Browse: Home / বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রসঙ্গ (১ম পর্ব)

Menu

Skip to content
  • পরিচিতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
  • ব্লগে লেখার পদ্ধতি
  • ব্লগ ব্যবহারের নিয়মাবলী
  • আমাদের লিখুন
  • পোস্ট লেখার টিউটরিয়াল
  • সাইট ম্যাপ
Header image

Political Islam in BangladeshLogo

Political Islam in Bangladesh

Menu

Skip to content
  • সমসাময়িক চিন্তা
  • আদর্শ-মতবাদ
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র
    • খিলাফাহ
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
    • সমাজতন্ত্র
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম
  • মুসলিম বিশ্ব
    • আরব জাগরন
    • তিউনিশিয়া
    • তুরুস্ক
    • মিশর
  • আলোচিত-সমালোচিত
  • জাতীয় রাজনীতি
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।
  • বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ
  • কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)

বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রসঙ্গ (১ম পর্ব)

Written by মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক on 05/02/2014 in জামায়াত | Views | 1 Response

[একজন বিজ্ঞজনের সাথে সাম্প্রতিক সময়ের আলাপচারিতা হতে গৃহীত পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন-উত্তর হিসাবে লেখা]

জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প একটা কিছু করা- আমার অবস্থান সেটা নয়। আমার ধারণায়, এই কাজের যে ব্যাকগ্রাউন্ড বা কনসেপ্চ্যুয়াল সাপোর্ট আছে, বেইজ আছে বা ইসলামিক আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের যে বিষয়গুলো আছে, ওইগুলোর তাত্ত্বিক যে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো মেরামত করে ক্রমান্বয়ে একটা মুভমেন্ট গড়ে তোলা। আমরা নিজেরা বা আমি নিজে কোনো পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন বা পলিটিক্স রিলেটেড কিছু করবো না।

আমি একটা কনসেপ্ট দাঁড় করিয়েছি,যে সব বিষয় জরুরি, সে বিষয়গুলোকে নিয়ে একেক দিক থেকে একেকভাবে কাজ করা। মানে, রিলিজিয়াস স্পিরিচুয়ালিটি- এটা একটা দিক, কালচার আলাদা একটা দিক, ইন্টেলেকচুয়ালিটি আরেকটা আলাদা দিক। এভাবে একটা সংগঠন না করে, জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন জনে ক্লাস্টার অব অর্গানাইজেশনস করবে। কিন্তু তাদের মধ্যে একটা যোগাযোগ থাকবে এবং এটার বেইজ হবে ইসলামিক আইডিওলজি ও বেসিক টেক্সটস। এটা হচ্ছে আমার চিন্তা।

তবে আমি বললেও জামায়াতে ইসলামী সেই আইডিয়েল সিচুয়েশনে এখন ব্যাক করতে পারবে না। আমার ধারণা, একেবারে তাত্ত্বিক জায়গা থেকে বর্তমানে তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে অরণ্যে রোদন বা ইউটোপিয়ান চিন্তা ভাবনা। তারা যতটুকু সংস্কার করে নিজেদেরকে একটা অবস্থানে আনতে পারে, মানে তাদের পক্ষে যতটুকুসম্ভব, ততটুকু নিয়ে তাদেরকে একটা পরামর্শ দেওয়া। আর সাথে সাথে আমাদের মূল প্রস্তাবনাতাদের সামনে তুলে ধরা।

আমার ধারণা, জামায়াতের সাংগঠনিক পরিধির মধ্যে ওয়াজ-নসিহত করে আনুগত্যের বিষয়টাকে এতো বেশি বদ্ধমূল করে দেওয়া হয় যে, আল্টিমেটলি লোকেরা ওই পয়েন্টে এসে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। আর স্টাবলিশম্যান্ট ইত্যাদি তো আছেই।

কোনটা মুখ্য মনে হয়? বাইয়াত তথা শপথ, নাকি স্টাবলিশম্যান্ট?

কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটা, কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আরেকটা। মানে দুটোকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

বাইয়্যাত মানে কি? যে ফরম ফিলাপ করছে বা আমীরের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছে। তো এটা কি আল্লাহর আনুগত্যের চেয়ে বড় হয়ে গেছে? অথচ একই ব্যক্তি ইসলামের মৌলিক নির্দেশাবলী মাঝে মধ্যে লঙ্ঘন করছে। সবাই না, কেউ কেউ। ছেলে-মেয়েকে স্টাবলিশ করার জন্য বিভিন্ন রকমের জিগজ্যাগ পথ অনুসরণ করছে। আল্লাহর এইসব নির্দেশের চেয়ে কি আমীরের কাছে শপথ নেওয়া বড়হয়ে গেছে?

এখানে আরেকটা ব্যাপার আছে, একটা প্রতিষ্ঠিত ধারায় কাজ করা যতটা সহজ, একটা ধারা তৈরি করার যে রিস্ক আছে, কমফোর্ট জোনের বাইরে যাওয়ার যে একট

আমি সেটাই বলছি। তার মানে তাদের শপথটা আছে, শপথটা কারো কারো কাছে বড় ব্যাপারও হতে পারে; কিন্তু তারা মুষ্টিমেয়। সবকিছুতো হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্টিমেটলি। পরকালে এবং ইহকালীন সুখের জন্য। তুমি ইহকালীন ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থাও চাচ্ছো পরকালীন মুক্তির জন্য। ইহকাল কিন্তু প্রধান বিষয় না। প্রধান বিষয় হলো পরকাল। বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করছেন আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য। যদি তাই হয়ে থাকে, তার মানে আল্লাহর দুনিয়াতে যে রাষ্ট্র, সেটাও পরকালের মুক্তির জন্য। তো যে লোকদের কাছে পরকালীন মুক্তিরও কোনো কোনোবিষয় আপসযোগ্য- আমি শুধু জামায়াতের কথা বলছি না, অন্যন্য ইসলামিস্টদের কথাও বলছি, পীর-আলেম-ওলামাদেরও, তারা দুনিয়ার বহু প্রশ্নেই তো আপস করছে।

