এক)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বর্তমান সময়ে বেশ মজাদার কিছু বিতর্ক শুরু হয়েছে। মজাদার বললাম এ জন্য – আজ থেকে কয়েক বছর পূর্বে যে বিষয়গুলো জামায়াত ইনসাইড (ভিতরে) আলোচনার সুযোগ কল্পনা করা যেত না।আজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই বিষয়গুলো জামায়াত ইন আউট উভয়ই হচ্ছে। আউট আব বক্স – চিন্তা-ভাবনা করার বেশ কিছু সাহসী মানুষ তৈরী হয়েছে। এর শুরুটা হয়েছিল – কামরুজ্জামান সাহেবের একটি চিঠির মাধ্যমে। তখন তা মিডিয়াতে বেশ কিছুদিন আলোচনা হয়েছিল। জামায়াতের দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতারা এটা নিয়ে ভাসুর ভাসুর জবাব দিয়েছেন। না গ্রহন আর না হজম।
দেশ থেকে আসা বড় মাপের একজন নেতাকে কামরুজ্জামান সাহেবের চিঠি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে – তিনি তাচ্ছিল্য ভাবে বলেছিলেন – ‘বাড়িতে মুর্দা রেখে কোন বিয়ের আলাপ করা যায় না’।এই নেতার দীর্ঘদিনের সাথী সম্পর্কে মূল্যায়ন ছিল এমন – একজন হতাশ আর জীবন সম্পর্কে নিরাশ ব্যক্তির কাছ থেকে এরকম চিন্তাই স্বাভাবিক।সংস্কার বা রি-থিংক করার সময় এখন নয়। বরং চার দেয়ালের ভিতর থেকে এরকম মজার মজার কল্পনা করা যায়।আপত্তিকর আরো বেশ কিছু শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। অবশ্য বিরাট উচু মাপের এই নেতার বক্তৃতার ষ্টাইলই এরকম।
দুই)
কামরুজ্জামান সাহেবের পত্রটি বের হবার পর সোনার বাংলা ব্লগে প্রচুর লেখা হয়। ঐ সময় সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় ফিচার লেখেন মুহতারামা শামছুর নাহার নিজামী। তার লিখাটির মূল আবেদন ছিল – কামরুজ্জামান সাহেবের লিখাটিকে কনডেম করা (বিবেচনায় নিতে …… এরকম কিছু)। ঐ সময় দেখেছি আব্দুল কাদের বাচ্চু সাহেবের এক সময়ের সাথী – যিনি বর্তমানে একটি দেশের, বড় শহরের জামায়াতের দায়িত্বশীল। তিনি শামছুর নাহার নিজামীর পক্ষে মন্তব্য করেছেন।
এটা একটা বিচিত্র অভিজ্ঞতা।কেন জানি মনে হয়েছে পদ পদবীর প্রয়োজনটা বড়।আউট অব বক্স চিন্তা করার কোন সাহস – সঠিক সময়ে এই শ্রেণীর প্রিয় মানুষগুলো দেখাতে পারে না।
মুক্তচিন্তা,গতিশীলতা,নতুনত্বকে আলিঙ্গন করা,সময়কে ধারণ করা,আগামীর পরিকল্পনা করা,আপন জনশক্তিকে সময়ের সাহসী মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা – একটি গণমুখি চরিত্রের গণ সংগঠনে পরিণত করার সময় ও সুযোগ নেই বলা যায়। এটাকে অযোগ্যতা বা সিসটেমের সমস্যা না ক্ষনস্থায়ী পদবীর হাতছাড়া হওয়ার লোভ। কি ভাবে মূল্যায়ন করবো।
তবে আমার বিশ্বাস – সম্ভাবনার যে দিগন্ত জামায়াতের ছিল সেটা এখনো আছে। তার সঠিক মূল্যায়ন এবং সফলতার সমীকরণে পৌছার মত সাংগঠনিক অবস্থা রয়েছে।
কিসের প্রয়োজন – কেন প্রয়োজন – কিভাবে হতে পারে – ইত্যাদি বিষয়গুলোর জন্য কিছু লোকের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।
তিন)
ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক সাহেব নয়া দিগন্তে একটি প্রবন্ধ লিখেন।প্রসঙ্গ ইসলামী আন্দোলনের সংস্কার। এটা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। ব্লগে এবং ব্লগের বাহিরে ও ব্যারিষ্টার সাহেবকে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে লিখা হয়।যদিও ব্যারিষ্টার সাহেব খুবই চমৎকার ভাবে ঐ সময়ের বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলনগুলোর কী করনীয় তার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করেছিলেন।যে সময় এই লিখাটা নয়া দিগন্ত ছাপে তখন আরব বসন্তের হাওয়া নীল নদের পাড়ে ডঃ মোহাম্মদ মুরসী সহ ইখওয়ানের হানিমুণ পিরিয়ড চলছিল। তার পরের ইতিহাস আমাদের সবার জানা।
