আগের পর্ব: ১৯৮২ সালের কথকতা-৪
এক সময় বৈঠক শুরু হলো। দুয়েকটি প্রাথমিক কথা বলে আমি প্রফেসার সাহেবকে তার ফায়সালা ঘোষণা করতে বললাম। তিনি তাঁর স্বভাব সুলভ ভাষায় যতটুকু সম্ভব মাধুর্য ও আবেগ মিশিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভূমিকা দিলেন। তারপর তাঁর ফাইন্ডিংস এবং ফায়সালা শোনালেন। আজ এতদিন পর সব কথা মনে নেই। যতটুকু মনে পড়ে তাঁর সারকথা ছিলঃ
(১) যেহেতু সদস্যদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু বর্তমান নেতৃত্বকে চলে যেতে হবে। (নোটঃ শাহ জাহান চৌধুরীর এটা দাবি ছিল এবং অনাস্থা এমনিতে সৃষ্টি হয়নি, অনাস্থার জন্যে জামাতের সহযোগিতায় প্রচারণা চালানো হয়েছে।)
(২) অনতিবিলম্বে নতুন নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন সম্পন্ন করার কাজে মেম্বার সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করবেন নজরুল ইসলাম খাদেম। (নোটঃ কেন নজরুল ইসলাম খাদেমকে তড়িঘড়ি করে বিদেশ থেকে ডেকে আনা হয়েছে তা আমার কাছে পরিস্কার হলো।)
(৩) নির্বাচনের আগে কার্যকরী পরিষদের যারা নিয়মিত ছাত্র নয় তাদের সবাইকে বিদায় নিতে হবে। (নোটঃ তাদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। এর মাধ্যমে, আমরা মিছামিছি ছাত্রত্ব বজায় রেখে জোর করে সংগঠনে রয়েছি, শাহ জাহান চৌধুরীর এ অভিযোগের সত্যতা প্রদান করা হলো।)
(৪) সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করে শপথ ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে শাহ জাহান চৌধুরীকে তওবা করতে হবে এবং তিনটি রোজা রাখতে হবে।
(৫) প্রফেসার সাহেব নিজে এ সকল ফায়সালা সদস্যদের অবহিত করবেন। প্রথমে ঢাকার সদস্যদের জানানো হবে। পরে সারা দেশের সদস্যদের বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে ঢাকায় ডেকে আনা হবে।
প্রফেসার সাহেবের কথা শেষ হলে আমরা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সুবোধ বালকের মতো নিজ নিজ বাসায় চলে গেলাম। পরে প্রফেসার সাহেব যখন বিভিন্ন এলাকার সদস্যদের সাথে কথা বলেন তখন আমি মাত্র একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। অন্যগুলোতে আমি ইচ্ছে করেই উপস্থিত হইনি। পরিষদ সদস্যের মধ্যে যারা একাধিক বৈঠকে ছিলেন তারা বলেছেন সকল বৈঠকে তাঁর ভাষা, বাচনভঙ্গী এবং দৃষ্টিকোণ সমান ছিল না। তবে মূল বক্তব্য একই ছিল, বর্তমান ব্যাচের বিদায় এবং শাহ জাহান চৌধুরীর ছেলে ভোলানো তওবা।
আমি যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম সেখানে প্রফেসার সাহেব অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা টেনে এনেছেন। সেখানে তাকে চ্যালেঞ্জ করার কোন পরিবেশ বা সুযোগ ছিল না। ৭১ সম্পর্কে তিনি খুব শক্তভাবে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘৭১-এ জামাতের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্তাপনের কোন সুযোগ নেই। ‘৭১ আমাদের ক্রেডেনশিয়েল’।

জামাতের প্রত্যক্ষ খবরদারিতে একই সেশনে শিবিরের তিন বার নির্বাচন হলো। তৃতীয় নির্বাচনে সাইফুল আলম খান মিলন কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আমাদের বুঝিয়ে দিলেন, ইসলামী পলিটিক্স কাহাকে বলে, এবং তা কত প্রকার ও কি কি। স্বপ্নভঙ্গ বুকে ধারণ করে এখন আমার তল্পিতল্পা গুটিয়ে সিলেট যাবার পালা। আহমদ আব্দুল কাদের, ডাঃ আবিদুর রহমানসহ আরো অনেকে আমাকে ঢাকায় থাকতে বলছেন। প্রিয়ভাজন এডভোকেট এ কে বদরুদ্দোজা আমার জন্যে একটি চাকরিও জোগাড় করে ফেলেছেন, ঢাকার একটা সাপ্তাহিক কাগজের সম্পাদকীয় বিভাগে। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল। আমি আর ঢাকায় থাকবো না।
