Browse: Home / গোলাম আযমঃ বিতর্কিত নাকি সম্মানিত নেতা?

Menu

Skip to content
  • পরিচিতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
  • ব্লগে লেখার পদ্ধতি
  • ব্লগ ব্যবহারের নিয়মাবলী
  • আমাদের লিখুন
  • পোস্ট লেখার টিউটরিয়াল
  • সাইট ম্যাপ
Header image

Political Islam in BangladeshLogo

Political Islam in Bangladesh

Menu

Skip to content
  • সমসাময়িক চিন্তা
  • আদর্শ-মতবাদ
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র
    • খিলাফাহ
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
    • সমাজতন্ত্র
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম
  • মুসলিম বিশ্ব
    • আরব জাগরন
    • তিউনিশিয়া
    • তুরুস্ক
    • মিশর
  • আলোচিত-সমালোচিত
  • জাতীয় রাজনীতি
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে
  • ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।
  • বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ
  • কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)

গোলাম আযমঃ বিতর্কিত নাকি সম্মানিত নেতা?

Written by IMBD Blog on 07/11/2014 in ব্যক্তি ও চিন্তা | Views

মুল:  প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল-আহসান*

অনুবাদ : রিয়াজ হাসান

অক্টোবর এর ২৫ তারিখ,শনিবারে লক্ষ লক্ষ জনতা রাজধানী ঢাকায় সাবেক আমীর এ জামায়াত, অধ্যাপক গোলাম আযমকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড় হয়েছিলেন। এর দুই দিন আগে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। এই জানাযাটি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরো অগণিত গায়েবান জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।অথচ,অবাক করা বিষয় হলো তার অনেক সমালোচক প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে প্রচন্ড উপহাস করে থাকেন। এই সুস্পষ্ট দুটি ধারা এবং এ নিয়ে বিতর্ক আরো অনেকগুলা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

৯১ বছর বয়সে হাসপাতাল কারাগারে থাকা অবস্থায় আযমের মৃত্যু হয়। গত বছর আদালত তাকে ‘১৯৭১ এর যুদ্ধে করা অপরাধে’ অপরাধী সাব্যস্ত করে এবং ৯০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।কিন্তু ৯০ বছরের একজন বৃদ্ধকে কেন আরো ৯০ বছরের দন্ডে দন্ডিত করা হলো?তার জানাযায় এত বিশাল উপস্থিতি এবং অপরদিকে তার বিরোধী মিডিয়ায় তাকে নিয়ে করা হাইপ অবশ্যই তার পার্সোনালিটি নিয়ে আরেকবার ভাবতে বাধ্য করে।

গোলাম আযমের রাজনৈতিক ইতিহাস

১৯২২ সালে জন্ম এবং পাকিস্তান আন্দোলন যখন তুঙ্গে,সেই সময়ে বেড়ে ওঠা গোলাম আযম পরবর্তীতে ঢাকসুর (Dhaka University Student’s Union)জেনারেল সেক্রেটারী নির্বাচিত হন এবং সেই সময়ে সদ্য জন্ম নেয়া পূর্ব পাকিস্তানে যেকোন রাজনীতি সচেতন যুবকের জন্য এই পদবী ছিল চরমভাবে কাঙ্খিত। এছাড়াও তিনি সদ্য স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবী পেশ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এই ভূমিকাও যেকোন বাঙ্গালী নেতা/নেত্রীর জন্যই ছিল কাঙ্খিত।

যাই হোক, গোলাম আযমের ক্ষেত্রেই এই হিসাবে কিছুটা গন্ডগোল দেখা যায়। সমকালীন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা এবং একডেমিক লিখনী উভয় ক্ষেত্রেই গোলাম আযমের এই ভূমিকাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে।যদিও তিনি প্রায় শতবর্ষী একজন ব্যাক্তি, কিন্তু শুধুমাত্র ১৯৭১ ই মনে হচ্ছে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। এই এক বছরেই অনেক অপরাধ ও দুষ্কৃতিকার্য করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু এই সময়ের বাইরে তাকে খুবই উচ্চমার্গের একজন ভদ্রলোক হিসেবেই দেখা গেছে। কেন এই আশ্চর্যজনক প্যারাডক্স? আসলে কি ঘটেছিল ১৯৭১ এ?

