আগের পর্বঃ ১৯৮২ ও ২০০৯; ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার একটি সমীকরণ (প্রথম পর্ব )
অনেক ধন্যবাদ ব্লগে আমার লিখাটা ছাপানোর জন্য। আমি আবারও মাফ চেয়ে নিচ্ছি কেউ আমার লিখায় কষ্ট পেলে আর আমার বানান ভুল এর জন্য। আমাকে সতর্ক করার জন্য ধন্যবাদ প্রিয় ভাইটিকে যিনি লিখেছেন;
‘’With due respect to Salihi Bhai আপনি বেশি attacking হএ যাচ্ছেন । আপনি রেজা ভাই এর নাম শুনেন নাই এইটা বলে কি বুজালেন? আপনি নাম ই শুনেন নি তাহলে উনার বেপারে বলার right person আপনি সম্ভবত না। আমরা খুব খুশি হব যদি সমসাময়িক কেউ বিস্তারিত লেখেন। if possible focus on 2009 as it is close to you’’
আমি attacking হবার কোন কারণ নেই এবং আপনার সাথে সহমত হয়ে আমিও মনে করি আমি ৮২ নিয়ে লিখার right person নই। আমিও খুশি হতাম যদি সমসাময়িক কেউ বিস্তারিত লিখতেন বিশেষ করে যাদের নাম আলোচিত হয়েছে শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাইয়ের লিখায়। তবে চিন্তাশীল মানুষ আর জামায়াত নেতৃত্বের মাঝে ঐতিহ্যগত বিরল একটা গুণাবলী আছে, তারা বাহাস (আলেমদের সঠিকতা নির্ধারণের ২/৩ পক্ষীয় বৈঠক) আর সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্ক এড়িয়ে চলেন কেননা বাহাস এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্ক নতুন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে কোনদিনও কোন বিষয় সুন্দর ভাবে সমাধান করেনা। বিতর্কের ক্ষেত্রে চিন্তাশীল মানুষ আর জামায়াত নেতৃত্বের সুন্দর কিছু পদ্ধতি আছে এবং আমি মোটামুটি নিশ্চিত তাদের কেউই এখানে লিখার প্রয়োজন মনে করবেন না।
যাইহোক, আমারও ইচ্ছা ছিল ৮২ কে গুরুত্ব কম দিয়ে ২০০৯ এর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার দিকে যাবার কিন্তু একজন ভাইয়ের নিচের অনুরোধটি এ বিষয়ে একটু লিখতে বাধ্য করেছে।
‘’ Assalamualaikum , Salihi VI, thanks for ur well writing about Forid Ahmed Reza. Janen, unar lekha ta pore Ami khub koshto peyechi, tini kivabe ai lekha ta likhlen!! Janen, ai andoloner jonno Ami amar 1ta pa porjonto hariyechi. Plz apni apnar lekha ta continue korben.’’
অতএব ছাত্রজীবনে শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাইয়ের নাম না জানাটা কারো কাছে attacking মনে হলেও বাস্তবতা হল উপরের ভাইটির মত লক্ষ লক্ষ ভাই জীবন দিয়ে, হাত, পা, চোখ, দাঁত, ক্যরিয়ার হারিয়ে, জেল জুলুম, রিমান্ডের নির্যাতন হাসিমুখে মেনে নিয়ে সংগঠনকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে শুধু আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য আর একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। কোন আমলে কে কি ছিলেন, কে জামায়াত এর আমীর বা সেক্রেটারি জেনারেল তাঁদের কাছে এটা খুবই গৌণ। আমি খুবেই সৌভাগ্যবান যে এ ধরণের আনেক মাজলুম ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার এবং কথা বলার সুযোগ পেয়েছি তাঁদের আনুভুতি গুলি জানার চেষ্টা করেছি। আর, প্রিয় আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিমসহ সকলকে বলছি আমি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু মতামত এবং আমার কিছু মূল্যায়নই দিব, কোন কনক্লুশন না অবশ্যই সিদ্ধান্তটা নিবেন আপনি।
