যে বিষয়গুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ – ২
২) জঙ্গিবাদের সাথে যারা জড়িত – তারা জামায়াতের প্রোডাক্ট।
যে ভাবে (জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক) আপনি বিষয়টা সরলিকরণ করেছেন।তাতে এটা জামায়াতের ওপর মারাত্মক একটি অন্যায় আক্রমন।বুহতানের (অপবাদ) বিষয়টা আপনার এবং আল্লাহ ভাল জানেন। কিন্তু এর তথ্যসুত্র কী? এ নিয়ে কারা গবেষনা করেছেন?
আমি মনে করি না আপনার মত গবেষক – আবুল বারাকাতের মত আবুল গজব মার্কা কোন গবেষনা থেকে এই ধারণা হয়েছে। জঙ্গিবাদের যে রুপ এবং সঙ্গা আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রশক্তি দিচ্ছে, তার সাথে আপনি একমত? পাশ্চ্যত্য সভ্যতার দৃষ্টিতে দেখলে আমাদের রাষ্ট্র জঙ্গিবাদকে যেভাবে চিত্রায়িত করছে- আপনার উপসংহারটা অনেকটা এরকমই। কিন্তু এটাই কি বাস্তবতা।
আসলেই বিষয়টা এতই সরলিকরণ করা যুক্তি ও বিবেকের দাবী।
কারো বই পড়লে অথবা কারো সাথে কিছু দিন সম্পর্ক থাকলেই অপরাধী হয়ে যাবে? এটাই কি একমাত্র লজিক? এপর্যন্ত যত লোক জঙ্গি নামে শায়েস্তা করা হয়েছে তাদের সবাই কি সত্যিকার জঙ্গি। বিষয়টা এক পেশে হয়ে গেল না। আপনার পক্ষ থেকে বিষয়টা আরো পরিস্কার করা প্রয়োজন।
কোরআন পড়ে বা বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর লিখে লোকেরা শিয়া মাতালম্বী হয়েছেন। কাদিয়ানীরা ও কোরআন পড়ে তাদের কুফরীমত প্রচার করেন। তাহলে কি বলবো – সমস্যাটা কোরআনে রয়েছে!
সাবেক শিবির নেতা বর্তমানে জামায়াত (প্রবাসী ব্যবসায়ী) নেতা খুবই চমৎকার করে বলেছেন – আমার ঘরে ডাকাত পড়েছে।এর জন্য আদালতে যাওয়া হল। ডাকাত আমার মা ভাই বোন সাবাইকে মেরে শেষ করে দিয়েছে।মনে করুন – বিচারপতি মানিক সাহার আদালতে বিচার চলছে।আর্ন্তজাতিক আদলতের প্রসিকিউশন তদন্ত রিপোট জমা দিল। রায় হল – ডাকাতি যারা করেছে তাদের অপরাধ তেমন না – বরং আমি কেন আমার ঘরের পাশের আলো নিভিয়ে ঘুমালাম না।এজন্য মহান আদালত আমার ফাসিঁর রায় দেন।বাংলাদেশের জঙ্গিরা সব জামায়াতের প্রোডাক্ট বলে যে সরলিকরণ করলেন- তাতে আামার কাছে মনে হয়েছে নিজাম এন্ড মানিক সাহার আদালতের ফাঁসির মত।
জঙ্গিদের অর্থ্যায়ন – প্রমোট করা – সেই পরিবেশে তাদেরকে ঠেলে দেয়া ইত্যাদি কোন অপরাধ নয়। বরং কেন সে একদিন মওদুদীর বই পড়লো অথবা জামায়াতের কোন নেতার শুশুর বাড়ির বাংলা ঘরের সামনে দিয়ে যাতায়াত করল।
বাংলাদেশে সবেচয়ে সহজ লভ্য হল – জুডিশিয়াল কিলারদের দ্বারা আষাড়ে গল্প বানিয়ে এখন ফাঁসির রায় এবং কার্যকর করা।সেই অবস্থায় আমাদের সবার মাথার সাইজ (মাপ) মাননীয় আদালতে জমা দেয়া উচিত।জঙ্গিবাদ আর জঙ্গি উৎপাদন এগুলোর মধ্যে তফাৎ করা আপনার মত বিজ্ঞজনের উচিত।নতুবা কখন কি হয়ে যায়।
বিষয়টা যেভাবে আমাদের সেকুলার মিডিয়া পিকআপ করেছে এবং নতুন নতুন গল্প ছড়াচ্ছে তাতে আমাদের চিন্তাশীল লোকদেরকে ও আচ্ছন্ন করেছে বলে মনে হয়। আপনার এই যুক্তিটা অনেক আগেই আমাদের সুশীল বান্ধব মিডিয়া বাজারজাত করেছে।নতুন করে আবার আপনার সাক্ষাৎকারে কিভাবে আসলো?