আমার আজিম পুরের বাসায় তখন অনেকেই আসতেন। সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমদ আব্দুল কাদের আসতেন। পরিষদ সদস্যদের মধ্যে আসতেন জসিম উদ্দীন সরকার, আশেক আহমদ জেবাল, মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মাসুদ মজুমদার প্রমুখ। কিছুদিন আগে বিদায় নেয়া পরিষদ সদস্য ডাঃ আবিদুর রহমানও আসতেন। আমরা নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতাম, সুখ-দুঃখের গল্প করতাম। নিজের কথা বলতে পারি, অনেক অনেক বছর পর এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হলো যে আমার উপর কোন দায়িত্ব নেই। ভালো বা খারপের বিষয় নয়, এ একটা ভিন্নতর অনুভূতি। তবে আমাদের সব আলোচনার মধ্যে ঘুরে ফিরে একটি প্রশ্ন আসতো, এখন আমরা কি করবো?
১৯৭৭ সালে শিবির গঠনের পর একটা বিরাট স্বপ্ন নিয়ে আমরা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল শিাবরকে বিশেষ কোন দলের নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলবো। ৭১এর ভুমিকা এবং আলেম সমাজের জামাত বিরোধী মনোভাবের কারণে জামাতের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের মনে অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। শুরু থেকে আমরা বলিষ্ঠভাবে বলেছি, শিবির কারো অঙ্গ সংগঠন নয়। আমরা জামাত থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে শিবিরকে গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে পেরেছি। দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আমলা এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে অনেক প্রভাশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা জামাতকে পছন্দ করেন না, কিন্তু শিবিরকে ভালোবাসেন। আভ্যন্তরীন এবং বাইরের অনেক বাঁধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে শিবির দিনে দিনে এগিয়ে চলেছে। প্রাক্তন শিবিরকর্মীদের নিয়ে প্রস্তাবিত সংগঠন গড়ে তুলতে পারলে শিবির একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারতো। কিন্তু এখন কি হবে? আমাদের সাথে যা করা হলো এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া শিবিরের উপর পড়বে। শিবির এখন জামাতের ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত হবে এবং আস্তে আস্তে গণমানুষের আস্থা ও সমর্থন হারাবে।
৭১-এ জামাতের ভুমিকার কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাথে তাদের এক বিরাট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশের মসজিদ-মাদ্রাসায় যে সকল আলেম যুগ যুগ ধরে গণমানুষের ধর্মীয় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারা জামাতকে পছন্দ করেন না। জামাতে ইসলামী বাংলাদেশে নতুন নামে কাজ শুরু করলে এ দুটো বাঁধা অতিক্রম করা সহজ ছিল। জামাতে ইসলামী নামটা কুরআন-হাদীস নয় যে একে পরিবর্তন করা যাবেনা। কিন্তু জামাত নাম পরিবর্তন না করে স্বনামেই কাজ শুরু করেছে। নেতৃত্বেও রয়েছেন তারা-ই যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং এ ব্যাপারে জামাতের অবস্থান কোন গোপন বিষয় ছিল না। পরিচিত মুখগুলো-ই আবার নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ৭১ সালের ভূমিকা জামাতকে সব সময় তাড়া করে বেড়াবে।