‘’শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা’’ লিখনিতে যাদের সমালোচনা করা হয়েছে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ আরও অনেক বেরে গেছে তাঁদের দৃঢ় সিদ্ধান্ত, আন্তরিকতা, মহানুভবতা, আমায়িকতা, নিষ্ঠা আর মানুষকে দ্বীনের পথে ফেরানোর পেরেশানী দেখে এবং মনথেকে আমি দোয়া করি আল্লাহ্ তাঁদের এই প্রচেষ্টা যেন কবুল করেন আর যদি কোন ভুলভ্রান্তি থেকে থাকে তা যেন মাফ করেন। আর শ্রদ্ধেয় ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ভাইসহ যেসব ভাইয়েরা এই প্রিয় কাফেলা থেকে চলে গেছেন তারাও ভিন্নভাবে মুসলিম উম্মাহ আর দেশের ইসলামী আন্দোলনের জন্য কাজ করেছেন এবং করছেন তাঁদের জন্যও আমি দোয়া করি আল্লাহ্ তাঁদের এই প্রচেষ্টা যেন কবুল করেন আর যদি কোন ভুলভ্রান্তি থাকে তা যেন মাফ করেন।
‘’১৯৮২ সালের কথকতা’’ লিখনিতে আনেক ইতিহাস লিখা হলেও কয়েকটা বিষয় আনুল্লিখিত থেকেছে বিশেষ করে কোন কোন অভিযোগে সদস্যগণ অনাস্থাপত্র দিয়েছিলেন আর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের ৫ জানুয়ারী ইসলামী ছাত্র মজলিস গঠনের আগ পর্যন্ত শিবিরের এবং জামায়াত এর প্রতি যুবশিবির এর ব্যবহারটি কেমন ছিল। এ বিষয়গুলি উল্লেখ থাকলে আমারমত অনেক পাঠকের মূল্যায়ন করাটা অনেক সহজ হত। ‘’১৯৮২ সালের কথকতা’’ লিখনিতে বর্ণিত শুধু আমীরে জামায়াত এর প্রোগ্রামে সিলেটের সোলায়মান হলে যুবশিবির পোস্টারই নয় উপনির্বাচন সম্পন্ন করার কাজে মেম্বার সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করতে জনাব নজরুল ইসলাম খাদেমকে এবং পরপর তিন কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, তাসনীম আলম এবং ডাঃ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কি পরিমাণ কষ্ট করতে হয়ছে এবং যুবশিবির আর একটা shadow শিবির বানিয়ে কি পরিমাণ ভুগিয়েছে তা ব্যক্তিগত ভাবে আমার জানার সুযোগ হলেও থার্ড পার্টি হিসাবে আমার এখানে লিখার সুযোগ নেই, শুধু শিবিরকে নিয়ে টানাটানি না করার জন্য শহীদ প্রফেসর গোলাম আযম স্যার এর কথোপকথন ওনার আত্নজীবনি ‘জীবনে যা দেখলাম’ এ দেখার অনুরোধ থাকলো। আর রেজা ভাইও লিখেছেন – ‘’কিন্তু আমি দেখলাম, যুবশিবির, জামাত এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধ, উত্তেজনা, পারস্পরিক চরিত্র হনন দিনে দিনে বাড়ছে। বিরোধী পক্ষের সাথে লড়াইয়ের পরিবর্তে তারা পরস্পর লড়াই করে সময় ও শক্তি ক্ষয় করছে’’’।
যাইহোক, ১৯৮২ সালের ঐ ঘটনায় উভয় পক্ষের ভাষ্য মূল্যায়ন করলে প্রধানত তিনটি বিষয় পাওয়া যায়।
১। জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর সম্পর্ক তথা যুবশিবির গঠনের প্রয়োজনীয়তা ।
২। জামায়াতের ১৯৭১ ইস্যু আর
৩।সেই সময়ে ঘটিত ইরানী বিপ্লব শিয়া বিপ্লব নাকি ইসলামী বিপ্লব এবং মূল দায়িত্বশীলের ভূমিকা যা এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক না যদি কোন একাডেমিশিয়ান এ বিষয় স্টাডি করেন বা গবেষণা করেন তিনি এটি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
১। জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর সম্পর্ক তথা যুবশিবির গঠনের প্রয়োজনীয়তাঃ
ক)
এ বিষয় মূল্যায়ন করতে হলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের পটভূমির দিকে একটু তাকাতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলআন্দোলন থেকে অনেক চিন্তার ফল হিসাবে। ছাত্রদের মধ্যে ব্যপক দাওয়াতি কাজ, আর আন্দোলন ও দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির মহান এক লক্ষ্যে । মূলআন্দোলন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ঐতিহাসিক ভাবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলণ যথাযথ ভাবে কাজ করে এসেছে, শহীদ আব্দুল মালেক এর মত হাজারো মেধাবী জন্ম হয়েছিল সেখানে।ICSCO পুরুস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী, অনেক বিশিষ্ট পেশাজীবী, আমলা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আর দেশ পরিচালনার জন্য আনেক যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছিল সেখানে থেকে। এমনকি ১৯৬৯ সালে সরকার ঘোষিত ফ্যাকাল্টি প্রথমদের প্রথম আন্তর্জাতিক বৃত্তির (বিলাতে পড়াশুনার)রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর সবকটি (তিনটি)পেয়েছিল এই আন্দোলনের তিনজন নেতা।
