জামায়াতের সাবেক আমীর ভাই গোলাম আযম আর আমাদের মাঝে নাই। তার জন্য অশ্রুপাত করছি আমি। ইসলামের জন্য অন্তঃপ্রাণ মজলুম মানুষটা কষ্টের মধ্য দিয়ে মারা গেলেন। গোলাম আযমকে নিয়ে কী বিতর্ক, কী বিবাদ আছে তা আমরা সবাই জানি। কারো কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধপরাধী, কারো ইসলামী আন্দোলনের মহান নেতা। আমার কাছে তিনি হলেন সঠিক মঞ্জিলের একযাত্রী, যিনি ভুল পথে হেটেছিলেন। তাই তার মৃত্যুতে আমি তাকে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো বিবাদমান দুইটা পক্ষের কেউই বলবে না। কিন্তু এই কথাগুলান মনে রেখে আমরা যদি সংশোধিত হই তাহলে হয়তো তাকে মাফ করে দিয়ে আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করতে পারবো।
বাবার সূত্রে, ব্যক্তিগত পরিচয় ও বই পড়ে যতটুকু জানি, তা থেকে বুঝতে পারি ১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর জন্ম নেয়া গোলাম আযম ইসলাম অন্তপ্রাণ একজন মানুষ ছিলেন। তিনি প্রথমে তাবলীগ জামায়াতের মাধ্যমে ইসলামের জন্য কাজ করা শুরু করেন। এই কাজে অনেক বেশি আন্তরিক ছিলেন বলেই কাজের অধিক্ষেত্র বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
আমি মনে করি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের মাধ্যমেই গোলাম আযম বিভ্রান্তির খপ্পড়ে পড়েন। জামায়াত একটি পলিটিক্যাল ইসলামিস্ট পার্টি। যারা ইসলামের নাম নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের ডিসকোর্সের মধ্যে মানুষকে বন্দি করে ফেলতে চায়। এই পার্টিধারাটি তৈরি করেছেন মওলানা মওদূদী। তিনি ধারাটি তৈরি করতে গিয়ে সমূহ ভুল করেছেন, কারণ সেক্যুলারিজম সম্পর্কে তার ধারণা ছিল ভ্রান্তিমূলক। নিজের ভুল জানাশোনা দিয়ে ইসলামকে বুঝতে গিয়ে তিনি ভ্রান্তিতে পড়েন এবং অন্যদের ভ্রান্তিতে জড়ান। তিনি একটি ফ্যাসিবাদী-ইহুদিবাদী পার্টি কাঠামো, রণকৌশল ও সংস্কৃতি তৈরি করে এমন একটা ব্লাকহোলের জন্ম দিয়ে গেছেন যার মধ্যে ঢুকে পড়ার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গোলাম আযমের মত বহু মানুষই ভুল করেছেন।
আমরা জামায়াতের ১৯৭১ এর ভূমিকা পর্যালোচনা করতে গিয়ে কিছু বিষয় আমলে নেই না।
১. মওদূদী পার্টির মধ্যে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে গিয়ে দিন দিন জামায়াতকে ফ্যাসিবাদী করে তোলেন। পার্টির মধ্যে বদমতলবের শ্রমবিভাগ করে তিনি চিন্তার দাসত্ব ও আত্মহত্যার পথ তৈরি করেন।
২. মওদূদী অশুভ সেনাচক্রের সাথে আঁতাত করে কাদিয়ানী বিরোধী দাঙায় জড়িয়ে যান। এ কারণে তার ফাঁসি হয়, তার ফাঁসি ঠেকাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসর সৌদি আরব জোড়ালো ভূমিকা রাখে। এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে গিয়ে মওদুদী জামায়াতকে সাম্রাজ্যবাদ ও রাজতন্ত্রের দাসে পরিণত করেন।
৩. পুঁজতান্ত্রিক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসর রাজতান্ত্রি সৌদি আরব মিলেমিশে পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদেরকে স্নায়ুযুদ্ধে শরিক করে কমিউনিস্ট বিরোধী বেহুদা লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করে।
৪. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হানাদারির পক্ষে ছিল আমেরিকা ও সৌদি আরব। এ কারণেই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। সেনা আঁতাতের কারণে তাদের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধেরও সহযোগী হয়ে যায় জামায়াত।
আমি যতটুকু বুঝেছি তাতে মনে করছি যে গোলাম আযম ছিলেন সরল মানুষ। ইসলাম ইস্যুতে তিনি ক্রিটিক্যাল ছিলেন না। ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার কারণে তিনি ছিলেন সেক্যুলার চিন্তার প্রতিনিধি। ফলে ভুল সেক্যুলার চিন্তার মানুষ মওলানা মওদূদী যে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তা কখনোই বুঝতে পারেননি গোলাম আযম। পলিটিক্যাল ইসলাম বেহুদা কমিউনিজম বিরোধিতায় লিপ্ত ছিল বলে তিনি কখনোই পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কে ক্রিটিকাল ছিলেন না। এ কারণে তার পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি যে পলিটিক্যাল ইসলামের নামে আসলে একটা ইসলামী পুঁজিতন্ত্রের কথাই বলা হচ্ছে, যার সাথে প্রকৃত ইসলামের ফারাকটা আসমান ও জমিন পর্যন্ত।