আর আনুগত্যের শপথটা বড় কি না? আমার মনে হয়, ব্যাপারটা শুধু জামায়াত নয়, যারা ফুল টাইম পলিটিক্স করে, রাজনীতি এক পর্যায়ে পেশা হয়ে যায়, রাজনীতির উপর এক পর্যায়ে যারা ডিপেন্ডেন্ট হয়ে যায়, যাদের রুটি-রুটি রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত হয়ে যায়, তাদের জন্য আসলে এটা একটা সেল্ফ ইন্টারেস্টে পরিণত হয়। এটা আমি দীর্ঘদিন বামপন্থীদের অবজার্ভ করে দেখেছি। এমনকি বিএনপিতেও, আওয়ামীলীগে তো বহুলোক আছেই, যাদের আসলে মূল পেশা হয়ে যায় রাজনীতি। কিন্তু রাজনীতি থেকে তো বেতন পাওয়া যায় না। তাই তারা এই রাজনীতির নামে চাঁদা তোলে, এলাকায় মাস্তানি করে, জমি দখল করে টাকা নেয়। এইসব কিছুর বড় সমর্থনের ভিত্তি হলো রাজনৈতিক একটা সংগঠন।

আমি শুধু ওই প্রশ্নটা করছি, যারা আল্লাহর আনুগত্যের প্রশ্নে প্রয়োজনে আপস করতে পারে, তারা আমীরের আনুগত্যের প্রশ্নে আপস করতে পারবে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য কিনা? এটা কতটা গ্রহণযোগ্য আমি জানি না।

দুইটা বিষয়ে আপনি যদি একটু বলতেন। একটা হলো, ইসলামের জন্য বাংলাদেশকে যদি বেইজ ধরে ইসলামি আইডিওলজি এখানে যদি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়, সেটা যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, এটার জন্য কি করণীয়? এটা এক ধরনের আলোচনা। আরেকটা হলো, জামায়াতে ইসলামী যে অবস্থার মধ্যে রয়েছে, তারা যদি এখন তাদের প্রথম অবস্থানের কাছাকাছি ফিরে যেতে চায়, তাহলে কোন কোন জায়গায় তাদেরকে রিফর্মগুলো করতে হবে?

এটা জামায়াতের পক্ষে-বিপক্ষে যাই হোক না কেন, মূল বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাইরে ধর্মীয় কারণ তথা বিশ্বাসগত কারণে চিন্তা করলে এক প্রকার সিদ্ধান্ত, এক ধরনের পদ্ধতিতে পথ চলতে হবে। অর্থাৎ যদি মনে করা হয় যে, আল্লাহর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকরা, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা ধর্মীয় দায়িত্ব, আল্লাহ নির্দেশিত দায়িত্ব। এর বাইরেকোনো মুসলমান অন্য কিছু করতে পারবে না, তাহলে এক ধরনের হবে।

অপরদিকে যদি মনে করা হয় যে, এটি একটা বিচার্য বিষয়। শুধু ধর্ম হিসেবে তুমি ইসলামকে দেখবে, নাকি ইসলামকে প্রধানত রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখবে? জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ডে, মাওলানা মওদূদী সাহেবের লেখালেখি অথবা জামায়াতের লোকদের কর্মকান্ড বিচার করে আমার যেটা ধারণা,জামায়াতে ইসলামীর কাছে রাজনীতিটা তথা ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থাই মুখ্য বিষয়। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম পালনের চেয়েও আমার মনে হয় জামায়াতের কাছে মুখ্য হলো, আল্লাহর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যদি এটি মনে করা হয় যে, এর বাইরে যাওয়ার কোনোপথ নাই, তাহলে এক ধরনের কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে, সিদ্ধান্ত নিয়ে আগাতে হবে।

আর যদি আপনি মনে করেন যে, না, রাজনীতিটা হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য। রাষ্ট্রটা হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য। যেখানে যে ব্যবস্থাটা তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী, সেটা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাটাই হলো লক্ষ্য, তাহলে রাজনীতিতে আরেক রকম কর্মপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের মন-মানসিকতা, মানুষের উপর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক প্রভাব-এসবের আলোকে যদি বিচার করা হয় তাহলে ‘ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম উর্বর ক্ষেত্র বাংলাদেশ’ – এই জাতীয় কথা মেনে নেয়া যায় না। বরং বাংলাদেশ হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিক থেকে অন্যান্য মুসলিম দেশের চেয়ে অনেক বেশি অনুর্বর।

কম সম্ভব কেন তা যদি বলতেন?

বাংলাদেশের চারদিকে ভারতের অবস্থান। ইচ্ছা করলে ভারত আমাদের জলসীমাও দখল করে ফেলতে পারে। বাংলাদেশে হিন্দুসহ নন-মুসলিমদের যে ঐক্য তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিমরা যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু কালচারালি নন-মুসলিমরা অনেক বেশি প্রভাবশালী। রবীন্দ্রনাথ কেন্দ্রিক আমাদের যে মনোজগত গড়ে উঠেছে, এটার প্রভাব ইসলামপন্থীরা খুব বেশি বোধ করে না। কিন্তু যারা করে, তারা অসম্ভব বেশি বোধ করে। পাশ্চাত্য শিক্ষার যে প্রভাব, যত কথাই বলি না কেন, আলীগড় আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের লোকেরা তো সবাই পাশ্চাত্যমুখী। আলেমদের কয়টা সন্তান মাদ্রাসায়পড়ছে?