খ)
১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী শহীদি কাফেলার যখন জন্ম হলও স্বাভাবিক ভাবে সকলের প্রত্যাশা ছিল ছাত্রদের মধ্যে ব্যপক দাওয়াতি কাজ, আর আন্দোলন ও দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির কারখানা হবে এ মহান কাফেলা। এটি কখনই অঙ্গ সংগঠন হবেনা, এমনকি ১৯৭৯ এ জামায়াত শুরুর পর তারও লেজুরবৃত্তি করবেনা। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অবশ্যই একটি স্বতন্ত্র সংগঠন কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মূলআন্দোলন এর সাথে এর কোন ধরণের যোগাযোগ থাকবে না। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল একেবারে ঘরোয়া প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য কোন প্রোগ্রামে মূলআন্দোলন এর কেউ না থাকাই বেশী ভালো। তবে দুই আন্দোলন একটা আর একটার পরিপূরক হিসাবে অবশ্যই কাজ করতে হবে। আমারা আমাদের সাংগঠনিক জীবনে, প্রোগ্রামে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি দেখলেও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে অবশ্যই একটি স্বতন্ত্র সংগঠন হিসাবে পরিচালিত হতে দেখেছি। জামায়াত নেতৃত্বের অনেক অনুরোধ উপেক্ষা করতে দেখেছি।
আর একটা আর একটির পরিপূরক না হলে বাংলাদেশের বাস্তবতায় আন্দোলন পরিচালনা কোন ভাবেই সম্ভব না। উদাহরণ সরূপ যদি ঢাকা শহরে একটা জরুরী অবস্থার উদ্ভব হয় যে ৫ জন ভাই শহীদ হলেন, ১০০ জন ভাই আহত, ১০০ জন ভাই এরেস্ট, আর ১০ জন ভাই নিখোঁজ হলেন। এটা কি বাস্তব যে শুধু বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে ?? আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এটা অসম্ভব, প্রিয় কোন ভাই শহীদ হলে সভাপতির অবস্থা কি হয় আমি শহীদ নোমানী শাহাদাৎ এর পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির পাশে তিনদিন থেকে ভালভাবে সেটা অনুধাবন করেছি।
গ)
এবার আসুন ১৯৮২ তে। সাপ্তাহিক লিখনী, (২৮/০৫/২০১৩) জনাব আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ভাইয়ের সাক্ষাৎকার থেকে;
‘’লিখনী : আপনার প্রতি জামায়াতের ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ কী?
আহমদ আবদুল কাদের : ’৮১ সালে রমনা গ্রিনে একটি বড় সম্মেলন করা হয়। সেখানে অনেককে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতের নেতাদের কাউকে ডাকা হয়নি। সে কারণে তারা আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হতে শুরু করে’’।
সুতরাং, জামায়াতের নেতাদের এবং সংগঠনের অনেক সদস্যদের কাছে এটি স্পষ্ট হচ্ছিল যে, যে মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। আর জামায়াতকে অগোচরে রেখে যুবশিবির বানানোর প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক ভাবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা রাখার মূল ক্ষেত্রটি বন্ধ হচ্ছে। বাস্তবতা হল যুব সংগঠন বানানোর কাজ কোন ভাবেই ছাত্র সংগঠনের হতে পারে না।এটা হল মূলসংগঠন এর কাজ। যেমন বর্তমানে এই প্রয়োজনীয়টা আরও বেশী বাংলাদেশের আনুমানিক ২৫ মিলিয়ন যুবক যাদের বয়স ২৪-৩৫ ও ৪.৫% (৭১,৩৩,০৬৬)বেকার কে সঠিক ভাবে সংগঠিত করার জন্য।সংগঠন হয়ত ভবিষ্যতে এটা ভেবে দেখবে।
তাছাড়া ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২৫৬/২৩৬ (বিদেশে বসবাসরত একজন সিপি এর কাছে শোনা)আর জামায়াত এর রোকন সংখ্যা যথাক্রমে ১৯৭৯-৫৩৮, ১৯৮১-৭০৪, ১৯৮৩-৯৩৬।প্রতিষ্ঠার মাত্র ৫ বছরে সাবেকদের সংখ্যা সহজেই অনুমেয়, সুতরাং এই কনফিগারেশন এর দুইটা পরিপূরক আন্দোলনের মাঝে জামায়াতকে অগোচরে রেখে যুবশিবির এর একটা দেয়াল অনেক প্রশ্নের জন্ম দিবে এটা খুবেই স্বাভাবিক।
