[এটি একটি কাল্পনিক কথপোকথন,কারো সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয়।]
বুঝলেন ভাই সারা দেশে সরকার যখন জামায়াতের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে তখন পুরাতন উপদ্রভ এসে উপস্থিত। আপনিই বলেন এই সময়ে জামায়াতের আত্বসমালোচনার নামে যা হইতেছে এগুলো কি ঠিক?
-ঠিক বেঠিক পরে আসি।আগে আসেন মুল বিষয় নিয়া আলাপ করি।তবে আপনার প্রশ্নটায় যুক্তি আছে, যারা সমালোচনা করছে তাদের করতে দেন।কিন্তু আমার প্রশ্ন ভাই অন্য জায়গায়।সরকার এভাবে আপনাদেরকে নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে,এরই বা কারন কি ভেবে দেখেছেন?
কেন আবার? যুগ যুগ ধরে ইসলামী শক্তিকে জালিম এভাবেই নির্যাতন করেছে।
-আচ্ছা, তার মানে বলতে চাচ্ছেন সকল ইসলামপন্থি দলগুলোকেই সরকার পিটাচ্ছে?
না,সবাই কে না। হক পন্থিরাই আসল টার্গেট।
-আপনি বলতে চাচ্ছেন জামায়াতই একমাত্র হকপন্থি ইসলামী দল বাংলাদেশে?
জি…না…না…আসলে…ব্যাপারটা হচ্ছে জামায়াত হচ্ছে একটি পরিপূর্ন ইসলামী দল।
-একটু বুঝিয়ে বলুন পরিপূর্ন মানে কি?
আসলে, আপনি যদি খেয়াল করেন দেখবেন কওমি দলগুলোর মধ্যে পরিপূর্ন ইসলামী আন্দোলনটা নাই
-কেন মনে হল এটা আপনার?
দেখেন না ওনারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে…সাংঠনিক শক্তি নাই।
-ও আচ্ছা। মুল ধারার আলেম ওলামা বলতে তো দেশের মানুষ কওমিদেরকেই বুঝে তাইনা?
তা ঠিক যদিও….
-দেশের মানুষতো ফতওয়া, টতওয়া, মিলাদ-মাহফিল, বিবাহ ইত্যাদিতে তাদেরকেই ডাকে
… আসলে ওনারা কেমন যেন স্মার্ট না…আধুনিক মনে হয়না… আর একটা রাষ্ট্র চালানোর যোগ্যতা ওনাদের নাই।
-ও আচ্ছা, জামায়াত আধুনিক?
জি
-কিন্তু মুল ধারার দলগুলো (স্যাকুলার- জাতীয়তাবাদী) তো জামায়াতের লোকদেরকে ব্যাকডেটেড বলে
আসলে এরা হইল স্যাকুলার, নাস্তিক
–তাহলে ব্যাপারটা কি এই দাড়াইল; আপনারা কওমীদেরকে বলেন ব্যাকডেটেট, আর আপনারা ব্যাকডেটেট অন্যদের কাছে!
আমাদের উদ্দেশ্য হল আল্লার জমিনের আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা,এটা যদি ব্যাকডেটেট হয় তাহলে ব্যাকডেটেট বলতে পারেন
-কওমী ধারার ইসলামী দলগুলোও তো তাই চায়, তাইনা?
হয়ত তা ই চায়
-কোন কোন ইসলামী দল তো আপনাদেরকে ইসলামী দলই মনে করেনা, মাওলানা মওদুদীকে আলিম মনে করেন না
আসলে ওনাদের সামগ্রিক জ্ঞানের অভাব
-তাই?
বিষয়টা হচ্ছে…ওনারা তাকলিদ করেন ওনাদের হুজুরদের, নতুনত্ব নাই…হুজুররা যা বলেন তাই করেন…অনেকটা পীর-মুরিদীর সম্পর্ক!
-তা দ্বীন কায়েম হচ্ছেনা কেন ৯০% মুসলমানের দেশে?
স্যাকুলার নাস্তিকরা ঐটা হতে দিতে চায়না।
-এটা কেন মনে হল আপনার?
দেখেন না কিভাবে জামায়াতকে সরকার অত্যাচার নির্যাতন করছে।
-অত্যাচার নির্যাতন কি শুধু জামায়াত-শিবিরকেই করছে? বিএনপিও নির্যাতনের স্বীকার তাইনা?
না, মানে..তবে জামায়াতই তাদের আসল টার্গেট।
-কেন সেটা মনে হল আপনার?
দেখেন না যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে জামায়াতকে নেতৃত্বশুন্য করতে নাস্তিক-আওয়ামীলিগ সরকার উঠে পরে লেগেছে।
-আপনি কি তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার চান না?
অবশ্যই চাই, চাইবনা কেন?
-তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
বিচারটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে
-বিচারটা কি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছেনা?
কিভাবে হল? বিচারটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হলে কি কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান ভাইয়ের ফাঁসি হয়?
-ফাঁসি না হলে কি বিচারটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হত বলে মনে হয় আপনার?
