অনেকটা নিজের দায়বদ্ধতা থেকে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি লিখার অবতারনা।শুরুতেই মাফ চেয়ে নিচ্ছি কেউ আমার লিখায় কষ্ট পেলে আর আমার বানান ভুল এর জন্য।
‘’শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা’’ লিখার আগাম ঘোষণা বুঝতে পারি ফেসবুক এর একটা কমেন্ট থেকে।আমাদের প্রিয় ডাঃ বেলায়েত হোসেন অরিক ভাই একটা হাসছজ্জল ছবি পোস্ট করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় শিশির মুনির, ডাঃ মামুন, ফয়সাল বীণ রহমান, বেলায়েত হোসেন আর গোলাম মরতুজা ভাইয়ের।ঘুম থেকে উঠে অনেকের মত আমারও খুব ভাল লাগলো অনেকদিন পর কয়েকটা প্রিয় মুখ একসাথে দেখে কিন্তু কিছুক্ষন পরই দৃষ্টি গোচর হল একটি কমেন্ট যা করেছেন লন্ডন প্রবাসী একজন ছাত্র যেখানে তিনি জামায়াত নেতাদের মোটামুটি গালিগালাজ করে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাইকে অনুরোধ ও রাজি করিয়েছেন ১৯৮২ সালের শিবিরের ইতিহাস লিখতে।
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ যেতে হয়েছে হাসপাতালে কোন এক কারণে আর অপেক্ষার সময় কাটানোর জন্য ফেসবুকে ঢুকতেই দেখি ঠিকই শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাই লিখেছেন ‘’শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা’’ আর যথারীতি তা জানান দেয়া হচ্ছে।সবটুকু শেষ করার আগেই আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে ৩/৪ ঘণ্টা পর যখন আমার সেন্স ফিরেছে এবং বাসায় পাঠানো হয়েছে তখন প্রচণ্ড ব্যথা যে আমি আর ঘুমুতে পারছিনা। রাত ঠিক ১ টা, এমন একজনের কাছ থেকে একটা টেক্সট পেলাম যিনি এই ব্লগের একজন অন্যতম বাক্তি যার কাছথেকে অন্য কখনও কোন বিষয় টেক্সট রেসিভ করেছি বলে মনে পরে না। খুব আগ্রহ ভরে তিনি লিখছেন
‘’ Salam. Hope you are well. Sharing an interesting writing that you may like. Among many of us had inquiry about the topic for many days…
শিবিরের ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালঃবিরাশি সালের অকথিত কথকতা-১ |
http://imbdblog.com/?p=6810 ‘’
ঠিক ৪ মিনিট পর(১;০৪) আর একজন শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় বাক্তিত্তের কাছ থেকে শুধু লিঙ্ক এর একটা টেক্সট পেলাম এবং দুইজনকেই এ বিষয় একটা লিখার আগ্রহ জানালাম এবং আনুরোধ করলাম লিখাটা যেন ব্লগে পাবলিশ করেন।
যাক যে ব্লগটিতে লিখাটা এসেছে বা আনুরোধ করে লিখানো হয়েছে মূল লিখায় যাবার আগে সে সম্পর্কে একটু বলা প্রয়োজন বোধ করছি। এই ব্লগটি অবশ্যই একটা ভালো উদ্যোগ বিশেষ করে সামসাময়িক বিষয়াবলী ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলন নিয়ে কিন্তু নাম ‘’ইসলামিক মোভমেন্ট বাংলাদেশ’’ হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির নিয়ে তাদের একটা সম্পাদকীয় নীতি আছে যা অনেকসময় শুধু সংগঠনকে বিতর্কিত করা, দোষ খোঁজা আর সঠিক বেঠিক মিলে সমালোচনার প্রবণতা।
সম্প্রতি দুইজন তরুণ গবেষককে এই ব্লগের লিঙ্ক টা দিয়ে আনুরোধ করেছিলাম খুঁজে দেখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর সত্যিকার নেয়ার মত কিছু জিনিস এখান থেকে বের করতে।তাদের কাছে যা পেয়েছি এবং আমি যা দেখেছি বাংলাদেশ আন্দলেনের ক্ষেত্রে ব্লগটি ইনফরমেশন এর চেয়ে আবেগকে, রিয়ালিটির চেয়ে থিউরিকে, আর ৫/৭/১০ বছর আগে কে কোথায় কি বলেছেন বর্তমান বিবেচনা না করে সেগুলির বেশি গুরুত্ব দিতে।
