স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল নিঃসন্দেহে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার মতো। মাঠে ময়দানে দীর্ঘদিনের সরকারী হিংস্রতা-নির্যাতনের বিপরীতে এই ফলাফল জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। জামায়াতের এই সন্তোষজনক ফলাফলে ভার্চুয়াল মিডিয়া ও বাস্তবে অনেককে আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে দেখছি। এই আত্মতৃপ্তিতে ভোগার আগে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের জানা উচিত, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিল এ রকম অন্তত ১০টা উপজেলায় এবার জামায়াত প্রার্থীরা হেরেছে। এই পরাজয়ের কথা এড়িয়ে গিয়ে নতুন বিজয়ে উল্লসিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এটা মনে করার কারণ নেই যে, যে সব নতুন ভোটার জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তারা সবাই জামায়াতের সাপোর্টার হয়ে গেছেন। জামায়াতের প্রতি সরকারের বহুমুখী নির্যাতনের ফলে জনগণের এক ধরনের সহমর্মিতা কাজ করেছে সত্য, কিন্তু এই নতুন ভোটাররা ভাসমান ভোটার। তাছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে আরো অনেক ফ্যাক্টর থাকে। অন্যান্য দলের কোন্দল, আত্মীয়তার সম্পর্ক, প্রার্থীর অর্থবিত্ত- এসব বিষয় যে কোনো দলের প্রার্থীকেই তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।
জামায়াতের নেতারা দুর্নীতিমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন হেরে গেলো, এই বিষয়টা পর্যালোচনায় নিলে প্রাথমিকভাবে অন্তত এটা বলা যায়, শুধু সৎ থাকাই একজন নেতার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতাও থাকতে হবে। সম্ভবত হেরে যাওয়া জামায়াত নেতাদের এই জায়গাটাতে ঘাটতি ছিল। এবার যেসব জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তারাও যদি ‘যোগ্যতাবিহীন সততার সাইনবোর্ড’ দিয়েই তরী পার হওয়ার চেষ্টা করেন,তাহলে একই পরিণতি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
এই তো গেলো রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের মূল্যায়ন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর মূল ভিশন কি গতানুগতিক আর দশটা রাজনৈতিক দলের মতোই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপার? ফেসবুকে দেখেছি কেউ কেউ লিখেছেন, শহীদের রক্তের প্রতিদান উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের এই সাফল্য! কি আজিব ব্যাপার!
দীর্ঘদিন থেকে জামায়াতের মধ্যে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, সম্ভবত এই আপাত সাফল্য দিয়ে তাকে কিছুদিনের জন্য হলেও চাপা দিয়ে রাখতে পারবে জামায়াত নেতারা। এই সাফল্য জামায়াতকে এমন এক উচ্চ ধারণায় নিয়ে যাবে যে তারা এখন বলবে, আমাদের তো সব কিছুই সঠিক ছিল, নইলে আমাদেরকে জনগণ ভোট দিলো কেন? ৭১ ইস্যুতে সম্ভবত আমরা ভুল করিনি। নয়তো অপপ্রচার সত্ত্বেও কেন আমরা জনগণের সমর্থন পেলাম? অতএব, সংস্কারের কোনো প্রয়োজন নাই। সবকিছু আগের মতোই চলবে।
সংস্কার বলতে যারা শুধু ৭১ ইস্যুকে বুঝেন, আমি তাদের দলে নাই। সংস্কারের অনেক অনেক ইস্যুর মধ্যে ৭১ একটামাত্র ইস্যু হতে পারে বটে। সাংগঠনিক কাঠামোসহ এ সংক্রান্ত নানাবিধ বিষয়, আদর্শের ব্যাপারে তাত্ত্বিক অস্বচ্ছতা, অস্পষ্ট গন্তব্য- এ রকম অনেক ব্যাপার আছে, যেগুলোর কোনো জবাব নাই। এ সংক্রান্ত কিছু ইনসাইট পাবেন এই পোস্টগুলোতে-
১। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে একজন বিশেষজ্ঞের মতামত
২। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রসঙ্গ (১ম পর্ব)
৩।এ দেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রসঙ্গ (২য় পর্ব)
এই সংস্কারগুলো করার মতো সক্ষমতা কি জামায়াতের আছে? বা সক্ষমতা থাকলেও কি জামায়াত নেতৃবৃন্দ আদৌ কি সেগুলো করবেন? যদি জামায়াত এগুলো না করে, তাহলে সংস্কারপন্থীদের কি করা উচিত? এই চিন্তাগুলো সংস্কারপন্থীদের করা দরকার।





প্রাসঙ্গিক কয়েক টি লিংকঃ
০১. http://imbdblog.com/?p=1405
০২. লক্ষ্য হউক আধিপত্যবাদ মুক্ত সুস্থ সবল বাংলাদেশ-পর্ব ১
০৩. লক্ষ্য হউক আধিপত্যবাদ মুক্ত সুস্থ সবল বাংলাদেশ-পর্ব ২
কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর মূল ভিশন কি গতানুগতিক আর দশটা রাজনৈতিক দলের মতোই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপার? ফেসবুকে দেখেছি কেউ কেউ লিখেছেন, শহীদের রক্তের প্রতিদান উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের এই সাফল্য! কি আজিব ব্যাপার!…… একমত।
মিথ্যা মোহে মোহীত হয়ে লাভ নেই। ক্ষমতায় যাওয়া যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে আওয়ামীলীগের সাথে জোট করা উচিত