লিখেছেনঃ Dr Pinaki Bhattacharya
জামায়াত প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অধিকাংশ জামায়াত বিরোধীদের মূল্যায়ন খণ্ডিত ও কিছু ক্ষেত্রে হাস্যকর। জামায়াত সম্পর্কে প্রথম অভিযোগ “জামায়াত যুদ্ধাপরাধে যুক্ত ছিল। কোন সন্দেহ নাই। এই প্রসঙ্গে আমার একটা লেখাও আছে “৭১ এ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের দায় “
নিশ্চয় এটা গুরুতর অভিযোগ এবং এই অভিযোগ সম্পর্কে সুবুদ্ধির কোন মানুষ দ্বিমত করবেন না। কিন্তু একজন বিপ্লবী যিনি এই পুঁজিবাদের সমাজ কাঠামোকে অতিক্রম করে যেতে চান তিনি কি এই অভিযোগেই জামাতের বিরোধিতা করেন? ধরেন হাইপোথিটিক্যালি যদি চিন্তা করা যায়, ধরুন জামাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি, বা আর একটু আগিয়ে চিন্তা করি জামাত ধরুন মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলো। তখন কি জামাতের বিরোধিতা ছেড়ে দেবেন? অনেকেই কিছুটা দ্বিধায় পরে হয়তো তাদের জামায়াত সম্পর্কে অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন। আবার কেউ কেউ বলবেন জামায়াত একটা মৌলবাদী ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করছে চায়, তাই বিরোধিতা করবো। আচ্ছা বলুন তো ইসলামে “রাষ্ট্র” নামের কোন ধারনার বৈধতা আছে? নাই। খুঁজে দেখেন, পাবেন না। চাইলে ইসলামে ভালো জ্ঞান আছে এমন মানুষের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন। ইসলামে আছে খেলাফত যা রাষ্ট্র ধারণার চাইতে মৌলিক ভাবে ভিন্ন।
আচ্ছা, এবার আসেন জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল। এবং সে ক্ষমতা দখল করতে চায়। যেমন সিপিবিও চায়। তাহলে ক্ষমতা দখল করে সে কী কী রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি ও নীতি বদলাবে। সেটা সে তার কর্মসূচিতে ঘোষণা করেছে,
“জামায়াত জনগণের আস্থা, বিশ্বাস, সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে একটি মর্যাদাশীল শক্তিশালি, সমৃদ্ধশালী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ।”
তার মানে জামায়াত ইসলাম অনুমোদিত “খেলাফত” প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে না। খুব পরিস্কার। তাহলে তারা কী করবে? সেটা বুঝতে হলে আমাদের জামাতের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে।
“ঢাকায় ২৫ – ২৭ মে ১৯৭৯ সালে এক সম্মেলনে তাহার প্রতিষ্ঠাতা আল উস্তাজ সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী’র (রহমতুল্লাহ)-এর ঐতিহ্যবাহী জোশ, সিস্টেম ও বৈশিষ্ট্য লইয়া জামাত আবির্ভুত হয়” – ইন্ট্রোডিউসিং জামাতে ইসলামী, বাংলাদেশ – পৃষ্ঠা ৫.
