সর্বত্র সুস্থ ধারা চালু থাক বা চালু হোক এটা কে না চায়? তবে, ব্যক্তির পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে আলোচনাকে অতোটা গুরুত্ব দেওয়া আমার মতে বর্জনীয়। আমি সত্য-সন্ধানী হতে চাই। অভিযোগ শুনে তাতে অন্ধ বিশ্বাস করা আর অন্ধভাবে তা ছুড়ে ফেলা কোনোটাই আমার মতে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নয়।আমি আমার এ পুরো লেখায় ইনশাআল্লাহ কোনো ব্যক্তির ভুল ধরা বা তার পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করবো না। আমার চেষ্টা থাকবে পদ্ধতির (বা System এর) বিষয়ে আলোকপাত করা।
আমি বুঝতে পারছি না যে- ‘ফরিদ রেজা ভাই কি লিখলেন– এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো কেনো?’ আর গুরুত্বপূর্ণই যদি হয় তাহলে ঐ সময়ের দায়িত্বশীলের রেফারেন্স দিয়ে ঐ লেখার খন্ডন কেনো করা হচ্ছে না?
আলোচ্য ব্লগের সম্পাদকীয় নীতিতে সংগঠনকে বিতর্কিত করার, দোষ খোঁজার আর সমালোচনা প্রবণতার কি কি আছে তার একটা তালিকা প্রয়োজন নয় কি? আর সংগঠন কি নবীর মতো বিতর্কের উর্ধ্বে? এ ব্লগে দোষ ধরার উদ্দেশ্য যে দোষ বাড়ানো- তার কি কি প্রমাণ আছে? আর সমালোচনা প্রবণতা কি উঠে যাওয়া উচিত? অবশ্য, কেনো তা পারলিক প্লেসে হবে- এটা একটা যৌক্তিক প্রশ্ন। কিন্তু এর জবাব সকল মতাবলম্বীর অবস্থানকেই কি বিতর্কিত করছে না?
হযরত লোকমান (আ.) বলেছিলেন, তিনি নাকি বেয়াদবের কাছ থেকে আদব শিখেছিলেন। আসলেই, বেয়াদবী বাদ দিয়েই আদব শেখা সম্ভব। সে হিসেবে এ ব্লগকে ‘বেয়াদব’ বলে মেনে নিলেও তা থেকে কিছু শেখা যেতে পারে। আর এ ব্লগের লেখার ভ্রান্তিও যুক্তি, তথ্য ও দলীল দিয়ে খন্ডনে একদল লোক ‘স্বেচ্ছাসেবকের’ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে, আন্দোলনের মূল কাজ বাদ দিয়ে কেবল লেখালেখি করাটা আমার মতে ফরয বাদ দিয়ে নফল চর্চার সমতুল্য। তবে, সংস্কারের উদ্দেশ্যে সমালোচনার প্রয়োজনীয়তা কে না স্বীকার করে?
আমি আশা করছি সালেহী ভাইয়ের কাছ থেকে আমরা এ ব্লগে আবেগের চেয়ে তথ্যের আধিক্য পাবো এবং তত্ত্বের পরিবর্তে বাস্তবতার অগ্রাধিকার অনুভব করবো এবং ইতিহাসের চেয়ে বর্তমানকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবার প্রেরণা পাবো। তাহলে এ ব্লগের সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেতে পারে। দেশে যেমন ইসলামবিরোধী লোক আছে তেমনি দেশের বাইরেও ইসলাম সমর্থক জনতা আছে। আবার কঠিন সময়ে উত্তীর্ণ কর্মী যেমন আছে তেমনি বড় পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়া সদস্যও আছে। গড়ে সদস্যের মান ভালো হলেও বিচ্ছিন্নভাবে অনেক সাথীর মান কোনো কোনো সদস্যের চেয়ে যেমন ভালো হতে পারে তেমনি দেশের বাইরে থাকা সত্ত্বেও তার অবদান বেশি হওয়া অসম্ভব নয়। ‘ভুল সংশোধন চাওয়া’ আর ‘বিতর্কিত করা’ হুবহু এক বিষয় নয় বরং তা আলাদা। আবার ভুল সংশোধনের ভুল পন্থাও অনাহুত বিতর্কের জন্ম দিক- এটা আশা করা ঠিক নয়। সবমিলে, পদ্ধতি কি হবে এ বিষয়ে মতবিনিময় কাম্য কিন্তু যুদ্ধ বা বিদ্বেষ অবশ্যই বর্জনীয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী মনোনীত করবেন- কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে; নাকি পরামর্শ অনুযায়ী- এ ব্যাপারটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ‘পরামর্শ করে’ আর ‘পরামর্শ অনুযায়ী’ এর মধ্যে পার্থক্য আছে। ‘পরামর্শ করে’ মনোনয়ন সবসময় ‘পরামর্শ অনুযায়ী’ নাও হতে পারে। কিন্তু ‘পরামর্শ অনুযায়ী’ বললে তা অবশ্যই ‘পরামর্শ করে’ও বুঝায়। শুধু ‘পরামর্শ করে’ বলা হলে এর অর্থ দাঁড়ায় কেন্দ্রীয় সভাপতি নিজের বা অন্যের মতানুযায়ী অধিকাংশের মতের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটা যেমন এক ধরনের স্বাধীনতা তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে স্বেচ্ছাচারিতাও হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, (ক)স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে এ স্বাধীনতা হরণ করা হবে? নাকি (খ)স্বাধীনতা রাখতে গিয়ে সেচ্ছাচারিতার সুযোগ খুলে দেওয়া হবে? এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়ের দাবি নয় কি?
