকার বাহিনীর অফিসার হয়। সেখানে আমার সেই বাহিনীর অধিনায়ক হওয়ার সুযোগ কীভাবে আসবে? আপনাদের তৈরি করা বই থেকেই প্রমাণিত হয়, আমার অধিনায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল না।
মাওলানা নিজামী বলেন, ছাত্রসংঘের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়াকে অভিযোগ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু পত্রিকার পুরো বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। যশোরে একটি বক্তব্যে সূরা তাওবার ১১১-১১২ নং আয়াতের কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, ১১১ নং আয়াতের আংশিক তরজমা সেখানে দেয়া হয়েছে। আর ১১২ নং আয়াতের কোন শব্দেরই তরজমা নেই। এটা প্রমাণ করে, সংবাদপত্রে পুরো বক্তব্য রিপোর্ট হয় না। অন্য জায়গায়ও এমন হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, কোন সরকারই শেষ সরকার নয়, দুনিয়ার কোন বিচারই শেষ বিচার নয়। এই বিচারের শেষে আরেক বিচার আছে। যেখানে আমাকে, আপনাকে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটা সবাই জানে প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্যই এই বিচার করা হচ্ছে।
তিনি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এখানে আসার আগে হজ্জ করেছেন। তখন চেয়ারম্যান বলেন, আগে নয়, এখানে বসা অবস্থায় (ট্রাইব্যুনালে আসার পর) হজ্জ করেছি। এরপর মাওলানা নিজামী বলেন, হজ্জের সময় আপনি রাসূল (সা:) এর রওজায় সালাম দিয়েছেন। আমি রাসূল (সা:) এর দু’টি হাদীস উল্লেখ করেই বক্তব্য শেষ করছি।
প্রথম হাদীসটি হচ্ছে, একজন মানুষ মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি যেটা শুনলো, সেটা বললো। রাসূল (সা:) এ কথার ভিত্তিতে বলা যায়, শুনা কথা মামলার এভিডেন্স হতে পারে না। দ্বিতীয় হাদীসটি হচ্ছে, বিচারকরা তিন শ্রেণীর হয়। এক. হক্ব ঘটনা উদঘাটন করেন, উপলব্ধি করেন এবং হক্বের পক্ষে রায় দেন। তারা জান্নাতি। দুই. হক্ব বুঝবেন, কিন্তু রায় দিবেন বিপরীত। তারা জাহান্নামী। তিন. না বুঝেই রায় দেন। তারাও জাহান্নামী। আমি প্রাণ খুলে দোয়া করবো, আপনি প্রথম শ্রেণীর বিচারকদের কাতারে শামিল হবেন। দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাতারে শামিল হবেন ”
@#তিনি এখন যে বক্তব্যটি রাখলেন যখন ক্ষমতার ভাগীদার হিসাবে এসেছিলেন তখন কিন্তু এই ধরনের বক্তব্য রাখেননি, বরং 1971 প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতেন, মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর উনারা কোন দূর্নীতি করেন নাই সত্য কিন্তু জনশক্তির বিরাট অংশ টেন্ডারবাজী, মাল্টিপারপাস, ল্যান্ড রিয়েলষ্টেট ইত্যাদী খাতে 90% দূর্নীতি করেছেন, ইসলামের নামে সুদের সাথে জড়িয়ে পরে, এমনকি আমীরে জামায়াত সাংগঠনিক শাখা গুলোকে এ ব্যাপারে চিঠি পর্যন্ত দিয়েছিলেন, কিন্তু ততদিনে পদ্মার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,
