আগের পর্ব:
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-১
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-২
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-৩
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-৪
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ ১৯৮২ সালের কথকতা-৫
শিবিরের ক্রান্তিকালঃ১৯৮২ সালের কথকতা-৬
গোটা দেশে যখন যুবশিবিরকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির এবং জামাতে ইসলামীর মধ্যে বাদানুবাদ, বিতর্ক এবং হুমকি-ধমকি চলছে তখন হঠাৎ করে অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে আমার দেখা হয়ে যায়। তিনি সিলেট এসেছেন এটা আমার জানা ছিল না। এক শবেবরাতে বন্ধুবর আব্দুল হামিদ মানিককে নিয়ে রিক্সায় চড়ে শহর দেখতে বেরিয়েছি। নয়া সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মনে হলো খায়রুন্নেসা ভাবীর হাতে তৈরি শবেবরাতের মিষ্টি খেয়ে যাই। তাদের বাসার সামনে রিক্সা থামিয়ে কলিং বেল টিপলাম। দরজা খুললেন অধ্যাপক ফজলুর রহমান। আমাকে দেখে খুব খুশি হলেন। বললেন, ‘আপনি এসেছেন, খুব ভালো কথা। আসুন, বসুন। প্রফেসার গোলাম আজম তো এখন মিটিংয়ে। দেখি কালকে আপনার জন্যে সময় পাওয়া যায় কি না।’ এ কথা বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তিনি ভেতরে চলে গেলেন। বাধ্য হয়ে বসতে হলো। ফিরে এসে বললেন, ‘আপনি এসেছেন, প্রফেসার সাহেব খুশি হয়েছেন। কালকে ১০টায় তিনি আপনাকে সময় দিয়েছেন।’ অযাচিত সাক্ষাতকারের দিনক্ষণ নিয়ে তার বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম, শবে বরাতের মিস্টি খাওয়া আর হলো না।
পরদিন যথাসময়ে সেখানে হাজির হলাম। প্রফেসার সাহেব খুব আন্তরিকতার সাথে আমার সাথে কোলাকুলি করলেন। খোঁজ খবর নিলেন, কি করছি, কি ভাবে দিনকাল চলছে। খুচরা ব্যক্তিগত খবরা-খবর। এর পর কিছু সিরিয়াস বিষয় অবতারণা করলেন। বললেন, ‘এই যে তোমরা ইসলামী আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, এটা কি ঠিক হলো?’
আমি বললাম, ‘বিচ্ছিন্ন কোথায়? আগে আমাদের শুরু ছিল রাসুলে করীম (স) থেকে, মধ্যখানে লম্ফ দিয়ে সোজা মওলানা মওদুদী। এখন রাসুলে করীম (স) থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কেরাম, সলফে সালেহীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন সবার সাথে আছি। গত ১৪ শ বছর যাবত যারা দ্বীনের কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন তাদের সকলের সাথে এখন আমরা সম্পৃক্ত। এটা কি বৃহত্তর সংযুক্তি বা ঐক্য নয়।’
আমার কথার কোন জবাব না দিয়ে তিনি শুধু মুচকি হাসি দিলেন। তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে দিয়ে বললেন, ‘তোমরা এ সব কি শুরু করছো? আমি সিলেটের সোলায়মান হলে বক্তৃতা দেব শোনে হলের সর্বত্র যুবশিবির জিন্দাবাদ লিখে রেখেছো, এর অর্থ কি?’
আমি বললাম, ‘আপনি যে সিলেট আসবেন এ খবর যুব শিবিরের কে কতটুকু জানে আমি জানি না। আমি যুব শিবিরের কোন দায়িত্বশীল নই। আমিও আপনার প্রোগ্রাম সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। গতরাত হঠাৎ করে এ বাসায় এসে জানলাম আপনি সিলেট এসেছেন। তা ছাড়া আমি দেখেছি, যুব শিবির শহরের সর্বত্র দেয়াল লিখন করেছে। আমার মনে হয় এর অংশ হিসেবেই তারা সোলায়মান হলের দেয়ালেও লিখেছে। আপনার আগমনের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয় না।’
আমার জবাব শুনে তিনি এ ব্যাপারে আর কোন প্রশ্ন উত্থাপন করেননি। আরো কিছু প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক আলাপ হলো। এক সময় আমি বললাম, ‘জামাতের তো টাকা আছে। চাইলে তারা কিছু সিনেমা-নাটক তৈরি করতে পারে।’
তিনি অবাক হয়ে বললেন, ‘সিনেমা-নাটক কি ভাবে করবে? মহিলাদের অংশ গ্রহণ ছাড়া বানিজ্যিক ভাবে সিনেমা নাটক সফল হবে না।’
আমি বললাম, ‘মহিলারা অংশ নিবে।’
– ‘এটা কি বলো? মহিলারা কি নিকাব পরে সিনেমায় অংশ নিবে?’
– ‘নিকাব পরবে কেন? মুখ খোলা রাখবে। মুখ খোলা রাখাতে কোন দোষ নেই।’
– ‘মুখ কি ভাবে খোলা রাখবে? এটা তো বৈধ নয়। তুমি কি পর্দা ও ইসলাম বই পড়োনি?’
– ‘পড়েছি। ভালো করেই পড়েছি। সেখানে মাওলানা মুখ ঢেকে রাখার পক্ষে অনেক যুক্তি-তর্কের অবতারণা করেছেন। কিন্তু মুখ ঢাকা রাখার ব্যাপারে কুরআন-হাদীস থেকে কোন রেফারেন্স দেননি। তা ছাড়া মুখ ঢাকা ফরজ হলে কুরআন বা হাদীসে তা স্পষ্ট করে তা বলে দেয়া হতো। কোন ফরজ কাজকে আল্লাহ বা তাঁর রাসুল (স) অস্পষ্ট রাখবেন তা ভাবা যায় না। ’
আমি এ কথা বলার পর এ ব্যাপারে তিনি আর কোন কথা বলেননি। আমি বললাম, ‘জামাত নাটক-সিনেমা নিজ নামে না করে বিত্তশালী লোকদের এ দিকে উৎসাহিত করতে পারে। অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের এ কাজে পাওয়া যাবে। তারা যদি স্কার্ফ মাথায় দিয়ে এবং শালীন পোশাক করে নাটক-সিনেমায় অভিনয় করে তা হলে বাংলাদেশী তরুণীরা সহজেই এ দিকে আকৃষ্ট হবে। এমনটি করা গেলে শালীন পোশাক এবং স্কার্ফ বাঙালি ফ্যাশনে পরিণত হবে।’
তাঁর চেহারা দেখে মনে হলো আমার এ কথা তার কিছুটা পছন্দ হয়েছে। স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বললেন, ‘ঠিক কাছে, তোমার প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখবো।’
একদিন ঢাকা থেকে ইসলামী ব্যাংকের তদানীন্তন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক লস্কর খবর পাঠালেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখার জন্যে স্থান নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সিলেট আসছেন, আমার সহযোগিতা দরকার। সময় মত তিনি আসলেন। তাঁর কাছে দুটি জায়গার প্রস্তাব ছিল। তাঁর সাথে গিয়ে জায়গাগুলো দেখলাম। আরো দুয়েকটি প্রস্তাব এলো। সেগুলোও দেখলাম। দুপুরে আমার বাসায় ডাল-ভাত খেলেন। তখন বললেন, ‘এতক্ষণ যে কাজ করলাম এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ তোমার সাথে আছে।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী সেটা?’ বললেন, ‘তোমাকে জামাতের সদস্য হতে হবে।’ জানতে চাইলাম, ‘আপনি কি জামাতের সদস্য হয়েছেন?’ জানালেন, তিনি জামাতের সদস্য হননি। বললাম, ‘যে সংগঠনের সদস্য আপনি হননি, সে সংগঠনের সদস্য হবার জন্যে আমাকে চাপ দেয়ার মানে কি?’ বললেন, ‘আমার কথা ভিন্ন। কিন্তু তোমাকে হতে হবে।’ বললাম, মাফ করবেন। এটা সম্ভব নয়।’ এর পর তিনি এ প্রসঙ্গে আর কোন কথা বাড়াননি।