নিরব…
–মাওলানা সাঈদীর ফাঁসি’র রায় হয়নি, বিচারটা তাহলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কি বলেন?
না মানে…ঠিক বিষয়টা এরকম না।
-বিষয়টা আসলে কি, একটু খুলে বলবেন?
আসলে পুরো বিষয়টাই সাজানো, নাটক…সর্বোপরি রাজনীতি
-কেমন?
নাস্তিক ও আওয়ামীলিগরা চায়না ইসলামী শক্তি দেশের ক্ষমতায় আসুক, সেজন্য তারা জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে থামাতেই এই যুদ্ধাপরাধী…ইস্যুটা নিয়ে এসেছে, যদিও এটা একটা মীমাংসিত বিষয়।
-আচ্ছা। তা, আপনারাও এই রাজনীতিটা খেললেন না কেন?
মানে?
– যেহেতু বুঝতেছেন এইটা স্রেফ রাজনীতি, সেহেতু কাউন্টার একটা রাজনৈতিক খেল কি খেলা যেতনা?
কি রকম?
-এই যে ধরেন, আপনাদের যে যে নেতাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনল তাদেরকে সরে গেলেই তো হত, তাইনা?
এইটা কিভাবে সম্ভব?
-কেন আপনাদের কি নেতৃত্ব দেয়ার মত আর নেতা নাই এই ৮-১০ জন বাদে?
আছে মানে, শিবির হচ্ছে নেতৃত্ব তৈরির কারখানা।
-তাহলে সমস্যাটা কোথায়? গত ৩০-৩৫ বছরে কি কারখানায় যথেষ্ঠ নেতা তৈরি হয়নি?
আমাদের অনেক যোগ্য লোকই ইতমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে
-তাহলে সমস্যাটা কোথায় ওনাদের সরে যেতে?
আসলে ওনাদের এত এত কোরবানী, এত ত্যাগ..
-ত্যাগই যদি হবে তাহলে পদ ত্যাগ করে গেলেই পারেন?
না মানে….আসলে নাস্তিকরা চায় জামায়াত নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাক
–আপনি না বললেন আমাদের অনেক যোগ্য লোকই ইতমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে?
আসলে…আসলে…বিষয়টা একটু জটিল
-আসলে আপনাদের নেতারা পদ আঁকড়ে ধরে থাকতে চান
নাআাআাআাআ …কি যে বলেন? আমাদের সংগঠনে নেতৃত্ব কেউ নিতে চায়না,নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়।আর নেতৃত্বের জন্য অন্য দলে মারা-মারি কাটাকাটি হয়, আর আমাদের দলে নেতৃত্ব পেলে নেতারা কান্না-কাটি করেন।
– কান্না-কাটি করে কেন?
আল্লাহর ভয়ে, দায়িত্বের ভয়ে
-আল্লাহর ভয়ে?
জি, মানে দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে,সেটা যদি হকের সাথে আদায় না হয় তাহলে জবাবদিহী করতে হবে।এই ভয়েই কাঁদে।
–তাহলে দায়িত্ব ছাড়তে চায়না কেন?
মানে?
-এই যে আপনাদের আমীর, সেক্রেটারী ৩০-৩৫ বছর যাবত একটি পজিশনে থাকেন, বিদায় নেন না।
আসলে ওনারা দায়িত্ব চান না, সংগঠন ওনাদেরকে দায়িত্ব দেয়।
-সংগঠন কে?
আসলে…
–ওনারাই সংগঠন, ওনারাই দায়িত্বশীল, তাইনা?
না, বিষয়টা আসলে অন্য রকম।এখানে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব কিছু চলে
-গনতান্ত্রিক?
জি, আমাদের দল হচ্ছে সবচেয়ে গনতান্ত্রিক দল। আওয়ামীলিগ-বিএনপি হচ্ছে পরিবারতান্ত্রিক…
-তাই নাকি?
আপনিতো দেখি জানেন ই না। শিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হয় প্রত্যেক বছরে সদস্যদের সরাসরি ভোটে।
-আপনি কি শিউর?
১০০% শিউর
–আচ্ছা বলেন তো শিবিরের কয়জন সভাপতি আছেন যারা আগে সেক্রেটারি ছিলেন না?
হুমমম খুব বেশি একটা নাই
-তার মনে বলতেছেন সেক্রেটারি ই পরবর্তিতে সভাপতি হয়?
না, মানে ভোটে নির্বাচিত হয়
-আচ্ছা, ভোটের জন্য তো প্রার্থিতা লাগে।কেন্দ্রীয় সভাপতি পদের জন্য গত সেশনে কয়জন প্রার্থী ছিল জানেন?
ওমম…হহহহ…আমমমমম…আসলে কেন্দ্রীয় সভাপতি সারা দেশের সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, যেখানে সব সদস্যই প্রার্থী!
–তার মানে সারা দেশের সদস্যারা গত ৩০ বছর যাবত শুধু সাবেক সেক্রেটারীকেই ভোট দিয়ে সভাপতি বানান?
জি…আসলে…মমমম…ব্যাপারটা..