বলা যায় জামায়াতের বড় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কামরুজ্জামান এবং আব্দুর রাজ্জাক সাহেবরা কিছুটা গলা ঝেড়ে কাশি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর আর কেউ এই পথে অগ্রসর হন নি।অথবা শেষ পরিণতির ভয়ে হয়তো…………. অথবা অনেক কিছূ।
এখানে জানিয়ে রাখি – ঐ বড় উচু মাপের নেতা যিনি এখনো বিদেশে আসা যাওয়ার মধ্যে আছেন।তাকে ব্যারিষ্টার সাহেবের লেখার প্রতি দৃর্ষ্টি আকর্ষন করলে – জবাব দিলেন, আমি পড়েনি। আবার নিজে শুধরালেন – পড়ার সময় পাননি। আবার অন্য এক ঘরোয়া পরিবেশে এই নেতা বললেন – লেখাটা আসলে শিশির মোহাম্মদ লিখে দিয়েছে।(প্রাক্তন শিবিরের নেতা ও ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের জুনিয়র।) আমি তাকে কোট করছি যে, জামায়াতের সমালোচনা নয় বরং গঠন মূলক লিখা,বক্তব্য,মতামতগুলোকে কি চোখে দেখেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।গ্রহন করা অথবা আউট আব বক্স চিন্তা করার কল্পনাও তাদের চিন্তার জগতে নেই।
চার)
এ বিষয়ে ব্লগে লেখা লেখি যারা বেশি করেন। তাদের মধ্যে উ্ল্লেখযোগ্য জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,জনাব এম এন হাসান, জনাব হাসান তারিক,জনাব মুহসিন আব্দুল্লাহ। জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং লোকমানবিনইউসুপ – আরো অনেকেই সরাসরি লেখেন ও মন্তব্য করেন। তাদের লেখায় যেমন তথ্য থাকে তেমন চিন্তার খোরাক ও থাকে।
ইসলামীক মুভমেন্ট বাংলাদেশ নামে নতুন একটি ব্লগ খোলা হয়েছে। ব্লগটি সাজানো হয়েছে গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের তথ্য তথ্যাদি দিয়ে। মুক্ত চিন্তার একটি প্লাট ফরম বলা যায়।যারা নিজেদের বিবেককে প্রকাশ করতে চান তাদের জন্য সুন্দর একটি আয়োজন।
http://www.onbangladesh.org
নতুন এই ব্লগে জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সাহেব ধারাবাহিক একটি সাক্ষাৎকার পোষ্ট করেছেন। তিন পর্বের এই লিখাটিতে বেশ কিছু বিষয় তুলে এনেছেন। যা এতদিন খুবই হিডেন ছিল।তার লেখার বেশ কিছু বিষয়ের সাথে একমত হওয়া যায়।আবার বেশ কিছু বিষয়ের সাথে মোটেই একমত হওয়া যায় না। আবার কয়েকটি বিষয় এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা তথ্যগত দিক থেকে মোটেই সঠিক নয়।
আইএমবিডি ব্লগে লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে বিডি টুডেতে লিংক দিয়ে একটি লেখা ছাপা হয়।
সব মিলিয়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত বা চিন্তার ক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরী হতে পারে এমন আশংকায় আমার এই দৃষ্টি আকর্ষণ।
আমি মনে করি লেখালেখি বা মতামত দেবার ক্ষেত্রে আমাদের সবার কয়েকটি জায়গায় একমত হওয়া জরুরী।একমত বলতে বুঝাচ্ছি যাদের জন্য এই আয়োজন তাদেরকে কতটুকু রিডিং করা হচ্ছে।
প্রথমত যাদের নিয়ে এই চিন্তা তাদের মনোজগতটা কেমন?আমি জামায়াত নেতৃবৃন্দের কথা বলছি।
২য় – শুভাকাংখী হয়ে যারা এই কল্যাণকর সংগঠনকে সাহায্য করার নিয়তে চেষ্টা করছেন। তাদের সামাজিক ও সাংগঠনিক অবস্থান কী?আবেদন বা নিবেদন যাই বলি না কেন তা সীসা ঢালা প্রাচীর ভেদ করে যথাস্থানে পৌছবে?
৩য় – পরামর্শ বা সমালোচনা যাই বলি না কেন, তা কি নির্মোহ? এবং সঠিক অর্থে মূল্যায়নের জায়গাটা তৈরী হচ্ছে? নাকি নতুন করে ফিতনা তৈরী হবে?
৪র্থ – যারা জামায়াতকে আপন পছন্দের জায়গা থেকে এত চেষ্টা করছেন তার ফলোআপটা কী হবে? পৃথিবীর সব প্রতিষ্ঠানের একটি উপদেষ্টা কমিটি বা গ্রুপ থাকে।একমাত্র জামায়াত ব্যতিক্রম। কারন টা কি – জামায়াতের সিসটেম না কিছু লোকের একছত্র মালিকানার বিষয়।