জনপ্রিয় এবং বহুল চর্চিত ন্যারেটিভ হলো, বাংলাদেশ ১৯৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।

১৯২০ সালে সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতার আওয়াজ তোলা হয় এবং সেই সময় পাকিস্তানী নেতারা “দ্বিরাষ্ট্রতত্ত্ব” উপস্থাপন করেন। বাঙ্গালী মুসলিম নেতারা পাকিস্তান আন্দোলনের সম্মুখভাবে ছিলেন। মূলত, ১৯৪০ সালে পাকিস্তান নামে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশের প্রস্তাবনা একজন বাঙ্গালী নেতার কাছ থেকেই এসেছে এবং ১৯৪৬ সালে সেই প্রস্তাবটিই সংশোধন করে পূর্ব বাংলা কেও পাকিস্তানের অংশ করার প্রস্তাব করা হয় এবং এটিও একজন বাঙ্গালী নেতাই করেছিলেন।

তার বহূ পূর্বেই ১৯০৬ সালে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়,যেই সংগঠনটি পরবর্তীতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাঙ্গালী মুসলিমদের সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্তান কখনোই অস্তিত্বে আসতে পারতোনা। তাহলে কেন বাঙ্গালী মুসলিমরাই ১৯৭১ সালে কেন্দ্রীয় পাকিস্তান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদেরকে কিছু পড়াশোনা করতে হবে।তবে এখানে মৌলিক প্রশ্ন হলো, কিভাবে একজন ১৯৭১ ঘটনাবলীকে বর্ণনা করছে।এই যুদ্ধকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা কঠিন কারন কোন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষনার কোন দলিলপত্র বিদ্যমান নেই।

বাংলাদেশঃ কার থেকে স্বাধীনতা?

পূর্ব পাকিস্তানিরাই ছিল অখন্ড পাকিস্তানের মেজরিটি অংশ এবং জাতীয় পার্লামেন্টেও অধিকাংশ আসন ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকেই। মেজরিটি অংশের কিভাবে মাইনরিটির কাছ থেকে স্বাধীনতা চাওয়া উচিৎ ছিল?সেটা কি কোন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল?সুশীল ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সেই ক্ষুদ্র গ্রুপটি কি প্রধানত পশ্চিম পাকিস্তানিদের মধ্যে থেকেই ছিল?এর উত্তর সম্ভবত হ্যাঁ।আজকে এই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আমাদেরকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করতে হবে যেহেতু ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে ইসলাম ও গনতন্ত্রের মধ্যেকার বাস্তবসম্মত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন পুনরুত্থিত হচ্ছে।

এছাড়াও,মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিরাষ্ট্র গুলা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং খিলাফাহর দাবী যেভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তাও বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য।

১৯৭১ সালে গোলাম আযম দাবী করেছিলেন যেন সামরিক শাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী পার্টি আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র একটা গোষ্ঠী তাদের অন্যায় স্বার্থসিদ্ধির জন্য গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তাদের নেতাকে বন্দী করে এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। সে সময় গোলাম আযম গনতান্ত্রিক নীতির পক্ষে আওয়াজ তোলেন এবং গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা পুনরায় ব্যাক্ত করেন।

কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ত্যাগ করে ভারত গমন করেন এবং সামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান শুরু করেন ভারতের সহযোগিতায়। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সহিংসতা ও ক্রমান্বয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

রাজধানী শহরে যখন আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা অবাঙ্গালী সিভিলিয়ানদের আক্রমন করতে শুরু করে তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীও ম্যাসাকার শুরু করে। এবং এভাবেই একটি সর্বব্যাপী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গোলাম আযম এবং তার দল জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধান্ত নেয় আইন শৃংখলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় নেয়ার জন্য তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে।