আলেম সমাজের সাথে বিরোধও কোন ছোট বিষয় নয়। শেষ ভরসা ছিল ছাত্রশিবির। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির উর্ধে থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কারণে শিবির ভিন্ন মতের আলেম সমাজ এবং সুধীদের আশীর্বাদ নিয়ে দ্রুত গতিতে সাধারণ ছাত্রদের মন জয় করছিল। এখন শিবির এর স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে জামাতের সাথে একীভূত হয়ে যাবে। হাজারো কথা আসবে, অসংখ্য দায় এর মাথার উপর এসে পড়বে। একটা সম্ভাবনাময় আন্দোলনকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হলো। এর কারণ কি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, গোষ্ঠী-স্বার্থ, একগুঁয়েমি, না কি অদূরদর্শিতা আমি জানি না। বাংলাদেশের মানুষের সামনে ইসলামের সঠিক পরিচয় তুলে ধরার মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তারা এ ভাবে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে পারে না। ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যত পরিণতি ভেবে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়লাম।
আমার নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ছিল, আমি জামাতে ইসলামীতে যোগ দেবো না। যাদের মুখের ভাষা এবং বুকের ভাষা এক নয় তাদের সাথে জীবন বাজি রেখে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে এ ব্যাপারে আমি কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করিনি। নিজের কথাও নিজের মধ্যেই গোপন রেখেছি। অন্যদের বলেছি, আপনাদের মধ্যে সাহস, যোগ্যতা এবং উদ্দীপনা থাকলে নতুন কিছু করুন। তবে নিছক আল্লাহকে খুশি করার জন্যে, বাংলাদেশের মানুষের জন্যে এবং মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি বিকল্প ভালো কিছু করতে পারেন আমার সমর্থন এবং সহযোগিতা পাবেন। কিন্তু উদ্যোগ বা নেতৃত্ব – কোন কিছুতে আমাকে পাবেন না। কারণ আমার মধ্যে সে সামর্থ্য বা উদ্দীপনা নেই। আমি এটাও বলেছি, গণ-সংগঠন না করে যুব সংগঠন করা ভালো। আর ‘যুব শিবির’ নামটা শুনতে চমৎকার শোনায়।
এখানে জেনে রাখা ভালো, শিবিরের তৎকালীন সদস্য-কর্মী বা সাধারণ জনশক্তির সাথে এ সব বিষয়ে আমি ইচ্ছে করেই কোন আলাপ করিনি। কাউকে কোথাও যাওয়ার জন্যে ডাক দিলে নিজেকেও এগিয়ে যেতে হবে। নিজে ঘরে বসে থেকে মানুষকে রাস্তায় নামার জন্যে বলা অর্থহীন। এ কারণেই যুব শিবির গঠনের পর আমি কোন দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মত হইনি। সে সময় সদস্য-কর্মীদের অনেকে আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। ঢাকার বাইর থেকে কেউ কেউ চিঠি লেখে আমার অভিমত জানতে চেয়েছেন। যেখানে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি সেখানে বলেছি, ‘আপনার কবরে আপনি একা যাবেন। সুতরাং সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। তবে যুব শিবিরের প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে।’
তখনও ঢাকায় আছি। একদিন ফোন করলেন শিবিরের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আবু তাহের। বললেন, আমার সাথে তার জরুরী কথা আছে। গেলাম তার অফিসে। বললেন, ‘শোনলাম আপনারা যুব সংগঠন করছেন। এটা কি ঠিক?’