ঘ)
ঘটনার ধারাবাহিকতায় সিপি ও পরিষদ বিচারের ভার যখন আমীরে জামায়াত এর হাতে দিলেন এবং সব পক্ষের কথা শুনে আমিরে জামায়াত যখন রায় দিলেন তখন সিপি পরিষদের একাংশ এবং কিছু সদস্যসহ আনুমানিক ১০০ জন সদস্য (প্রায় অর্ধেক) চিন্তাশীল এবং দূরদর্শী ভাই সংগঠন থেকে চলে গিয়ে যুবশিবির বানালেন।আর সেকেলে চিন্তার বাকি ভাইয়েরা শহীদের এ প্রিয় কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে থেকে গেলেন।
আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রোকন সংখ্যা ১৯৮২ এর সংখ্যার অন্তত ৫০ গুণের বেশী। কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খী, ভোটার মিলে প্রায় ১ কোটি মানুষের এক বিশাল মহীরুহ এ সংগঠনটি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর সদস্য সংখ্যা প্রত্যক বছর বৃদ্ধি হয় ১৯৮২ এর সংখ্যার অন্তত ১০ গুণের বেশী।পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আছে এই প্রিয় কাফেলার ভায়েরা।দেশে এবং বিদেশে এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর ভাই পাওয়া যাবে না।সদস্য, সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু আর শুভাকাঙ্খী মিলে প্রায় অর্ধ কোটি ছাত্রের আর এক বিশাল মহীরুহ এ প্রিয় কাফেলাটি।
ঙ)
জামায়াত নিয়ে একটা গবেষণা পত্রের হিসাব অনুযায়ী সংগঠনটির ৮৮% নেতা এসেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে এর ৬৬% এর বয়স ৩০-৪০ এবং ১৬% এর বয়স ৪০-৫০।আর জেলা আমীরদের মধ্যে বেশীরভাগ হল ১৯৮২ প্রজন্ম এবং হয়ত আগামি ১০ বছরের মধ্যে আমীরে জামায়াত থেকে শুরু করে নির্বাহী, কর্মপরিষদ, শুরা সব হবে ১৯৮২ বা তার পরবর্তী প্রজন্ম থেকে। সুতরাং যে প্রধানত দুই কারণে ১৯৮২ এর সূত্রপাত জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর সম্পর্ক আর জামায়াতের ১৯৭১ ইস্যু , সেগুলোকে সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করে আজ সংগঠন এখানে আর এই দুই কারণ মুক্ত এবং কোন দলীয় প্রভাব মুক্ত যুবশিবির পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর খেলাফত মজলিস ও ১৯৯০ সালের ৫ জানুয়ারী ইসলামী ছাত্র মজলিস গঠন করে আজ পর্যন্ত যতদূর এসেছে তাতে ‘’শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা’’ লিখনিতে যাদের সমালোচনা বা বিতর্কিত হিসাবে দেখা গেছে দ্বিতীয় বা ৩য় প্রজন্মের আন্দোলনের একজন কর্মী হিসাবে অনেকের মত আমারও তাদেরকে হিরো মনে হয়েছে, যথার্থ ও সঠিক মনে হচ্ছে এবং তাঁদের ঐ প্রচেষ্টা কবুলের জন্য আল্লাহ্র কাছে মন থেকে দোয়া আসছে।
চ)
আর একটা বড় বাস্তবতা হল বয়স এবং অভিজ্ঞতা, এ দুটি মানুষের বড় শিক্ষক। আমাদের এ ছোট্ট সাংগঠনিক জীবনে এমন অনেক জিনিসকে আমরা খুব গুরুত্তপূর্ণ মনে করতাম এখন তার জন্য অনেক হাসি ও কষ্ট পাই। আর অনেক গুরুত্তপূর্ণ জিনিস যা আমরা অনুধাবন করতে পারিনি এখন সেগুলোর জন্য অনুসূচনা হয় এবং মনে হয় কত বড় ভুল করেছি সে সময়। আমার ধারনা বয়স এবং অভিজ্ঞতার বড় একটা বিষয় ১৯৮২ তে ছিল। জামায়াত এবং সাবেক সভাপতিগণ যেটি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন সিপি পরিষদের একাংশ সেটি অন্যভাবে বুঝেছিলেন বা বুঝতে পারে নি। অথবা খুব গুরুত্তপূর্ণ আর অনেক কমগুরুত্তপূর্ণ জিনিসের একটা ব্যাপার সেখানে ছিল। জামায়াতের ১৯৭১ ইস্যু আর জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি ছাত্রশিবির এর সম্পর্কের জন্য যুবশিবির গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকলে জামায়াত কে জানিয়ে আলোচনা করে অবশ্যয় সেটি সমাধান করা যেত বলে আমার ধারণা। কিন্তু সেটাই বাস্তবতা, বয়স এবং অভিজ্ঞতা !!!
