আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম ও বিভিন্ন দেশের সরকারী বেসরকারী সংস্থা থেকে জোরে সোড়ে যখন বাংলাদেশে আইএসআইএস(ISIS) এর অস্তিত্ব রয়েছে বলে প্রচার করছে এবং সরকারকে মানতে বাধ্য করছে তখনি ISIS এর মুল প্রোপাগান্ডা ম্যাগাজিন “দাবিক” এ বাংলাদেশে জিহাদের ডাক সমৃদ্ধ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এত দিন বাংলাদেশে ISIS অস্তিত্ব নিয়ে যাদের সন্দেহ ছিল তারাও একটু নড়ে চড়ে বসেছেন।
কি হতে যাচ্ছে তাহলে?
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুরতাদ বলে আখ্যা দিয়েছে সশস্ত্র সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মুরতাদদের সর্দার বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দাবিক’- এর চলতি মাসে প্রকাশিত ১২তম সংখ্যায় এ কথা বলা হয়েছে।
‘দ্য রিভাইভাল অব জিহাদ ইন বেঙ্গল’ (বেঙ্গলে জিহাদের পুনর্জাগরণ) শীর্ষক প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ‘মুরতাদ’ (ধর্মত্যাগী) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলগুলোর পরিচালিত সরকারকে ‘তাগুত’ সরকার বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশকে বেঙ্গল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে আইএসের ম্যাগাজিনে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ‘তাগুত’ সরকারের (আওয়ামী লীগ) ‘মুরতাদ’রা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ‘মুরতাদ’দের ফাঁসিতে ঝুলাচ্ছে। আরো বলা হয়েছে, আবু হুরাইরাহ (রা.)-এর বরাতে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসীর উদ্ধৃতি দিয়ে ‘মুরতাদ’রা আল্লাহর হুঁশিয়ারিকে অগ্রাহ্য করছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। হাদিসটি হলো ‘আল্লাহ বলেছেন, যারা আমার ওলীর (বন্ধু বা প্রতিনিধি) প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারগুলো আল্লাহর এই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইসলামী আলেম ও মুজাহিদদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।
এরই মধ্যে ‘মুজাহিদ-আলেম’দের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেকেই শাস্তি পেয়েছেন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিদ্রোহের ফলে নিহত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ শাসিত ‘তাগুত’ সরকার বিএনপি ও জামায়াতের ‘মুরতাদ’ সংসদ সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে। মুজাহিদ-আলেমদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই নেতাদের একই ‘তাগুত’ আদালতে অপমান, কারাবন্দী, যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।
(দেখুন; আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মুরতাদ বলছে আইএস,http://worldbangla.com/2015/11/%E0%A6%86%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A6%BF-%E0%A6%93-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F/#prettyPhoto)
অন্যদিকে ভারতের “দ্য হিন্দু” পত্রিকার সম্পাদকীয়তে স্বীকার করা হয়েছে;
জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর নিয়ে বুধবার ‘ক্রাইম অ্যান্ড পেনাল্টি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে সম্পাদকীয়টি ছাপা হয়। এতে বলা হয়, ‘যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিতে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্বল হয়ে পড়েছে। নৈতিক দিক থেকে দেখলে মুত্যুদণ্ড দিয়ে বাংলাদেশ সরকার চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ে প্রকৃতপক্ষে দুর্বল হয়ে পড়ছে
(দেখুন; যুদ্ধাপরাধের বিচার : প্রধানমন্ত্রীকে ‘দ্যা হিন্দু’ পত্রিকার পরামর্শ http://www.sheershanewsbd.com/2015/11/25/105059#sthash.aEKseWho.ccGSFYwy.dpuf)
দ্য হিন্দুর সম্পাদকীয়তে আরো দাবী করা হয়;
সরকার বিরোধীদের ব্যাপারে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তাতে বিরোধীদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের মধ্য থেকে উগ্রপন্থীরা সদস্য নিয়োগ দিতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মনে হচ্ছে এটা ইতোমধ্যেই ঘটছে।
প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে যদি সত্যিকারেই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে কিভাবে বাংলাদেশ মোকাবেলা করবে ISIS কে? ISIS কি শুধু আওয়ামীলিগের সমস্যা হবে বা সরকারের? কথায় বলে, “নগরে আগুন লাগিলে মন্দির-মসজিদ সবই পোড়ে”।
বাংলাদেশের পরিণতি আরেকটি সিরিয়া, ইরাক বা পাকিস্তান হউক এটা কেউই প্রত্যাশা করেনা।কিন্তু রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত,রাজনৈতিকভাবে সচেতন দেশের একটি অংশকে বছরের পর বছর যখন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বহিঃস্কার, ক্ষেত্র বিশেষে উৎখাত করার প্রক্রিয়া চলে সেখানে কোন বহি শত্রুর হঠাৎ আক্রমণে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা সহজ কাজ নয়।সিরিয়া বা ইরাকে এরকমই ঘটেছে।
এমতবস্থায়, আওয়ামীলিগ ও সরকার যেভাবে এতদিন দেশে
র একটি বৃহত অংশকে বাংলাদেশ বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত, অপমাণিত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত করে এসেছে তারা কি তাদেরই নেতৃত্বে ISIS বিরোধী মোর্চায় অংশগ্রহন করবে?
সমঝোতার বিকল্প নাই।দেশ বাঁচলে রাজনীতি করা যাবে, দুর্নিতী করা যাবে, ব্যবসা করা যাবে।কিন্তু দেশের অস্তিত্বই যখন হুমকির মুখে পরবে তখন এর প্রভাব শুধু নিরীহ, গরীব মানুষের মাঝে পরবেনা বরং যার যত বড় স্বার্থ তার তত বেশি ক্ষতি হবে।সেখানে আমজনতার হারানোর বেশি কিছু নেই।কেননা যার কিছুই নাই, তার আবার হারাবার কি আছে? কিন্তু আমরা জানি, এই স্বার্থান্বাষী গোষ্ঠীই তখন ধর্মের নামে, দেশপ্রেমের নামে, ঐক্যের নামে, চেতনার নামে, স্বাধীনতার নামে আবেগী নিরীহ মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা করবে জান-মাল কোরবান দেয়ার জন্য।
কিন্তু যারা দেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এদেরকে কি জনগন ক্ষমা করবে তখন?