–আপনি কি জানেন স্বাধীনতার আগে শিবিরের আগের নাম ছাত্র সংঘের একজন সেক্রেটারীও তার টার্ম শেষে সভাপতি হননি?
তাই নাকি? জানতাম না তো!!
-আচ্ছা বাদ দেন।এবার বলেন সেক্রেটারী কিভাবে হন?
কেন্দ্রীয় সভাপতি “নির্বাচিত” হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্যদের সাথে “পরামর্শ করে” সেক্রেটারী নিয়োগ দেন
-এটা কি Definite?
মানে?
–মানে কেন্দ্রীয় সভাপতি কি কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের মতামতের আলোকেই সেক্রেটারী নিয়োগ দেন? নাকি খেয়াল খুশি মত?
কর্ম পরিষদের সংখ্যাধিক্যের মতামতেই তো হয় বলে জানি
– সত্যি?
তাইতো জানি ভাই
-আপনি কি জানেন ৯৫ সালে পরিষদের প্রায় সকল সদস্যর মত ছিল শাহীন নামে একজনকে সেক্রেটারি করার কিন্তু মঞ্জুরুল আলম ভুইয়া কে সেক্রেটারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়
তাই নাকি? জানতাম না তো
-১৯৮২ সালেও একই ঘটনা ঘটে।পরিষদের অধিকাংশ সদস্যদের মতামত ছিল একজন কিন্তু সেক্রেটারী নিয়োগ দেয়া হয় সাইফুল আলম খান মিলনকে। অনুরুপ ভাবে ২০০৯ সালে নেয়ামুল করিমের পক্ষে সেক্রেটারী হওয়ার অধিকাংশ মতামত থাকা সত্বেও শিশির মনিরকে সেক্রেটারি করা হয়।
এগুলো ভিত্তিহীন কথা। আপনি ফরিদ আহমদ রেজার সাম্প্রতিক লেখা পড়ে এইসব বলছেন
-ফরিদ সাব এমন কোন নতুন কথা বলেন নাই যেটা আমি জানিনা
আপনার কথা যদি সত্য হয় তাহলে বলেন ১৯৮২ সালে সাইফুল আলম খান মিলন সেক্রেটারী হওয়া সত্ত্বেও শিবির ভাংগল কেন?
-ওখানে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন, আপনিই তো ভাল জানার কথা। After all আপনার দলের খবর..
না না আপনি জানলে বলতে পারেন জানা থাকলে
-১৯৮২ সালে এনামুল হক মন্জু সভাপতি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে নৈতিক কারনে পদচ্যুত হন বলে speculation রয়েছে, যদিও তিনি ব্যক্তিগত কারনে পদত্যগ করেছেন বলে প্রচলিত আছে।বছরের মাঝখানে অনভিজ্ঞ সাইফুল আলম খান মিলনকে সভাপতি নির্বাচন করা যায়নি।এরও একটা কারন আছে।এই প্রথম সদস্যরা সত্যিকার অর্থে সরাসরি ভোটে আহমেদ আব্দুল কাদের বাচ্চুকে সভাপতি নির্বাচন করেন।তিনি পরিষদের অধিকাংশ সদস্যদের (মাত্র ৯-১১ জন নিয়ে পরিষদ ছিল তখন)মতামতের ভিত্তিতে ফরিদ আহমেদ রেজাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই (রেজা সাহেবের সাম্প্রতিক লেখায় দাবী অনুসারে) সেক্রেটারী নিয়োগ দেন।যেহেতু আজকের সেক্রেটারি আগামী দিনের সভাপতি, জামায়াতের জন্য এটা মাথা ব্যাথ্যার কারন হয়ে দাড়ায়।
যত্তসব ফাও আলাপ। জামায়াতের জন্য মাথা ব্যাথ্যার কারন? কি বলেন এসব? ছেলের জন্য বাবার মাথা ব্যাথ্যা?
-বিষয়টা খুব খেয়াল করে বুঝার চেষ্টা করুন।৭১ এর পূর্বে ছাত্রসংঘ ছিল অনেকটা স্বাধীন ছাত্র সংগঠন।৭১ এ জামায়াত ও সংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারনে স্বাধীনতার পর জামায়াত চাইল ছাত্রসংঘ কে নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসতে।কিন্তু স্বাধীনচেতা সংঘ নেতাদের কারনে সেটা পারেনি।শিবির নামে নতুন ছাত্র সংগঠন যাত্রা শুর করলেও EX-CP Forum নামে একটি গোপন সংগঠনের মাধ্যমে জামায়াত শিবিরের উপর প্রভাব বিস্তার ও তা ধরে রাখার চেষ্টা করতে থাকে।। নিজামী ও মুজাহিদ যথাক্রমে নিখিল পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সাবেক সভাপতি ও পূর্ব পাকিস্তান সংঘের সভাপতি হিসেবে EX-CP Forum এর সদস্য।শিবিরের প্রত্যেক বিদায়ী সভাপতি এই ফোরামের সদস্য হন।শিবিরের সংবিধানে ভাতৃশিবির নামে যে ফোরামটি হওয়ার কথা ছিল তারই রুপ এটি,যার উদ্দেশ্য ছিল শিবিরের উপদেষ্টার ভুমিকা পালন।কিন্তু বাস্তবে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটাতে থাকেন এই ফোরাম। শিবিরকে মুলত এই ফোরামের মাধ্যমেই জামায়াত কন্ট্রোল করে থাকে এবং সেক্রেটারী ও সভাপতি নির্বাচনে ওনারাই মুল সীদ্ধান্ত নেন।
কি যে বলেন এসব? আপনারতো দেখি গোড়ায় গলদ আছে।ছাত্র সংঘের সাথে শিবিরের কোন সম্পর্ক নাই।শিবির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মসজিদ থেকে
-তাই?