যেমনঃ যুবশিবির পরবর্তীতে মূল আর ছাত্র সংগঠন খেলাফত মজলিস ও ছাত্র মজলিস হল, যেটা নামেই কত কাছাকাছি।মাঝখানে যুবশিবির এর মত অন্যকিছুর প্রয়োজনটাও ক্ষীণ হল। আর ছাত্র মজলিস এর প্রথম সি পি মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন সেশন: ১৯৯০-৯১ (আংশিক) থেকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি (২০১৫) সোহাইল আহমদ পর্যন্ত যত সন্মেলন হল তার প্রায় প্রত্যেকটাতেই শ্রদ্ধেয় ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ভাইকে উপস্থিত থাকতে হল মূল সংগঠন খেলাফত মজলিস এর হয়ে। দেখুন;
‘’ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মানুষ গড়ার আঙ্গিনা দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ অনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিনত হচ্ছে।- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২০১৫ এর সমাপণী অধিবেশন’’।
সূতরাং এটি ১৯৮২ তে কাদের অবস্থান সঠিক ছিল তা ভালোভাবে প্রমাণ করে।পৃথিবীতে এমন অনেক সত্য আছে যা অনেক পরে প্রকাশ পায়, অনেক সঠিকতা আছে যা অনেক পরে বোঝা যায়। ১৯৮২ এর বিষয়টি অনেকে সে সময় বুঝলেও অনেকে পরে প্রমাণ করেছেন তাঁদের না বুঝাটা ভূল ছিল।
২। ১৯৭১ ইস্যু
ক)
পৃথিবীর সবদেশে ১৯৭১ ইস্যু নেই কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের জুলুম নির্যাতন আছেই।বাংলাদেশ এর আন্দোলনের এটি একটি দুর্বল পয়েন্ট যা আগেই সমাধান করার সুযোগ ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সেটা হয়নি।ফলশ্রুতিতে সংগঠন কে এই ইস্যুতে অনেক মাশুল দিতে হচ্ছে।
যে কোন ইস্যুই আন্দোলন থামাতে পারেনা। এটিও পারবেনা, সাময়িক কিছু সমস্যা হবে। এর প্রতিকার আছে, আমি নিজেও কয়েকটা আর্টিকেল এর উপর দেখেছি।প্রতিকারের অনেক পথ আছে, অতএব এটির সমাধান হবেই এবং এই আন্দোলন তার কাঙ্ক্ষিত মাঞ্জিল এ যাবেই ইনশাআল্লাহ্। ১৯৭১ কে সরকারী শক্তি বেছে নিয়েছেন একটা golden opportunity হিসাবে আন্দোলন বিরুদ্ধে কিন্তু এর চুড়ান্ত উদ্দেশ্য কিন্তু আরও অনেক গভীরে, যেমনটা একজন গবেষক লিখেছেন ‘The aim, according to many, has been the undermine the history old-Muslim identity of Bangladesh’s majority people and to de-Islamise the country’’.
খ)
একটা জিনিস মনে রাখতে হবে ১৯৭১ সালে প্রায় সকল ইসলামী সংগঠন এর অবস্থান টা একই ছিল।আর ছাত্রশিবির আর যুবশিবির এর ক্ষেত্রে বুঝার জায়গার ঐ বাস্তবতাটা ছিল, ‘’বয়স এবং অভিজ্ঞতা’’, তথ্যগত ধারণা আর বাস্তবতাটা অনেক সময় এক হয় না তার প্রমাণ হল ২০০১ সালে একরাতে ইসলামী ঐক্যজোট ৩/৪ ভাগে ভাগ হবার পর খেলাফত মজলিস এর এই অংশে (যুবশিবির)এমন অনেকেই আছেন যারা পূর্ব-পাকিস্থান মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। যেটি প্রমাণ করে ১৯৮২ এর ঐ অবস্থান শুনতে ভালো শুনালেও আন্দোলনের বাস্তবতাটা ভিন্ন।এবং তারা অনায়েসে কোন বিতর্ক ছাড়াই তাঁদের সাথে আন্দোলন করছেন।
গ)
Natural Laws and Processes এর একটা principle আছে যাকে বলা হয় Uniformitarianism আর সেটা হল ‘‘The present is the key to the past’’ সূতরাং যুবশিবির তথা পরবর্তীতে মূল আর ছাত্র সংগঠন খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ছাত্র মজলিস এর বর্তমান অবস্থান প্রমান করে ১৯৮২ সালে কাদের অবস্থান সঠিক ছিল। বিশেষ করে অধ্যপক এম আর এ মতিন (খেলাফত মজলিস এর এক অংশের সহকারী/মহাসচিব), সুলতান আহমেদ (খেলাফত মজলিস এর এক অংশের নেতা) সহ অনেক ভাইদের পুনরায় সংগঠনে ফিরে আসা, এবং অনেক ভাইদের পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় হওয়া প্রমাণ করে ১৯৮২ তে যারা চলে গিয়েছিলেন তাঁদের অবস্থান সঠিক ছিল না। আমি মনে করি মূল সংগঠনের অবস্থানটা সঠিক ও শুধু যথার্থই নয় আবশ্যম্ভাবী ছিল।