বললাম, ‘আমি করছি না। তবে কেউ কেউ করার কথা ভাবছেন। এটা তো নতুন কোন চিন্তা নয়। আপনি যখন সভাপতি ছিলেন তখন আপনার সভাপতিত্বে বিষয়টা নিয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে এবং তাতে আপনারও সমর্থন ছিল।’
বললেন, ‘সে সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। বর্তমান সময়ে এটা করা ঠিক নয়। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরে করা যেতে পারে।’
বললাম, ‘যারা যুব সংগঠন করার কথা এখন ভাবছেন, তাদের মতে এখন এর জন্যে চমৎকার সময়।’
বললেন, ‘ঠিক আছে, আমার কথা আমি বললাম। বাকি আপনাদের ইচ্ছা।’
আরেক দিন প্রাক্তন সভাপতি আবু নাসের আব্দুজ জাহের ফোন করলেন। খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। আরো দুয়েক জন ছিলেন। খাওয়া দাওয়ার পর বললেন, ‘তোমাকে জামাতে ইসলামীতে যোগ দিতে হবে।’ বললাম, ‘আমি এ মুহুর্তে জামাতে যোগ দেয়ার কথা ভাবছি না।’ বললেন, ‘যোগ দেবার এখনই উপযুক্ত সময়। আজই যোগ দাও।’ বললাম, ‘আজ-কাল তো নয়-ই। কখনো যদি যোগ দেয়ার কথা ভাবি তা হলে আপনাকে বলবো।’ আমার এ জবাবে তিনি একটু আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন। অনেক কথা বলার পর বললেন, ‘কোন দিন যদি তোমার জামাতে যোগ দেয়ার ইচ্ছ হয় তবে আমাকে অবশ্যই বলবে। মৃত্যু শয্যায় থাকলেও তোমার সাথে আমি যাবো।’
বেশ কয়েক দিন পর ফোন করলেন ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক লস্কর। খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তার অনেক আশা এবং স্বপ্নের কথা বললেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘ছাত্রত্ব তো শেষ। এখন কি করবেন?’ বললাম, ‘সিলেট চলে যাব। সেখানে গিয়ে কি করবো এখনো জানি না।’ বললেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অনেক সম্ভাবনা আছে। আমরা একজন কোম্পানী সেক্রেটারী খুঁজছি। যাকে নিয়োগ করবো তাকে ভালো ইংরেজী জানতে হবে। আমরা তাকে বিদেশ পাঠাবো ট্রেনিং নিতে। আপনি তো ইংরেজীতে অনার্স এবং মাস্টার্স করেছেন। ভালো মনে করলে আমাকে বলবেন। আমি দেখবো আপনার জন্যে কি করা যায়।’ জবাবে আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, প্রয়োজন হলে পরে আপনার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবো।’
অপর একদিন ফোন করলেন, অধ্যাপক ফজলুর রহমান, তখন তিনি সিলেট জেলা জামাতের আমীর। বললেন, আপনার সাথে জরুরী কথা আছে। সময় দিলাম। তিনি আজিমপুরে আমার বাসায় এলেন। অনেক কথা হলো। আমি যখন সিলেটের দায়িত্বশীল তখনো তিনি সিলেটে জামাতের দায়িত্বশীল। তার বাসায় ছাত্রশিবির নিয়মিত প্রোগ্রাম করেছি। তাঁর স্ত্রী খায়রুন্নেসা ভাবী আমাকে খুব আদর-কদর করেন। আমার বিয়ের ঘটকালিও তিনি করেছেন।
অধ্যাপক ফজলুর রহমান আমার ভবিষ্যত পরিকল্পণার কথা জানতে চাইলেন। বললাম, ঢাকায় একটা চাকরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমি সিলেটে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। খুব উৎসাহিত হয়ে বললেন, ‘খুব খুশির কথা যে আপনি সিলেট যাওয়ার বিষয় বিবেচনা করছেন। আপনি সিলেট চলে আসুন, আপনাকে শাহ জালাল জামেয়ার প্রিন্সিপাল বানাবো।’
বলালাম, ‘আপনি পারবেন না। ফরীদ উদ্দীন চৌধুরী এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। তাকে সরাতে পারবেন না।’
বললেন, ‘এখন আপনাকে প্রিন্সিপাল নয়, ভাইস প্রিন্সিপাল করবো। ফরীদ চৌধুরকে সংগঠনের জন্যে প্রয়োজন। তাই আমরা যোগ্য ভাইস প্রিন্সিপাল খুঁজছি। সেই ভাইস প্রিন্সিপালের উপরই পরে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেবো। ’
বললাম, ‘ঠিক আছে। আগে সিলেট আসি, তারপর দেখা যাবে। ’
(চলবে) পরের পর্বঃ ১৯৮২ সালের কথকতা-৬





প্রাসঙ্গিক মনে হল তাই দিলাম https://uspibd.wordpress.com/2013/06/11/%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%AC-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE/
যুব শিবিরে চলে গিয়ে পরে আবার জামাতে যোগ দেয়া একজন কর্মী কে পেয়েছিলাম শুভাকাংখী হিসেবে। তাঁর আচার আচরন জানি কেমন ছিলো, ঠিক জামাত-শিবিরের সাথে মিলতো না। উনার ছেলেকে টার্গেট নিয়ে কর্মী বানিয়েছিলাম বলে একদিন ডেকে নিয়ে খুব বকাঝকা করলেন। তারপর কয়েকদিন পর পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন। অনেকদিন পরে একদিন উনার ঐ ছেলেকে বখাটে ছেলেদের সাথে একসাথে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে দেখেছিলাম।
ভাই moin uddin জামায়াতের নেতাদের সন্তানদের চরিত্র খুব একটা সুবিধার না।সুতরাং এ বিষয়ে কথা না বলাই ভাল। আমি মনে করি আপনার এই মন্তব্য লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক নয়।
শীর্ষ নেতাদের ছেলে -মেয়েদের নিয়ে কথা না বলাই মঙ্গল!