মাদ্রাসার পক্ষে যখন এখানে আন্দোলন হচ্ছে, অথচ আন্দোলনকারীরা নিজেদের ছেলে-মেয়দেরকেই তো মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে না। সুতরাং এই মাদ্রাসা টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের যে আন্দোলন, এটা কি এক অর্থে হিপোক্র্যাসি নয়? গরিব মানুষদের জন্য মাদ্রাসা রাখতে হবে, এটা তো কোনো মানবিক বিষয় হতে পারে না। সেই জন্য আগে এইসব মৌলিক প্রশ্নে আগে ভাগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কোন্ বিষয়ে আগে ভাগেই সিদ্ধান্তনিতে হবে?

ইসলামী রাষ্ট্রটা করতেই হবে বা ইসলামী রাষ্ট্র করাটাই হলো আল্লাহর চূড়ান্ত বিধান। এর বাইরে করলে ধর্ম পালন হবে না। যদি এ রকম বোধ থাকে, তাহলে কোনো না কোনোভাবে সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে ‘ইসলামী রাষ্ট্রে’র দিকে যেতে হবে। আর যদি মনে করাহয় যে, রাষ্ট্র হচ্ছে হিলফুল ফুজুলের মতো একটা প্রতিষ্ঠান। যার দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের কল্যাণ করা। যদ্দুর পারা যায়। তাহলে সেটি হতে পারে।

হিলফুল ফুজুল, মানে জনকল্যাণই মূল লক্ষ্য? রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক বা না হোক?

রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক বা না হোক, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থাকতে হবে- এটা যদি ধর্মীয় বিধান হয়ে থাকে, তাহলে তো এর বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নাই মুসলমানদের। আর যদি মনে করা হয় যে,না, রাষ্ট্র বা রাজনীতিটা হচ্ছে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য একটা উপায়। তাহলে যখন যেখানে যেটা প্রয়োজন, যখন যে সময় যেটা উপযোগী, সেটা গ্রহণ করার অপশন থাকবে।

রাসূল (সা) মদিনায়, সেটাকে রাষ্ট্র বলি বা যা-ই বলি, একটা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব তো স্থাপন করেছেন?

ঠিক আছে, করেছেন। সেটা ছাড়া যে ইসলাম হবে না, এ রকম কোনো কথা আছে নাকি? ধরলাম, সেটা একটা অপশন। করতে পারলে ভালো। তাহলে এখন পৃথিবীতে সবচেয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কোনটা? সবচেয়ে সম্ভাবণাময় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশসমূহ। তারা ওয়াহাবী আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়দিকগুলো গ্রহণ করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়গুলো তো গ্রহণ করেনি। তার মানে বাস্তবতা তাদেরকে বলছে, আরব ভূমিতে আর আগের খেলাফত হবে না। বাস্তবতা তাদেরকে বলছে, আধুনিক যুগে সে ধরনের ইসলামী রাষ্ট্র এখন আর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আসলে মধ্যপ্রাচ্যের যে অবস্থা, সে অবস্থায় ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব?

না, এখন তো এটা নানা কারণেই ডিফিকাল্টহয়ে গেছে।

বাংলাদেশের কথায় আসি। যেমন নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া নেতৃত্ব বাছাইয়ের আসলে গ্রহণযোগ্য আর কোনো পথ নাই, এই পদ্ধতির মধ্যে যত দূর্বলতাই থাকুক না কেন। ইসলাম তো এ নির্বাচনটা সমর্থন করে না। ইসলাম হলো কোয়ালিটি সম্পন্ন লোকেরা কোয়ালিটি সম্পন্নদের মধ্য হতে নেতৃত্ব বাছাই করবে। যে লোকদের রাজনীতি, রাষ্ট্র সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই; একেবারে অশিক্ষিত, অজ্ঞ, রিমোট এরিয়ার লোকজন, তারাও দেশের পার্লামেন্ট সদস্য বাছাই করবে- এটা কি ইসলাম অনুমোদনকরে?

ইসলাম তো আসলে একটা কোয়ালিটিটিভ জিনিস, কোয়ান্টিটি…

এখন মানুষের সচেতনতার যে মাত্রা, তাতে কি রিকশাওয়ালারা সেটা মানবে? নির্বাচন, হেড অব দ্যা গভর্মেন্ট, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মিডিয়া, চলচ্চিত্র, অর্থব্যবস্থা- একদম পরিপূর্ণ ইসলামী অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব? ইসলামী ব্যাংক কি ইসলামী অর্থনীতির মডেল?

আমার মনে হয়, ট্র্যাডিশনালী ইসলামকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তাতে তো এক ধরনের কন্ট্রাডিকশন, কনফ্লিক্ট দেখা যায়।

তো এতো কন্ট্রাডিকশন নিয়ে…। রাইট অর রং – একটা কিছুকে কনফার্ম করতে হবে। রাজনীতিতে মানুষ সেই জন্য এক জায়গায় গিয়ে ডিকটটরিয়াল হয়ে যায়। ফিলসফিক্যালি এটা হয়তো পরিপূর্ণভাবে শুদ্ধ না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বলতে হবে, এই সময়ের জন্য এটাই করতে হবে এবং এটাই সিদ্ধান্ত। দার্শনিক বিতর্ক হিসেবে হয়তো এটা শেষ হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটা জায়গায় গিয়ে বলে দিতে হয় যে, এখানে যেতে হবে। যেমন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচিত নেতৃত্ব- এটাহলো বেস্ট সল্যুশন। এরচেয়ে ভালো বিকল্প আর নাই।

তাহলে বলতে চাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামীকে যদি রাজনীতি করতে হয়, তাহলে তাকে এ বিষয়গুলোতে প্র্যাকটিক্যালি কম্প্রোমাইজ করতে হবে?

