আগের পর্ব: বিরাশি সালের কথকতা-২
ঢাকার কলাবাগানে অবস্থিত শিবিরের মেসে আমার থাকার ব্যবস্থা হলো। ছাত্রত্ব বজায় রাখার জন্যে ঢাকা ল কলেজে আইন পড়তে ভর্তি হলাম। নির্বাচন হলো এবং আমাকে ঢাকা শহরের সভাপতি নির্বাচিত করা হলো। ঢাকা শহরের অধিকাংশ সদস্যের পরামর্শের আলোকে সেক্রেটারী নিয়োগ করলাম কার্যকরী পরিষদের নতুন সদস্য আনোয়ার হোসেনকে। অত্যন্ত কর্মঠ, বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ এবং বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তিকে সেক্রেটারী হিসেবে পেয়ে খুব ভালো লাগলো।
কর্মপরিষদে পেলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সলিমুল্লাহ মেডিকেলের আমিনুল ইসলাম মুকুল, কলেজসমূহের ইনচার্জ আব্দুল হক এবং অন্যান্য জোনের দায়িত্বশীলদের। তাদের সহযোগিতা, আন্তরিকতা এবং যোগ্যতা প্রশ্নের উর্ধে ছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম, ছয় মাস পর আমি চলে গেলে এরা যে কেউ যোগ্যতার সাথে ঢাকা শহর পরিচালনা করতে পারবেন। বার্ষিক পরিকল্পণা গ্রহণ করলাম। সকল থানা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফর করলাম। নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হলো। কিন্তু কি জানতো আমার জন্যে আরো কিছু বিস্ময়কর ঘটনা অপেক্ষা করছে।
একদিন আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ আমাকে ডেকে পাঠালেন। ভূমিকা হিসেবে অনেক কথা বলার পর শেষে বললেন, ‘এনামুল হক মনজু ব্যক্তিগত কারণে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন। আমি যেন ঢাকায় অবস্থানরত পরিষদ সদস্যদের সাথে আলাপ করে তাদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করি। এর কোন বিকল্প নেই। দ্রুত এর ব্যবস্থা করুন।’ আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকার পরিষদ সদস্যদের ডাকলাম। বিষয়টা ব্যাখ্যা করলাম। তারা সবাই কারণ জানতে চাইলেন। আমি বললাম, ‘কারণ ব্যক্তিগত। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।’ তারা অনেক চাপাচাপি করলেন। বললেন, ‘কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে করবেন। আমরা কারণ জানতে চাই এ জন্যে যে তা হলে হয়তো কারণ দূর করার একটা পথ আমরা খুঁজে পেতে পারি।’ আমি বললাম, ‘প্রয়োজন হলে আপনারা পরিষদের বৈঠকে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করবেন। তবে আমার অনুরোধ, বৈঠকে আপনারা পদত্যাগের কারণ জানতে বা তা প্রত্যাহার করার জন্যে বেশি চাপাচাপি করবেন না।’ দুয়েক দিনের মধ্যে পরিষদের বৈঠক ডাকা হলো। বৈঠকে এনামুল হক মনজু পদত্যাগ করলেন। উপস্থিত সদস্যরা আমার অনুরোধ আমলে না নিয়ে কারণ জানতে এবং পদত্যাগ না করতে অনেক অনুরোধ করলেন। কিন্ত এনামুল হক মনজু তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী পরিষদের সদস্যদের ভোটে আহমদ আব্দুল কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ বৈঠকেই পরবর্তী কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং সারা দেশের সদস্যদের ভোটে আহমদ আব্দুল কাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

আহমদ আব্দুল কাদের সেক্রেটারী জেনারেল নিয়োগের জন্যে পরিষদের সদস্যদের সাথে পরামর্শ শুরু করলেন। আমি তাকে প্রস্তাব দিলাম, ‘আপনি সাইফুল আলম খান মিলনকে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে রাখুন। মেয়াদ শেষ হবার আগে তাঁকে বাদ দেয়া ভালো দেখায় না’ তিনি বললেন, ‘আপনার পরামর্শ শুনলাম। তবে অধিকাংশ পরিষদ সদস্য যার পক্ষে মতামত দিবেন তাকেই আমি সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিতে চাই।’ আমি বললাম, ‘আর যা-ই করুন, আমাকে সেক্রেটারী জেনারেল করবেন না। আমার ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ঢাকা শহরের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে আমাকে বিদায় দেন।’ তিনি বললেন, ‘দেখা যাক পরিষদ সদস্যরা কি বলেন।’