এর মানে জামাতের মুল বিশিষ্টতা “ইসলামে” নেই আছে মওদুদী’র (রহমতুল্লাহ)-এর ঐতিহ্যবাহী জোশ, সিস্টেম ও বৈশিষ্ট্য তে। এই জায়গাটা খুব ইন্টারেস্টিং। এখানেই জামাতকে বোঝার বিষয়টা আসছে। মওদুদির চিন্তা বিশ্লেষণ না করতে পারলে জামায়াতের আসল উদ্দেশ্য ধরতে পারা মুস্কিল হবে। মওদুদির চিন্তায় এই ইশারা প্রছন্নভাবে এবং প্রকাশ্যে আছে। জামায়াত ইসলামকে পুঁজিবাদের সাথে সাযুজ্য পুর্ন করে তুলতে চায়। কেন চায়? কারণ ইসলাম যদি সকল মুসলিম ব্যক্তিজীবনেও কঠোর ভাবে মেনে চলে তাহলে পৃথিবীর অর্থনীতি ২৪ ঘণ্টায় কোলাপ্স করবে। কেন? কারণ ইসলামে তো সুদ গ্রহণ ও প্রদান হারাম। সুদের উপরে টিকে আছে পুঁজিবাদের ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম। এই সুদকে এমনভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন পুঁজিবাদের জন্য যেন মুসলিম সম্প্রদায় সুদ ভিন্ন নামে হলেও গ্রহণ করতে আত্ম গ্লানিতে না ভোগে। তাই সুদ হয়ে যায় “সেবা”। ইসলামী ব্যাংক তৈরি হয় জামায়াতের উদ্যোগে।
পুঁজিবাদ তাঁর আগের যে সব ধর্ম নীতি নৈতিকতা তার বিকাশ আর স্ফিতির চরিত্রের সাথে কম্প্যাটিবল মনে করেনা তাকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে হয় নির্বাসন দেয় অথবা বদলে ফেলে। ইসলাম পুঁজিবাদের সাথে সাযুজ্য পূর্ণ নয়। তাই এতাকে সমাজ জীবন থেকে নির্বাসন দেয়া দরকার পুঁজিবাদের প্রয়োজনেই। কিন্তু শুধু ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ রাখলেই কি পুঁজিবাদের বিপদ কমে? না কমে না। সেটা সুদের উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে আরো আগেই। আসলে কোন ধর্মই পুঁজিবাদের সাথে সাযুজ্য পূর্ণ নয় তাই পুঁজিবাদ সব ধর্মকেই বদলে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার এই লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন (সংশ্লিষ্ট নৌটের লিঙ্কঃ http://on.fb.me/19LU4Dx)
ধর্ম সমুহকে বদলে দেয়ার এই প্রসঙ্গে মার্ক্স কী বলেছেন লক্ষ্য করুন’
“পুজিবাদ সেই সকল ধর্ম তত্ত্বরই বিনাশ ঘটায় যা তাঁর বিকাশের পথে বাঁধা, কিন্তু ধর্ম তত্ত্বের মধ্যে বদলও ঘটায়পুঁজি যা তাঁর খাপে খাপে মেলে।“
ইসলামের ক্ষেত্রেও লক্ষ করলে দেখবেন ইসলামের মুল স্পিরিটে সুদ, রাজতন্ত্র নেই, এই ইসলাম পুঁজিবাদের সাথে কম্প্যাটিবল নয় তাই এমন একটা ইসলামের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে যেখানে সুদ হারাম নয়, শুধু সুদের নাম বদলে “সেবা” করে দিলেই ইসলামের নামে সুদের ব্যাংকিং করা যায়। উল্লেখযোগ্য মুসলিম দেশগুলোতে রাজতন্ত্র জেঁকে বসে। আদি ইসলামে জাকাত ছিল খেলাফতের প্রাপ্য। আজকে জাকাত হয়েছে ব্যক্তির প্রাপ্য। জাকাত ছিল মুলত খেলাফতের কর। আধুনিক রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহ আর জাকাতের মাধ্যমে সম্ভব নয় জন্য এটাকে পরবর্তীতে বদলিয়ে রাষ্ট্রের জন্য আলাদা কর ব্যবস্থা চালু করে রাষ্ট্র থেকে জাকাতকে আলাদা করে দেয়া হয়েছে। ব্যবস্থায় পুজিই মানুষের উৎপাদন, ভোগ, বিতরন ও বিনিময়ের মুল কর্তা হয়ে ওঠে। পুজি নেয় ঈশ্বরের জায়গা তাই পুজিই হয়ে ওঠে পৃথিবীর নতুন ঈশ্বর।
ইসলামকে এই অঞ্চলে পুঁজিবাদের সাথে কম্প্যাটিবল করে নেবার কাজটা করেছেন মউদুদি। ইসলামের সুমহান সামাজিক ভুমিকা, পরস্পরের প্রতি মানবিক দায়িত্ববোধের ঐতিহ্যের বিপরীতে দাড়িয়ে তিনি নতুন তত্তায়ন করেছেন,
” ইসলামি সমাজ সংস্থা সঠিক রূপে বুঝিবার জন্য সর্বপ্রথম এই কথা জানিয়া নেয়া আবশ্যক যে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে আসল গুরুত্ব হইতেছে ব্যক্তির, সমাজ-জাতির বা সমষ্টির নয়” (অর্থনৈতিক সমস্যার ইসলামী সমাধান, পৃষ্ঠা ৮৪)
