ইসলাম শব্দটি একটি আরবী শব্দ যা ”সালমুন” বা ”সালামুন” শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ শান্তি। শান্তির রকম কি হতে পারে, যেমন আমরা এসির মধ্যে থাকি গরম থেকে বাচার জন্য, কিন্তু বেশীক্ষণ থাকলে আবার ঠান্ডা লেগে যায়, এরকম না এই শান্তি হলো যখন যা দরকার তা পাওয়ার মতো বিষয়টি।
জিহাদ শব্দটিও একটি আরবী শব্দ, যা জাহদুন” শব্দ থেকে এসেছে,যার বাংলা অর্থ চেষ্টা করা,জিহাদ শব্দের অর্থ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা, পরিবর্তন করাও হতে পারে এর অর্থ। একটি জিনিস কে সরিয়ে কাংখিত কোন জিনিস প্রতিস্থাপন করার নাম জিহাদ।
জঙ্গীবাদ একটি প্রচলিত বাংলা শব্দ যারা সমাজের কারো কোন তোয়াক্কা করেনা, যা ইচ্ছা তা করার নামই জঙ্গীতৎপরতা, যারা এই কর্ম করে তাদের নাম জঙ্গী। ইদানিং সুকৌশলে শুধু ইসলামী কোন আন্দোলনকারীকে জঙ্গী বলে প্রচার করে এমন একটি অবস্থা দাড়িয়েছে জিহাদ আর জঙ্গী শব্দকে সমার্থক শব্দ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা এক প্রকার ইসলাম বিরোধী মিশণ বলা যায়।
ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এই শ্লোগান নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ একটি নতুন মতবাদের জন্ম হয়েছে। এ ধারনা যীশুর (হযরত ঈসা আঃ)খ্রীষ্টান ধর্মের বিরুদ্ধে মানুষের নেগেটিভ চিন্তা ধারা থেকে জন্মলাভ করেছিল।গীর্জাতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে মানুষ হাপিয়ে উঠেছিলো। তখন প্রোটোষ্টেন খ্রীষ্টান বা প্রতিবাদী খ্রীষ্টান নামে একটি শিক্ষিত সমাজ ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের প্রতিহত করতে যেয়ে পোপদের রাজত্ব শেষ করতে, তাদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্যই এই শ্লোগানের জন্ম হয় যে, “ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার”। এটা কিন্তু গীর্জাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরোদ্ধে একটি বড় ধরনের প্রতিবাদ। অথচ এখন ইসলামী সমাজের ধারক বাহকদের দূর্বলতার সুযোগে এই দোষারোপটা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে।
“হিসটোরী অফ দ্যা ওয়েষ্টার্ণ ইউরোপ” নামে একটি বইতে উল্লেখ করা হয় ”তাদের দলাদলি এতো বিষম পর্যায়ে পৌছেছিলো যে একদলকে অন্যদল গর্ত করে আগুনে পোড়াইয়া তাদের চর্বি দিয়ে সাবান তৈরী করে ব্যবহার করেছিলো”। তখন পোপদের নৈরাজ্যকর পরিস্থি থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয়, এই নীতিতে অনেক রাষ্ট্র তখন এটাকেই সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
অন্যান্য যে কোন ধর্ম অসম্পূর্ণ তাই শুধু ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র সম্ভব নয় ধরনের ভাবনা যৌক্তিক মনে করে।কিন্তু ইসলামকে শুধু একটি ধর্ম ভাবার কারণে মুসলিম দেশ গুলোতেও ধর্ম নিরপেক্ষতাকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসলাম শুধু গতানুগতিক ধর্ম নয়, ”ISLAM IS THE COMPLETE CODE LIFE” (ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা)।
নতুন প্রজন্ম শিক্ষা এবং মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন হতে গিয়ে মুসলিমদের মাঝেও ধর্মহীনতার একটা প্রবনতা লাভ করে। ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা তৈরী করার জন্য পৃথিবীর বুদ্ধিভিত্তিক উন্নত সমাজের মালিকানার যারা দাবীদার তাদের পুঁজিবাদী কর্কষতা, নির্মমতা অনেককে সাম্যবাদী ব্যবস্থার দিকে ঝুকে পড়তে দেখা যায়।
মানব জীবনের সার্বিক সমাধান ইসলামে আছে, সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষানীতি, সমরনীতি,দূত এবং দূতাবাস এটাও ইসলাম সর্বাগ্রে প্রচলন করেছে। তাই সকল ব্যবস্থা সম্পর্কে বক্তব্য ইসলামে রয়েছে, সকল মন্ত্রনালয়ের কাজের প্রসিডিওর ইসলাম প্রনয়ন করে রেখেছে, তাই অন্য ধর্মের জন্য যে ব্যবস্থা তা ইসলামের উপর প্রয়োগ করলে ইসলামের উপর জুলুম করা হবে।
ইসরাঈলের মুসলিম বিদ্ধেষী ভূমিকা, আরো বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলিমদের উপর অযৌক্তিক অত্যাচার, নিশ্চিন্ন করার প্রয়াস কিছু লোককে বিদ্রোহী করে তোলে। তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে আত্মঘাতী হামলা, পাল্টা হামলা ইত্যাদী কারণে তাদের নাম দেয়া হয়েছে জঙ্গীবাদ।তবে অন্যান্য দেশে সাদা কালোর লড়াই,জাতিগত দাঙ্গা তাদেরকেও জঙ্গী বলা হয়। কিন্তু এই জঙ্গীবাদী ছাড়াও ইসলামিক সংগঠন রয়েছে, যেমন- ইখওয়ানুল মুসলিমিন, ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট, মালায়শিয়াতে পিএসএস, এই অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী সহ আরো আছে…যারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে।
এদের মধ্যে আলজিরিয়া এবং মিশর ক্ষমতা পাওয়ার পরও তাদেরকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, আর অন্য যেসব ইসলামিক দল বিভিন্ন দেশে ক্ষমতায়নের দ্বোর গোড়ায় তাদেরকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে, এই জঙ্গী জুজুর ভয় দেখিয়ে নিষিদ্ধ করছে। তাই এখন এই আল কায়দা, তালেবান, জেএমবি, আনসারুল্লাহ সবই ইসলাম বিরোধী শক্তির মদদে এমন এমন কাজ করছে সব দোষ যাতে ইসলামিক সঠিক আন্দোলন গুলোর উপর চাপিয়ে দমিয়ে রাখা যায় বা ধ্বংস করা যায়। তা নাহলে নতুন নতুন নামে তারা আবির্ভূত হচ্ছে কিভাবে?
ইয়জিদি একটি মেয়ের বক্তব্য দেখলাম তাকে নাকি প্রতিদিন ধর্ষন করা হয়েছে, তাকে নাকি ধর্ষকরা বলছে যত ধর্ষন করতে পারবে তারা নাকি আল্লাহর কাছে যেতে পারবে। এ থেকেই বুঝাই যায় আইএস কতটুকু মুসলিমদের বা ইসলামের। আমি মনে করি এগুলো, মুসলমানের কোন পরিবারে জন্ম নেয়া অর্থাৎ নামে মুসলিম তারাও এ কাজ করতে পারেনা। এই সবকিছু ইসলামকে দূর্বল করার জন্যই করা হচ্ছে, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ইসলামকে বিজয়ী করবেনই।