প্র্যাকটিক্যালি কম্প্রোমাইজ করতে হবে অথবা নিজেরা নিজেদের যুক্তিটা লজিক্যালি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যুক্তি দিয়ে বলতে হবে যে, আমরা এগুলো ওভারকাম করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ বললে হবে না। জামায়াতে ইসলামী কোনোদিনই এগুলো ক্লিয়ার করেনি। যুক্তিসিদ্ধভাবে বলতে হবে যে, এটা আমরা পারবো।

মানে এটা বুঝা যেতে হবে যে, তারা পারবে।

হ্যাঁ, এটা তারা নিজেরা বুঝতে হবে। বেশিরভাগ মানুষকেও যে কোনোভাবেই হোক, বুঝাতে হবে। অন্তত সচেতন, শিক্ষিত মানুষদেরকে বুঝতে হবে। এসব বিষয়ে জামায়াতের কারান্তরীন শীর্ষ নেতাদেরকে অন্তত এক দশক আগে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। একেবারে ক্যাটাগরিক্যালি বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে পাশ্চাত্যশিক্ষিত মুসলমানদের, বিশেষ করে নারীদের মন থেকে ইসলামী রাষ্ট্র সম্পর্কে যে ভীতি রয়েছে,সেটা দূর করতে হবে। অমুসলিমদের মন থেকেও ভীতি দূর করা দরকার।

শ্রমজীবী মানুষ যারা আছে তাদেরব্যাপারে…

সেখানেতো জামায়াতের কোনো কাজই নেই। চিন্তা করে দেখুন, আপনি যে ড্রেস পরে এসেছেন, এর কোনোটাই ট্রাডিশনাল ইসলামিক ড্রেস কি না?

সনাতন অর্থে?

আমরা যে কায়দা কানুন করে এখানে বসে কথা বলছি, কোনোটা সনাতন কিনা? সনাতন নিয়মে তো নিচে বসে…ফরাস বিছিয়ে খাওয়া, পাশে চিলমছি রাখা…। এখনকার কোনোটাই কিন্তু আমাদের দেশীয় কৃষ্টিকালচারের নিরিখে ইসলামিক না।

এটা নন-ইসলামিক হবে কেন?

এটাকে নন-ইসলামিক মনে না করলে সেটা হবে আপস। তাহলে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও আপনি এই আপসটা করবেন কিনা? যেমন আপনি বলছেন যে, যা মানুষের জন্য কল্যাণকর তা হারাম নয়; বরং সেটাই ইসলামিক।এই তত্ত্ব সর্বত্র প্রয়োগ করবেন কিনা? সেটা আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আলেম-উলামারা যে ধরনের ওয়াজ করে,আর জামায়াতে ইসলামী যে ধরনের ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে- এগুলো একাকার হয়ে জনগণের মধ্যে একটা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে যে, এ ধরনের ইসলাম বাস্তবায়ন করা বা মেনে চলা সম্ভব না।

আপনি নির্মোহভাবে চিন্তা করে দেখেন, শাহবাগে যেসব ছেলেরা গেছে, তারমধ্যে কয়টা ছেলে নাস্তিক? অনেক মুসলামানেরা তো নামাজ পড়েই সেখানে গেছে। শাহবাগকে যদি এন্টি-ইসলামিক মুভমেন্টের উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে দেখা যাবে, যারা গিয়েছে তারমধ্যে নাস্তিক দুইশো জনই না হয় হলো। কিন্তু মানুষ তো গেছে কমপক্ষে বিশ হাজার বা পঞ্চাশ হাজার। তার মানে বাকিরা সব…? আস্তিকরা প্রস্রাব করলেও তো নাস্তিকরা সব ভেসে বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে, বাংলাদেশের যা অবস্থা। তাই না? তাহলে কেন তারা ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য আসছে না? এমনকি বিএনপির লোকেরাওতো ইসলামের প্রতি সফট। আওয়ামীলীগেরও ৮০% লোক ইসলামের প্রতি সফট। এতদসত্বেও তারা ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষে না কেন?

আমি খেয়াল করেছি, ইসলামের ব্যাপারে ততটা নেগেটিভ নয়। কিন্তু জামায়াতের ব্যাপারে খুব নেগেটিভ।

তো জামায়াতের প্রতি মানুষের কেন আকর্ষণ থাকবে? ১৯৪৭ সালে সব মানুষ, অর্থাৎ ভারতবর্ষ ব্যাপী মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষে। অথচ জামায়াতে ইসলামী তার বিরোধিতা করেছে। ১৯৭১ সালে এক হাজার মাইল দূরের পাকিস্তান, যে পাকিস্তান ডেমোক্রেসির পক্ষে না, যে পাকিস্তানী আর্মি তাদের কোনো কথাই শোনে না, সে পাকিস্তানী আর্মির পক্ষে তারা যুদ্ধ করতে কেন গেলো?

অন্যান্য সব ইসলামী দলগুলোও তো পাকিস্তান অখন্ড রাখার চেষ্টা করেছে।

অন্য ইসলামিক দলগুলো তো ওইভাবে কোনো দল না আসলে। বাকিগুলো তো হলো…

যারা ইসলামিক পারসোনালিটি ছিলো, তৎকালীন সময়ের বড় আলেম…?