জি
-আচ্ছা আপনি মালেকের নাম শুনেছেন?
কোন মালেক, শহীদ আব্দুল মালেক ভাইয়ের কথা বলছেন?
-জি, ওনার কথাই বলছি।
জানব না কেন? উনি আমাদের প্রেরনার বাতিঘর, উনি জীবন দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের জন্য……….অনেক মেধাবী ছিলেন।
-আচ্ছা! তা উনি কবে শহীদ হন?
উমমম…১৯৬৯ সালে
-তখন কি শিবির ছিল?
উমমমমমমম….না।
-তাহলে আপনাদের প্রেরনার বাতিঘর কিভাবে হলেন? আসলে তিনিও সংঘের নেতা ছিলেন।ওনাকে Legend হিসেবে জানেন কিন্তু ওনি সংঘের ঐটা জানেন না? প্রত্যেক জাতির নিজস্ব কিছু মিথ ও লিজেন্ড থাকে।বাংলাদেশে শেখ মুজিব যেমন আওয়ামীলিগারদের প্রেরণা দেয় তেমনি প্রত্যেক দলেই কিছু কিছু লিজেন্ড আছে।আপনারা চাইলেও সংঘ কে অস্বীকার করতে পারবেন না।মালেক হচ্ছে তার উজ্জ্বল প্রমাণ।
ওকে ভাই, ঠিক আছে.. ধরে নিলাম আপনিই ঠিক। তো সমস্যাটা কি? আমিতো এখানে আপনার বলা “জামায়াতের মাথা ব্যাথ্যার কারন” বলে কিছু দেখছিনা
– সভাপতি পদে আহমেদ আব্দুল কাদেরের অপ্রত্যাশিত আগমন,একই সাথে EX-CP Forum এর আশীর্বাদপুষ্ট সাইফুল আলম খান মিলনের স্থলে ফরিদ আহমেদ রেজার নিয়োগ শিবিরের উপর EX-CP Forum এর কন্ট্রোল হারানোর আশংকা তৈরি করে।কেননা সভাপতি ও সেক্রেটারী দু’জনই স্বাধীনচেতা যারা শিবিরের উপর EX-CP ফোরামের খবরদারিকে তোয়াক্কা করতেন না। ফলে তাদেরকে সড়ানোর চিন্তায় EX-CP Forum হেন কাজ নেই করেনি। তারা আপনাদের আমীর সাবকে ভুলভাল বুঝিয়ে, সারা দেশের সদস্যদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে নতুন সভাপতি ও পরিষদের বিরুদ্ধে ফুঁসলিয়ে তোলেন……………..যাক,এই কাহীনির বিস্তারিত আপনি খুজলে পেয়ে যাবেন।সংক্ষেপে বলতে হয়, EX-CP Forum তাদের কারু কাজে ১৯৮২ শিবিরকে দুই ভাগ করে নিজেদের পুরো কতৃর্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
ভাই আমি যেহেতু পুরো বিষয়টা জানিনা, আলোচনার খাতিরে আপনাকে “বেনিফিট অফ ডাউট” দিচ্ছি, ধরে নিচ্ছি আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু আমি এত দিন সংগঠন করে যেটা বুঝেছি নেতারা সংগঠনের কল্যাণের জন্যই সীদ্ধান্ত নেন।ঐ সময় বাচ্চু-রেজা সাহেবরা মিলে যুব শিবির করতে চাইছিলেন।ঐটাতো স্পষ্ট শিবির ভাংগার নামান্তর তাইনা?
– হে হে…এই সব ঐ সময়ের প্রোপাগান্ডা।জামায়াত এইসব প্রোপাগান্ডা চালায়, জামায়াত বলতে EX-CP Forum এর নেতারা।
কি বলেন? আপনার কাছে প্রমাণ আছে? কিসের ভিত্তিতে এসব কথা আপনি বলতে পারেন (খানিক উত্তেজিত)
-ভাই প্রমাণ ছাড়া কি আর এত কথা বলি আপনাকে?