ধন্যবাদ চাচাজান।
অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম, এমন একজন কেউ আমাদের এই ব্যাপারে খোলাসা করবেন। আর সেটা যদি আপনাদের মতো কেউ হন , তাহলে তো অসাধারণ একটা ব্যাপার।
আপনি সঠিক বলেছেন, কী ভূল বলেছেন, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা করার সময় পরে। কিন্তু ইতিহাসের একটা অংশকে অন্তত মুখের কথা থেকে ডকুমেন্টে নিয়ে আসলে সেজন্য আল্লাহর কাছে আপনার জন্য উত্তম জাযাহ আশা করছি।
স্বাভাবিকভাবে, জামায়াত শিবির এখন এটা নিয়ে কর্মীদের মাঝে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিবে, অনেক জায়গায় আবেগী বক্তব্য দিবে। কিন্তু আমার মনে হয়, আসলেই যদি কোন কিছু বলার থাকে, তাহলে সেটা পাবলিকলি বলতে হবে।
পাবলিকলি বলতে পারার মধ্যে একটা সাহসিকতা আছে। যারা পাবলিকলি সমালোচনা করতে পারে না, এবং সমালোচনার জবাব দিতে পারে না তারা ভীরু।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দিন।
মন্তব্যে ভালো লাগলো ভাই, এভাবেই উদার থাকেন সারাজীবন ।
Absolutely Right
মিলন সাহেবের সাথে একবার দুর্ভাগ্যক্রমে একই গাড়ীতে সফর থেকে এসেছিলাম। পাজেরো গাড়ীতে মাঝের সিটে ৩ জন সহজেই বসা যায় কিন্তু উনি যেভাবে মাঝে জায়গা রেখে আমার দিকে চেপে বসেছিলেন তাতে আমি ২০০ কিলোমিটার রাস্তা দরজার সাথে সেটে বসে একরম ঝুলতে ঝুলতে ঢাকায় আসি। উনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা নীচ প্রকৃতির সেটা এই ঘটনার পরেই আমি বুঝতে পারি
১/ যুবশিবির গঠন করতে না দেয়া ছিল জামায়াত ইসলামীর বিচক্ষণ নেতাদের দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। যুবশিবির গঠিত হলে অবশ্যই বৃহত্তর সংগঠনে কোন্দল লেগে থাকত।
২/সংবিধানের ধারাটি সংশোধনের ব্যাপারে আমার জ্ঞান নেই।কিন্তু এটা সঠিক মনে করি, যেহেতু কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকেই নির্বাচিত করা হয় যাকে বেশির ভাগ সদস্য় সভাপতির পদের যোগ্য মনে করেন, আর তিনি প্রয়োজন বোধে কার্যকরী পরিষদের বেশির ভাগ মতের বিপরীতেও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এটাই ইসলামের ঐতিহ্য। নেতার আনুগত্য করা। সর্বচ্চো নেতা তো থাকেই নির্বাচিত করা হয় যিনি হবেন আমাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে কল্যাণকামী।
৩/ জামায়াতে ইসলাম কেন ৭১ সালে বেশির ভাগ বাংলাভাষী মানুষদের পক্ষ নিতে পারলো না এর প্রধান কারন পরিষ্কার ছিল, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীর হাতে মানচিত্র চলে যাবার ভয়, আর ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামীলীগ কোন কালেই ইসলাম প্রসারের পক্ষে ছিল না বরং আগরতলা ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে ভারতের সাথে শেখ মুজিবের সখ্যতা ছিল এবং তাকে ইসলামপন্থীরা বিশ্বাস করতেন না, যা বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও বইয়ে অধ্যাপক গোলাম আযম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। জামায়াতের ৭১ সালের অবস্থান ছিল পরিষ্কার যা আজকের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দিকে থাকালে অনুধাবন করা যায়।