ঢাকা থেকে ছাত্রশিবির, যুবশিবির এবং জামাতের নেতৃবৃন্দ সিলেট এলে তাদের কেউ কেউ দয়া করে আমাকে দেখতে এসেছেন আমার চা-পাতার দোকানে। যুবশিবিরের আহমদ আব্দুল কাদের এবং মুজাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ডাঃ আমিনুল ইসলাম মুকুল, জামাতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুজ্জামান চা-পাতার দোকনে এসেছেন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা আবু তাহের এবং ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক চা-পাতার দোকানে আসেননি, বাসায় এসেছেন। আমার মনে হয় অন্য সকলের আগমন ছিল সৌজন্য মূলক এবং মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের আগমন ছিল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সামনে রেখে। তাঁর আগমনের একটা পটভূমি রয়েছে।
আগেই বলেছি, ছাত্রশিবির এক সময় ঘোষণা করে, যারা শিবিরের সাথী হবে তাদের জামাতে ইসলামীকে একমাত্র ইসলামী আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করে নিতে হবে। এর ফলে ছাত্রশিবিরের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ছাত্রশিবিরের এ সিদ্ধান্ত সারা দেশে শিবিরের মধ্যে ভাঙন-ক্রিয়াকে ধারালো ও তরান্বিত করে। আমি ভাবছিলাম, শিবিরের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ও পোলারাইজেশন লক্ষ্য করে জামাত এ ব্যাপারে একটা সমঝোতার পথে এগিয়ে আসবে। সিলেট জেলা জামাতের আমীর অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে প্রায়ই একটা কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলতেন, ‘যুব শিবিরের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আমি যুবশিবিরকে জামাতেরই যুবফ্রন্ট হিসেবে দেখি।’ আমার জানামতে সে সময় জামাতে ইসলামীর আরো অনেকে এ মনোভাব পোষণ করতেন।
কিন্তু আমি দেখলাম, যুবশিবির, জামাত এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধ, উত্তেজনা, পারস্পরিক চরিত্র হনন দিনে দিনে বাড়ছে। বিরোধী পক্ষের সাথে লড়াইয়ের পরিবর্তে তারা পরস্পর লড়াই করে সময় ও শক্তি ক্ষয় করছে। এ লড়াই এবং শক্তি ক্ষয় বন্ধের জন্যে আমি আমীরে জামাতের কাছে দুটি চিঠি লেখি। আমরা জানি সময় অনেক সময় বড় বড় ক্ষত শুকিয়ে দিতে পারে। এখন যদি সকল পক্ষ যার যার মত কাজ চালিয়ে যেতে পারে তা হলে হয়তো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক সময় সবাই মিলে একটা সমঝোতার পথ অন্বেষণ করা যেতে পারে। এ চিঠির জবাব দিতেই মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি এসে বললেন, ‘প্রফেসার সাহেব আপনার চিঠি পেয়েছেন। আপনার উদ্বেগ এবং পরামর্শের জন্যে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সাথে সাথে একটা বার্তা আপনাকে পৌঁছে দিতে বলেছেন।’
আমি খুব ঔৎসক্যের সাথে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সে বার্তাটি কী?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘অতীতে যা হবার হয়েছে তা ভুলে গিয়ে আপনাকে জামাতে ইসলামীতে যোগ দিতে বলেছেন। সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের কারণে জামাতে ইসলামীর সদস্য হতে আপনার কোন অসুবিধা হবে না।’ তাঁর জবাব শোনে আমি কয়েক মিনিট চুপ থাকলাম। তারপর বললাম, ‘প্রফেসার সাহেবকে আমার সালাম এবং ধন্যবাদ জানাবেন। আমার প্রতি তাঁর সুধারণা এবং ভালোবাসার শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। তবে তাঁকে বলবেন, জামাতে ইসলামীর সদস্যপদ গ্রহণের কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি বর্তমানে এ থেকে অনেক দূরত্বে অবস্থান করছি।’
কিছুদিন পর আমার অনেক পুরানো বন্ধু এবং বর্তমানে বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় অধ্যাপক আব্দুল মুসাওয়ীর আমার বাসায় এলেন। তিনি তখন সাউদি আরবে থাকেন। প্রথমে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে অনেক খোঁজ-খবর নিলেন। জামাত, শিবির এবং যুবশিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী জানতে চাইলেন। রেখে-ঢেকে কিছু কথা বললাম। অনেক রাতে তিনি বিদায় নিলেন। এর দুয়েক দিন পর সন্ধ্যার পর ফোন করলেন অধ্যাপক ফজলুর রহমান। বললেন, তিনি এখনই আমার বাসায় আসতে চান, জরুরী কথা আছে। তিনি এলেন, তাকে সাদরে বসালাম। চা-বিস্কুট খেতে দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী এমন জরুরী কথা?’ বললেন, ‘এই মাত্র প্রফেসার গোলাম আযমের ফোন পেলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আপনাকে এক্ষুনি যেন শাহ জালাল জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেই। তিনি আপনাকে কালকেই সেখানে যোগ দিতে বলেছেন।’
তার কথা শোনে অবাক হলাম। কি এমন ঘটনা ঘটলো যার কারণে ঢাকা থেকে এ রকম হুকুমনামা এলো। আমার জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বললেন, ‘অধ্যাপক আব্দুল মুসাওয়ীরের সাথে আপনার আলাপ হয়েছে। তিনি ঢাকায় গিয়ে প্রফেসার সাহেবের সাথে দেখা করেছেন। অধ্যাপক আব্দুল মুসাওয়ীরের কথায় প্রফেসার সাহেব এতটা প্রভাবিত হয়েছেন যে সাথে সাথে আমাকে ফোন করে এ নির্দেশ দিয়েছেন।’
আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, ‘আমি আপনার এবং প্রফেসার সাহেবের শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আপনার কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আপনি আমাকে জামেয়াতে একটা চাকরি দেয়ার জন্যে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমার পক্ষে এখন আর জামেয়াতে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি যে ভাবে আছি, অনেক ভালো আছি। এখন আমি অনেক স্বাধীন। কলেজে যাই, ক্লাস করি। তারপর সিলেট চলে আসি। বাকি সময় আমার নিজস্ব। জামেয়ায় গেলে গোলামী করতে হবে। আমি গোলামী করতে পারবো না।’
