প্রথমেই অনুরোধ, দ্বিমত পোষণকারী ভাইদের আন্তরিকতাকে কাজে লাগান। পারস্পরিক বিদ্বেষ ও অপভাষা দমনে ভূমিকা রাখুন। আন্তরিকতাসম্পন্ন লোকদের অন্তরের কান্না শুনুন। ১৯৮২ ও ২০০৯ এ যার যা ভুল হোক তার যেনো আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
দ্বিমতের কেন্দ্রবিন্দু মনে হয় সংবিধানের কিছু ধারার কিছু শব্দ নিয়ে। যেমন: কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী মনোনীত হবে কি কার্যকরী পরিষদের ‘পরামর্শ অনুযায়ী’ নাকি কেবল ‘পরামর্শ করে’। কারণ কেউ কেউ ভাবছেন- কেন্দ্রীয় সভাপতির ছাত্রজীবন শেষ হলে আর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারীর ছাত্রজীবন বহাল থাকলে সদস্যরা কখনো কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেয় না। ফলে, ভবিষ্যতের সভাপতি নির্ভর করছে সেক্রেটারী মনোনয়নের উপর। তাই কেবল পরামর্শ করেই মনোনয়ন দিলে (যে পরে কেন্দ্রীয় সভাপতি হবে) সংগঠনে কার্যকরী পরিষদের চেয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি বা জামায়াতের হাতে গোনা কিছু নেতার গুরুত্ব একচেটিয়া হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারীকে কার্যকরী পরিষদের ‘পরামর্শ অনুযায়ী’ মনোনীত করা হলে এতে হয়তো কারোর আপত্তি থাকার কথা নয়।
সংগঠন চেষ্টা করলেই ব্লগে ‘বাহাসের’ ধারা বন্ধ করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। বাহাস অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংগঠন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে যেনো সকলে সমস্যা সমাধানে সংগঠনের আন্তরিকতা, নিরপেক্ষতা ও ইনসাফের প্রমাণ পায়।
যে ভায়েরা জীবন দিয়ে, হাত, পা, চোখ, দাঁত, ক্যারিয়ার হারিয়ে, জেল জুলুম, রিমান্ডের নির্যাতন মেনে নিচ্ছে তারা নিশ্চয়ই ‘বাহাসকে’ ভালোভাবে গ্রহণ করবে না।
আমার মতে, ১৯৮২ সালের ঘটনায় এবং ২০০৯ সালের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই কিছু না কিছু শুদ্ধ ও ভুল বিষয় ছিলো। হতে পারে তা একটু কম বা বেশি। তবে সব সময়েই অল্প কিছু লোকের কারণেই মতানৈক্য নয়। আর প্রত্যেক পক্ষ এমন ব্যাখ্যা করে যেনো মনে হয় কেবল তারাই শতভাগ শুদ্ধ। আমার মনে হয়, এ ধরনের প্রান্তিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
‘যুব সংগঠন’ গঠন করা বা না করা শরীয়াতের কোনো বিষয় নয়। প্রয়োজনের আলোকে মূল সংগঠনের সহায়করূপে তা বন্ধ বা চালু করা যেতে পারে। কে কোন পক্ষে ছিলো তার উপর ভিত্তি করে যুব সংগঠন গঠন করাটা ন্যায় বা অন্যায় হয়ে যায় না। তাছাড়া, আমার মতে, যুব সংগঠন বানানোর কাজ মূলত বৃহত্তর সংগঠনের। ছাত্ররা এ কাজে সহযোগিতা করতে পারে।
যিনি যে জেলার, অঞ্চলের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দায়িত্বশীল ছিলেন তিনি সেই পরিসরের লোক সম্পর্কে ভালো জানেন বিধায় অনেক সময় মনের অজান্তে বা জ্ঞাতসারে ঐ পরিসরের জনশক্তিকে নেতৃত্বে উঠিয়ে নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এ প্রবণতা কিছুটা সহজাত হলেও তা অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং করেও।
সাবেকদের অভিজ্ঞতা বেশি হলেও বর্তমান দায়িত্বশীলরা প্রেক্ষাপট বুঝে বেশি। তাই সিদ্ধান্ত বর্তমান দায়িত্বশীলরাই নেবেন- কিন্তু সাবেকদের কাছ থেকে বুদ্ধি, পরামর্শ ও সহযোগিতা নেবেন। কিন্তু সাবেক এক বা কয়েক জনের পরামর্শ মানতেই হবে নতুবা বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে- এমন পরিস্থিতি দু:খজনক।
সংগঠনে অন্যায়ে না জড়িয়ে কোণঠাসা হওয়া আবার অন্যায় করেও পার পেয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়- এমনটা ভাবা মনে হয় একটু অতিরিক্ত সুধারণা। কখনো কখনো অতিরিক্ত সুধারণাও মিথ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। নিজেদের ভুল হতে পারে মনে করাই সংশোধনের দরজা খোলা রাখে।
কারা বর্তমানে আধিপত্যশীল, সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সামষ্টিক আমালে উন্নত- এটা তাদের পূর্ব ভূমিকা সঠিক হওয়ার প্রমাণ হতে পারে না। কারণ, ভালো লোকেরও কিচু খারাপ থাকে আবার খারাপ লোকেরও কিছু ভালো থাকে।
১৯৭১ ইস্যুতে সংগঠন কার পক্ষ কিভাবে নেবে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত কোনদিন, কোথাকার বৈঠকে কারা কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন- এ বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদেরকে জানানো প্রয়োজন।
শিক্ষা নেওয়ার জন্য হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.) এর ঘটনার আলোচনাতে আসতেই পারে। তবে, যে কোন বিষয় সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হলে অবশ্যই দুই পক্ষের কথা শোনাটা জরুরী। জনাব মাহবুব সালেহী ভাই তার লেখার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি তার সাংগঠনিক জীবনে দেখেছেন এক পক্ষের কথা শোনার পর অন্য পক্ষের প্রতি ভীষণ খারাপ ধারণা হয়, কিন্তু অন্য পক্ষের কথা শোনার পর মনে হয় আগের ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল।
আসুন, আমরা সকলে রাগ-ক্ষোভ ভুলে কাজ করি আমাদের নিজেদের মুক্তির জন্য। প্রত্যেকে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আত্মসমালোচনা করে নিজ নিজ ভুল অনুধাবনের চেষ্টা করি। আর নিজের এবং এ কাফেলার অধিকতর পবিত্রতার লক্ষ্যে কাজ করতে থাকি। দ্বীনি ভাইকে দূরে না ঠেলে কাছে টেনে নিই।