কারা তারা? একজন লোকের নাম বলেন? ওই সময়ের কথা বাদ দেন। বাংলাদেশে এখনও কি হেফাজতে ইসলামকে কোনো পার্টি বা আধুনিক দল বলবেন?

নেজামে ইসলামী পার্টি তো…

নেজামে ইসলামী ছিল চুপচাপ। ওরা ওই রকম অ্যাক্টিভ ও শক্তিশালী ছিল না।

ওরা তো পিস কমিটিতে ছিল।

ছিল। কিন্তু তারা কোনো অ্যাক্টিভ ভূমিকায় ছিল না।

কিন্তু নেজামে ইসলামীর লোকেরা তো মালেক মন্ত্রীসভার সদস্য ছিল।

ছিল। কিন্তু মালেক মন্ত্রীসভার সদস্য থাকা আর আলবদর বাহিনী, রাজাকার বাহিনী, শামস বাহিনী করা তো এক কথা নয়। ডা. মালেক তো বামপন্থী ছিল! মুসলিমলীগের বামপন্থী ঘরানার ছিল। শেখ সাহেবের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ডা. মালেকের ব্যাপারে বহু কথা আছে।

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামের জন্যই কি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষে গিয়েছিল?

দৃশ্যত তাই।

পাকিস্তান বাহিনী কোনোদিন ইসলাম চর্চা করেছে?

অনেকে মনে করেছেন ইন্ডিয়ার সাথে…

এটা একটা যুক্তি যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে না, বাংলাদেশ ভারত ভূখন্ডের অধীনে চলে যাবে। তো তারা যুদ্ধ করে কি পাকিস্তান রক্ষা করতে পারবে মনে করেছিলো? যদি না হয়, তাহলে? এমন কিনা যে, ইসলামী রাষ্ট্র হোক বা না হোক, আমি কাজ করে যাবো? তেমন করে পাকিস্তান রক্ষা শেষ পর্যন্ত হোক বা না হোক; আমরা পাকিস্তান রক্ষার জন্য কাজ করে যাবো?

জামায়াত-শিবির বর্তমানে যে অবস্থার মধ্যে আছে, তাতে তাদের পক্ষে থামা বা পেছনে যাওয়া- এটা কি প্র্যাকটিক্যালি সম্ভব?

না। আমার ধারণা, জামায়াতে ইসলামী বহু বহু ভুল করেছে। জামায়াতে ইসলামী জানে যে, বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের প্রতীক হচ্ছে জামায়াত। আদতে সেটা হোক বা না হোক, প্রতীক হয়ে গেছে।পাশ্চাত্য কোনোদিনই, আর যাই করুক, আল-কায়েদার উত্থানের পর ইসলামী মৌলবাদকে সীমাতিরিক্ত বাড়তে দিবে না।

এইদেশে জঙ্গিবাদী যারা হয়েছে, তারা কোনো না কোনো পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তারা কোনো না কোনো পর্যায়ে মাওলানা মওদূদীর বই দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। আমেরিকানরা আমাদের চেয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি, মুসলিম ওয়ার্ল্ডের রাজনীতি সম্পর্কে অধিকতর বোঝে, বেশি জানে। তারা কোনোদিনই জামায়াতে ইসলামীকে এমন সুযোগ দিবে না যে, জামায়াতে ইসলামী একটা বড় রাজনৈতিক শক্তিতে  পরিণত হতে পারে। যার ফলে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় চলে যাবে। কারণ, তারা  বুঝে, এটাতেই শেষ হবে না। তখন এটা একটা আন্তর্জাতিক আন্দোলনে রূপ নেবে এবং তখন এটি জঙ্গিবাদের দিকে মোড় নিতে পারে। ওই সশস্ত্র পর্যায়ে জামায়াতের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে কিছু লোক চলে যাবে। যেমন ধরেন, বামপন্থীদের সবাই কি নকশালাইড হয়েছে? কিন্তু একটা ইয়ং অংশ তো হয়েছে। এখনো মাওবাদী…

এরা নাকি সবাই উচ্চ শিক্ষিত। সিরাজ শিকদার নাকি বুয়েট থেকে পাশ করা?

হ্যাঁ। বাংলাদেশের কথা বাদেও, ভারতের নকশাল বাড়ি আন্দোলনে সব ইয়ং ও উচ্চ শিক্ষিতরা গিয়েছে। কেউ গেছে ডাকাতি করার জন্য, কেউ গেছে আদর্শের জন্য।

জামায়াতে ইসলামী কি করে আশা করছে, আমেরিকা তাদেরকে ক্ষমতা গ্রহনের পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাবে? ভারতের সাথেও তো পাকিস্তান আমলে জামায়াত যোগাযোগ রেখেছে। কিন্তু ভারত জানে যে, জামায়াতে ইসলামী এক সময় অখন্ড ভারত চাইলেও পাকিস্তানেও জামায়াতে ইসলামী কট্টর ভারত বিরোধী, বাংলাদেশেও ভারত বিরোধিতার প্রধান উদ্যোক্তা হলো জামায়াত।

ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে কোন কোন দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন?

জামায়াতে ইসলামী কোনোদিন বিএনপি হতে পারবে না। বিএনপি যে রকম আপসকামিতা করবে, জামায়াতে ইসলামী তা পারবে না। অন্তত পুরানো স্ট্রাকচারে যারা রিক্রুট হয়ে গেছে, তারা পারবে না। আমি মনে করি, জামায়াতে ইসলামী যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্রে রাজনীতি করে রাষ্ট্র ক্ষমতার পর্যায়ে যেতে চায়, নিজেরা দখল করুক, অথবা সহযোগীদের নিয়ে এলায়েন্স করে, তাহলে জামায়াতের ব্যাপারে প্রথম কথা হলো বাংলাদেশে সরাসরি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সুদূর পরাহত। এর অন্যতম কারণ হলো ভারত এটা কোনোদিন মানবে না, পাশ্চাত্য মানবে না।

তার মানে ইসলাম বায়াসড সিভিল ডেমোক্র্যাটিক স্টেট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনি এটি বলতে চাচ্ছেন?