উল্লেখ্য, সে সময় আমি বন্ধুবর অধ্যাপক আব্দুল হান্নানের চাপে এবং তাজপুর কলেজের অধ্যক্ষ মুহিব উদ্দীনের অনুরোধে চুনারুঘাট কলেজ ছেড়ে তাজপুর কলেজে চলে এসেছি। তাজপুর কলেজ সিলেট শহরের খুব কাছে, কলেজের ক্লাস শেষে সিলেট শহরে সহজেই ফিরে আসা যেত। ততদিনে চা-পাতার ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। ব্যবসায় কোন লাভ করতে পারিনি। বন্ধুবর আব্দুল কাইয়ূম অত্যন্ত বন্ধু-বৎসল এবং দানশীল। তিনি দয়াকরে ব্যবসায় দেয়া তার পুঁজি আর ফেরত নেননি। ততদিনে আমার স্ত্রী সিলেট শহরের কিশোরী মোহন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি জোগাড় করে নিয়েছেন। অবশ্য দু জনের চাকরির আয় সংসার পরিচালনার জন্যে যথেষ্ট ছিল না। আমার ঘনিষ্ট বন্ধু আব্দুল হামিদ মানিক, রাগিব হোসেন চৌধুরী, হারুনুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখের সহযোগিতায় সিলেট রেডিওতে কথিকা পড়ে এবং পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের সৈয়দ মোস্তফা কামাল ডাকতেন বক্তৃতা দিতে। মাঝে মধ্যে যুবশিবিরের লোকেরাও ডাকতো আমাকে। ইসলাম বা সাহিত্য বিষয়ক আলোচনার জন্যে অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও দাওয়াত পেতাম। সিলেট প্রেসক্লাব, মুসলিম সাহিত্য সংসদ, বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন ইত্যাদি নিয়ে এ সময় খুব ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছি। শাহ জালাল জামেয়ায় গিয়ে জামাতে ইসলামীর গোলামীর চেয়ে এ সব নিয়েই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম। এর কয়েক বছর পর আমি সিলেট থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে লন্ডনে চলে আসি। গত ৯১ সাল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে লন্ডনে বাস করছি।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এতোদিন পর এ সকল পুরানো কথা আলোচনার কী কোন প্রয়োজন আছে? আমার মতে অন্য কোন প্রয়োজন না থাকলেও ইতিহাসের একটা দায় আছে। সে দায় মুক্তির খাতিরেই এর অবতারনা।
আত্মকথনের একটা পর্যায় শেষ হলো। অনেক প্রশ্ন এসেছে। সকল প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক নয়। কিন্তু সেগুলোর হয়তো গুরুত্ব আছে। অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি নিজেও জানি না।
বিভিন্ন প্রশ্ন ও পাঠকের মন্তব্যের আলোকে লেখাঃ১৯৮২ সালের কথকতাঃ পাদটীকা





আর একটা কথা না বলেই পারছি না। সেটা হচ্ছে জামায়াতকে জামাত বলা। এটা আমার কাছে স্পষ্ট নাম বিকৃতি মনে হয়েছে। দেশীয় এক শ্রেণির বুদ্ধিবন্ধক রাখা লেখকদের কাছ থেকে এই শব্দটা শুনতে আমরা অভ্যস্থ, আরবি ভাষা কিংবা ইসলাম জানেন এরকম কেউ খুব সহজেই জামাত আর জামায়াতের পার্থক্যটা স্পষ্ট করতে পারেন। পারিভাষিকভাবে বলা যায় জামাত শব্দটা গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয় বর্তমানে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ……
আপনার সাথে একমত
বিশুদ্ধ শব্দ “জামায়াত”- শিক্ষিত মানুষের উচিত এটাই বলা/লেখা
জাযাকাল্লাহ….
১. জামেয়ার চাকরির ব্যপারে সদস্য বৈঠকে নেয়া সিদ্বান্ত আপনাকে জানানোর কথা না ৷ এটি শপথ লঙ্ঘন ৷ তাছাড়া যিনি আপনাকে জানিয়েছেন সেটা অসত্যও হতে পারে ৷ সুতরাং ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর অবস্থান সঠিক ছিল ৷
২. আপনি প্রতিটি প্রসঙ্গ বর্ণনায় সুবিধাবাদিতার আশ্রয় নিয়েছেন ৷ শাহ জাহান চৌধুরীর চিঠি দেয়া নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ৷ কিন্তু, এই সময়ের মধ্যে আপনারা যে যে ঘটনার জন্ম দিয়েছেন সেগুলোর কোনো বর্ণনা দেননি ৷ শুধু প্রফেসর সাহেবের জিজ্ঞাসার জবাবে কি বলছিলেন তা ই লিখেছেন ৷ জামায়াত এবং শিবিরের প্রাক্তন নেতাদের বাদ দিয়ে এই এক বছরে গোপন যে চক্রান্ত করেছিলেন সেগুলোর বর্ণনাও থাকা উচিত ৷
৩. আহমেদ আব্দুল কাদের বা যুব শিবিরের পরবর্তী কার্যক্রম এবংবিলুপ্তি দেখেই অনুমান করা যায় আপনারা জামায়াত বিদ্বেষী ছিলেন ৷ আহমেদ আব্দুল কাদের এবং আপনারা শিবিরকে জামায়াত বা এধরনের গণ সংগঠনের অধীনস্থ দেখতে চাননি; কিন্তু পরে যুবশিবির জাতীয় সংগঠনের অভাব অনুধাবন করে এবং খেলাফত মজলিশে গিয়ে নিজেদেরকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে!?
তার মানে আপনাদের আগের অবস্থান শঠতাপূর্ণ ছিল ৷
৪. আপনার চেয়ে আব্দুল কাদের বরং অনেক সাহসী ৷ তিনি নিজেই বলছেন সভাপতি হয়ে অনেক কঠিন সিদ্বান্ত নিতে গেলে জামায়াত ক্ষিপ্ত হয়ে যায় ৷ আপনার বর্ণনায় সেই ‘কঠিন সিদ্বান্ত’ গুলোর খোলামেলা কোনো আলোচনা এখনো করেননি ৷ আর আপনার সেক্রেটারি মনোনীত হওয়াটা ছিল পরিষ্কার একটা চক্রান্ত ৷ মাত্র ছয় মাসের জন্য আপনাকে কিন্তু ঢাকায় নেয়া হয়েছিল..
আল্লাহর কথাই নির্ভূল ও সঠিক, রাসুলের নির্দেশনাই সর্বোৎকৃষ্ট নির্দেশনা। নিজেদের সকল বাদানুবাদ, ঝগড়া-ঝাটি এবং মতবিরোধে আসুন আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলেন আনুগত্য প্রদর্শন করি। ইসলাহ কামনা কারিদের বিরোধ কালিন সময়ের সকল সত্য কথা বলতে নেই, কারণ সেটা একটা স্বতন্ত্র প্রেক্ষাপটে এসেছে। কিছু আক্ষরিক মিথ্যাও যদি বলতে হয় ইসলাহের স্বার্থেই তা বলা উচিৎ। মনে রাখবেন ফাসাদ সৃষ্টি করে সত্যবাদী হওয়া যায়না। মুহতারাম ফরিদ আহমদ রেজা যদি ইলমের আমানাতদারিতা হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কথা গুলো বলেন, কারোই ক্ষেপে যাওয়া সংগত মনে করছিনা। আপনি বলুন, কথা না বললেই বরং ক্ষতি হল বলে মনে করব। ”আমরা লম্ফ দিয়ে মওদুদিতে না যেয়ে সাহাবা, তাবেয়ী ও তাবা তাবেয়ীদের সাথে চলতে চাই” আপনার এ উক্তি আমার ভাল লেগেছে, এতে মাওঃ মওদুদির প্রতি কোন অশ্রদ্ধা নয় বরং অতি মওদুদীবাদিদের সংশোধনের জন্য বলা, যাকে বলেছিলেন তিনি নিশ্চয় বুঝেছেন, কিন্তু অনেকের কাছে তা এখন অপ্রীতিকর ই মনে হবে। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের জন্য কবুল করুন। আমীন
আরো লেখা পাবার অপেক্ষায় রইলাম…
আপনার লেখাগুলো নিতান্তই পক্ষপাতদুষ্ট, অনেকটা “যাকে দেখতে নারি, তার চলন সোজা হলেও বাঁকা” টাইপ এর। সংগঠন ও নেতৃত্বের অানুগত্যকে আপনি গোলামী বলে ব্যঙ্গ করলেন। আমার বিগত প্রায় ২৫ বছরের সাংগঠনিক (শিবির এবং জামায়াত) জীবনে কখনো এমনটি অন্ততঃ আমার মনে হয় নাই। গোলামী একমাত্র আল্লাহ্’র, সংগঠন বা নেতৃত্বের অানুগেত্যে যদি আল্লাহ্’র গোলামী হয়, সে অানুগত্যে কোন অসুবিধা তো নয়’ই বরং ফরজ।
বেশি কিছু বললাম না, জাস্ট এটুকু বলি খালি শিবির-জামায়াত এর বই ই পইড়েন না, বিরোধীদের বই ও কিছু পইড়েন।
ও! আরেকটুকু বলি, আনুগত্য আর অন্ধ আনুগত্যের পার্থক্য বুঝেন??