কেন তারা দূর্নীতিপরায়ন, অগনতান্ত্রিক এবং ক্ষুদ্র স্বার্থান্ধ শাসকগোষ্ঠীর পক্ষাবলম্বন করলেন? এই অবস্থান তারা নিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের ভৌগলিক অবস্থান এবং ইতিহাসকে সামনে রেখে, যা পরবর্তীতে গোলাম আযম ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়া হয় এবং ফলশ্রুতিতে যারা অরিজিনালী আওয়ামী লীগের সমর্থক্ল ছিলেন না, এরকম অনেকেও সশস্ত্র যুদ্ধে যোগদান করে। ভারত তার সর্বপ্রকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য।

বাংলাদেশকে তাড়িয়ে বেড়ানো নয় মাস

যুদ্ধের উভয় পক্ষই নয় মাসে অনেক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবেই সন্ত্রাস ও ভীতি তৈরী করছিল যাতে লোকজন ভারতে পালিয়ে যায়, আর অপরদিকে স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গ্রুপ গুলো অবাঙ্গালী নাগরিকদের হত্যা করে তাদের লাশগুলোকে পাকিস্তানী বাহিনীর আগমনপথের সামনে ফেলে রাখতো। এভাবে একটি বিরাট প্রপাগান্ডা যুদ্ধের সূচনা হয়। আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের ইসলামোফোবিক অংশ এটাকে ইসলাম ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুযোগ হিসেবে গ্রহন করে। প্রত্যেকেরই এখানে স্মরন রাখা উচিত যে, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের নামকরন করা হয় “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান” হিসেবে। ভারতীয় গনমাধ্যম এসময়ে ‘প্রাভদা’ নামক মিডিয়ার পুরাপুরি আনুকূল্য পায়, যা কিনা সেসময়কার সোভিয়েত কমিউনিস্ট দের প্রধান অফিসিয়াল মিডিয়া ছিল।

ওআইসির তৎকালীন সেক্রেটারী টুংকু আবদুর রহমান, যিনি একজন মালয়েশীয়,আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আপোষরফার আলোচনা শুরু করার জন্য ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভারত সরকার এ প্রচেষ্টা রুখে দেয় এবং কোন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।

বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ দাবী করে থাকে যে, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ৩০ লক্ষ লোককে হত্যা করেছে এবং এই সংখ্যাটি অবাঙ্গালী নাগরিকদের হিসাব ছাড়াই।

সেসময় কিছু কিছু পর্যবেক্ষক সংস্থা এই সংখ্যাটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করায় বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে একটি জরিপ চালায় কিন্তু সেই জরিপের ফলাফল কখনোই প্রকাশ করা হয়নি।এই সংখ্যাটি বাংলাদেষের ইতিহাসে একটি বিরাট অস্পষ্টতা হিসেবে রয়ে গেছে।আশ্চর্যজনকভাবে যতজন মেজর ব্যাক্তিত্ত্ব এই ট্র্যাজেডির ইতিহাসের সাথে জড়িত ছিলেন সবারই অস্বাভাবিক এবং সহিংস কায়দায় মৃত্যু ঘটেছে।

শেখ মুজিবুর রহমান তার নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর দ্বারা স্বপরিবারে খুন হন এবং বাংলাদেশের জনগন এই হত্যাকান্ড আনন্দ সহকারে উদযাপন করে!যুলফিকার আলী ভুট্টোকেও তার নিজ দেশের আদালত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে। এবং ভারতের ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত তার নিজ দেহরক্ষী কর্তৃক খুন হয়ে যান! এগুলা সবই কি তাদের কৃতকর্মের শাস্তি? যারা ভিকটিম ছিলেন, তাদের দৃষ্টিকোন থেকে হয়তো হ্যাঁ। যাই হোক, ইতিহাস এগুলার আরো গভীর বিচার বিশ্লেষন করবে।