বলেন তাহলে শুনি (খানিক উত্তেজিত)
-যুব শিবির নিয়ে প্রথম কথা উঠে যখন চট্রগ্রামের মোহাম্মদ আবু তাহের সাব সভাপতি হন।মুজাহিদ সাহেবও তখন বেশ উৎসাহি ছিলেন কেননা তখনকার শিবির নেতারা ভেবেছিলেন ছাত্র শিবিরকে যথাসম্ভব রাজনীতি মুক্ত রাখা হবে এবং শিবির শেষে যেহেতু একটা বড় অংশ কর্মি সরাসরি জামায়াতে যায়না তাদের ধরে রাখার জন্য যুব লীগের মত যুব শিবির নামে একটি সংগঠন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এটাতো ভাল আইডিয়া ছিল। কিন্তু একটা কথা, এই যুব শিবির থাকলে কি শিবিরের লোকেরা আর জামায়াত করত? যুব শিবিরই কি একটা দল হয়ে জামায়াতের প্রতিপক্ষ হয়ে যেত না?
-যুবলীগ কি আওয়ামীলিগের প্রতিপক্ষ সংগঠন?
না, তা না
-তাহলে? তাছাড়া অন্যান্য দলের মত জামায়াতেরও তো শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবি সংগঠন রয়েছে সেগুলো কি জামায়াতের প্রতিপক্ষ?
আসলে বিষয়টা এভাবে ভাবিনি,আমাদের বলা হয়েছিল আহমেদ আব্দুল কাদের বাচ্চুরা মিলে শিবির ভেংগে যুব শিবির করতে চাইছিল, তাই তাদেরকে শিবির থেকে বের করে দেয়া হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের কল্যানে।আমি সেই কারনে ওনাদেরকে না দেখেই ঘৃণা করতাম।আসলে আমাদেরকে ৮২ রিলেটেড প্রশ্নের উত্তরগুলো এমনভাবে বুঝানো হয়েছে যেখানে বাচ্চু ছিল আমার কাছে ভিলেন।
তবে এটাতো সত্য যে ওনারা যুব শিবির করেও কিছু করতে পারেন নাই, ধরেও রাখতে পারেন নাই?
-হ্যাঁ সত্য।যুব শিবির শুরুতে চেয়েছিল জামায়াতের স্বীকৃতি পেতে কিন্তু সেটাতো পায়নি বরং জামায়াত প্রতি পদে পদে এর বিরোধীতা করেছে। জামায়াত হচ্ছে এমন এক বটবৃক্ষ যার ছায়ায় কেউ হৃদয় শীতল করবে সেই সুযোগ কাউকে দেয়নি। যুব শিবিরতো জামায়াতকে চ্যালেন্জ করে গড়ে উঠেনি বরং জামায়াতের অযাচিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একদল স্বপ্নবাজ যুবক নিজেরাই আরেকটা ফ্রন্ট খুলতে চেয়েছেন যা নিয়ে শিবিরের পরিষদে অনেক আগে থেকেই আলাপ হচ্ছিল।অনেকটা প্রতিবাদী হয়ে এটা করলেও ধীরে ধীরে এটা জামায়াতেরই যুব ফ্রন্ট হয়ে যেত। আরেকটা বিষয়, যখন বাচ্চুদের বের করে দিল তখন তাদের কি করার ছিল বলতে পারেন?
কি করবে…উমমম…আসলে ভুল বুঝাবুঝিতো মানুষের সংগঠনে একটু হবেই।ওনারা জামায়াতেই যোগ দিতে পারতেন।
-আপনি পারতেন?আপনাকে যে উষ্টা মারল, সম্পূর্ন অনৈতিক উপায়ে পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি সহ পরিষদকে বেইজ্জতি করে বের করে দিল….আপনি বাচ্চুর জায়গায় হলে কি জামায়াতে যোগ দিতে পারতেন?
আসলে আমি কি করতাম জানিনা।তবে ইসলামী আন্দোলন করা যেহেতু ফরজ সেহেতু হয় জামায়াতে যোগ দিব অথবা অন্য একটি দলে যোগ দিতে হবে অথবা নিজেই একটা দল করে দ্বীনের কাজ করে যেতে হবে..এটাই আমাদের সাংগঠনিক শিক্ষা।
-কি বলেন এসব? এই শিক্ষা কি ইসলামিক শরীয়া সম্মত?
অবশ্যই….কেন নয়? এটাই তো ইসলামের শিক্ষা
-তার মানে আপনে বলতে চাইতেছেন ইসলামে “দলবাজি” শরীয়া সম্মত?
না মানে বিষয়টা এরকম না…
-তাহলে কি রকম? আচ্ছা বাদ দেন।এই বিষয়ে আরেক দিন কথা বলা যাবে।
আচ্ছা
– তর্কের খাতিরে আমি যদি আপনাদের থিওরিও মানি তাহলেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়
যেমন?
– বাচ্চুরা মিলে যুব শিবির করতে বাধ্য হল। প্রকান্তরে তারা যুব শিবির করে জামায়াতের ছায়ায় ই থাকতে চাইলেন কিন্তু জামায়াত সেটা মেনে নিলনা কেন?
কেন মেনে নেবে জামায়াত সেটা? এটাতো দল ভাংগার নামান্তর যা ইসলামে নাজায়েজ!