যারা সংগঠনকে বিতর্কিত করেন তারা যেমন ভ্রান্ত তেমনি যারা সংগঠনকে বিতর্কিত করার বা হওয়ার সুযোগ দেন তারাও কি ভ্রান্ত নন? ভোট নিয়ে কারা সন্দেহ করে? এ সন্দেহ দূর করার কি উপায়? এ বিষয়গুলো আলোচিত হওয়া প্রয়োজন। সন্দেহকারীরা অন্যের এজেন্ট হয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হওয়া উচিত। আর এজেন্ট না হলে তাদের সন্দেহ দূর করা উচিত। সংগঠন যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে- এ জাতীয় সকল সন্দেহ দূর করবে- তাহলে আল্লাহ কি এতোই নিষ্ঠুর যে একটা উপায় বের করার সুযোগ দেবেন না?
ভবিষ্যত নেতৃত্ব নির্বাচনে বিশেষ এলাকা বা বিশেষ প্রতিষ্ঠান নিয়ামকরূপে ভূমিকা পালন করার পর ‘নেতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে’ ধরনের বক্তৃতা দিচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও কি অনেকে ভাবছে না? এ ধরনের ভাবনার সুযোগ দেওয়ার জন্য কি অন্যদের কোনো দায় নেই? বিজয়ী হতে ভুল পথ ধরা যেমন অন্যায় তেমনি বিজয়ী হওয়ার পরও ভুল পথ ধরা অন্যায়। বাস্তবতা হচ্ছে- বিজয়ীরা এমনভাবে ইতিহাস প্রচার করে যেনো তাদের কোনো অন্যায়ই নেই আর পরাজিতদের সবই কেবল অন্যায়। আমার মতে, সিস্টেমের সমালোচনা করা (ব্যক্তির নয়) কখনো গীবতের বা বুহতানের পর্যায়ে পড়ে না। আর যা গীবত ও বুহতান নয়- তা জনতার মঞ্চে আলোচিত হলেও কোনো সমস্যা থাকে না।
সালেহী ভাই, যার নাম শুনেননি তিনি বাস্তবে থাকবেন না- এমন কোনো কথা আছে কি? তবে, অনাহুত বিতর্ক কাম্য নয়- এ বিষয়ে ভাইয়ের সাথে আমি একমত। তবে, পর্যালোচনার মাধ্যমে নিজেদের ভুল শুধরানোর প্রচেষ্টা কি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত নয়? সালেহী ভাইয়ের সাথে আরও একমত এ বিষয়ে যে, সমালোচনার জন্য সমালোচনা হওয়া উচিত নয়। তা উচিত কেবল সংস্কারের উদ্দেশ্যে।
ফরিদ রেজা ভাই এর নিয়ত কি ঘটনার বর্ণনা নাকি ব্যক্তির সমালোচনা- তা আল্লাহ ভালো জানেন। আমি ব্যক্তির সমালোচনাকে সমাধান মনে করি না। তবে, শরয়ী বিধান নয় এমন সিস্টেমের সংশোধনকে আমি গতিশীলতা মনে করি, ঐতিহ্যের লংঘন মনে করি না। বরং গতিশীলতাকেই আমি আমাদের ঐতিহ্য মনে করি।
প্রাসঙ্গিক লেখাঃ ১৯৮২ ও ২০০৯; ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার একটি সমীকরণ