ইতিমধ্যেই ভারতীয় লেখিকা শর্মিলা বোস একাডেমিক এ্যাপ্রোচ থেকে একটি খুব ভাল বই লিখেছেন যেটির নাম হলো “ডেড রেকনিং- ১৯৭১ এর বাংলাদেশ যুদ্ধের স্মৃতি”, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১১ এবং বইটিতে ৩০ লক্ষ সংখ্যাটিকে খুব শক্তভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আরেকজন ভারতীয় লেখক শ্রীনাথ রাঘভান লিখেছেন “১৯৭১ – বাংলাদেশের জন্মের বৈশ্বিক ইতিহাস,হারভার্ড অইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১৩” এবং বইটিতে তিনি এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসকে সঠিক জায়গা থেকে দেখতে হলে আরো অনেক একাডেমিক কাজ প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যাপকভিত্তিক অন্যায়

গোলাম আযম অখন্ড পাকিস্তানের শেষদিনগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের বাইরে ছিলেন এবং যুদ্ধের শেষে দেশে ফেরত এসে জামায়াতে ইসলামীর কাজকে পুনর্গঠিত করেন এবং রাজনীতিতে আবারো সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।তিনি দেশের গনতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তার সংগ্রামকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কয়েক বছরের মধ্যে তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মজার বিষয় হলো, গোলাম আযম অধিকাংশ সরকারী নেতৃবৃন্দের সাথে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে সহযোগিতা করেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০০৭ সালে পুনরায় সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতির পুনর্মঞ্চায়ন ঘটে।প্রো-ইন্ডিয়ান আওয়ামী লীগ অনেকতা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যেমে ক্ষমতায় আসে এবং সেই সরকার প্রায় ৪০ বছর আগে ঘতে যাওয়া ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গোলাম যমের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অধিকাংশ পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার এই উদ্যোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ট্রাইব্যুনাল টি আন্তর্জাতিক বিচারিক মানদন্ডে উতরে যেতে ব্যার্থ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার ফাঁসী ইতিমধ্যে গত ডিসেম্বরে কার্যকর করা হয়েছে এবং বাকীরাও প্রথম রায় অথবা আপিল বিভাগের রায় এর জন্য অপেক্ষমান রয়েছেন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আবেদন এর মধ্যে জাতিসংঘের সেক্রেটারী জেনারেল বান কি মুন এবং আমেরিকার সেক্রেটারী অব স্টেট জন কেরির আহবানকে ও এই সরকার উপেক্ষা করেছে।

গোলাম আযম একজন বিরাট উদার মনের অধিকারী ব্যাক্তি ছিলেন। বাংলাদেশের জনগন তার জানাযায় শরীক হবার মাধ্যমে তার প্রতি ভালবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু জনগনের এই স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন মনে হচ্ছে সরকারকে খুব উত্তেজিত করেছে। এবং এই জানাযার পরপরই ট্রাইব্যুনাল মতিউর রহন্মান নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করে, যিনি গোলাম আযমের পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর হন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি এই ব্যাপকভিত্তিক অন্যায়কে দেখেই যেতে থাকবে নীরবে? তাদের কি উচিত না কোন একটা কার্যকর পন্থায় এই ইস্যুটাকে এ্যাড্রেস করা? তারা কি উপলব্ধি করতে পারছেন না যে, এই নেতৃবৃন্দ, যারা কিনা অনেক পজিটিভ আইডীয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের উপর আরোপিত অন্যায় শাস্তি যুবসমাজের বিরাট অংশকে হতাশাগ্রস্ত করতে পারে যা কিনা খুব বাজে পরিণতির দিকেও চলে যেতে পারে? গোলাম আযমের লিগ্যাসী অবশ্যই গভীর মনোনিবেশ সহকারে পর্যবেক্ষন দাবী করে।

*অধ্যাপক, ইতিহাস এবং সভ্যতা বিভাগ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়শিয়া