যাইহোক শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাইয়ের লিখনিতে, তাকে সংগঠনে ফিরানোর জন্য আমীরে জামায়াত সহ সবার যে পেরেশানি বর্ণিত হয়েছে তাঁদের মহানুভবতা, আমায়িকতা, নিষ্ঠা আর মানুষকে দ্বীনের পথে ফেরানোর পেরেশানী দেখে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে এবং এই সংগঠনের একজন সমর্থক হতে পেরে মন থেকে দোয়া আসছে আল্লাহ্ তাঁদের এই প্রচেষ্টা যেন কবুল করেন আর যদি কোন ভুলভ্রান্তি থেকে থাকে তা যেন মাফ করেন। বিশেষ করে উনার লিখুনি থেকে- ‘’ঢাকা থেকে ছাত্রশিবির, যুবশিবির এবং জামাতের নেতৃবৃন্দ সিলেট এলে তাদের কেউ কেউ দয়া করে আমাকে দেখতে এসেছেন আমার চা-পাতার দোকানে, ছাত্রশিবিরের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ডাঃ আমিনুল ইসলাম মুকুল, জামাতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান চা-পাতার দোকনে এসেছেন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা আবু তাহের এবং ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক চা-পাতার দোকানে আসেননি, বাসায় এসেছেন। আমার মনে হয় অন্য সকলের আগমন ছিল সৌজন্য মূলক এবং মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের আগমন ছিল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সামনে রেখে। তাঁর আগমনের একটা পটভূমি রয়েছে। কিন্তু আমি দেখলাম, যুবশিবির, জামাত এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধ, উত্তেজনা, পারস্পরিক চরিত্র হনন বন্ধের.. জন্যে আমি আমীরে জামাতের কাছে দুটি চিঠি লেখি। আমরা জানি সময় অনেক সময় বড় বড় ক্ষত শুকিয়ে দিতে পারে। এখন যদি সকল পক্ষ যার যার মত কাজ চালিয়ে যেতে পারে তা হলে হয়তো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক সময় সবাই মিলে একটা সমঝোতার পথ অন্বেষণ করা যেতে পারে। এ চিঠির জবাব দিতেই মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি এসে বললেন, ‘প্রফেসার সাহেব আপনার চিঠি পেয়েছেন। আপনার উদ্বেগ এবং পরামর্শের জন্যে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সাথে সাথে একটা বার্তা আপনাকে পৌঁছে দিতে বলেছেন।’আমি খুব ঔৎসক্যের সাথে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সে বার্তাটি কী?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘অতীতে যা হবার হয়েছে তা ভুলে গিয়ে আপনাকে জামাতে ইসলামীতে যোগ দিতে বলেছেন। সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের কারণে জামাতে ইসলামীর সদস্য হতে আপনার কোন অসুবিধা হবে না।’
আমি আবারও অভিভূত তৎকালীন জামায়াত নেতৃত্বের বা ছাত্রশিবির এর নেতৃত্বের মহানূভবতা দেখে আর এটিও বুঝি কেন সংগঠন আজ এ পর্যন্ত এসেছে। অনেক মন থেকে শ্রদ্ধা আপনাদের প্রতি আসে।
কিন্তু লিখুনির এই অংশটুকু (‘’ প্রফেসার সাহেব এর আন্তরিকতার আর প্রশ্নের জবাবে .. মধ্যখানে লম্ফ দিয়ে সোজা মওলানা মওদুদী.. আর প্রফেসার সাহেব কথার কোন জবাব না দিয়ে যে শুধু মুচকি হাসি দিলেন, তার এই মলিন হাসি মুখটি আমার মত অনেকের হৃদয়কে ব্যথিত করছে এবং করবে।
ঘ)
শ্রদ্ধেয় ফরিদ রেজা ভাই এর ১৯৮২ সালের কথকতাঃ পাদটীকায় এ
‘’ আমরা দেখেছি, ৮২ সালে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছিল একই ধরণের সংকট পরবর্তীতেও হয়েছে। তাই বিষয়টা নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া সময়ের দাবি বলে আমি মনে করি। এ প্রেক্ষিতেই এ সকল বিষয় এসেছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া অন্বেষণ শুরু হয়েছে। আমার এ আলোচনা সংকট উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস’’।