এর কয়েকটা বাস্তব কারণও আছে।ব্লগের যে ভাইটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে লিখতে বা সমালোচনা করতে বেশি তৎপর বাংলাদেশ এ তিনি শিবির এর কর্মী বা সমর্থক ছিলেন SSC বা HSC শেষ করেই বিলাতে এসেছেন যে কারণে বাংলাদেশ এর বাস্তব আভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ পান নি এবং সমলচনা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে এমন সব তথ্য নিয়ে এসেছেন আন্দোলন যারা সামান্য বোঝেন তাদের কাছে খুবই আপত্তিকর লাগে আর সমালোচনার মূল উদ্দেশ্য বুঝতে কিছু বাকি থাকে না।
দুটি উদাহরণ দিয়ে এ বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাই এ কারণে যে ‘’১৯৮২ ও ২০০৯; ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার একটি সমীকরণ’’ মিলাতে গেলে এটি ভালভাবে জানতে হবে যে ৩৩ ও ৬ বছর পর এই বিষয়গুলি কেন জীবন্ত রাখার অথবা নতুন করে আবির্ভাব করা হচ্ছে বা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে বিতর্কিত করা হচ্ছে ।এর পিছনে যুক্তি, সংশধোন ছাড়াও আর কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে তা আমার একটি মন্তব্য আকারে শেষ পর্বে দেবার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
যাক প্রথম উদাহরণ হল শিবিরের ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালঃবিরাশি সালের অকথিত কথকতা-১ কে সামনে এনে শিবির এর নেতৃত্ব নির্বাচন এর মত একটা পবিত্র জিনিস কে বিতর্কিত করার জন্য তিনি জঘন্ন্য ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে শিবিরের সেক্রেটারি জেনেরেল কে হবেন তা নাকি ভ্রত্তিশিবির নামক এই কমিটি ঠিক করে দেন। হায়রে কপাল !! ভ্রত্তিশিবির এর কমিটি সারা জীবন যে এক সদস্যের এবং জেলে যাবার আগ পর্যন্ত এর দায়িত্বে ছিলেন আমাদের সকলের কলিজার টুকরা শিবিরের প্রথম সি পি মীর কাশেম আলি মিন্টু ভাই, সদস্য সম্মেলনের দিন সাভার থেকে মিষ্টি এনে সদস্যদের খাওয়ানো, হৃদয় মেশানো ভালবাসা আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বানানোর সপ্নের কথা টা তিনি যদি জানতেন আমি নিশ্চিত তিনি এই ধৃষ্টতা দেখাতেন না।
দ্বিতীয়ত, নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন রোকন এর বরাত দিয়ে তিনি লিখেছেন আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি ‘যে আমীরে জামায়াত এর ভোটে আল্লামা সাঈদী সাহেব জিতে গেছেন আর নির্বাচন কমিশনার মরহুম নাজির আহমেদ সাহেব নিজামী সাহেব কে নির্বাচিত করে রায় দিয়েছেন। সেলুকাস !!!!! এই যদি হয় সংগঠন বুঝার আর সমালোচনা ধরণ আর আমানতদারিতা তাহলে কি করে সম্ভব এটা মেনে নেয়া যে সংশধনের জন্য এই সমালোচনার আয়োজন। সমালোচনার দুটি খারাপ দিক হল এটা কখনও গীবত আর বুহতানের দিকে নিয়ে যায়। আর কখনও বিজয়ী হতে গিয়ে ভুল পথে ধাবিত করে। কিন্তু তারপরও ব্লগ আথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হয়ত চলবেই মূল আন্দোলন এর অবস্থান আর মতামত ছাড়াই।জামায়াতের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত ভাই ও বোনেরা আন্দোলন থেকে চলে গেছে তাদের কে রেফারেঞ্চ করে।