Source:

English: Ghulam Azam: Controversial or Venerable Leader?
Bengali

Next
Next
Posted in ব্যক্তি ও চিন্তা | Tagged গোলাম আযম, জামায়াত, ১৯৭১ যুদ্ধ

About the Author

IMBD Blog

Related Posts

ছাত্রশিবিরের ৮২ সালের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং নেতৃবৃন্দের করণীয়→

একজন সফল গোলাম আযম ও ব্যর্থ গোলাম আযম→

গোলাম আযমঃ ভুল পথে হাঁটা সঠিক মঞ্জিলের একযাত্রী→

স্কলার পরিচিতি : প্রফেসর ইব্রাহীম আল-রাগেব→

Search

রেজিষ্ট্রেশন

  • Register
  • Log in

নোটিশ বোর্ড

  • নোটিশ-১
    প্রিয় ব্লগার ! কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত লিখতে হলে পোস্ট করুন এবং নিক থাকলে নাম পরিবর্তন করে নিন কেননা IMBD ব্লগ 'নিক' নামে লেখা প্রকাশ করেনা।এতে কোন ধরনের ট্যাকনিকাল সাহায্য লাগলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • নোটিশ- ২
    ব্লগিং:
    ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের।IMBD ব্লগ যেকোন মতের লেখকের লেখা স্বাধীনভাবে প্রকাশের সুযোগ করে দিতে বদ্ধপরিকর।লেখকরের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়। মন্তব্যকারীর মন্তব্যও সংস্লিষ্ট ব্যক্তির, তবে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ন ও আক্রমনাত্বক মন্তব্য মুছে দেয়া হবে।

Featured

  • অপরাধ ও অর্থ পাচারে বিদেশীরা, অবৈধ বসবাসকারী ১২ লাখের বেশী

    28/03/2016 / IMBD Blog
  • শরিয়াহঃ ইবনে তাইমিয়া প্রসঙ্গে আলাপ

    01/10/2015 / KHANDAKER RAQUIB
  • কাওমি মাদ্রাসা: ব্যক্তির স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রের রাজনীতি

    07/01/2014 / Aziz Monir
  • হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশ:নেহেরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা

    02/01/2014 / IMBD Blog

সর্বশেষ মন্তব্য

  • দিয়া উদ্দিন রাকিব on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রইসলামী আন্দোলনের আত্মত্যাগ: বালাকোট থেকে…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রpakhie.com শুধুমাত্র একটি প্ল্যাটফর্ম নয়…
  • pakhie on মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্রমধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি
  • সময় মাহমুদ on ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’: আহমদ ছফা কী চান?সমাজতন্ত্র কে পুজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার…
  • cialis 20 mg daily on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] where to order e…
  • are tadalafil tablets 20mg from india safe on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] order tadalafil 20mg online…
  • viagra effects on male on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] how to use sildenafil…
  • men on viagra videos on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] 100mg sildenafil tablets […]
  • men viagra on Erbakan and Milli Görüş[…] do male pornstars use…
  • sildenafil citrate tablets 100mg canada on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] sildenafil citrate tablets 100mg…
  • indian viagra tablets on আগামীর দিন ইসলামের[…] sildenafil 25mg tablets […]
  • tablet viagra on Islamism: Contested Perspectives on Political Islam[…] does male viagra work…
  • sildenafil 25 mg tablet on আরাফাতের ময়দানে তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ…[…] 100 million viagra tablets…
  • viagra tablet image on বাংলাদেশে ইসলামঃ জামায়াত দেওবন্দ প্রসঙ্গ[…] sildenafil 50 mg tablet…
  • young men taking viagra on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] viagra 100mg tablet images…
  • men viagra pills on ওহাবিবাদ এবং সৌদি পেট্রো রিয়াল ফিতনা।[…] viagra tablet for womens…
  • cialis canada on রাজনীতির সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক -শায়খ ড. জাসের…[…] non prescription cialis […]
  • cialis lilly on উসুল এবং ফিকহ প্রসঙ্গে[…] cialis 5mg daily […]
  • where to buy cialis on Erbakan and Milli Görüş[…] canadian generic cialis […]
  • buying generic cialis online safe on কানুনী সুলতান সুলায়মান (প্রথম পর্ব)[…] cialis online […]