৪/ বাংলাদেশ এখন শুধু নামে একটি রাষ্ট্র, একটি রাষ্ট্রের কোন মৌলিক গুন কি দেখতে পান ? আমরা কি দেখতে পাই? যেই ভয়ে গোলাম আযম সাহেবেরা অখণ্ড পাকিস্থানের পক্ষ নিয়েছিলেন সেই আশংকা সত্যে পরিণত হলো। বাংলাদেশ এখন পৌত্তলিক দিল্লি কেন্দ্রিক নির্দেশনায় রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি বাজার ভারতীয়দের জন্য।তৎকালীন পাকিস্থানের যালিম শাসকদের হাত থেকে হয়ত এক সময় আমরা মুক্ত হতাম কিন্তু আজ হাসিনার মত শাসক ও তার ভক্তকুলগনদের হাত থেকে কিভাবে নিস্তার পাওয়া যাবে যারা ন্যায় ইনসাফ-বৈষম্যহীন-নৈতিকতার সমাজ বিনির্মাণে কখনোই আগ্রহী নয়। তাদের কাজ কারবারের পরিণতি কি তা আমরা প্রতিদিন প্রত্যক করছি।
উপসংহারে এই কথা বলতে চাই, পাকিস্থান সেনাবাহিনীর বর্বরিচিত হত্যা-ধর্ষণের সাথে না থেকেও যে খালেস নিয়তে ইসলামী রাষ্ট্রের মানচিত্র রক্ষা করতে হাজার হাজার জামায়াত কর্মী সেই সময় জানবাজি রেখে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন। এটা গত কয়েক বছরে জামায়াত-শিবিরের অনেক শহীদ-গাজীর দিকে এবং নিজের নিয়তের অবস্থার দিকে থাকিয়েও বুঝতে পারবেন। প্রত্যেকটা কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। তবে বৃহত্তর সংগঠন ৭১ এর বিষয়ে সরাসরি প্রকাশ করে না এটার কারন হলো সেই যুদ্ধে তারা শত্রুর কাছে পরাজিত। এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
অনেক কথাই বলা যায়, শুধু শেষের (৪) টার শেষ লাইন এর ব্যাপারে বলিঃ
এই কথা টাই পাবলিকলি বলুন প্লিজ, যে ১৯৭১ সালে আপনাদের স্ট্রাটেজি এরকম ছিল, এই সমস্ত কারণে আপনারা ওই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ক্ষমা চাইতে তো আর পারবেন না কারণ ক্ষমা চাইতে হলে মনকে উদার, প্রশস্ত করতে হয় যেটা আপনারা করবেন না।
এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, স্টাটেজিও ভিন্ন, এটা বলুন না
দুঃখিত! ওটা আপনার চার নম্বর পয়েন্ট ছিল না, ছিল উপসংহার এ।
আমার দেখার ভুল ছিল, ক্ষমা করবেন 🙂
ibn sona ভাই ১ নং যে কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ আপনার ধারনাপ্রসূত। এই রকম কোন ঘটনা তৎকালীন ঘটেনি।জামায়াতের দূরদৃষ্টি আছে হাসালেন ভাই। ২ নং যে কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত সেই যুক্তিতে এই সরকারের সকল কাজ বৈধ। ৩নং জামায়াত শধু বিবৃতেই বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ ছিলনা বরং সক্রিয় ভাবে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে । ৪ নং এর ব্যাপারে বলা যায় যে এটা আমাদের দোষ একতরফা ভাবে শুধু আওয়ামী লীগের দোষ নয়।
অসংখ্য ধন্যবাদ @ফরিদ আহমেদ রেজা ভাই কে।
‘৮২ সালের ঘটনায় আপনার অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি জানাটা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য খুব বেশি জরুরী, কারণ আমরা যদি ইতিহাস না জানতে পারি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিবো কিভাবে?