১৯৮২
আমি ২০০৯ সালের কিছু ঘটনার বাস্তব সাক্ষী আমি সেটাকেই ভালো বলতে পারব এবং লিখার চেষ্টা করব। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় আফিস বিভাগের দায়িত্ব ছিল আমার।যতদূর মনে পরে বোধহয় আমি ১৯৮৩ এর পরিষদের একটা কার্যবিবরণী পুরানো ফাইলের ভিতরে পেয়েছিলাম।সে বিষয়ে বিস্তারিত না লিখলেও দুই একজন কেন্দ্রীয় সভাপতির সাথে এ বিষয় কথা বলার সুযোগ আমার হয়েছিল যাদের সাথে ৮২ জরিয়ে আছে। আমি আমার সাংগঠনিক জিবনে কোনদিনও (১৯৯৫-২০০৯ October)ফরিদ আহমেদ রেজা ভাইয়ের নাম শুনিনি, এমনকি ৮২ সাল নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেখেনি।সুতরাং আমি সহ আমাদের জেনারেশন এর কাছে ১৯৮২ নিয়ে কোনও বিতর্ক একেবারেই মূলহীন। কিন্তু এর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু মতামত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।
তবুও শ্রদ্ধেয় ফরিদ আহমেদ রেজা ভাইকে অনেক মোবারকবাদ যে তিনি তার মতামত এবং বিশ্লেষণ লিখেছেন তা ইচ্ছায়, কোন ব্যক্তির অনুরধে অথবা সমষ্টির অনুরধে হোক। যারা এই মতামতের প্রতীক্ষায় ছিলেন তারা খুব খুশি আর আনন্দে শেয়ার করছেন। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্র মজলিস তাদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ অনেক জনশক্তি খুব খুশি আর আনন্দে শেয়ার ও প্রচার করছেন। কেউ কেউ কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ ওনাকে দায়মুক্তি দিয়েছেন যাদের কে ওনার সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়া হয়েছিল অন্য পক্ষের কোন বক্তব্য ছাড়ায়। কেউ কেউ খুব বেশি আহুতও হয়েছেন লিখা পরবর্তী নোংরা মতামত এর জন্য বিশেষ করে অন্য পক্ষের কোন মন্তব্য না থাকার কারণে। আমাদের উদারপন্থী ভাইগণ এ ধরনের লিখা বেশী হওয়ার ব্যাপারে আনুপ্রেরনা দিচ্ছেন, যুক্তি দিচ্ছেন। এ যেন ঠিক ৫ জানুয়ারী নির্বাচন অথবা বিদেশে থাকা কোন আসামীর War Crime Tribunal এর বিচার এর মত। আয়োজক পক্ষ গনতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন করবে কাউকে ধরে এনে বা বাধ্য করে, যেহেতু অন্য পক্ষ আসবে না এই নির্বাচনে অতএব আমাদের সাংবিধান রক্ষা করতে হবে। অথবা আসামী যেহেতু আসবে না তাই স্বাধীনতার স্বার্থে দ্রুত বিচার করতে হবে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির নিয়ে ব্লগে বা সোশ্যাল মীডীয়ায় সমলোচনা করতে থাকতেই হবে তাদের সংশোধন ও কল্যাণের জন্য যদিও কোনদিন তারা এই অযৌক্তিক বিতর্কে না আসুক।সেলুকাস এ পৃথিবী।
যাইহোক, শ্রদ্ধেয় ফরিদ আহমেদ রেজা ভাইয়ের লিখায় আমি যা বুঝলাম উনি হলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং মাজলুম ব্যক্তি। যত দোষ সব মুজাহিদ সাহেব, নিজামি সাহেব, নজরুল ইসলাম খাদেম সহ ওনাদের। এমনকি ১৯৯০ সালের ৫ জানুয়ারী ইসলামী ছাত্র মজলিস গঠনের আগ পর্যন্ত শিবিরের কোনও নুন্যতম সমস্য করেছেন বলে বর্ণিত হয় নি ওনার লিখায়। শহীদ প্রফেসর গোলাম আযম স্যর লিখে গেছেন ওনার আত্নজীবনি ‘জীবনে যা দেখলাম’ বইয়ের চতুর্থ খণ্ডে সামান্য কিছু। আর সাবেক সভাপতি……
চলবে…… পরের পর্বঃ ১৯৮২ ও ২০০৯; ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার একটি সমীকরণ (দ্বিতীয় পর্ব )