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ……
ঐ সময়ের ঘটনাবলীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেননা- এমন কারো জন্য উচিত নয় কোন এক পক্ষ বা বিপক্ষ নিয়ে মন্তব্য করা
কারণ সবাইকে নিজের কথা ও কাজের জন্য জবাবদিহিতার মুখোমুখী হতে হবে- অন্য কেউ সাহায্য করবেনা
সাহিত্যর যথাপোযুক্ত নামকরণ হল সুসাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আপনার লেখা এই ধারাবাহিকটি নিঃসন্দেহে একটা সুসাহিত্য ছিল।তবে নামকরণের সাথে পুরোপুরি মিলেনি। এটা একটা আত্নকথা, কথকতা নয়। কারন এখানে আপনার অবস্থান আর আপনার সাথে অন্যান্য চরিত্রের কৃত আচরণ বর্ণিত হয়েছে আপনারই দৃষ্টিকোণ থেকে। এটা আত্নকথার বৈশিষ্ট্য; কথকথার বৈশিষ্ট্য হল সকল চরিত্রের অবস্থান তাদের স্ব স্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হতে হবে।
আপনাকে মোবারকবাদ যে আপনি এই ইস্যু নিয়ে কলম ধরেছেন যেটা অন্যরা প্রকাশ করতে খুব বেশি আগ্রহী ছিলনা। আপনি যতটা সাবলীলভাবে সিলেটে থাকার ইতিহাস বর্ণনা করলেন ততটা সাবলিল বাচনভঙ্গি শেষ পর্যন্ত থাকেনি, শেষ দিকে মনে হল আপনার তাড়া বা ব্যাস্ততা বেড়ে গেছে। যেমনঃ এক বাক্যেই সিলেট টু লন্ডন ভায়া ঢাকা। হটাৎ এ তাড়াহুড়োর মানে কি?
মন্তব্যকারীদের প্রতি,
আমার যা মনে হয়েছে তা হল আপনারা সবাই কোন না কোন ভাবে ইসলামী আন্দোলনকে ভালবাসেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি তাওহিদিবাদে বিশ্বাসীদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হল বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকার পরও ঐক্যবদ্ধ থাকা।হযরত আলী (রা) আর হযরত আয়েশা (রা) ভিন্ন মত পোষণ করেন এবং তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের মাঠ পর্যন্ত গড়ায়, তারপরও তারা উভয়েই নিঃসন্দেহে জান্নাতি নন কি?
আত্নপক্ষ নিয়ে নিজের কথা বলার অধিকার সবার থাকা উচিত।পূর্ণাঙ্গ খুলুসিয়াত নিয়ে সবাই (সকল দায়িত্বশীল) যদি নিজেদের অবস্থান বর্ণনা করার সুযোগ পেতেন তাহলে হয়তো দেখা যেত চিন্তাধারার খুব বেশি পার্থক্য থাকত না।
এক মন দুধকে নষ্ট করতে যেমন এক ফোটা চনা যথেষ্ট তেমনিভাবে একটা সু সংগঠিত দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে একজন ফরিদ আহমদ রেজা যথেষ্ট
যদি পর কালকে বিশ্বাস করে থেকেন তাহলে বলব, আপনি আপনার কথার মাধ্যমে যদি ইসলামি আন্দোলনের ক্ষতি করে থাকেন এর প্রাপ্য ফল আল্লাহ যেন আপনাকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে দান করেন।
তার পরকাল বিশ্বাস নিয়ে আপনার সন্দেহ হলো কেন। এত অস্থির চিত্ততা ভালো নয়।
বাহ!
ইসলামি আন্দোলন আজকাল তাহলে এতো সস্তা, সামান্য কিছু ইতিহাস বের হওয়াতে ক্ষতি হয়ে গেল??
আর, মুজাহিদ+নিজামী যে সংগঠনের ভিতরে নোংরা পলিটিক্স ঢুকিয়ে দিল তাতে কিছু হয় নাই??
আপনারা রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামী থেকে শিবিরকে পৃথক দেখতে চেয়েছিলেন, ব্যার্থ হয়ে নতুন সংগঠন যুব শিবির করলেন। এক পর্যায়ে যুব শিবির অনুভব করলো ইসলামী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক রাখা খুবই প্রয়োজন তাই রাজনৈতিক দল খেলাফত আন্দোলনের সাথে কথা হল এবং এক পর্যায়ে তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র মজলিসের সাথে যুব শিবির যোগ দিয়ে যুব শিবির দলটি বিলুপ্ত হল।
এটাকি যুব শিবিরের আদর্শিক পরাজয় নয়??
খেলাফত মজলিস কি খেলাফত আন্দোলনের ছাত্র সংগঠন নয়??
যে যুক্তি দিয়ে জামায়াত থেকে পৃথক হল সে যুক্তি শেষ পর্যন্ত কেন ধরাশায়ী হল??
জামায়াত ও খেলাফত আন্দোলনের পার্থক্য হলো, ওনাদের দৃষ্টিতে – ৭১ এর ব্যাপারে জামায়াত প্রশ্নবিদ্ধ, খেলাফত তা ছিলোনা। ওনাদের দূরদৃষ্টি বলেছিলো, ৭১ প্রসংগ জামায়াতকে আজীবন তাড়া করে বেড়াবে, তাই ৭১ এর ব্যাপারে জামায়াতকে মিমাংসা করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। জামায়াত তা মেনে নেয়নি। আশা করি, আপনার প্রশ্নের জবাব এরকমই হবে।
জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল, এই “অপরাধে” ওনারা জামায়াত থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন , এমনটা যদি আপনি বুঝে থাকেন, তাহলে পুরো লেখা আরেকবার পড়ুন। ১৯৭১ প্রসংগ ছিলো মূল ইস্যু। ওনারা শুধুমাত্র চাচ্ছিলেন, জামায়াত যেন এমন কোন উদ্যোগ নেয়, যাতে ৭১ এই আন্দোলনের পথে বাধা হয়ে দাড়াতে না পারে। জামায়াত ভ্রুক্ষেপও করেনি। এখনও তার ঘানি টেনে চলছে।
জনাব, যেহেতু আপনি সত্য প্রকাশের উদ্যশ্যেই কলম ধরেছেন, সেহেতু সত্য পুরোপুরি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত লেখা চালিয়ে যাবার অনুরোধ রইল। আপনি আমাদের সত্য জানার তেষ্টা বাড়িয়ে তুলেছেন, এতদিন পর গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে প্রকৃত তথ্যগুলো জানার সুযোগ হয়েছে। তথাকথিত সংগঠনবাদী, গোড়া, ধর্মান্ধদের কথায় কষ্ট না পেয়ে আমাদের আবেদন রক্ষা করুন। আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে আপনার কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করছি, তাই সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন প্লিজ।
কিছু প্রশ্ন করতে চাই সেটা হলো-
১. ছাত্রদের মাঝে ইসলামি আন্দোলনের কনসেপ্ট এই উপমহাদেশে মাওলানা মওদূদী তথা জামায়াতে ইসলামি এনেছিল। তারই প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হলো ইসলামি ছাত্রসংঘ পরবর্তীতে ইসলামি ছাত্রশিবির। বলা যায় জামায়াতের ব্রেইন চাইল্ড হলো ইসলামি ছাত্রশিবির। একদল সুশিক্ষিত জাতি বৃহ্ত্তর আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবে এর জন্যই জামায়াতের মাধ্যমেই ছাত্রসংঘ/ছাত্রশিবির তৈরি হলো। কাজেই একদল নিখাদ ছাত্র দ্বারা ছাত্রসংগঠন তৈরি হয়নি এটা হয়েছে মুরুব্বীদের চিন্তাক্রমে। তাহলে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত হয়ে ছাত্রশিবির চালানোর সিদ্ধান্তটা কি আত্নঘাতি ছিলনা? আফটার অল ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে জামায়াতের প্রচুর সহায়তা থাকে। সংবিধানে কি আছে না আছে সেটা না ধরে (কারন সংবিধান একটা জাস্ট নিয়ম। মাঝে মধ্যেই নিয়মকে বিভিন্ন সময়ে কার্ভ করেছে শিবির) আমরা যদি বৃহত্তর আন্দোলনের কথা চিন্তা করি তাহলে জামায়াতে ইসলাম যেই কনসেপ্টে একটা ছাত্রসংগঠন তৈরি করল সেটাকে কি করে তারা নিজেদের প্রভাবমুক্তকরন করার প্রতি সম্মত হবে?
২. আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম যুব শিবির গঠন প্রক্রিয়া চলছিল আপনারা সংগঠনের অধীনে দায়িত্বশীল থাকাকালে এবং সেটা অনেকটাই মুরুব্বীদেরকে ধোয়াঁশার মধ্যে রেখে। যুব শিবির গঠনের কাজতো শিবিরের করার কথা না। এটা করার কথা বৃহত্তর সংগঠনের। যেমন করে তারা ছাত্রদের মাঝে সংগঠনের কথা চিন্তা করেছিল এবং এটার ব্যাপারে সতর্কীকরন করার পরেও কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে যুব শিবির গঠন করার প্রক্রিয়া হচ্ছিল। এটা নেতৃত্বের আনুগত্যের বাহিরে যায় কিনা? খালিদ বিন ওয়ালিদ যেমন করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে সাধারন সৈনিকের কাতারে চলে গিয়েছিলেন যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতাগণ সেইরকম মত সেক্রিফাইস করার মনমানষিকতা লালন করতে পারেনি। এককথায় বলতে গেলে তারা নিজেদের মতকেই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাহলে বুঝা গেল যুব শিবির যদি সফল হত তাহলে যার যার মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগঠন ব্যবহৃত হতো। কোন চেইন অব কমান্ড বা আনুগত্যের বালাই থাকতনা।
৩. ‘৭১ এ আপনারা ছিলেননা কিন্তু ‘৭৭ এ যারা শিবির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা সবাই ‘৭১ এ ছিলেন এবং পুরো ঘটনা জানেন। তাদের কাছ থেকে কি ‘৭১ এর অপকর্মে (যেই ধর্ষন, খুনের অভিযোগে আজ নেতৃবৃন্দের ফাঁসি হচ্ছে) জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সেটা জানতে চাননি? জামায়াত কেন কনফেস করবে? কারন ‘৭১ হয়েছিল জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? আর ‘৭১ এ পাক সরকার যেই অপকর্ম করেছিল সেগুলোর জোড়াল প্রতিবাদ তারা তাদের তখনকার সময়ে যতটুকু শক্তি ছিল করেছে। তারপরেও কিভাবে দায়মুক্তির কথা আসে? তাহলে কি আপনারা জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শিবিরকে পরিচালনা করতে চাইছিলেন?
৪. জামায়াত নাম পরিবর্তন করেনাই কেন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে নাম পরিবর্তন করলে কি হত? নেতৃত্বে কারা থাকত সেটার বিষয়ে কি কোন দৃষ্টিভংগি ছিল? কারন জামায়াতের উৎপত্তিস্থল পশ্চিম পাকিস্তান। সংগঠনের ভিত সেখানে অনেক মজবুত ছিল। আর পূর্ব পাকিস্তানে যারা নেতা ছিলেন তারা কেন্দ্রের আনুগত্য করার কারনে ‘৭১ এর কাদা তাদের মধ্যে লেগেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে পরবর্তী বাংলাদেশে নুতন জামায়াতের হাল ধরতে পারে যার ‘৭১ এর কোন কাদা নাই সেইরকম নেতা কি ছিল জামায়াতে? ছাত্রসংঘে যারা ছিল তাদের বহু মানুষ আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। ছাত্রসংঘ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তাহলে ছাত্রসংঘ থেকে নেতা এনে জামায়াত চালালেও সেই একই ফল হতো। দেখা যেত নুতন জামায়াতের হাল পুরাতন নেতৃত্বকেই ধরতে হত। তাহলে নাম পরিবর্তন করে কি ফায়দা হতো?
৫. ইসলামি আন্দোলনে কি রাজনীতি বেহুদা জিনিস? রাজনীতি না করলে ইসলামপন্থীরা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে? শুধু সামাজিক আন্দোলন করে একটা সংগঠন হয়ত জনপ্রিয়তা পাবে কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনীতি ছাড়া কিভাবে পূর্ণতা দেওয়া যায়?
৬. ছাত্রশিবিরকে জামায়াত প্রভাবমুক্ত করে একটা অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার একটা প্রচেষ্টা আপনাদের মধ্যে ছিল। তাহলে যারা ছাত্রত্ব শেষ করবে তারা পরে যুব শিবিরে যোগ দিবে। সেই যুবশিবির কি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে কাজ করবে? সারাজীবন অরাজনৈতিক কাজ করে হঠাৎ করে কিভাবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেয়া যায় যদি রাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে না থাকে। এটা কি টিকে থাকার মত সংগঠন হলো? আর এটাতো সরাসরি জামায়াতের বিকল্প প্লাটফরম হয়ে গেল। এতে কি ইসলামি শক্তি দুইভাগ হয়ে গেলনা? তাহলে জামায়াতের আশংকা কি অমূলক ছিল যার ভিত্তিতে তৎকালিন শিবির নেতৃবৃন্দকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল? বৃহত্তর আন্দোলনকে মজবুতিকরণের একটা স্টেপ ছাত্রশিবির সেটাকে জামায়াত ভাগ করতে দিতে চাইবে কেন?
৭. আপনারা চলে যাওয়ার পরেও জামায়াত আপনাদের সংগঠনে যোগ দেবার জন্য অনেক অনুরোধ করেছে। যদিও সেখানে যোগ দেয়া না দেয়া আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার এটা নিয়ে আপনাদের কাঠগড়ায় দাড় করানোর কোন এখতিয়ার কারও নেই? তারপরেও বলি আপনাদের সেইমসয়কার সময়ে অনেক মেধাবী ছাত্র ছিল। আপনি সহ যারা বের হয়ে গিয়েছিলেন তারা জামায়াতে যোগ দিলে জামায়াত আপনাদের মেধার কারনে আরও ডায়নামিক হতে পারত। আফটার অল বর্তমান জামায়াত কে টিকিয়ে রেখেছে সকল সাবেক শিবির। আপনারা থাকলে জামায়াত শক্তিশালি হত। যেহেতু নেতৃবৃন্দ বলেছিল আপনাদের ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু স্বাধীনচেতা গোলামী না করার অজুহাতে বৃহত্তর আন্দোলন থেকে দূরে থাকলেন। তাহলে এরকম স্বাধীনচেতা যেই চেতনা কোন সংগঠন আমাকে ডমিনেট করতে পারবেনা, আমাকে কন্ট্রোল করতে পারবেনা এগুলো করলে ইসলামি আন্দোলনের প্রকৃতপক্ষে কোন কল্যান আসবে কিনা।
এই ধরনের স্বাধীনচেতা যে সাফল্য বয়ে আনতে পারেনা সেটার প্রমানতো যুব শিবির। শিবিরের থেকে উল্লেখযোগ্য একটা অংশ বের হয়ে গিয়ে যুব শিবির গঠন করল কিন্তু সেই শিবিরের কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ছাত্রশিবির বহাল তবিয়তেই আছে।
(আপনার প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই। এই ইতিহাস জানার দরকার ছিল। যার কারনে আপনাকে প্রশ্ন করার এই উপাদান গুলো খুঁজে পেলাম। আপনি এসব না বললে হয়ত এগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারতাম না। আপনি একজন বড়মাপের মানুষ একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ। আপনি এখন মুসলিম উম্মাহর জন্য যেই কাজগুলো করছেন আল্লাহ আপনাকে সেগুলোর উত্তম জাজাহ দান করুন। আপনাকে সুস্থ্য হায়াত দান করুন)
প্রশ্নগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক, ভাল্লাগলো।
‘৭১ এ পাক সরকার যেই অপকর্ম করেছিল সেগুলোর জোড়াল প্রতিবাদ তারা তাদের তখনকার সময়ে যতটুকু শক্তি ছিল করেছে”
তাই নাকি??