আমি জানি না কারা এই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া অন্বেষণ শুরু করেছেন। যদি এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি অথবা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির হয় আমি খুব খুশি হব এবং অনুরোধ করব ব্লগে নয় আপনার পরামর্শ তাঁদের সরাসরী, ওয়েবসাইটে, অথবা ফেসবুকে inbox এ দিন যেটি বেশী কার্যকরী হবে বলে আমার ধারণা। আর এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া অন্বেষণ যদি সংগঠনের বাহিরে হয়, আর এ কারণে যদি এটা লিখা হয় তাহলে এটা উত্তরণের পরিবর্তে আমি নিশ্চিত আর একটি নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে।
পরিশেষে, যদি ১৯৮২ না ঘটতো তাহলে শহীদ কামারুজ্জামান হয়ত ফরিদ রেজা ভাই এর মত একজন সাংবাদিক বা সাহিত্যিক তার সাথে পেতেন। জামায়াত, ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ভাই এর মত হয়ত একজন মেধাবী সংগঠক পেতেন। কিন্তু আল্লাহ্ রাব্বুল আল’আমিন সবার খেদমত একভাবে কবুল করেন না। অধ্যপক এম আর এ মতিন (খেলাফত মজলিস এর এক অংশের সহকারী/মহাসচিব, সুলতান আহমেদ (খেলাফত মজলিস এর এক অংশের নেতা)সহ অনেক ভাইয়েরা আবারও সংগঠনে ফিরে এসেছে। ড. আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চু ভাই কাওমী পন্থি অনেক আলেমকে সংগঠিত করেছেন এটা ইসলামের একটি অনেক বড় খেদমত, ফরিদ রেজা ভাই দাওাতুল ইসলাম ইউ কে এর সাথে আছেন।দেশের বাইরে যারা থাকেন তারা জানবেন সেখান থেকে দেশ ও মুসলিম উম্মাহ এর অনেক খেদমত করা হয়।সূতরাং নতুন করে তর্ক বিতর্কে না জড়িয়ে আমাদের উচিত একে অপরের জন্য দোয়া করার।রাসূল (সাঃ)এর ঐ বানীটা নিশ্চিত করার যে একজন মুসলমান থেকে আর একজন মুসলমান এর তিনটি জিনিস আমানাত রক্ত(জীবন), মাল আর সন্মান। আমারা যেন কোনভাবেই কারো সন্মানহানি না করি, যদি কারো কোন ভুল থাকে তাকে সরাসরী ধরিয়ে দেই, না পেলে টেক্সট এ, ইনবক্স করে তাকেই জানাই।আর না পারলে মাফ করে দেই কেননা কেয়ামতের দিন প্রত্যেকের হিসাব প্রত্যেককে দিতে হবে, একজনের টা আর একজনের নয়।
ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার সমীকরণ টি
বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন মানুষদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন।মানুষ মাত্র ভুলত্রুটি থাকবেই কারণ মানুষত আর ফিরিস্তা নয়, মানুষই। আমাদের প্রিয় এ কাফেলার সম্ভবনা যেমন অনেক আছে তেমনি সিমাবদ্ধতা ও challenge ও আছে অনেক। আছে প্রয়োজন গবেষণার তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার। সমালোচনার ভালো পদ্ধতি হল সরাসরী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনকে ধরিয়ে দেয়া, না পারলে টেক্সট এ, ইনবক্স করে অথবা ওয়েব এ তাকেই জানানো, আর মাফ করে দেয়া। আল্লাহ তালা মানুষকে বেশ কিছু দোষ গুণ দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, তার মধ্যে মনে হয় সবচেয়ে বড় দোষ হচ্ছে নিজের ভুল রেখে ঠিক একই ভুল অন্যের মধ্যে খুজে বেড়ানো।এটা কখনও গীবত আর বুহতানের দিকে আবার কখনও বিজয়ী হতে গিয়ে ভুল পথে ধাবিত করে।
১৯৮২ বা ২০০৯ এর ঘটনা বার বার আলোচনা ইতিহাসের দ্বায়বদ্ধতা হতে পারেনা যেমন পারেনা হযরত আলী (রাঃ) ও মুয়াবিয়া (রাঃ) এর ঘটনার বা উস্ট্রের যুদ্ধের ঘটনার বার বার আলোচনার। তবে এ ধরণের ঘটনার আর যেন না ঘটে সেই পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। সেটি ব্লগে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে নয় নিতে হবে সংগঠনকে। আমি জানি না এই লিখাটা শহীদের এ প্রিয় কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে এর কেন্দ্রীয় সভাপতি বা পরিষদের কেউ পরবেন কি না ?? তবে আমি মনে করি তারাই পারেন এই বিতর্কটা বন্ধ করতে সংবিধানে সামান্য একটি সংশোধনী (দুটি ধারার দুটি লাইন)করেই। নেতৃত্ব নির্বাচনের এই জায়গাটা অনেক পবিত্র ও ঐতিহ্যের যেটা এখনও অটুট আছে বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু আরও প্রশ্নের উর্ধে রাখতে মুহতারাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিষদের সেই সুযোগ আছে। আর সেটি করা হলে দেশে বিদেশে অনেক ভাইয়েরা জেনে না জেনে, বুঝে না বুঝে, স্বেচ্ছায় অনিচ্ছায় যে ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ে সমালোচনা বা নিষ্ক্রিয় আছেন তারা হয়ত এই আন্দোলনের জন্য অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আমার সীমাবদ্ধতা ও একটি অনুরোধ