২০১০ এর ঘটনা হালকা পাতলা কিছু জানতে পেরেছিলাম, এখন দেখছি ‘৮২ সালের সাথে প্রায় পুরো মিল এবং ঘটনার পিছনের নায়কেরা (আসলে ভিলেন) সেম ব্যক্তি। কি চমৎকার!! কি চমৎকার!!!
আচ্ছা, আল্লাহ্ কি বাংলার মাটিতে ইসলাম/ ইসলামি আন্দোলন কে পঙ্গু/ ভণ্ডুল করে দেয়ার অপরাধে মুজাহিদ+নিজামী+গোঃ আযম কে ক্ষমা করবেন??
আমি অন্তত করবো না। কত সুন্দর সুন্দর সুযোগ ছিল। কত কত দ্বীনদার, জ্ঞানী ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বের করে দিলেন ব্যক্তিগত গোঁড়ামিতার কারণে। আরও ভালভাবে বললে ক্ষমতার লোভে। শুনেন, আপনাদের মেইন কনসেপ্ট এ যেখানে ভুল তা হচ্ছে “রাজনীতি মানুষের জন্য না করে ক্ষমতার জন্য করা।” অথচ দেখুন, রাসুল (সাঃ) কে যখন মক্কাতে থাকতেই তাঁকে মক্কার ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হল তিনি নেন নি কারণ তাদের একটা বিনিময় শর্ত ছিল “দ্বীন প্রচার বন্ধ করতে হবে”। তিনি যদি মেনে নিতেন (!) তাহলে হয়ত ক্ষমতা পেতেন কিন্তু মানুষ পেতেন না অথচ দেখুন অল্প কয়েক বছর পরেই কিন্তু যখন তিনি মানুষ পেয়েছেন ক্ষমতাও পেয়েছেন। আপনার পক্ষে যদি মানুষ থাকে ক্ষমতাও চলে আসবে। যেমনটা ১৯৭৯ সালে ইরান এ হয়েছিল।
বের হয়ে আসুন, বের হয়ে আসুন। ক্ষমতার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসুন। মানুষের জন্য রাজনীতি করেন, ক্ষমতা না পেলেও আপনার কিচ্ছু আসবে যাবে না, জান্নাত তো পাবেন। আল্টিমেট গোল তো ওইটাই নাকি?
মউদুদি কে রাসুল (সাঃ) পরে অবস্থান এর চিন্তা থেকে বের হয়ে আসেন, তিনি আমার আপনার মত একজন সাধারণ মানুষ, এখন যুগ বদলেছে, যুগের চাহিদা বদলেছে। ওনার সেই ১৯৪০/৫০ সালের থিওরি নিয়ে এখনো পড়ে থাকলে চলবে?
আচ্ছা, আপনারা অন্ধ আনুগত্য করতে নিষেধ করেন আবার যে করে না তাকে বেয়াদপ/ খারাপ/ আনুগত্যহীন বলেন, কোরআন-হাদিস ও শুনিয়ে দেন (অবশ্যই পছন্দকৃত অংশ)। কি ধরণের কাজ এটা?
সবশেষে এটা স্বীকার করবো ছাত্রশিবির থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, ভাল আচরণ পেয়েছি, চরিত্র পেয়েছি, ভালো কিছু মানুষ পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ্ কিন্তু যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, যতটা সম্ভবনা ছিল, তা না পেয়ে হতাশ হয়েছি। আশাহত হয়েছি।
সম্ভবনার বীজ অংকুরে বিনষ্ট হতে দেখে কষ্ট পেয়েছি। ইন্টার্নাল পলিটিক্স এর নোংরামি দেখে বুক খান খান করে ভেঙ্গেছে।
বন্ধ করেন এইসব, আল্লাহ্র ওয়াস্তে বন্ধ করেন।
আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহতালা আমাদের জ্ঞান দান করুন, মুক্তি দিন, জান্নাত দান করুন।
জাযাকাল্লাহ্ খাইরান। সবাই ভালো থাকবেন।
আসসালামুয়ালাইকুম…
১৯৭৯তে ইরানে সংঘটিত সফল ইসলামী বিপ্লব থেকে এদেশের ইসলামপন্থীরা দুটি কারণে শিক্ষা গ্রহণ করতে নারাজ :
১. তারা কোনোরূপ দলীয় পন্থা ছাড়াই বিপ্লব সম্পন্ন করেছেন
২. তারা শিয়া