তাহলে “পাকিস্তান রক্ষা তহবিল” কার জন্য করেছিল?? ২৫ শে মার্চ এর গণহত্যার পর পাকিস্তানকে সমর্থন করার কোন যৌক্তিক কারণ ছিল কি??
আমি শুনেছি মাওলানা মওদুদী (র) তদানীন্তন পূর্ব বাংলার দায়িত্বশীলদের উপর এটা ছেড়ে দেন। এমনকি জামায়াতের মজলিশে শূরার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জামাত থাকবে। তারপর কোন এক অজানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত উল্টে যায়। কারা ছিল এর নৈপথ্যে?? আর ৭১এ জামায়াতের সত্যিকার ভূমিকার কথা স্পষ্ট করা উচিত নয় কি?? নেতারা কেন অপরাধীর মতো এড়িয়ে যেতেন ৭১ এর প্রসঙ্গ??
জামায়াত পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছে। ২৫শে মার্চ রাতের গণহত্যার জন্য গোলাম আজম সাহেব নিজে পাকিস্তান গভমেন্টকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিতে বলে। শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ইয়াহিয়াকে বলে জামায়াত। আর এইসব কাজ যারা করতে পারত মুসলিম লীগ তাদেরকে কেন পর্যালোচনা করেননা। কারন তখন মুসলিম লীগ ছিল প্রধান রাজনৈতিক দল। জামায়াতের কথার গুরুত্ব থেকে মুসলিম লীগের কথার গুরুত্ব ছিল। মুসলিম লীগকে বাদ দিয়ে পাকিস্তান গর্ভমেন্ট জামায়াতের কথা শুনবে?
সরকার অত্যাচার করলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়, সেটার জন্য কি অখন্ড একটি দেশকে ভাংতে হবে। তাহলে গোপালগঞ্জ হতে পুরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান।
জামায়াত অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল কিন্তু দেশ ভাংগার পক্ষে ছিলনা। এজন্যই পাকিস্তান রক্ষার জন্য তারা কাজ করেছিল।
পাকিস্তান রক্ষা তহবিল – শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত থাকলে উনিও করতেন। শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী পড়েন, পাকিস্তানের জন্য তার ভালোবাসা কারো চেয়ে কম ছিলোনা। দেশ তখন দুইটাই ছিলো-পাকিস্তান আর ভারত।
আপনি বেশ ভালো কিছু কথা লিখেছেন, বিশেষত নিচের দিকের গুলো। উপরের দিকের পয়েন্ট গুলো যেমন- ৪ নম্বর, এগুলোর জন্য আমি আপনাকে পরামর্শ দিবো মাওলানা আব্দুর রহীম এর জীবনী পড়তে।
ভালো থাকবেন.. 🙂
জানুয়ারী ১৯৮৫ থেকে জানুয়ারী ১৯৯৭। দীর্ঘ এক যুগের পথ পরিক্রমায় কোন দিন ‘ফরিদ আহমেদ রেজা’ নামটি শুনিনি। মনোযোগ দিয়ে আপনার লেখা পড়লাম। এত বছর পরে সব কিছু বিস্তারিত লেখা সম্ভবনয় তবে অনেক কিছু জানা গেল। আবার অনেক কিছুই হয়তো বলা হয়নি। আপনার কাছে আমার অনুরোধ সত্য প্রকাশে কুণ্ঠিত হবেননা তবে তা উম্মাহর কল্যান আকাঙ্খা থেকে উৎসরিত হতে হবে। অর্ধ-সত্য বা অসম্পূর্ন সত্য নয়। আপনার সাথে আমি ৩টি বিষয় একমত, ১. সেক্রেটারী জেনারেল বরাবরাই প্রাক্তনদের মতানুশারে হয়। ৯৫ সালে পরিষদের প্রায় সকল সদস্যর মত ছিল শাহীন ভাইর পক্ষে কিন্তু মঞ্জুরুল আলম ভুইয়া ভাই সেক্রেটারী হয়েছেন । ৯৬ সালে পরিষদের অধিকাংশ সদস্য পুর্বের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার অনুরোধ করলে শাহজাহান ভাই শাহীন ভাইকেই সেক্রেটারী বানান। কিন্তু একই কারণে পরের বছর এ মানুষটিকে ছাত্রত্ত্ব বহাল থাকা সত্ব্ও বিদায় নিতে হয়। ২. ৭১ এর ভুমিকার পর্যালোচনা না করা ঠিক হয়নি। ৩. ছাত্রশিবিরের মত এত বড়িএকটি আদর্শিক শহীদি কাফেলা কে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনে পরিনত করা এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যাপক ভাবে নিয়োজিত রাখা ঠিক হয়নি। ৯৪ সালে এ বিষয় সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে ফল পাইনি।
জানুয়ারী ১৯৮৫ থেকে জানুয়ারী ১৯৯৭। দীর্ঘ এক যুগের পথ পরিক্রমায় কোন দিন ‘ফরিদ আহমেদ রেজা’ নামটি শুনিনি। মনোযোগ দিয়ে আপনার লেখা পড়লাম। এত বছর পরে সব কিছু বিস্তারিত লেখা সম্ভবনয় তবে অনেক কিছু জানা গেল। আবার অনেক কিছুই হয়তো বলা হয়নি। আপনার কাছে আমার অনুরোধ সত্য প্রকাশে কুণ্ঠিত হবেন না, তবে তা উম্মাহর কল্যান আকাঙ্খা থেকে উৎসরিত হতে হবে। অর্ধ-সত্য বা অসম্পূর্ন সত্য নয়। আপনার সাথে আমি ৩টি বিষয় একমত, ১. সেক্রেটারী জেনারেল বরাবরাই প্রাক্তনদের মতানুশারে হয়। ৯৫ সালে পরিষদের প্রায় সকল সদস্যর মত ছিল শাহীন ভাইর পক্ষে কিন্তু মঞ্জুরুল আলম ভুইয়া ভাই সেক্রেটারী হয়েছিলেন । ৯৬ সালে পরিষদের অধিকাংশ সদস্য পুর্বের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার অনুরোধ করলে শাহজাহান ভাই শাহীন ভাইকেই সেক্রেটারী বানান। কিন্তু একই কারণে পরের বছর এ মানুষটিকে ছাত্রত্ত্ব বহাল থাকা সত্ত্ব্বেও বিদায় নিতে হয়। ২. ৭১ এর ভুমিকার পর্যালোচনা না করা ঠিক হয়নি। ৩. ছাত্রশিবিরের মত এত বড় একটি আদর্শিক শহীদি কাফেলা কে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনে পরিনত করা এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যাপক ভাবে নিয়োজিত রাখা ঠিক হয়নি। ৯৪ সালে এ বিষয় সর্বোচ্চ ফোরামে বিস্তারিত তুলে ধরে, ব্যাপক আলোচনা করে কোন ফল পাইনি। আশার কথা নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে শিবির আজ সে সত্যটি বুঝতে পেরে তাদের কর্মসূচী ঢেলে সাজাচ্ছে। তাই আজ সময় এসেছে পেছন ফিরে দেখার সত্যের মুখোমুখি হবার। অতীতের পর্যালোচনা থেকে আগামীর পথ নির্ধারনের। যারা আবেগ দিয়ে সব কিছুকে বিচার করেন তাদের এটাও বিবেচনার অনুরোধ করি, যে মানুষটি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল হয়েছিলেন এ কাফেলার জন্য তার হৃদয়ের রক্তক্ষরন মোটেও কমনয়।
জনাব ফরিদ আহমদ রেজা আপনি কি বলবেন আপনার এই লেখাগুলো পরকালীন মুক্তিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে,তাই এই চিন্তাধারা থেকে লিখেছেন?