হ্যাঁ, তাই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত যে কতো বেশি শক্তিশালী তার নজির হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। সারা পৃথিবী একদিকে, ভারত আরেক দিকে। তাই তো এরা বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারছে। সারা পৃথিবীও ভারতকে চরমভাবে হোস্টাইল করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হ্স্তক্ষেপ করবে, আমার এমনটা মনে হয় না। সুতরাং বিএনপি বলো, জামায়াত বলো, জাতীয় পার্টি বলো, আওয়ামী লীগ বলো, ভারতের সাথে একেবারে বৈরি সম্পর্কের পর্যায়ে গিয়ে কেউ এখানে টিকে থাকতে পারবে না। মনে করুন, ভারত আর্মি মার্চ করিয়ে দিলো। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কি সেটি রেসিস্ট করতে পারবে? এ ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে হবে। অথচ এই দেশের ৯০% লোক হলো সুবিধাবাদী। এর সাম্প্রতিক নজির হলো ৯০% লোক কেয়ারটেকার গভর্নেন্ট চাইলেও তারা কিন্তু রাস্তায় নামছে না।

তারমানে ভারত যদি দখলও করে ফেলে, এর বিরুদ্ধে মুভমেন্ট দাঁড় করাতে বহু সময় লাগবে। ভারত যদি দখল করে পাকিস্তানের মতো না করে, ২৫ মার্চের ঘটনা যদি না ঘটায়, ভারত যদি শুধু স্ট্র্যাটেজিক জায়গাগুলো দখল করে রাখে এবং বলে যে, বাকি সব তোমাদের। ভারত কি এরশাদের মতো শাসক খুঁজে পাবে না, যারা ভারতকে সহযোগিতা করবে? ভারত এখানে সিকিমের মতো যদি না করে, তাহলে তারা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে।

আমি মনে করি, ১৯৭১ সালেও আওয়ামী লীগকে ক্র্যাশ করে দিয়ে পাকিস্তান টিকে যেতে পারতো। যদি আওয়ামীলীগকে ব্যান্ড করে দিয়ে চুপ করে থাকতো, গণহত্যাটা না করতো। আমি নিজেই তো পাকিস্তানের বিরোধী হয়েছি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রে। এর আগেও আমি পাকিস্তান টিকে থাকার পক্ষেছিলাম, ভিতরে ভিতরে। যদিও আমি ছাত্র ইউনিয়ন করতাম।

জীবন বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে শরনার্থী শিবিরে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ কেন গেছে? আমি নিজে ১৯৭১ সালে ৯ মাস ভয়ে ক্লাস করতে আসিনি। কারণ, বাঙালি মাত্রই একটা ভীতির মধ্যেছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলুক, মুসলিম লীগ নেতারা বলুক, তাদের কোনো সুন্দরী মেয়ে ১০০% নিরাপদ ছিল কি না যে, পাকিস্তানী বাহিনী ধরে নিয়ে যাবে না? তারা বলুক। তাদেরও নিরাপত্তা ছিল না। এর মানে কি সব মেয়ে রেপড হয়েছে? তা না। কিন্তু সবার মনে ভীতিটাতো ছিল, আশংকা ছিল, আতঙ্ক ছিল। আওয়ামী লীগকে কত শতাংশ লোকে ভোট দিয়েছে? ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে৪২-৪৫ শতাংশের বেশি লোক ভোট দেয় নাই।

কিন্তু আওয়ামী লীগ তো তাদনীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব সিটই পেয়েছিলা ….

পাঁচ ভাগ হয়ে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে ওরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। আওয়ামীলীগ ১৯৭০ সালেও ব্যাপক জাল ভোট দিয়েছে। যেহেতু বাকিরা সব দুর্বল ছিল। এটা আসলে সবারই চরিত্র। সুযোগ পেলে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী সবাই জাল ভোট দেয়। দেয় না?

দেয় না, এটা বলা যাবে না।

মনোপলি হয়ে গেলে, সেন্টারের ৮০ শতাংশ লোক নিজেদের হয়ে গেলে বাকি ২০ শতাংশ লোক খালি রেখে লাভ কি? আমাদের দেশের লোকদের তো ওয়েস্টার্নদের মতো প্র্যাকটিস নাই। পুলিশ নাই, তারপরেও তারা লাল বাতি দেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে…! দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস করে পাশ্চাত্য এ ধরনের নৈতিক মান অর্জন করেছে।

সিকিউরিটি পলিসিতে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল। যেমনটি তারা দাবী করে। … ‘ইসলাম রক্ষা’ ইস্যুও ছিল।

‘ইসলাম রক্ষা’র একটা সেন্টিমেন্ট হয়তোবা তাদের ছিলো। পাকিস্তান আর্মির প্রতি তাদের এমন অন্ধ বিশ্বাস ছিল। মুসলমানরা গায়েবী মদদে বিশ্বাসকরে তো …। আফগানিস্তানে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জেতার আশা করছে না?

জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ক্যাডার সিস্টেম আছে। ক্যাডার ভিত্তিক আন্দোলনের ব্যাপারে আপনার অবজারভেশন সম্পর্কে বলুন!