–নাজায়েজ হবে কেন? একটু আগেই না বললেন কেউ যদি জামায়াত না করতে চায় কোন কারনে, তাহলে তার জন্য অন্য একটি দলে যোগ দিয়ে অথবা নিজেই একটা দল করে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করে যাওয়া ফরজ?
আসলে….হইছে কি…বিষয়টা না…
-কি বলেন? বাচ্চুরা কি ফরজ কাজটাই করতে চেয়েছিল না?
উমমমম….না, সম্ভবত…আসলে…না
-আরে ভাই চিন্তা করে বলেন কি বলতে চাইতেছেন?
আসলে সত্যি বলতে কি আমি কনফিউজড! আমাদেরকে তো বলা হইছিল ঐটা ফিতনা!বাচ্চুদের যুব শিবিরকে গুমরাহ, ফিতনাবাজ ইত্যাদি বলা হয়েছিল।বলা হয়েছিল তারা দলত্যাগী এবং ক্ষেত্র বিশেষে এমন কথাও শুনেছি তারা জাহান্নামী।
-তাহলে কি দাড়াইল বিষয়টা? আপনাদের থিওরী অনুসরন করে যারা নতুন দল করতে যাবে বা অন্য দলে যাবে তারা সবাই গুমরাহ, ফিতনাবাজ এবং জাহান্নামী?
না না না এটা কি করে হয়?
-তাহলে? নাকি এটা শুধু জামায়াত-শিবিরের জন্য প্রযোজ্য? বলতে চাচ্ছি যারা একবার জীবনে জামায়াত বা শিবির করেছে তারা যদি অন্য কোন দলে যায় তাহলে তারা গুমরাহ, ফিতনাবাজ এবং জাহান্নামী?
না না না না এইটা কেমন করে হয়, ইসলাম তো একটাই,ফলে সবার জন্যই হবে না হলে কারো জন্যই প্রযোজ্য না (কনফিউজড চেহারা)
আমাকে একটা বিষয় বলেন, তারা যুব শিবির করেই বা কি করতে পারল?
-ওয়েল, এই প্রশ্নের উত্তরতো আপনাদের বা যুব শিবিরের হর্তা-কর্তারা দিতে পারবেন ভাল। আমি তো আউট সাইডার।আমি আপনাকে একটু আগেই একটু ইংগিত দিয়েছিলাম।আমার জানা মতে ইসলাম কোন ধরনের দলবাজি কে সমর্থন করেনা।
আপনে তো মাথাটা আউলাইয়া দিলেন ভাই (কনফিউজড চেহারা)
-সরি, আমি আপনাকে কনফিউজড করতে চাইনি। তবে আউটসাইডার হিসেবে একটা অভজার্ভেশন আপনাকে বলতে পারি।
প্লিজ বলেন, আমি খুবই কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি,আমি আপনের মত এত জানিনা ভাই,আমি আল্লাহর দ্বীন কে ভালবাসি বলে জামায়াতের সাথে আছি, অন্য কিছু না।
– জামায়াতের সাথে না পেরে এক সময় যুব শিবির খেলাফত মজলিশে মিশে গেল আরেকটি ইসলামপন্থি বিশাল গ্রুপ যারা বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের মুলধারা তাদের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। আপনি হয়ত জানবেন বাংলাদেশের আলেম সমাজ একসময় ছিল মুলত অরাজনৈতিক, ইসলামী রাজনীতিকে তারা হারাম গন্য করতেন, যাদেরকে নিয়ে আপনারা এক সময় ঠাট্টা করতেন তারাও আজ রাজনৈতিক ইসলামের ধারক ও বাহক।এটা কার অবদান? আমার কাছে যে তথ্য আছে সে আলোকে বলতে পারি, আহমেদ আব্দুল কাদের বাচ্চু আগা-গোড়া জামায়াতের প্রোডাক্ট।দুই একটা রাজনৈতিক বিষয়ে মতানৈক্য ছাড়া মৌলিক কোন বিষয়ে কোন পার্থক্য নাই।যার কারনে তার দলকে স্যাকুলারা দেখে জামায়াতের B team হিসেবে। বিশ্বাস না হয় তার কিছু ইন্টারভিউ আপনি পড়ে দেখতে পারেন।এটা কি বৃহতভাবে জামায়াত যে রাজনীতির কথা দেশ বাসীর কাছে বলতে চায় সে একই রাজনীতির সহযাত্রী নয়? ইসলাম নিয়েই যদি ইসলামপন্থিদের মধ্যে চিন্তার ঐক্য না হয় তাহলে আপনাদের আন্দোলন ফান্দোলন বাদ দিয়ে ঘাঁস কাটা উচিত!
সত্যি কথা কি ভাই আমি কখনো এভাবে চিন্তাই করিনি।আমাদেরকে বলা হয়েছে যুব শিবির ফেইল করেছে!
– তাই? তা আপনারা কোথায় পাশ করছেন একটু বলবেন কি?
কিভাবে পাশ করব আমরা? স্যাকুলার-নাস্তিকরা, ভারত-আমেরিকা-ইসরায়েলের দালালরা আমাদেরকে পাশ করতে দেবে?