সত্যের সাক্ষী বইটি কম বেশী প্রত্যেক কর্মীকেই পড়ানো হত (মনে হয় না এখন আর এসব পড়ানো হয় । রাজনীতি নিয়েই ওরা আজকাল বেশি ব্যস্ত) । তেত্রিশটি বছর কেটে গেল জামায়াতের কেউই সত্যের সাক্ষী দিল না । আপনিই দিলেন । বেশ কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে সত্য সন্ধানী পাঠকদের মনে । আশাকরি উত্তর দেবেন । অপেক্ষায় রইলাম ।
বইটা সত্যের স্বাক্ষী নয়, “সত্যের স্বাক্ষ্য”। এটি এখনো পড়ানো হয় compulsory হিসেবে। রাজনীতি, আন্দোলন সংগ্রাম এবং প্রশিক্ষণ, সব’ই চলছে যথারীতি। আপনি মনে হয় এর ছায়া থেকে অনেক দূরে তাই …..
আপনার কথায় একটা ব্যাপার খুব স্পষ্ট হলো, সংগঠন যদি স্বাধীন হয় তবে সেটা আদেশ এবং আনুগত্যের মধ্যে বিশাল সমস্যা সৃষ্টি করে!
আপনার মত আমিও এত দিন ভাবতাম, এক্স শিবিরদের সংঘবদ্ধ রাখার জন্য শিবিরের মত একটা সংগঠন করা দরকার। আর এখন মনে হচ্ছে খোদ শিবির কেই জামায়াতের অংগ সংগঠন করা দরকার শুধুমাত্র বৃহত্তর স্বার্থেই!
প্রশ্নগুলো হয়তো রিপিট হচ্ছে, তাও করছি আপনার চোখ যেন এডিয়ে না যায়..
১. যুবশিবিরের ধারনার অরিজিন, বিকাশ নিয়ে কিছু বলেননি… এসবে আপনার ভূমিকা কতটুকু তাও বলেন্নি, জামায়াত কেন যুবশিবিরকে থ্রেট মনে করতে লাগলো তা আপনার লেখা থেকে কিছুই বুঝা গেলনা….ধারনা করছি, স্বেচ্ছায় এড়িয়ে গেলেন… কিন্তু কেন? ব্যর্থ যুবশিবিরের ব্যর্থতার দায়ভার আপনার কাঁধেও কিছুটা যাবে, তার থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য? আত্বপর্যালোচনায় এত ভয় কীসের?
২. জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকার পর্যালোচনা করতে চেয়েছেন, খুব ভালো কথা! অবশ্যই দরকার ছিলো। বিষয়টা কতটুকু এগিয়েছিলো তা বিস্তারিত বলেননি… বিষয়টাতে আপনাদের নেতৃস্থানীয় দুএকজনের মতামত ছিলো, নাকি কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশের মতামত ছিলো? দুএকজনের অবস্থান হয়ে থাকলে তাকে শিবিরের অবস্থান হিসেবে চালিয়ে জামায়াতের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টাকে অপচেষ্টা ছিলো বলে মনে করেন কী? যুবশিবিরের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যুবশিবির গঠনের আগ পর্যন্ত বিষয়টাতে অধিকাংশ জনশক্তি, বা অধিকাংশ সদস্য, অথবা অধিকাংশ কার্যকরী পরিষদ সদস্যের সম্মতি ছিলো?
প্রশ্ন:১
আলী আহসান মুজাহিদ সাহেবকে ৬মাসের বাধ্যবাধকতা দিয়ে ঢাকা শহরে দায়িত্বপালন শুরু করার পর তো আর সংগঠনকে সময় দেয়ার কথা ছিলনা!তারপরও কেন থাকলেন?
প্রশ্ন:২
যুবশিবির ঘটনের চিন্তা বর্তমান শিবির(মানে তত্কালীন কাপ বৈঠকের মেম্বারদের)এর ভিতরে কেন এসেছিল?
এটাতো সাবেকদের কাজ ছিল?
প্রশ্ন:৩
আপনার লেখাতে যদি ছাত্রশিবিরের কোন কর্মী বিভ্রান্ত হয় বা সংগঠন থেকে দূরে চলে যায় এর দায়িত্ব কী আপনি নিবেন?
প্রশ্ন:৪
এই কঠিন সময়ে ইতিহাসের দায় না এড়িয়ে জোট সরকারের আমলে করলে কী ভাল হতো না?
অথবা আরো সামনে আল্লাহ কোন সুন্দর সময় এই মযলুমদের দান করলে?
lekha sesh hok, tarpor montyobo korbo..
আপনার লেখা পড়ে, ইতিহাসের দায়মুক্তি মনে হয়নি, মনে হয়েছে নতুন কোনো ষরযন্ত্র করার চেষ্টা করেছেন পুরানো স্টাইলে।
সাবেকদের ফরিদ সাহেব ভাই বলে ডাকার মত সৌজননও হারায়ে ফেলেছেন কি? নিজের নফছের গোলামি বলেও একখান কথা আছে।
১৯৮২ দেখিনি কিন্তু ২০১০ দেখেছি……………………
নিজের দোষগুলো অত্যান্ত সুকৌশলে এড়িয়ে গেছে।একটাও নিজের দোষ লিখে নাই।আর ক্ষমতার প্রচন্ড লোভ ছিল।তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারনে সে ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতা শুরু করে।
Farid A Reza সাহেবের পোস্টগুলোকে কেন্দ্র করে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হলো। তার যদি সদয় হয় তিনি উত্তর দিবেন বলে আশা প্রকাশ করি।
১. ছাত্রদের মাঝে ইসলামি আন্দোলনের কনসেপ্ট এই উপমহাদেশে মাওলানা মওদূদী তথা জামায়াতে ইসলামি এনেছিল। তারই প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হলো ইসলামি ছাত্রসংঘ পরবর্তীতে ইসলামি ছাত্রশিবির। বলা যায় জামায়াতের ব্রেইন চাইল্ড হলো ইসলামি ছাত্রশিবির। একদল সুশিক্ষিত জাতি বৃহ্ত্তর আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবে এর জন্যই জামায়াতের মাধ্যমেই ছাত্রসংঘ/ছাত্রশিবির তৈরি হলো। কাজেই একদল নিখাদ ছাত্র দ্বারা ছাত্রসংগঠন তৈরি হয়নি এটা হয়েছে মুরুব্বীদের চিন্তাক্রমে। তাহলে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত হয়ে ছাত্রশিবির চালানোর সিদ্ধান্তটা কি আত্নঘাতি ছিলনা? আফটার অল ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে জামায়াতের প্রচুর সহায়তা থাকে। সংবিধানে কি আছে না আছে সেটা না ধরে (কারন সংবিধান একটা জাস্ট নিয়ম। মাঝে মধ্যেই নিয়মকে বিভিন্ন সময়ে কার্ভ করেছে শিবির) আমরা যদি বৃহত্তর আন্দোলনের কথা চিন্তা করি তাহলে জামায়াতে ইসলাম যেই কনসেপ্টে একটা ছাত্রসংগঠন তৈরি করল সেটাকে কি করে তারা নিজেদের প্রভাবমুক্তকরন করার প্রতি সম্মত হবে?
২. আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম যুব শিবির গঠন প্রক্রিয়া চলছিল আপনারা সংগঠনের অধীনে দায়িত্বশীল থাকাকালে এবং সেটা অনেকটাই মুরুব্বীদেরকে ধোয়াঁশার মধ্যে রেখে। যুব শিবির গঠনের কাজতো শিবিরের করার কথা না। এটা করার কথা বৃহত্তর সংগঠনের। যেমন করে তারা ছাত্রদের মাঝে সংগঠনের কথা চিন্তা করেছিল এবং এটার ব্যাপারে সতর্কীকরন করার পরেও কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে যুব শিবির গঠন করার প্রক্রিয়া হচ্ছিল। এটা নেতৃত্বের আনুগত্যের বাহিরে যায় কিনা? খালিদ বিন ওয়ালিদ যেমন করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে সাধারন সৈনিকের কাতারে চলে গিয়েছিলেন যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতাগণ সেইরকম মত সেক্রিফাইস করার মনমানষিকতা লালন করতে পারেনি। এককথায় বলতে গেলে তারা নিজেদের মতকেই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাহলে বুঝা গেল যুব শিবির যদি সফল হত তাহলে যার যার মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগঠন ব্যবহৃত হতো। কোন চেইন অব কমান্ড বা আনুগত্যের বালাই থাকতনা।
৩. ‘৭১ এ আপনারা ছিলেননা কিন্তু ‘৭৭ এ যারা শিবির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা সবাই ‘৭১ এ ছিলেন এবং পুরো ঘটনা জানেন। তাদের কাছ থেকে কি ‘৭১ এর অপকর্মে (যেই ধর্ষন, খুনের অভিযোগে আজ নেতৃবৃন্দের ফাঁসি হচ্ছে) জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সেটা জানতে চাননি? জামায়াত কেন কনফেস করবে? কারন ‘৭১ হয়েছিল জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? আর ‘৭১ এ পাক সরকার যেই অপকর্ম করেছিল সেগুলোর জোড়াল প্রতিবাদ তারা তাদের তখনকার সময়ে যতটুকু শক্তি ছিল করেছে। তারপরেও কিভাবে দায়মুক্তির কথা আসে? তাহলে কি আপনারা জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শিবিরকে পরিচালনা করতে চাইছিলেন?
৪. জামায়াত নাম পরিবর্তন করেনাই কেন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে নাম পরিবর্তন করলে কি হত? নেতৃত্বে কারা থাকত সেটার বিষয়ে কি কোন দৃষ্টিভংগি ছিল? কারন জামায়াতের উৎপত্তিস্থল পশ্চিম পাকিস্তান। সংগঠনের ভিত সেখানে অনেক মজবুত ছিল। আর পূর্ব পাকিস্তানে যারা নেতা ছিলেন তারা কেন্দ্রের আনুগত্য করার কারনে ‘৭১ এর কাদা তাদের মধ্যে লেগেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে পরবর্তী বাংলাদেশে নুতন জামায়াতের হাল ধরতে পারে যার ‘৭১ এর কোন কাদা নাই সেইরকম নেতা কি ছিল জামায়াতে? ছাত্রসংঘে যারা ছিল তাদের বহু মানুষ আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। ছাত্রসংঘ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তাহলে ছাত্রসংঘ থেকে নেতা এনে জামায়াত চালালেও সেই একই ফল হতো। দেখা যেত নুতন জামায়াতের হাল পুরাতন নেতৃত্বকেই ধরতে হত। তাহলে নাম পরিবর্তন করে কি ফায়দা হতো?
৫. ইসলামি আন্দোলনে কি রাজনীতি বেহুদা জিনিস? রাজনীতি না করলে ইসলামপন্থীরা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে? শুধু সামাজিক আন্দোলন করে একটা সংগঠন হয়ত জনপ্রিয়তা পাবে কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে রাজনীতি ছাড়া কিভাবে পূর্ণতা দেওয়া যায়?
৬. ছাত্রশিবিরকে জামায়াত প্রভাবমুক্ত করে একটা অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার একটা প্রচেষ্টা আপনাদের মধ্যে ছিল। তাহলে যারা ছাত্রত্ব শেষ করবে তারা পরে যুব শিবিরে যোগ দিবে। সেই যুবশিবির কি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে কাজ করবে? সারাজীবন অরাজনৈতিক কাজ করে হঠাৎ করে কিভাবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেয়া যায় যদি রাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে না থাকে। এটা কি টিকে থাকার মত সংগঠন হলো? আর এটাতো সরাসরি জামায়াতের বিকল্প প্লাটফরম হয়ে গেল। এতে কি ইসলামি শক্তি দুইভাগ হয়ে গেলনা? তাহলে জামায়াতের আশংকা কি অমূলক ছিল যার ভিত্তিতে তৎকালিন শিবির নেতৃবৃন্দকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল? বৃহত্তর আন্দোলনকে মজবুতিকরণের একটা স্টেপ ছাত্রশিবির সেটাকে জামায়াত ভাগ করতে দিতে চাইবে কেন?
৭. আপনারা চলে যাওয়ার পরেও জামায়াত আপনাদের সংগঠনে যোগ দিতে আহব্বান করেছে।
I want the information will be written details. because we are not cleare of this problem. forid bhai you should explain it clearly with wetness coment. thinks
@ফরিদ ভাই, আবারো ধন্যবাদ আপনাকে ইতিহাস জানানোর জন্য।
পর্ব-৫ এ কিছু কথা লিখেছিলাম। এই পর্বে এসে মনে হল আপনি সমাপ্তির দিকে যাচ্ছেন। প্রশ্ন, তর্ক, জিজ্ঞাসা, বাদানুবাদ এগুলো আসলে শেষ হবার জিনিস না। আপনার যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ চালাতে পারবেন। মানুষ পক্ষে বিপক্ষে মত দিবে।
কথা/ প্রশ্ন করলে অনেক করা যায়, সেদিকে গেলাম না, শুধু এটুকু বলি ক্যামন জানি তৃপ্তি হল না, খালি খালি রয়ে গেল।
১৯৮২ সালের ঘটনার আগে এবং ঘটনার সময় এর আরও বিস্তারিত দরকার। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ভূমিকা জানা দরকার।
আর হ্যাঁ, আর সবার সাথে একমত নামকরণটা যথাযত হয় নি, এমন হতে পারতো- “১৯৮২ সালের শিবিরের ক্রান্তিকাল এবং আমি”
আশা করি আপনার কাছে আরও বিস্তারিত জানতে পারবো। বিশেষত ঘটনার সময়কালের। সম্ভব হলে প্রতিদিনের।
ভালো থাকবেন,
আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
আমার জীবন থেকে নেয়া একটা শিক্ষার কথা বলিঃ
পৃথিবীতে এমন কোন নেতা জন্ম নেয় নাই, নিবেও না (রাসুল (সাঃ) ব্যতীত) যে সকল মানুষের মন জয় করতে পারবে, অধীস্তন সবাইকে খুশি করতে পারবে।
এটা সম্ভব না দলের সবাইকে খুশি করা, কেউ না কেউ বিপক্ষে যাবেই। এটাই নিয়ম।
এক মন দুধকে নষ্ট করতে যেমন এক ফোটা চনা যথেষ্ট তেমনিভাবে একটা সু সংগঠিত দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে একজন ফরিদ আহমদ রেজা যথেষ্ট
jamat akon o guwartumi korse…jar fol hare hare ter pacci…ato trial ato lash ai guwar tumir fol noy ki????????? ader proti age kisuta durbolota thak le o aj reja shaheber lekha pore tader ashon chehara bujte parlam…
ইতিহাসের সব চেয়ে বড় শিক্ষা হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না।