এক সময় পরিষদের বৈঠক শুরু হলো। প্রথম এজেন্ডা সেক্রেটারী জেনারেল নিয়োগ। আহমদ আব্দুল কাদের বৈঠক শুরু করেই বললেন, ‘আমি অধিকাংশ পরিষদ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে ফরীদ আহমদ রেজার নাম ঘোষণা করছি।’ ঘোষণা শুনে আমি থ হয়ে গেলাম। আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না। অন্যরা আলহামদুলিল্লাহ বলে ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন। বৈঠকে ঠিক আমার পাশে বসেছিলেন সাইফুল আলম খান মিলন। চেয়ে দেখলাম তার ফর্সামুখ, হয়তো রাগে-দুঃখে, লাল হয়ে গেছে। পরক্ষণেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং কাউকে কিছু না বলে ঝড়ের বেগে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। সবাই সেটা দেখেও না দেখার ভান করলেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকলেন। তারপর পরিষদের বৈঠক সেখানেই মুলতবী ঘোষণা করলেন।
পরে এক সময় আমি ফোন করলাম সাইফুল আলম খান মিলনকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি যে ভাবে রাগ করে এবং কাউকে কিছু না বলে পরিষদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা কি ঠিক হয়েছে?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘না ঠিক হয়নি। কিন্তু আমি সহ্য করতে পারিনি। এ জন্যে বেরিয়ে গেছি।’

পরদিন পরিষদের বৈঠক শুরু হলে সাইফুল আলম খান মিলনের সে দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে আমি বললাম, ‘আমার সাথে তাঁর আলাপ হয়েছে, তিনি স্বীকার করেছেন এটা ঠিক হয়নি। সুতরাং এ বিষয়ে আর কথা না বাড়ানোই ভালো।’ আমার এ অনুরোধ কারো কারো মনঃপুত না হলেও অধিকাংশ সদস্য মেনে নেন। নির্বাচন এবং দায়িত্ব বন্টন সম্পন্ন হবার পর সংগঠনের নিয়মিত কাজের দিকে আমরা মন দিলাম।
হঠাৎ একদিন কে একজন খবর দিলেন, শাহ জাহান চৌধুরী (মোমেনশাহী) গোটা দেশের সদস্যদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শিবিরের বর্তমান নেতৃত্ব সংগঠনের মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে। কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা ছাত্রজীবন শেষ হবার পরও শিবির ত্যাগ করছে না। তারা ষড়যন্ত্র করে কেন্দ্রীয় সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে নেতৃত্ব দখল করে নিয়েছে। সে চিঠিতে সদস্যদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন সংগঠন রক্ষার তাগিদে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে। এ চিঠির খবর পাওয়ার সাথে সাথে, আমাদের অবাক করে দিয়ে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, রাজশাহী প্রভৃতি এলাকা থেকে সদস্যদের দস্তখত সম্বলিত অনাস্থাপত্র আসা শুরু হয়। আমরা বুঝলাম যে একটা সুচিন্তিত পরিকল্পণা, সুসংবদ্ধ জনবল এবং আনুষঙ্গিক উপায় উপকরণ ছাড়া সারা দেশে এত দ্রুততার সাথে চিঠি প্রেরণ এবং অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
(চলবে)
পরের পর্ব: শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-৪







একসাথে লিখলেই তো ভাল হত…. প্রতিদিন অপেক্ষা করা ভাল লাগে না.
ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী যে ক্ষমতা গ্রহনের জন্য আগ্রহী তাকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হবে না।
শিবিরের নের্তৃত্ব ও সিদ্ধান্তে সাবেকদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই যত রকমের ঝামেলাগুলো ঘটে। ২০০৯/১০ এর দিকে ঠিক এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছিলো। শিশির মনিরকে বিদায় দিয়ে বিদায়ী রেজাউল ভাইকে আবার সভাপতি বানানো হয়েছিলো। ঐ ঘটনার পেছনে জামায়াতের সিদ্ধান্ত কাজ করেছিলো। নতুনরা সব সময়ই নতুন চিন্তায়, নতুন কিছু করার পক্ষে থাকে। পুরোনোরা এতে ভয় পায়। এ ভয়টা অমূলক।
একটি মন্দ কাজের জন্য কাউকে আপনি খারাপ বলতে পারেন না।
তার হয়তো অনেক ভাল কাজ আছে যেটা আপনি জানেন না।
পর্ব ৩ এবং ৪ পড়তে গিয়ে একটু হোঁচট খেলাম। কিছু অংশ missing মনে হচ্ছে। ক্লিয়ার করলে ভাল হয়।
১। পর্ব ৩ এ বলা হয়েছে “শিবিরের বর্তমান নেতৃত্ব সংগঠনের মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে। কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা ছাত্রজীবন শেষ হবার পরও শিবির ত্যাগ করছে না। তারা ষড়যন্ত্র করে কেন্দ্রীয় সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে নেতৃত্ব দখল করে নিয়েছে।“
অন্যদিকে পর্ব ৪ এ বলা হয়েছে “আমি বললাম, ‘আমি আর কোন কারণ জানি না। শাহ জাহান চৌধুরী যা বলেছে তাতে সত্যের লেশমাত্র নেই। মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। তা দূর করার পথও আছে। কিন্তু যা করা হয়েছে তা জঘন্য।’”
অনাস্থা প্রস্তাবে মুল কি কি বিষয়ে অভিযোগ ছিল, সংক্ষেপে বলা যায়?