# নিকোজিসন মানি
এটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলির মিলিবগত দূর্নীতি, আর এটার আরেক নাম চাঁদাবাজী, একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি করবে বাকি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে অফ রাখা, এই টাকা হালাল না হারাম ফতোয়া দেয়ার যোগ্যতা আমার নাই, কিন্তু বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় যে এভাবে টাকা নেয়া অবশ্যই হারাম, আমার দেখা একজন জামায়াত নেতা যিনি আমাদের এলাকাতে এমপি নির্বাচন করেছেন, এরপরের বছর পৌরসভা নির্বাচনেও তিনিই প্রার্থী, সাংবাদিক নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন, উনাকে একদিন দেখলাম আমাদের পাড়ায় মিটিং করছেন একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম কিসের মিটিং তখন লোকটি বললো নিকোজিসন মিটিং মানি ভাগাভাগি হবে, উনি কেন, তখন বললো যে উনি এটার মেইন মধ্যস্থতাকারী, ঘটনাটি উল্লেখ এ কারনে করলাম চেয়ারের বিকিরণে কিভাবে নৈতিক অধঃপতন হয়, ইসলামী পদ্ধতিতো অনেক দূরের কথা,
#2001 এর ক্ষমতা প্রাপ্তির পর জামায়াত দুইজন মন্ত্রী পাইলেন, তার মানে তাদের জন্য এটা ছিলো একটা বিরাট বিজয়, ইসলামের অনুসারী এবং নবী সাঃ এর সুন্নতের অনুসারী হিসাবে ইসলামের ঐতিহ্য তাদের পালন করা উচিত ছিলো, নবী করিম সাঃ যখন বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন তখন আল্লাহ পাক নাযীল করলেন সূরা নসর ”সেখানে আল্লাহ পাক বলেছিলেন হে আমার হাবীব যখন দেখবেন বিজয়ের পতাকা পতপত করে উড়ছে আর দলে দলে লোকজন ইসলামে প্রবেশ করছে তখন আমি আল্লাহর নির্দেশ আপনি তওবা এস্তেগফার বেশী বেশী করুন ” যাহউক জামায়াত ইসলামী নিজেই জনগনের সাথে তাদের সম্পর্ক বাড়ানোর বদলে মিডিয়ার সামনে দম্ভ ও অহংকার করেছিলেন, আর তার প্রভাব পুরো জনশক্তির উপর পরে, এটাই স্বাভাবিক,
সেখ সাদী বলেছিলেন
”যদি কোন রাষ্ট্রপ্রধান অন্যায়ভাবে একটি সেফ ফল ভক্ষণ করে তাহলে তার জনগন ঐ গাছের মূল সহ উপরে নিবে”
ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের এসব কাজ মানায়না,
#যে বিএনপি তত্বাবধায়ক প্রথম বুঝে নাই সেই তত্বাবধায়কের জন্য এখন এক ধরনের কান্নাকাটি করা লাগতেছে, এটাও চেয়ারের বিকিরণের ফল,
#আবার যে আওয়ামীলীগ তত্বাবধায়কের জন্য 173 দিন হরতাল, হাজার মানুষের মৃর্ত্যু এবং পঙ্গত্ব বরন করতে হয়েছিল, সেই লীগ আবার সংবিধান থেকেই এই পদ্ধতি একধরনের জোড় করে বাতিল করেছেন, ক্ষমতার চেয়ার ঠিক রাখতে দেশের স্বার্থও তাদের নজরে পরেনা, ট্রাঞ্জিট দিয়ে বলেন টোল চাওয়া অভদ্রতা, আর জনগনের উপর করের বোজা চাপিয়ে দিতে লজ্জা লাগেনা, ভোটার বিহীন নির্বাচন, 154 আসনে নির্বাচনই হলোনা, জিলা পরিষদ গুলোতে প্রশাসক বসিয়ে দিচ্ছেন, বিজয়ী মেয়রদেরকে সাসপেন্ড করে নিজেদের লোক বসিয়ে দিচ্ছেন, জনসমর্থনহীন সরকারকে পরাশক্তি দেশ সমূহ তাদেরকে টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেন, এখন দেশে এটাই হচ্ছে ||
পরিশেষে বলবো চেয়ারের বিকিরন শক্তির নিকট পরাভূত যে সরকার বা রাজনৈতিক দলই হউক তাদের সাময়িক লম্ফজম্প চললেও ইতিহাস সাক্ষী এদেরকে এই চেয়ারই একটা সময় ছুড়ে ফেলে দেয়, তখন তাদের হুশ ফিরে আসলেও চেয়ার ও জনগন তাদেরকে আর গ্রহন করেনা, এটা বুঝেও তারা এই ভুল বার বার করছেই অথবা করবেই, এক ইস্যু শেষ না হতে আরেকটা ইস্যু তৈরী করে সরকার প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর উপর নির্ভর করে সকল মিডিয়ার কন্ঠরোধ করে এগিয়ে চলেছেন, কিন্তু গন্তব্য কোথায়, আন্দালিব পার্থের ভাষায় ”এই মার্বেল কোথায় থামবে তাহা শাসকগোষ্ঠী কেন আমাদের কারোরই জানা নাই ||
আমার পরবর্তি লেখায় থাকবে উন্নয়নের চশমা পড়ে গনতন্ত্রকে অস্বীকার করার বা হত্যা করার নির্বুদ্ধিতার কথা তুলে ধরবো,
ইণ-শায়া-ল্লাহ ||