এই ব্যাখ্যার পক্ষে যেই যুক্তি তিনি দিয়েছেন তা হচ্ছে, যেহেতু ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী প্রতিটি কৃতকর্মের জন্য আখেরাতে এককভাবে এবং ব্যাক্তিগতভাবে আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করবেন, সুতরাং এই দুনিয়াতেও ব্যাক্তি শুধু ব্যাক্তির নিজের প্রতিই দায়িত্বশীল হবেন। আখেরাতে অন্যের প্রতি দায়িত্ব যেহেতু তার নয়- সেহেতু দুনিয়াতে অন্যের প্রতি কল্যাণমূলক কর্তব্যপালনের তাগিদও তার থাকবেনা। এটা ক্যাপিটালিজমের মর্মশাস; স্বার্থপরতার ইন্ডিভিজুয়ালিজম। ক্যাপিটালিজমের Laissez Faire ভাবাদর্শের সার্থক উপস্থাপন। এটাই হবসের তত্ত্ব, জেই তত্ত্ব পুঁজিবাদের ভিত তৈরি করেছে।
জামায়েতর একটা শ্লৌগান আছে “আল্লাহর আইন চাই” । আসলেই কী তাই চায়? দেখুন মওদুদি কী বলেছেন,
“প্রকৃতপক্ষে, আসলে, ইসলাম মানুষের আইনকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে না. ইহা শুধুমাত্র ইহাকে সীমাবদ্ধ করে ও সঠিক পথে চালায়।“
এই সঠিক পথে চালানোটাই হচ্ছে ইসলামের নতুন বয়ান তৈরির মাধ্যমে যার সাথে পুঁজিবাদের সাথে বিরোধ নাই।
Farzin Vahdat এর লেখা Islamic Ethos and the Specter of Modernity তে মওদুদির দর্শন ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন মওদুদি বলেন,
“(Human beings have) Inherent craving of personal gain and innate appetite for profit.”
Farzin Vahdat মওদুদির দর্শন সম্পর্কে আরো বলেন,
“He was much more on the side of tenet of western capitalism. Moududi came to a conclustion that “capitalism is the natural form for human society.”
এই কারণেই পাশ্চাত্য পুঁজিবাদের মোড়লদের কাছে জামায়াত ঘনিষ্ঠ। তারা জামায়াতকে রক্ষা করে। কারণ জামায়াত পুজির স্বার্থ রক্ষা করে। জামায়াত সেই কারণেই পুঁজিবাদকে অতিক্রম করে যাওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা “সমাজতন্ত্রের” ধারণার বিরুদ্ধে।
জামায়াত কী একটা মৌলবাদী শক্তি?
প্রথমত জামায়াত কখনোই মৌলবাদী শক্তি নয় ছিলও না কখনো। ইসলামের মুল নীতিতে যারা আস্থাবান তাঁরা মৌলবাদী। মাহাথীর মোহাম্মদ বলেছেন, “আমি মৌলবাদী”। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, মৌলবাদ মানে হল মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলা। মৌলবাদ শব্দের অর্থ কোন ধর্মের মূলভিত্তি ও আদর্শকে নিগুড় অনুসন্ধান করে তা যথাযথরূপ অনুসরণে সচেষ্ট হওয়া। যারা সচেষ্ট হয় তাদেরকে মৌলবাদী বলে। সেদিক দিয়ে জামায়াত মৌলবাদী নয় বরং সংস্কারবাদী, জামায়াত ইসলামের আধুনিকায়নে বিশ্বাস করে। ইসলামের মৌলিক ধারায় জামায়াত বিশ্বাসী নয়। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মউদুদী ইসলামকে নতুন করে ব্যাখ্যা করেছে, সেটা মৌলিক ইসলাম নয় বরং ইসলামের একটি নিজস্ব ব্যাখ্যা। আয়াতুল্লাহ খোমিনী, হিজবুল্লাহ বা মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার উপর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ধারাগুলো প্রবলভাবে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী। মুল ইসলাম বা মৌলবাদী ইসলাম পুঁজিবাদ, রাজতন্ত্র এবং ব্যাক্তিতন্ত্রের বিরোধী। ইসলামের সঙ্গে পুঁজিবাদ এবং বুর্জোয়া ব্যাক্তিতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও সভ্যতার সঙ্গে অন্তর্নিহিত সংঘাত আছে। জামায়াত মুল ইসলামকে বদলে ফেলে, নিজের একটা ব্যাখ্যা দাড় করায়। সেই কারণে জামায়াতের রাজনীতির মধ্যে পুঁজিবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা নেই, মৌলবাদও নেই। এই গেলো মৌলবাদের প্রশ্ন।
জামায়াত কি একটি গণতান্ত্রিক শক্তি?
