ঠিক যে যে কারণে জামায়াত পীরবাদের সমালোচনা করে, সে বৈশিষ্টগুলো জামায়াতেও বিদ্যমান। এখানে আমীর হলেন পীর। এহতাশাবের কথা চালু থাকলেও সাধারণ একজন কর্মী ভাল ভাবেই বোঝেন আমীরের সমালোচনা করার পর তার কি পরিণতি হবে। এই এক কেন্দ্রিক ব্যবস্থার কারণে আমরা দেখেছি রাজনৈতিকভাবে বড় বড় ভূল করতে। কিন্তু ভূলের পর আমরা আত্নসমালোচনা করতে দেখি নাই। কারও কারও ভূলের কারণে বহু কর্মী জীবন দিয়েছে: বহু পঙ্গু হয়েছে কিন্তু যারা এই ভূল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদেরকে আমরা আত্ন সমালোচনা করতে দেখি নাই।
পীর প্রথায় যেমন পীরের পছন্দের বাহিরে অন্য কাউকে নেতৃত্বে আনা হয় না তেমনি জামায়াতে আমীরের পছন্দের বাহিরে যে কোন কারও নেতা হয়া সম্ভব নয় যোগ্যতা থাকার পরও। অনেক যোগ্যতা থাকা সত্বেও অনেককে বছরের পর বছর রোকন বানানো হয় না শুধুমাত্র তারা আমীরের অনুগত নয় বলে। এটা ইসলামী আন্দোলনের সঠিক পথ হতে পারে না। এই মানসিকতার কারণে সকল পর্যায়ে সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে কেউ কোন সংস্কারের কথা বললেই তাকে “র” আর মোসাদের এজেন্ট বলা হচ্ছে। কিন্তু সম্ভাবনা থাকার পরও যারা একটি ইসলামী আন্দোলনকে গোড়ামী করে ধ্বংস করে দিচ্ছে তারাই আসল ষড়যন্ত্রকারী।
আমরা সব সময় ভুলে যাই জামায়াত ইসলামী আন্দোলনের কোন ট্রেডমার্ক নয়। অস্বীকার করা যাবে না যে জামায়াত এবং ছাত্রশিবির এ দেশে মানুষকে ইসলামী আন্দোলন বোঝানোর জন্য বহু কিছু করেছে। সকল ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জামায়াতের প্রতি এ জন্য দোয়া করা উচিৎ। কিন্তু কেউ যদি সময়মত তার দায়িত্ব পালন করতে না পারে তবে তার জন্য বসে থাকা যাবে না। নতুন কাউকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এতে ইসলামী আন্দোলনের কোন ক্ষতি হবে না। আরো শক্তিশালী হবে। সবাই মিলে ভূল পথে চলার সময় কিছু মানুষ যখন সঠিক পথ দেখায় অন্য সবাই তাদের উপর রাগ হয়। কিন্তু এই কিছু মানুষ যখন সঠিক পথ পেতে সফল হয় তখন সবাই তার পিছনে এসে হাজির হয়।
নতুনভাবে ভাবতে হবে। যেভাবে চলছি সেভাবে খুব বেশি দূর যাওয়া যাবে না। শক্তি, সম্পদ আর জীবনের ক্ষতি হবে। তীলে তীলে একটি উর্ব্বর ময়দানকে শেষ করা হবে। সবাই এক নতুন ভোর দেখার অপেক্ষায়।