– তা দেবে কেন? আর আপনারাই বা এই আশা করেন কেন? আপনার প্রতিপক্ষ কি আপনার পক্ষে গোল দিবে?
না তা দেবে কেন?
-তাহলে তাদের দোষ দিচ্ছেন কেন?
আসলে এই ৭১ ইস্যুটাই জামায়াতকে শেষ করে দিয়েছে।
-স্বীকার করলেন তাহলে?
না করে উপায় নেই ভাই।স্বাধীনতার ২০ বছর পর জন্ম নিয়েও আমার গায়ে স্বাধীনতাবিরোধীর তকমা।এই এক ইস্যু নিয়ে যে শক্তির খরচ আমরা করেছি, করছি অন্য ইস্যুতে মনযোগ দিব কখন?
-এই সব বিষয়ে আপনাদের আভ্যন্তরীন কোন কথা হয়না? নেতাদেরকে কোন প্রশ্ন করেন না আপনারা?
প্রশ্ন করলেই কি আর উত্তর মেলে? মুখস্থ কিছু উত্তর বছরের পর বছর শুনে আসছি।
-জামায়াতের গুটি কয়েক লোক সরে গেলেই পারতেন?
আসলে আপনাকে বলতে কি, মরহুম শহীদ কামারুজ্জামান ভাইও একই কথা বলে গেছেন।এমনকি আমার ধারনা, জামায়াতের কর্মি-রুকনদের মাঝে যদি এই বিষয়টা রেফারেন্ডামে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে শতকরা ৯০% লোক জামায়াতের নাম পরিবর্তন ও মুরুব্বি নেতৃত্বদের স্ব-সম্মানে চলে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন।
-তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা যে কোথায় সেটাইতো আমরা জানিনা। কামারুজ্জামানের মত লোকের পরামর্শও কোন কাজে আসেনা। আসলে সংগঠন যে কে চালায়,কার কথায় চলে সেটাও বুঝিনা।
-আপনাকে একটা তথ্য দেই। শিবির গঠিত হওয়ার পরই জামায়াতের ৭১ এর ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনার একটা আওয়াজ উঠে। বুঝতেই পারছেন স্বাধীন দেশ, শিবির কর্মিদের এখনকার চেয়েও বেশি প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হতে হচ্ছিল। শেষমেষ, আবু তাহের সাহেব সভাপতি হলে এই বিষয়টা পরিষদের বৈঠকে উথ্থাপিত হয়। তাহের সাব পরিষদের সদস্য আহমেদ আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দিয়ে ৭১ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি নামে একটি কমিটি করে দেন।বাচ্চু সম্ভবত ঢাকা ইউনি ভার্সিটির সভাপতি অথবা কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।বাচ্চু তার দায়িত্ব নিয়ে ৫২ প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরি করে পরিষদে জমা দেন। যেহেতু ৭১ বিষয়টা জামায়াতের সাথে সংস্লিষ্ট তাই এই প্রশ্ন যায় জামায়াতের নেতাদের হাতে।আর যায় কোথায়…৭১ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কাজ ওখানেই স্থগিত রাখা হয়। আপনি একটু আগে যুব শিবির নিয়া কথা বললেন না? আসলে ঐগুলো কোন ইস্যুই না। ১৯৮২ সালে বাচ্চুর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় ঐ ৭১ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কাজ। কারন বাচ্চু সভাপতি হয়েই স্থগিত ঐ কমিটিকে জাগ্রত করেন…পরের অংশতো ইতিহাস।
এসব কি শুনাইলেন ভাই!
আমাদের ইন্টারনাল বলেন আর এক্সটারনাল বলেন সমস্যার গোড়া দেখি ঘুরে ফিরে ঐ ১৯৭১ এই ফিরে যায়।
আমার মাথায় আসেনা ১৯৭১ ইস্যুটা নিয়ে জামায়াত এভাবে লুকোচুরি করতে কেন,এখনো?