গণতন্ত্র ও জামাতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হলে গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের ধারনাটা আরও একটু ঝালিয়ে নেয়া দরকার। প্রথাগত রাজনীতির যে ধারা, বিশেষ করে বড় দলগুলো আমাদের যেভাবে গণতন্ত্র শেখায় সেটা হচ্ছে গণতন্ত্রে বহু দল থাকবে, তাঁদের নিজ নিজ দলের সমর্থক বাড়াবার অধিকার থাকবে। সে কারণে তাঁদের মত প্রকাশ ও মত প্রচারের অধিকারও থাকবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর দেশে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে মানুষ যে দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাবে তাঁরা সরকার গঠন করবে। এই হচ্ছে গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা। এই ধারণা অনুসারে জামাতকে গণতান্ত্রিক দল না বলে উপায় নেই। কিন্তু গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রচলিত এই ধারণা গণতন্ত্র নয়। এগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চার উপায় বলা যেতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র নয়। ঠিক যেমন ধর্মীয় আচার পালন করলেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায়না। গণতন্ত্র চর্চার হাজারো নিয়ম থাকতে পারে। শাহবাগ যেমন তরুণদের মাধ্যমে জনগনের সার্বভৌম ইচ্ছা ধ্বনিত করেছে, এটাও একটা গণতান্ত্রিক চর্চা। তাই গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যে ফারাক করতে পারাটা জরুরী। গণতন্ত্র যদি না থাকে তবে চর্চা অর্থহীন, প্রাণহীন আচারে পরিনত হয়।
গণতন্ত্রকে হয়ে উঠতে হয় নাগরিকদের প্রান ধর্ম। সেটা প্রতিষ্ঠিত হলে চর্চাও প্রান পায়। তাহলে গণতন্ত্রের প্রান ধর্ম কী? গণতন্ত্রের প্রান ধর্ম হচ্ছে; ব্যক্তি সার্বভৌম, মানুষ স্বাধীন। একথাই আমরা সহজ করে বলি জনগণ সার্বভৌম। রাষ্ট্র নয়, সরকার নয়, দল নয়। জামাতের গণতন্ত্রের সাথে সংঘাতটা ঠিক এই জায়গাতেই, সংঘাতটা প্রান ধর্মের সাথেই। জামাত মনে করেনা জনগণ সার্বভৌম তারা বলে আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) সার্বভৌম। এই কথাটা বেশ ইসলামিক মনে হয়। কিন্তু ব্যাখ্যা করলে দেখবো ইসলামের মর্মার্থের সঙ্গে এই বক্তব্যের মৌলিক বিরোধ আছে। জামাত মনে করে জনগনের ভালো মন্দের বিচারের ক্ষমতা নাই, কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক সেটা বিচারের বিবেক বা ক্ষমতা জনগণের থাকেনা। অতএব, নিজের সংবিধান, নিজের বিধান, নিজের আইন নিজে প্রণয়নের ক্ষমতা জনগনের থাকেনা। সুতরাং, জনগণকে চলতে হবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী। বিশেষত সে বিধান জামাত যেভাবে ব্যাখ্যা করে সেভাবে।
আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) সার্বভৌম, তিনিই সকল ক্ষমতার মালিক, এটা কেবল ইসলাম নয় সকল একেশ্বরবাদী ধর্মেরই শিক্ষা। কিন্তু বিশেষ করে ইসলামে জাগতিক সার্বভৌমত্বের একটা চমৎকার অভাবনীয় শিক্ষা আছে যেটা জামাত নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সচেতনভাবে এড়িয়ে চলে। ইসলাম একটি অসাধারণ ধর্ম এবং তাঁর বিচত্র সৃষ্টিশীল দিক বিভিন্নকালে দার্শনিক ও ভাবুকদের বিপুলভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র এবং মানুষের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি জটিল দার্শনিক সমস্যার মীমাংসা প্রচলিত ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
গণতন্ত্রের সঙ্গে ধর্মের বিশেষ করে ইসলামের সম্পর্কটা বুঝতে হলে আমাদের বুঝতে হবে ধর্মের “সার্বভৌম” শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়। এই সৃষ্টি জগতের শর্ত হচ্ছেন আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা), আমাদের অস্তিত্বের শর্ত তিনি, এই অর্থে সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয় সার্বভৌম। কারণ পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ সৃষ্টি করেছেন তিনি। কিন্তু বিশেষ করে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে স্বাধীন ইচ্ছা এবং বিবেক সম্পন্ন করে। এই ইচ্ছা এবং বিবেককে ব্যবহারের সার্বভৌম ক্ষমতাও তিনি মানুষকে দিয়েছেন, সেই কারনেই মানুষ আশরাফুল মখলুকাত। ঠিক এই জায়গায় অনেক নাস্তিক বলতে চান যদি এই মহাবিশ্বের সব কিছু সৃষ্টিকর্তাই প্রোগ্রাম করে থাকেন তবে সব অন্যায় ও অন্যায্য বিষয়ও উনার প্রোগ্রাম করা, এর দায় কেন মানুষের হবে।
এই প্রশ্নটা বেশ জটিল এবং একটা দার্শনিক সমস্যার সৃষ্টি করে। কিন্তু আশরাফুল মখলুকাতের কনসেপ্ট এই দার্শনিক সমস্যাকে দূর করে। সৃষ্টিকর্তার কাছে থেকে সৃষ্টির সুবাদে যে সার্বভৌম ক্ষমতা আমরা পেয়েছি সেই ক্ষমতার কারনেই পৃথিবীর সব কর্মের কর্তা হয়ে উঠি আমরা, পৃথিবীর সকল কর্মের দায় এবং কৃতিত্ব আমাদের। সেকারণেই এই ভালো কাজের পুরস্কারের যোগ্যতা আমরা অর্জন করি এবং মন্দ কাজের শাস্তি পাওয়ার উচিত্ত্য তৈরি হয়। ইচ্ছা ও বিবেকের সার্বভৌমত্ব আশরাফুল মখলুকাতের না থাকলে পৃথিবীতে আমাদের কৃত সব কাজের কর্তা থাকতেন তিনি এবং আমাদের পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত হবার ন্যায্যতা থাকতো না। যেখানে ব্যাক্তির সার্বভৌমত্ব ইসলামে নিশ্চিত করা হয়েছে সেখানে জামাতের শ্লোগান পৃথিবীতে “ আল্লাহর আইন” শুধু গণতন্ত্রের সাথে নয়, খোদ ধর্মের সাথেই সাংঘর্সিক হয়ে যায়। জনগনের সার্বভৌমত্ব যেখানে ইসলামে স্বীকৃত সেখানে জামাত সেটা অস্বীকার করে প্রকারান্তরে নিজেদেরকেই অগণতান্ত্রিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
একজন বিপ্লবীর কাছে তাই জামায়াত যুদ্ধাপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগের বাইরেও একটি।
১/ পুঁজিবাদের স্বার্থ রক্ষা করা রাজনৈতিক শক্তি
২/ ইসলামের দার্শনিক মত ও শিক্ষা দিয়ে বিচার করেই “জামায়াত একটি অগণতান্ত্রিক শক্তি”।
৩/ ইসলামের মৌল শিক্ষাকে বদলে দিয়ে জামায়াত পুঁজিবাদের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ নতুন ইসলামের বয়ান তৈরির শক্তি।