ইসলামের নামে কমিউনিজম বিরোধিতা করতে গিয়ে আসলে পুঁজিতন্ত্রের হয়ে কাজ করা হয় এবং এই কাজের মধ্যে সমূহ ভুলই করা হয়। কোনো কোনো সময় তা ইসলামের মূলনীতির বিরোধিতায় পর্যবসিত হয়। এর ফলে নিজের যেমন তেমনি ইসলামের ক্ষতি সাধণ করা হয়। গোলাম আযম এ সব ব্যাপারে সচেতন ছিলেন না। ফলে গোলাম আযম ইসলামের জন কাজ করতে গিয়ে ভুল করলেন এবং ভুল করেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা করলেন। যেই ভুল তাকে ও অন্যদের যুদ্ধাপরাধের মত জঘন্য অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হতে বাধ্য করলো।
গোলাম আজম পুঁজিতন্ত্রকে যদি ঠিক মতো ক্রিটিক করতে পারতেন এবং জামায়াতের রাজনীতির ভুল সম্পর্কে জানতে পারতেন তবে হয়তো তিনি মুক্তিযুদ্ধের পরে যা কিছু ভুল হয়েছে তার জন্য দলগতভাবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতেন এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতেন। তারপর তিনি বাংলার জমিনে ইসলাম কায়েমের জন্য ঠিক লাইন গ্রহণ করে নিজের মেহনত, সাহস ও সাধনাকে খরচ করতে পারতেন। এর ফলে তিনি যেমন অনেক বেশি সম্মানিত হতেন, তেমিন বাংলার পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদের মহান মুক্তি ও মোসলমানদের জাগরণ সম্ভব করতে পারতেন।
গোলাম আযম চিরকাল অন্ধ বিরোধিতা বা ন্যাক্কারজনক সমর্থনেরই মুখোমুখি হয়েছেন। ইহজীবনে কখনোই তিনি প্রকৃত বন্ধুর সন্ধান পাননি, যে তাকে বুঝাতে পারতো যে গোলাম আযমের পক্ষে কী কী ভুল সংশোধন করা সম্ভব ছিল এবং কিভাবে তিনি নিজের, জামায়াতের ও বাংলাদেশের মোসলমানদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারতেন। আমি গোলাম আযমের জন্য অশ্রুপাত করছি। কারণ তার নামে আমার নামটা রেখেছিলেন আমার বাবা। তাই আমার যে দায়িত্ব ছিল তা আমি পালন করতে পারিনি। আমি যখন চিন্তার ধাপগুলান অতিক্রম করতে করতে সঠিক উপলব্ধিতে পৌঁছাচ্ছি তখন তিনি কারাগারে বন্দি হয়ে গেলেন এবং আমার চিন্তা পরিশীলিত হওয়ার সময়ে তিনি মারা গেলেন।
একটা মানুষ সারা জীবন আন্তরিকভাবে ইসলাম কায়েম করতে চেয়েছেন এর জন্য অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছেন, নিজের দেশের স্বাধীনতারও বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু কারো মেহনত যখন ভুলপথে খরচ হয় এবং তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়ে কারাবন্দি থাকতে থাকতে অসুস্থ্য হয়ে মারা যান, তখন তার জন্য এই আল্লাহর কাছে এই দোয়া করা যায় যে মা’বুদ তাকে মাফ করে দিয়েন।







Thanks for the perspective. However, I believe পাকিস্তানের অখন্ডতা চাওয়া যুদ্ধাপরাধ নয় as like নেয়ামত ইমাম imbdblog.com/?p=1351
বুঝলাম এই ব্লগে অাওয়ামীলীগের মত মুক্তিযুদ্ধের মত গালগল্প শুরু করেছেন।লেখক সাহেব বাংলার মুসলমানদের জন্য কি কমিউনিজম,সমাজতন্ত্র বা পুঁজিবাদ সমর্থন করতে বলছেন নাকি যদি না পারেন অাওয়ামীলীগ হয়ে ইসলামের জন্য কি বলেন।মুক্তিযুদ্ধ এটা অাপেক্ষিক বিষয় যেখানে প্রত্যেক ইসলামি দলেই পাকিস্থানের অখন্ডতাকে সাপোর্ট করেছেন এমন কি অনেক বাম দল ও বঙ্গববন্ধু নিজেও পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছেন স্বাধীনতা নয়।লেখক অতিমাএায় সেকুলার সেজে ইসলামকে বোঝানোর চেষ্ট করেছেন যা তর বড় ধরনের কপটতা। এ রকম লেখে ব্লগ ফাটানো যায় কিন্তু বাস্তব ময়দানে কাজ করা খুব কঠিন,কিবোর্ড দিয়ে মানুষ বোঝানে অার বাস্তবে মানুষের পাশে গিয়ে মানুষ নিয়ে কাজ করা ভিন্ন।গোলাম অাযম সাহেব জামাত ইসলামি করে যদি ভুল করেন সেক্ষেত্রে লেখক অন্ধ বা বধির ছারা কিছুই নয়