২। পর্ব ৪ এ বলা হয়েছে “মাওলানা আব্দুল জাব্বারের কথা শুনলাম। জামাতের কর্ম পরিষদের সিদ্ধান্তের কথা শুনলাম। আমি কখনো এ সকল কথা যাচাই করার জন্যে মাওলানা আব্দুল জাব্বারের সাথে দেখা করতে যাইনি। আহমদ আব্দুল কাদেরকে তিনি বলেছেন।“ মাওলানা আব্দুল জাব্বার কি বিষয়ে বলেছিলেন? ইনি কি সেই মাওলানা আব্দুল জাব্বার, যিনি ৭৮- ৭৯ এর দিকে জামায়াতের আমীর ছিলেন?
৩। “শুনলাম তোমরা নাকি ৭১এর পর্যালোচনা করতে চাও। এটা কি ঠিক?” “আচ্ছা বলতো, তোমরা যুব সংগঠন কেন করতে চাও?” এই প্রস্তাবনা বা প্রশ্নগুলোর কোন সুত্র পেলাম না আপনার লেখায়। এগুলো কি কার্যকরী পরিষদের প্রস্তাবনা ছিল?
আসসালাম….. বারাকাতুহ
যেহেতু ইতিহাসের দায়বদ্ধতা থেকে লিখতে হচ্ছে, যথাসম্ভব সকল বিষয় প্রকাশিত হওয়া উত্তম, তবে অনুমান বা স্মৃতিভ্রম থেকেও সুরক্ষিত থাকা উচিত!
জনাব zafar sadiq এর প্রশ্নগুলোর জবাব পাঠকদের কৌতূহল মেটাতে সহায়ক হবে মনে করি!
১৯৮২ সালে শিবির বিভক্তির ঘটনা প্রবাহ নিয়ে সাবেক সেক্রেটারী
ফরীদ আহমদ রেজা সাহেবের “শিবিরের ক্রান্তিকালঃ ১৯৮২ সালের
কথকতা” লেখাগুলো পড়লাম। আজ থেকে ৩৩ বছর আগের ঘটনা গুলো অতি
চমৎকার লিখনী শক্তি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে যাদেরকে অভিযুক্ত
করা হয়েছে দুঃখজনক হলো সেই ব্যাক্তি গুলো সব জালিমের কারাগারে
বন্দী। এতদিন কিছু না বলে ৩৩ বছর পরে কেন আজ ইতিহাস চর্চায় নেমে
পড়লেন আমি সে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চাইনা। কারন জামায়াতের
আওতার বাইরে আরেকটা দল করার জন্য প্রথম ধাপ যুব শিবির প্রতিষ্ঠার
খায়েশ তাদের আগে থেকে ছিলো। তবে জামায়াত নেতাদের সচেতন করে,
স্বাভাবিক অবস্থায় ওইসব করতে গেলে তারা ইসলামপন্থী জনগনের সমর্থন
পাবেন এমন আত্মবিশ্বাস তাঁদের ছিলোনা। তাই জামায়াতকে অন্ধকারে
রেখে তারা সেই কাজটা করতে গিয়েই পদচ্যুত হন।
বর্তমানে মূল নেতৃত্বের অন্তরীন অবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগের ঘাটতির
কারনে ময়দানের বাইরে থাকা কিছু হুজুগে ছেলেরা সংস্কার প্রস্তাব
উত্থাপন করার উৎসাহ পাচ্ছেন বলে মনে হয়। আর কামারুজ্জামান ভাইয়ের
মজলিসে শুরাকে লেখা পরামর্শ্ মূলক চিঠি ফাঁস করে আগে থেকেই এসব
প্রেক্ষাপট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুরাকে লেখা চিঠি কিভাবে
সংবাদ মাধ্যমে যায় এটা চিন্তা করলে প্রি প্ল্যান ষড়যন্ত্রের অনেক কিছু
পরিষ্কার হয়ে যায়। এখানেও একতরফা মতামতকেই ভিত্তি করা হয়েছে।
কারো একক চিন্তা চেতনায় সংগঠন বা ইসলাম পরিচালিত হয়না। মজলিসে
শুরার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠন তাঁর পরিকল্পনা গ্রহন করেন। প্রস্তাব
বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম দিবে আর শুরা আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত
সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। এর বাহিরে পরিকল্পনা প্রণয়নের কোন সিস্টেম
সংগঠনে নেই। আমরা চিঠির বিষয়ে সবাই জেনেছি কিন্তু চিঠি প্রাপ্তির
পরবর্তী আলোচনা, স্বীদ্ধান্ত, মতামত এবং সর্বপরি শুরার মুভমেন্টের
ব্যাপারে জনগণ অন্ধকারে থেকেছেন। কারন শুরার যেকোন সিদ্ধান্ত
আলোচনা গোপন থাকার কৌশলী বাধ্যবাধকতা আছে। আর এই
ব্যাপারটিকে অপব্যবহার করে কল্পিত অবিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা
হয়েছে। অথচ যে কামারুজ্জামান স্যার জামায়াতে থেকেই শাহাদাত গ্রহণ
করেছেন, সেই কামারুজ্জামান স্যারকেই জামায়াত ভাঙ্গার ও সংগঠন
থেকে ভাগানোর অস্ত্র হিসেবে নির্লজ্জ ব্যবহার করা হচ্ছে! ঠিক যেমন
করা হয় শিশির মনির ভাইকে নিয়েও!