-আপনি চাইলে আমি আমার অভর্জাবেশন বলতে পারি, তবে আজ না অন্য দিন।
ঠিক আছে।
-ভাল থাকবেন
আল্লাহ হাফেয





পুরা লেখার বিরূদ্ধে একটা কমেন্টে হয়ত বেশি কিছ বলা যাবে না। অল্প কিছু কথা বলতে যাচ্ছি।
১. প্রথমত ভাতৃত্বের দিক দিয়ে একজন মুসলিম আর সব মুসলিমকেই ভাই মনে করে। কিন্তু একই দলের পতাকাতলে আসলে ভ্রাতৃত্ববোধ একটু বেড়ে যায়। আবার একই দলের মধ্যে যারা একই এলাকায় কাজ করে বা একই এলাকায় গ্রামের বাড়ি তাদের ভ্রাতৃত্ববোধ আরো বেশি।
বিষয়টা এমন না যে, একজন শিবিরকর্মী অন্য দলের লোকদের অমুসলিম/ নিচু শ্রেণীর মুসলিম মনে করে। তারাও আমাদের ভাই।
“মাওলানা মওদুদীকে যেমন দেখেছি” বইয়ের কিছু অংশ
তাবলীগ জামায়াত সম্পর্কে আপনার ধারণা কি ? তিনি (মওদুদী) জওয়াবে বললেন, আমি মাওলানা ইলিয়াস সাহেবের প্রাথমিক কর্মস্হল পূর্ব পান্জাবের মিওয়াদে যেয়ে এ জামায়াতকে জানার চেষ্টা করেছি এবং অশিক্ষিত , ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ সাধারণ লোকদেরকে তিনি যে পদ্ধতিতে ইসলামের আলো দান করছিলেন তার প্রশংসা করে মাসিক তারজুমানুল কুরআনে আমি লিখেছি ।
একথ বলে তিনি উপদেশ দেন যে “দ্বীনের কাজ যে যেখানে যতটুকু করছে তাতে আমাদের কাজ হচ্ছে বলে মনে করতে হবে । দ্বীনের সবটুকু কাজই আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয় । দ্বীন কায়েম হলে সরকারী উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় সব রকম কাজই জনগণকে দিয়ে করান যাবে । কিন্তু পূর্বে অন্যদের দ্বারাও অনেক কাজ হওয়া প্রয়োজন ।”
এইটা হল, তার বক্তব্য। এরপরেও কেউ যদি দাবি করে যে, শিবিরকর্মীরা কওমী ধারার লোক বা তাবলীগের লোকদের দেখতে পারে না বা তাদের নিচুস্তরের মনে করে তাহলে সে আহাম্মক নাহলে অনেক বড় লেভেলের ষড়যন্ত্রকারী। হয়ত দুই একজন অন্যরকম থাকতে পারে কিন্তু তার দায়ভার কোনক্রমেই সংগঠনের না।
২. পুরাতন নেতৃত্ব সরে গেলেই তো হয়। এইটা পুরাপুরি বোকালোকের মত কথা। আওয়ামী লীগ সহ বিরূদ্ধবাদীরা যেকোন ছল করতে ওস্তাদ। সেই জন্য, প্রায় পুরা সময় পাকিস্তানে থাকা সত্ত্বেও সাকা চৌধুরীর ফাসির রায় হয়। যুদ্ধের সময়ে কিশোর বয়সী ছেলেরও ফাসি দেওয়া হয়। হয়ত পুরাতন নেতৃত্ব সরে যেত; নতুন কেউ আসত। এখন নতুনদের বিরূদ্ধেও যে মিডিয়ার কল্যাণে তাদের রাজাকার সাব্যস্ত করা হত না তার কি গ্যারান্টি দিবেন আপনি? ভুলে যেয়েন না যে, মাত্র কিছুদিন আন্দোলন করেছিলেন বিধায় আওয়ামীমন্ত্রী আল্লামা শফি হুজুরকেও রাজাকার বলেছিলেন। আরো বেশিদিন মাঠে থাকলে হয়ত স্থায়ীভাবে তার গায়ে রাজাকার তকমাটা এটে যেত।
৩. ট্রাইব্যুনাল যে কত প্রকারের দুর্নীতি করেছে তার সীমাসংখ্যা নেই। উলটাপালটা সাক্ষ্য দেওয় থেকে শুরু করে, স্কাইপে কেলেংকারি ইত্যাদি অনেক অপরাধ। এই ট্রাইব্যুনাল যদি একজন খুনীকেও এক মিনিটের কারাদন্ডের রায়ও দেয় তাও হবে অবৈধ। কারণ, গোড়াতেই গলদ। সেইখানে “–মাওলানা সাঈদীর ফাঁসি’র রায় হয়নি, বিচারটা তাহলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কি বলেন? ” এই মন্তব্য করাটা পুরাই হাস্যকর।
৪. আমরা শহীদ আবদুল মালেক থেকে প্রেরণা নিই এর মানে যদি এই দাড়ায় ছাত্রসংঘের সাথে শিবির কানেক্টেড তাহলে একটা প্রশ্ন করতে চাই। শিবিরের অধিকাংশ কর্মীর বালাকোট প্রান্তরের সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী(র); তিতুমীর প্রমুখ মানুষের জীবন থেকে প্রেরণা নেয়। তাহলে কি এদের আন্দোলনের সাথেও শিবির কানেক্টেড??
(একজন মানুষের সমালোচনা করা হয় দুই উদ্দেশ্যে। এক, তার ভুল ধরা যাতে সে শুধরাতে পারে। দুই, তাকে অপদস্থ করা।
অন্তরের খবর আল্লাহই ভাল জানেন; আপনাদের কার্যকলাপ দেখে আমার দ্বিতীয়টা মনে হয়। )
আপনার কথার সাথে আমি পুরোপুরি একমত। আমার মনে হয় এই ব্লগটা বিশাল এক ষড়যন্ত্রের অংশ।
Right bolechen vai
শিবিরের ছয়জন প্রতিষ্ঠাতা হঠাৎ কোথা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে হাজির হলেন, ছাত্র সংঘের লিংক না থাকলে?
ei lekhot ekta munafik. Ageo korsilo. Ekn o kortase