এই তিনটাই জামায়াতের একিলিস হীল। এই হিডেন এজেন্ডা জামায়াতের কর্মীদের কাছেও এক্সপৌজ করে দেয়াটা একটা বিপ্লবী দায়িত্ব।
লেখকের ফেইসবুক থেকে





It’s mostly an article comprised of “out of context” quotation. “Quotations” are in most of the cases taken out of context and explained wrongly and in opposite spirit from the author’s spirit and explanation…
লেখাটা খুবই ভালো লেগেছে। জামায়াতের বিরোধীতা করতে গিয়ে কেউ এতটা গভীরে যেতে পারে এটা ভাবলেই গর্ববোধ হয়। যেই যেই কারনে লেখাটা ভাল লেগেছে:
১. অন্যান্য দের মত করে ইসলামের অসারতা প্রমানের চেষ্টা নাই
২. মৌলবাদের প্রতি ঘৃনা ছড়ানো হয়নাই
৩. ইসলামকে পুঁজি করে রাজনীতির চেষ্টার কথাও বলা হয়নাই
আশির দশকের আগ পর্যন্ত সমাজ থেকে ইসলামকে দুর করে দেবার জন্যে অনেকগুলো গোষ্ঠী একসাথে কাজ করেছে। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে ইসলাম ধীরে ধীরে শক্ত থেকে শক্ততর হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। ধর্মহীনতার বদলে মানুষ ধর্মের প্রতি আরো দুর্বল হয়েছে, অতএব, ইসলামকে খাটো করে জামায়াতের বিরোধীতা আর সফল হচ্ছে না, হবেও না কখনো, ইনশা আল্লাহ। তাই নতুন স্ট্রাটেজী হলো, “ইসলাম ভালো, কিন্তু জামায়াতের মধ্যে ইসলাম নাই।” অথবা, জামায়াতের হাতে ইসলাম সেইফ না, ইত্যাদি।
মিশরের ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে সুশীল সমাজও ঠিক এভাবে ইখওয়ানের বিরুদ্ধে লেগেছে ইদানিং, একটা সময় প্রাকটিসিং মুসলমানদেরকে ঘরে ঘরে গিয়ে হান্ট করার বিভিন্ন স্ট্রাটেজী বের করতেন তারা। এখন তারা সরাসরি ইসলামকে টার্গেট না নিয়ে “ইখওয়ানের” ইসলামী চেতনাবিরোধী বিভিন্ন অনুষঙ্গ খুজে বের করেন। এ অবস্থায় আসতে ইখওয়ানকে অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, সেই তুলনায় জামায়াত অনেক সহজেই এখানে চলে এসেছে।
জামায়াতে ইসলামির বিজয় না হলেও চলবে, তবে ইসলাম এগিয়ে গেলেই চলবে। জামায়াতের উচিত হবে তাতে পেছন থেকে সহায়তা করতে থাকা।
পিনাকি সাহেবের এই পোস্টে আমার কিছু কমেন্টস আছো।॥
এখানে রিপিট করার ইচ্ছা নাই। ইসলাম , ইসলামী আন্দোলন, এবং জামায়াত ইসলামী সম্পর্কে একেবারে আনাড়ী একটি পোস্ট এটি। সাধারণ পাঠকের কাছেও ভূল গুলো ধরা পড়বে।
একজন ইসলাম না জানা ছুপা ইসলামবিদ্বেষীর লেখা islamic movement নামক ব্লগে শোভা পায় না। লেখাটি পড়লে সহজেই বুঝা যায় ইসলাম সম্পর্কে উনার ন্যুনতম ধারণা নাই। শুধু জামায়াতের বিরোধীতা করেছে বলেই লেখাটি এ ব্লগে ছাপলেন। ব্লগটির নাম পাল্টিয়ে অ্যান্টি-জামায়াতি মুভমেন্ট রাখলেই সংশয়টা দূরীভূত হতো। পঁচা বামেরা আবার বিপ্লবী হয় না কি? তাও এদের দৌড় যেখানে শাহ্বাগ পর্যন্ত? ইয়াক থুঃ!!
post এর সাথে কেউ যদি দ্বিমত করেন পাল্টা মত দিবেন তথ্য আর যুক্তির মাধ্যমে। একজনকে দেখলাম ওয়াক থু করতে।প্রশ্নহচ্চে পাঠক কি থুথু নিতে চাইবে?