ক্যাটাগরি

  • অর্থনীতি (7)
  • আইন-আদালত-বিচার (13)
    • মানবতাবিরোধী বিচার (9)
    • মানবাধিকার (2)
  • আদর্শ-মতবাদ (58)
    • ইসলাম ও অন্যান্য মতবাদ (13)
    • ইসলাম ও গনতন্ত্র (1)
    • ইসলামী রাষ্ট্র (29)
    • খিলাফাহ (2)
    • ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (2)
  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ (2)
  • আন্তর্জাতিক ইস্যু (12)
  • আলোচিত-সমালোচিত (18)
  • ইসলাম ও শরীয়াহ (40)
    • ইসলামী আইন (1)
    • ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা (14)
    • ফতওয়া (1)
    • মুসলিম ইতিহাস (9)
    • মুসলিম দর্শন (4)
  • উপমহাদেশ (2)
  • ছাত্র রাজনীতি (22)
    • ছাত্র মজলিশ (2)
    • ছাত্র শিবির (18)
  • জাতীয় রাজনীতি (52)
    • আওয়ামীলিগ (4)
    • জামায়াত (36)
    • বিএনপি (3)
  • জামায়াতের ইতিহাস (11)
  • দুর্নীতি ও কর্পোরেট (1)
  • নারী অধিকার (18)
  • প্রতিবেশী ও সীমান্ত (14)
  • বই পরিচিতি (13)
  • বাংলা সাহিত্য (10)
    • কবিতা-কাব্য (3)
    • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (3)
    • ভাষা ও ভাষা আন্দোলন (1)
  • বাংলাদেশ (12)
    • রাষ্ট্রীয় নীতি পর্যালোচনা (3)
    • রাষ্ট্রীয়-প্রশাসনিক সন্ত্রাস (4)
    • সমাজ ও সামাজিক পরিবর্তন (3)
  • বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইসলাম (60)
    • ইসলামী ঐক্যজোট ও কওমী ধারা (2)
    • কর্মপন্থা-কৌশল পর্যালোচনা (24)
    • খেলাফত মজলিশ (1)
    • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (1)
    • জামায়াত ইসলামী (16)
    • হিজবুত তাহরির (1)
  • বাংলার ইতিহাস (14)
    • বাংলাদেশঃ৭২-৭৫ (3)
    • স্বাধীনতাঃ১৯৭১ (10)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (3)
  • ব্যক্তি ও চিন্তা (41)
    • তারিক রামাদান ও তার চিন্তা (3)
    • ফাতেউল্লাহ গুলেন ও তার চিন্তা (4)
    • মাওলানা মওদুদী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ ইউসুফ কারাদাওয়ী ও তার চিন্তা (4)
    • শায়খ রাশীদ ঘানুসি ও তার চিন্তা (4)
    • সাক্ষতকার (5)
  • ব্লগিং (39)
  • মুসলিম বিশ্ব (43)
    • আরব জাগরন (1)
    • তিউনিশিয়া (4)
    • তুরুস্ক (21)
    • পাকিস্তান (5)
    • মালয়শিয়া (2)
    • মিশর (2)
  • শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন (6)
    • ইসলামী গান (2)
  • সংগৃহীত লেখা (1)
  • সংস্কার আন্দোলন (5)
  • সমসাময়িক চিন্তা (24)
  • সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (10)
    • হেফাজতে ইসলাম (4)
July 2026
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

আর্কাইভ

টুইটারে follow করুন

Follow @imbdblog

copyright ©2026 আইএমবিডি ব্লগ | ব্লগে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্নভাবে লেখকের। লেখকের মতামত কোনভাবেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মতামত নয়।

Menu