আমি ধন্যবাদ জানাই প্রিয় ভাইদের যারা আমার লিখার যৌক্তিক সমালোচনা করেছেন। আমার সীমাবদ্ধতাটা হল সব উত্তরেই আমি জানি কিন্তু ব্লগে দেয়াটা সমীচীন মনে করি না। আমি সৌভাগ্যবান যে বিরোধী থেকে পরিষদ এবং জীবনের এমন কঠিন কিছু সময় একান্তে এই কাফেলাকে সাথে এবং আল্লাহ্ তাআলা কিভাবে এই কাফেলাকে সহযোগিতা করেন তা দেখার সুযোগ পেয়েছি।সমালোচনা বা কোন প্রশ্ন আমাকে কেউ সরাসরি বা ইনবক্স করলে অথবা ইমেইল করলে আমি অবশ্যই চেষ্টা করব উত্তর দেয়ার ইনশাআল্লাহ্।
আর ভেবে দেখার অনুরোধটি হল, যে কোন বিষয় সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হলে অবশ্যই দুই পক্ষের কথা শোনাটা জরুরী। আমার ছোট্ট সাংগঠনিক জীবনে অনেক ঘটনা দেখেছি প্রথম পক্ষের কথা শুনার পর ২য় পক্ষের প্রতি ভীষণ খারাপ ধারণা আর রাগ হয়, কিন্তু ২য় পক্ষের কথা শুনার পর মনে হয় আগের ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল।আপনারা এ ক্ষেত্রে একমত না হতেও পারেন।
১৯৮২/২০১০ বা অন্য যে কোন ইস্যুতে যদি জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের সর্বোচ্চ ফোরাম ২য় পক্ষ হয়, আপনি কি মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়া বা এই ব্লগে তাঁদের জবাব দেয়াটা উচিৎ?????
আমি মনে করি উচিৎ নয়। আর যদি তাঁদের কোন বক্তব্য অভিযোগের বিষয় নেয়ার/জানার সুযোগ না হয়, তাঁদের অবস্থান যদি আপনার কাছে না পৌঁছে তাহলে আমার আপনার ধারণাটা যতই যৌক্তিক মনে হোক না কেন সেটি কি যথার্থ ও সঠিক হবে ?????? আনূরোধ একটু ভেবে দেখবেন।
২০০৯
এই লিখাটা রেডি থাকলেও হয়ত অব্যাহত হবে না যদি অযাচিত সমালোচনা বন্ধের সম্ভবনা না থাকে বা ব্লগ অ্যাডমিন এর মত কঠিন word এ decent হবার নির্দেশনা না আসে। শেষ করছি একটা নসিহা সংক্ষেপে শেয়ার করে; সেদিন জুমার খোৎবায় কানাডিয়ান একজন শায়েখ চমৎকার একটা হাদিস বলেছেন “ রাসুল (সাঃ)পরপর তিনদিন গ্রুপ আলচনারত অবস্থায় একজন আগুন্তুক সাহাবাকে দেখিয়ে নাম নিয়ে বললেন তিনি জান্নাতি, তরুণ একজন সাহাবী তাকে অনুসরণ করার জন্য তার বাসার মেহমান হলেন কিন্তু তিনদিনে এমন কোন কিছু পেলেন না যা জান্নাত যাবার নিশ্চয়তা দিতে পারে, অবশেষে ঘটনা বর্ণনা করে তিনি জানতে চাইলেন কি এমন আছে আপনার যা জান্নাত যাবার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তিনি বললেন আমি ঘুমাতে যাবার আগে সকল কে মাফ করে ঘুমাই”। আমার মনে হয় আমাদের জন্য এটির প্রয়োজন বেশি। আমাদের প্রত্যককে নিজের হিসাব দিতে হবে আর নেতৃত্বকে তার নিজের আর সংগঠনের হিসাব দিতে হবে কেয়ামতের দিন।সূতরাং কিছু বিষয় আমরা আল্লাহ্ তাআলার কাছে অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারি।
১৯৮২ ও ২০১০ এর ঘটনায় আমরা প্রত্যেকে কষ্ট পেয়েছি। অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখেছি। কিন্তু বাংলাদেশ যেখানে যাচ্ছে এবং উত্তরণের জন্য একজন প্রবীণ গবেষকের মতে ‘’ Our son and daughters from all background including the diasporas population should bring their brains together and work hard to rebuilt a new Bangladesh that we all can be proud off’’ তাই চলুন রাগ ক্ষোভ সব ভুলে কাজ করি আমাদের নিজেদের মুক্তির জন্য এ কাফেলার সাথে, সকল সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে।
‘’ কি হবে হতাশ হয়ে হারিয়ে গিয়ে ???
কি হবে জীবন থেকে চুপিসারে পালিয়ে গিয়ে ??? – আমাদের প্রিয় কবি মল্লিক
প্রয়োজনীয়তার নিরিখে চলতে পারে ………