জামায়াতে ইসলামী যদি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায় অথবা জনপ্রিয় পার্টি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় তাহলে জামায়াতে ইসলামী তার বিদ্যমান কাঠামো দিয়ে কোনোদিন তা পারবে না। না পারার একটা বড় কারণ হচ্ছে, খুব মেধাবী, খুব ক্রিয়েটিভ কোনো লোকের পক্ষেই জামায়াতে ইসলামীতে জয়েন করা সম্ভব নয়। অতি মেধাবীদের ছাত্র শিবিরে জয়েন করার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।

এর কারণ কি?

কারণ হলো, তাদের সংগঠন পদ্ধতি ও মতাদর্শ এতো রিজিড যে, তাদের সাংগঠনিক পরিমণ্ডলে বলতে গেলে কোনো স্বাধীনতাই থাকে না। এ ধরনের চরম আনুগত্য নিজ সন্তানও পিতা-মাতার প্রতি করতে চায় না। সর্বাত্মকবাদের মতো চরম প্রান্তিক মতাদর্শ ব্যতিরেকে কোনো মতাদর্শ এমনকি থিওরিটিক্যালিও এটিকে এলাউ বা প্র্যাকটিস করে না।

এখন জামায়াত-শিবিরের পক্ষে এই স্ট্রাকচার চেঞ্জ করা কি সম্ভব বা বাস্তব সম্মত এমনকি যদি তারা চায়ও…?

না, পারবে না। একটা ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও কমিউনিস্ট পার্টিতে অনেক মিল আছে। লোকে বলে এবং আমার নিজেরও ধারণা, মাওলানা মওদূদী আসলে ইসলাম ও কমিউনিজমকে একত্রিত করেছেন- ইসলামী আদর্শ আর কমিউনিস্ট স্ট্রাকচার। মাওলানা মওদূদীর স্কলারশীপের উচ্চতা যা-ই হোক, জামায়াতের বাকি যারা আছেন, তারা প্রতিভা ও জ্ঞান-বুদ্ধির দিক থেকে আরো অনেক অনেক কম। তারা সব হলেন কার্যত, মাওলানা মওদূদীর দ্বারা প্রভাবিত, ফলোয়ার মাত্র।

ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন অফশ্যূটের মাধ্যমে জামায়াত যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এখন সমাজের উচ্চস্তর থেকে শুরু করে সর্ব পর্যায়ে তাদের লোকজন আছে। যে ঘরে একজন বিএনপি করে, একজন আওয়ামী লীগ করে, সেখানে প্রায়ই দেখা যায় যে, কেউ একজন জামায়াতে ইসলামী সমর্থন করে বা ওই ঘরানার। তাহলে এরা এই উন্নতি করলো কিভাবে?

এর কারণ হচ্ছে ধর্ম। জামায়াতে আসলে তো স্বাধীন চিন্তা করার কোনো অবকাশ নাই। সে জন্য কোনো মেধাবী লোক এখানে টিকতে পারে না। আমি শীর্ষতম এক জামায়াত নেতাকে ১০/১২টা প্রশ্ন করেছিলাম। উনি সবগুলোতেই মৌন সম্মতি দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো কথারই স্পষ্ট উত্তর দেননি। তারমানে, বলার স্বাধীনতা নাই। তাছাড়া, স্ট্রাকচারে থাকার কারনে তারা সংগঠন থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মোটাদাগে আর্থিক সুবিধা পান। নচেৎ দৃশ্যত কোনো ইনকাম না থাকা সত্বেও উন্নত লাইফ-স্টাইল মেনটেইন করে ছেলে-মেয়েদেরকে বিদেশে বা দেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ান কিভাবে? গাড়ি মেনটেইন করেন কিভাবে?

ওনাদেরতো ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্যও আছে….

ব্যবসা-বাণিজ্য করে, সেটাও তো নিজেদের সাংগঠনিক তথা রাজনৈতিক প্রভাব বলয়কে কাজে লাগিয়ে করে, ইসলামী ব্যাংকের লোন দিয়েই তো করে।

জামায়াতে ইসলামীর কন্ট্রাডিকশনটা হলো, তার পুরো স্ট্রাকচারটা হলো ক্যাডার পার্টির অথচ তারা পপুলার পার্টি হতে চায়।

Next
Next
Posted in জামায়াত | Tagged ইসলামী রাজনীতি, জামায়াতে ইসলামী

About the Author

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

Related Posts

রাজনীতি সংক্রান্ত ইসলামী ধারনার একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা→

সাম্রাজ্যবাদীদের ফাঁদে ইসলামপন্থী রাজনীতি!→

গোলাম আযমঃ ভুল পথে হাঁটা সঠিক মঞ্জিলের একযাত্রী→

রাসূলুল্লাহ (স) এর জীবনী ব্যাখার ক্ষেত্রে একমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ→

Search

রেজিষ্ট্রেশন

  • Register
  • Log in

নোটিশ বোর্ড

  • নোটিশ-১
    প্রিয় ব্লগার ! কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত লিখতে হলে পোস্ট করুন এবং নিক থাকলে নাম পরিবর্তন করে নিন কেননা IMBD ব্লগ 'নিক' নামে লেখা প্রকাশ করেনা।এতে কোন ধরনের ট্যাকনিকাল সাহায্য লাগলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • নোটিশ- ২
    ব্লগিং:
    ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের।IMBD ব্লগ যেকোন মতের লেখকের লেখা স্বাধীনভাবে প্রকাশের সুযোগ করে দিতে বদ্ধপরিকর।লেখকরের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়। মন্তব্যকারীর মন্তব্যও সংস্লিষ্ট ব্যক্তির, তবে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ন ও আক্রমনাত্বক মন্তব্য মুছে দেয়া হবে।