আসলে ৮২ সালে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হলে এতদিন পরে ফাঁকা মাঠে খেলার
সুযোগ নিতে নতুন করে আলোচনাটি সামনে আনা হলো। যেহুতু এখন তাদের
সাথে ডিবেট করার বা জামায়াতের রুট লেভেলের সমর্থক শ্রেনীকে তথ্য
দেয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ নেই বলেই তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
এই শ্রেনীটি মূলত প্রথম থেকেই নিস্ক্রীয় এবং উস্কানি দাতাদের নিয়ে
মুখরিত। নিজেরা নিজেদের জ্ঞাণের আলোকে আলাদা শুদ্ধ প্লাটফর্ম
বানাতে নিজেদের নৈতিক শক্তিমান ভাবতে পারেনি। ইসলামী সমাজ
ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জনতার সামনে শক্তিশালী দাবি নিয়ে যাবার যোগ্যতম
তাঁরা নিজেরাও নিজেদেরকে মনে করেন না। সেই মানসিক শক্তিও তাঁদের
নেই। ফলে জামায়াতের হাজার দোষ বর্ণনা করলেও শুদ্ধ ইসলামী
আন্দোলনের প্লাটফর্ম গঠনে তারা হাত দেয়নি।
তাঁদের আচরণ, কথাবার্তা খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে তাদের কাজ গুলো
নেগেটিভ। তাঁরা এই কাজ গুলো করছে শুদ্ধতার জন্য নয়, ভালোভাবে গড়া
নয়, দেখে মনে হয় তাঁদের কাজ ভাঙ্গা, উস্কানি দেয়া, অবিশ্বাস তৈরি
করা, নিস্ক্রিয়দের প্রবোধ দেয়া, অপবাদ আরোপ করা এবং সংগঠনের
জনশক্তিকে ভাগিয়ে নিজ পছন্দের একটি প্লাটফর্ম গঠনের অপকৌশল। অথচ
স্বয়ং ৮২ এর বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আব্দুল কাদের বাচ্চু ভাইও
আলাদা প্লাটফর্মে করে সেটাকে জামায়াত-শিবিরের চেয়ে অধিক শুদ্ধ,
রুহানিয়াত সম্পন্ন ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যার্থ হয়েছেন। তিনি
নিজেও তাঁর দল নিয়ে নতুন কিছু দিতে পারেন নি। তাঁর গড়া
ছাত্রমজলিশের সকল কিছুই শিবিরের পেটেন্ট। এমনকি বছরের সদস্য
সম্মেলনের পোস্টারও শিবিরের পোস্টারের নকল করে করা হয়।
আফসোস হয় এসব জনশক্তিদের জন্য। তাঁরা কি চায় সেটাই আজ পর্যন্ত বলতে
পারেনি। তাঁরা পারে শুধু অপেনলি সমালোচনা করতে, কিন্তু পারেনি
সমাধানের পথ দেখিয়ে দিতে। এখনকার পলিসির চেয়ে যদি বেটার কোন
পলিসি থেকে থাকে সেটা তাঁরা উপস্থাপন করতে পারতো। ফোরামে না
পারলে এখনকার মত ওপেনভাবেই দিতে পারে। সেদিকে যাওয়ার শক্তি
এখনও কারো আছে বলে প্রমান দিতে পারেনি। সত্য বলতে কি, শুধু মাত্র
কিছু ব্যাপারে নিজের চিন্তার ভিন্নতা মেনে নিতে না পেরে আবেগী
ছাত্রদের সংগঠনটাকে অবিভাবকহীন করতে চায়, তারা কি করে গণমানুষের
সংগঠন তৈরি করবে? ইসলামের দেখানো মজলিশে শুরাকে যারা ছুড়ে
ফেলে দেয় তাঁরা আবার কোণ ধরনের শুরা গঠন করবেন?