এর বাইরে খুঁটিনাটি কিছু কারণ আছে। তবে আমি আপনার সাথে একমত। পুরনো ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে, এবং রাসূলের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। দলীয় পন্থায় ইসলাম কায়েমের চিন্তা করাটাই ভুল। http://nure-alam-masud.blogspot.com/2015/05/blog-post_35.html এই ব্লগে কিছু আলোচনা করেছি…।
আপনার লেখা ভাল লাগল। সুন্দর কিছু সমালোচনা। তারপর কিছু বিষয় অগোচরেই থেকে যায়। আপনার লেখাতেও থেকে গিয়েছে।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরে ছাত্রশিবির সারাদেশে আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে ছাত্র সমাজে। অল্প সময়ে বিশাল সফলতা তখনকার দায়িত্বশীল ভাইদের মনে বড় আশার সঞ্চার করে থাকতে পারে। কারো চিন্তায় সেটা ছিল কি না তা উল্লেখ করেননি।
অপরপক্ষে, ছাত্রশিবির কি সঙ্ঘের আদলেই হয়েছিল ,না নতুন রুপরেখায় দেশে আন্দোলন কে দাঁড় করানো হবে সে ধরনের কোন সিদ্ধান্তের কথাও কেউ বলেনি।
সুতরাং কোন ধরনের স্বপ্ন কেও দেখলে তা সিদ্ধান্তহীন কোন বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেয়ার মত বেপার।
পরিবর্তনে বাঁধা দেয়ার শক্তি সবসময় থাকবে। অভিমান করে লুকিয়ে থেকে বা আলাদা হয়ে নয়, সাথে থেকে, মোকাবেলা করেই তা করতে হবে।
মানবতার মুক্তি ইসঅলামের মধ্যেই।
এটা আমাদের করতেই হবে।
@বাকের ভাই সম্ভবত মূল থ্রেডে কমেন্ট করতে গিয়ে এখানে করে ফেলেছেন 🙂
রেজা ভাই ভাল লাগল আপনার লেখা পড়ে। আপনার লেখায় আপনি বলেছেন জামায়াত থেকে ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র প্লাটফরম হিসেবে যুব শিবির করতে চেয়েছিলেন আপনারা। অথচ জামায়াত শিবিরকে প্রতিষ্ঠা করল, পৃষ্ঠপোষকতা করে বড় করল। আর সেই জামায়াতকে বাদ দিতে চাইছিলেন আপনারা। অবস্থাটা এইরকম যে পিতা সন্তানকে লালন পালন করে বড় করল আর সন্তান বড় হয়ে তার পিতাকে ছেড়ে দিয়ে নতুন পিতা নিজে নিজেই তৈরি করতে চাচ্ছে। আচ্ছা বলুন তো সমাজ কি এই রকম বেয়াড়া সন্তানদের ভাল চোখে দেখে? আর পিতা কি এই বেয়াড়া সন্তানদের শাসন করবেনা? অবশ্যই করবে।
আপনার লেখা থেকে এটাই প্রমাণ হল যে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ৮২ সালে যে চিন্তা করেছিল সেটাই সঠিক ছিল।আমার বিশ্বাস জামাত নেতৃবৃন্দ আপনাদের সেইফ এক্সিট এর ব্যবস্থ্যা করে দিয়েছেন। যদি আপনারা সাধারণ সদস্যদের সামনে এই চিন্তা উপস্থাপন করতেন তাহলে তারা আপনাদের স্বাভাবিক ভাবে যেতে দিতনা। আর পরিষদ ও সদস্য ভাইয়েরা সমস্যা সমাধানের জন্য জামাত আমীরকে দায়িত্বদেওয়ার মাধ্যমে প্রমান করেছে যে আপনাদের প্রতি তাদেরও আস্থা ছিলনা। আর আপনাদের গূটিকয়েক ব্যাক্তির চিন্তা ও পরবর্তী কাজের মাধ্যমে তখন শাহজাহান ভাই যে আশংকা করেছিল তাই সঠিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়।
@[0228170584047960:0]
বাংলাদেশের ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন নিয়ে গবেষনা করতে গেলে আপনার ছোট্র এ লেখাটা একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।