Featured

  • অপরাধ ও অর্থ পাচারে বিদেশীরা, অবৈধ বসবাসকারী ১২ লাখের বেশী

    28/03/2016 / IMBD Blog
  • শরিয়াহঃ ইবনে তাইমিয়া প্রসঙ্গে আলাপ

    01/10/2015 / KHANDAKER RAQUIB
  • কাওমি মাদ্রাসা: ব্যক্তির স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রের রাজনীতি

    07/01/2014 / Aziz Monir
  • হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশ:নেহেরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা

    02/01/2014 / IMBD Blog

সর্বশেষ মন্তব্য

  • দিয়া উদ্দিন রাকিব on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রইসলামী আন্দোলনের আত্মত্যাগ: বালাকোট থেকে…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রpakhie.com শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম নয়…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রমধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি
  • সময় মাহমুদ on ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’: আহমদ ছফা কী চান?সমাজতন্ত্র কে পুজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার…
  • cialis 20 mg daily on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] where to order e…
  • are tadalafil tablets 20mg from india safe on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] order tadalafil 20mg online…
  • viagra effects on male on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] how to use sildenafil…
  • men on viagra videos on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] 100mg sildenafil tablets […]
  • men viagra on Erbakan and Milli Görüş[…] do male pornstars use…
  • sildenafil citrate tablets 100mg canada on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] sildenafil citrate tablets 100mg…
  • indian viagra tablets on আগামীর দিন ইসলামের[…] sildenafil 25mg tablets […]
  • tablet viagra on Islamism: Contested Perspectives on Political Islam[…] does male viagra work…
  • sildenafil 25 mg tablet on আরাফাতের ময়দানে তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ…[…] 100 million viagra tablets…
  • viagra tablet image on বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ[…] sildenafil 50 mg tablet…
  • young men taking viagra on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] viagra 100mg tablet images…
  • men viagra pills on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] viagra tablet for womens…
  • cialis canada on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] non prescription cialis […]
  • cialis lilly on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] cialis 5mg daily […]
  • where to buy cialis on Erbakan and Milli Görüş[…] canadian generic cialis […]
  • buying generic cialis online safe on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] cialis online […]

ক্যাটাগরি

  • অর্থনীতি (7)
  • আইন-আদালত-বিচার (13)
    • মানবতাবিরোধী বিচার (9)
    • মানবাধিকার (2)
  • আদর্শ-মতবাদ (58)
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ (13)
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র (1)
    • ইসলামী রাষ্ট্র (29)
    • খিলাফাহ (2)
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (2)
  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ (2)
  • আন্তর্জাতিক ইস্যু (12)
  • আলোচিত-সমালোচিত (18)
  • ইসলাম ও শরীয়াহ (40)
    • ইসলামী আইন (1)
    • ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা (14)
    • ফতওয়া (1)
    • মুসলিম ইতিহাস (9)
    • মুসলিম দর্শন (4)
  • উপমহাদেশ (2)
  • ছাত্র রাজনীতি (22)
    • ছাত্র মজলিশ (2)
    • ছাত্র শিবির (18)
  • জাতীয় রাজনীতি (52)
    • আওয়ামীলিগ (4)
    • জামায়াত (36)
    • বিএনপি (3)
  • জামায়াতের ইতিহাস (11)
  • দুর্নীতি ও কর্পোরেট (1)
  • নারী অধিকার (18)
  • প্রতিবেশী ও সীমান্ত (14)
  • বই পরিচিতি (13)
  • বাংলা সাহিত্য (10)
    • কবিতা-কাব্য (3)
    • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (3)
    • ভাষা ও ভাষা আন্দোলন (1)
  • বাংলাদেশ (12)
    • রাষ্ট্রীয় নীতি পর্যালোচনা (3)
    • রাষ্ট্রীয়-প্রশাসনিক সন্ত্রাস (4)
    • সমাজ ও সামাজিক পরিবর্তন (3)
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম (60)
    • ইসলামী ঐক্যজোট ও কওমী ধারা (2)
    • কর্মপন্থা-কৌশল পর্যালোচনা (24)
    • খেলাফত মজলিশ (1)
    • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (1)
    • জামায়াত ইসলামী (16)
    • হিজবুত তাহরির (1)
  • বাংলার ইতিহাস (14)
    • বাংলাদেশঃ৭২-৭৫ (3)
    • স্বাধীনতাঃ১৯৭১ (10)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (3)
  • ব্যক্তি ও চিন্তা (41)
    • তারিক রামাদান ও তার চিন্তা (3)
    • ফাতেউল্লাহ গুলেন ও তার চিন্তা (4)
    • মাওলানা মওদুদী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ ইউসুফ কারাদাওয়ী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ রাশীদ ঘানুসি ও তার চিন্তা (4)
    • সাক্ষতকার (5)
  • ব্লগিং (39)
  • মুসলিম বিশ্ব (43)
    • আরব জাগরন (1)
    • তিউনিশিয়া (4)
    • তুরুস্ক (21)
    • পাকিস্তান (5)
    • মালয়শিয়া (2)
    • মিশর (2)
  • শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন (6)
    • ইসলামী গান (2)
  • সংগৃহীত লেখা (1)
  • সংস্কার আন্দোলন (5)
  • সমসাময়িক চিন্তা (24)
  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (10)
    • হেফাজতে ইসলাম (4)
June 2026
M T W T F S S
« Jul    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আর্কাইভ

টুইটারে follow করুন

Follow @imbdblog

copyright ©2026 আইএমবিডি ব্লগ | ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের। লেখকের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়।

Menu