আমি মনে করি আপনার আমার সবার এই অধিকার আছে যে, জামায়াতের সমালোচনা করার। কারন ইসলাম শুধুমাত্র জামায়াতের কয়েকজন নেতার সম্পদ নয়। আমার জানা মতে এরকম দাবী ও জামায়াত থেকে করা হয় না।সমালোচনার উদ্দেশ্য যদি এই হয় যে, বাংলাদেশের মৌলিক বোধ বিশ্বাসের পক্ষে আমাদের অবস্থান করা। তা হলে একটি গতিশীল এবং গণমুখি দলে রুপান্তর করার সামগ্রিক চেষ্টা হওয়া উচিত। কয়েকজন নেতার আচরণ অথবা ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াতকে টার্গেট করতে গিয়ে আদর্শ টার্গেট করা মোটেই সঠিক হবে না।এটা কারোর জন্যই কল্যাণকর হবে না।
সাত)
৩) সারা পৃথিবী এক দিকে আর ভারত একদিকে।
ভয়টা একটু বেশী দেখালেন মনে হয়। একটা বিষয় আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। সেটা হল – ইসলামকে মানতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে শর্ত হিসাবে শরায়েত করেছেন কি না।বিষয়টা আমাকে কনফিউজ করেছে।এক্ষেত্রে জামায়াতের ষ্ট্যাটেজিক ভুলগুলো আলোচনা করা প্রয়োজনীয় ছিল।আমার নিজের বিবেচনায় জামায়াতের বিদেশে বন্ধু বাড়ানো এবং তাদের ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। অধ্যাপক গোলাম আযমের যে আর্ন্তজাতিক পরিচিতি ছিল – এমারত থেকে অবসরে যাবার পর খুব সহজে বিদেশে একটি বলয় তৈরী করা যেত।কিন্তু এরকম কিছুই হয় নাই।এগুলো চিন্তা করার মত যোগ্যতা -প্লান ইত্যাদি না থাকার কারন রয়েছে অনেক।
পাশের ঘরের লোকদের সাথে কোন আলোচনা হবে না আমাকে জানবে না – আমার কোন চেষ্টা ও হবে না – এগুলো ২০১৪ সালের বিশ্ব রাজনীতিতে শিশুসুলভ আচরণ।
ভারতের সবাই জামায়াতের দুশমন নয়। জামায়াতের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে – বিগত দিনে এমন অনেক অর্জন আছে।যা নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা এবং কাছাকাছি যাওয়ার অনেক মৌলিক বিষয় ছিল। শুধু মৌসুমী আম পাঠিয়ে একটি দল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা যায় না। এগুলো রুটিন ওয়ার্ক এর মধ্যে পড়ে।তার পরও চলেছে।
কিন্তু জামায়াত ভারতকে বড় দেশ হিসাবে ভারতীয়দের মানসিক গোলামে পরিণত করতে দেয়নি তার জনশক্তিকে।সংখ্যায় কম হলেও এই মানুষগুলোই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী হিসাবে কাজ করবে।
বর্তমান বাংলাদেশে ভারতপন্থি দালালরা এরকম একটি আবহ তৈরী করছে – ভারত ছাড়া আমাদের কোন গত্যান্তর নেই। এটা রাজনৈতিক গোলামীর চাইতে আরো বড় জাতীয় সমস্যা।একবার যদি জাতির শিক্ষিত সমাজ কোন দেশের মনস্তাত্তিক গোলামে পরিণত হয় তাহলে সেই দেশ ও জাতিকে দখল করার জন্য সৈন্য সামান্ত পাঠাতে হয় না। ভারতীয় ভাদাদের এটাই কর্মসূচী।
এই পয়েন্টে মনে হচ্ছে – ভারত আমাদেরকে যতটুকুন পারমিশান দিবে ততটুকুন আমরা অগ্রসর হব। এরকম একটি অদৃশ্য মিথ তৈরী করা হয়েছে মিডিয়াতে। আমাদের শিক্ষিত সমাজে এই ধারণা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখন দেখলাম (যদি আমি সঠিক বুঝে থাকি) আপনার লেখায়ও এরকম একটি ইসলামী মিথ গড়তে চাচ্ছেন।
কল্পনা করুন – রাসূল মদিনায় – নগর রাষ্ট্র – সুপার পাওয়ার – রোম ও পারস্য। প্রতিবেশীকে বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু আগে থেকেই যদি পরাজয়ের মানসিকতা তৈরী করে ফেলি।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা। স্থানীয় একটি প্রোগ্রামে পরিচিতি পর্ব চলছে। আমাদের জেলা ভিত্তিক পরিচিতি নেয়া হল। দেখলাম দায়িত্বশীল প্রায় সব জেলার নাম মুখস্ত বলছেন। খুবই ভাল লাগলো।পরে নিজের পরিচয় দিলেন।মোট ১৬টি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যন বা সভাপতি।আমার পাশে বসা একজন বলল। গ্রীনিস বুকে নামটা হয়তো আছে। সুপারম্যান মানুষের গল্প তো শুনেছি।কিন্তু এত হাই হাই সুপার মানুষকে স্বচক্ষে দেখার ভাগ্য হয়নি।
একজন ব্যক্তি যদি বছরের পর বছর অসংখ্য জাতীয় প্রতিষ্ঠানের (সাংগঠনিক) প্রধান হন – তাহলে সেই সংগঠনে যোগ্য লোক আমদানী করা ছাড়া উপায় থাকবে না।আর এজন্য সিদ্ধান্তগুলো নাযিল করা ছাড়া কোন উত্তম পন্থা থাকে না।চলছে।হয়তো চলবে – তার পরও বলবো আপনার সম্মানীত একজন বিশেষজ্ঞের মতামত সবগুলোর সাথে মোটেই একমত নই। কিছু ক্ষেত্রে তার মূল্যায়ন সঠিক।আপনাকে অসংখ্য মোবারকবাদ।




